শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
টানা বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
টানা বৃষ্টি আর দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না পেছানোয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এহছানুল হক মিলনের এই ঘোষণা এল।
এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির মধ্যে সোমবার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামে।
বিকালে জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আলোচনার সময় পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও তাদের দাবির প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি বলেন, সংসদের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দাবিগুলো দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “গতকালকে যে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা হয়েছে, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা-এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি। এই ধরনের কমপ্লেইন এসেছে।”
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় দিতেই হবে। এই ক্ষেত্রে আমরা ভেবে চিন্তে দেখেছি যে, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষা আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে যখন আমরা নিতে যাব- ফিজিক্স, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান-সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।”
শিক্ষামন্ত্রীর যে বক্তব্যের জেরে শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে, সেই বক্তব্যের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
মিলন বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্য আমি কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে আপাতত এই লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, বর্তমানে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এটি সর্বোচ্চ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। তাই, এর বড় ধরনের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে তিনি বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া ২৮ জুলাইয়ের পর উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর অবস্থান ও গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং সমুদ্রে থাকা জেলেদের সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পে-স্কেল বাস্তবায়ন
পে স্কেল কার্যকরে এখন শুধু অপেক্ষা গেজেটের। তবে গেজেট যখনই হোক না কেন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে-স্কেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিবে। এরপর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী আগস্টের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে নতুন বেতনকাঠামোর আর্থিক কার্যকারিতা গণনা করা হবে ১ জুলাই থেকে। অর্থাৎ গেজেট পরে প্রকাশ পেলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনের সুবিধা পাবেন।
সূত্রের তথ্য বলছে, নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর করা হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে-সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, ‘পে-স্কেল বাস্তবায়ন যথা সময়েই হবে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গেজেট জারিসহ অন্যান্য বিষয় কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে।’
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন পে স্কেল দেওয়ার তো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা আমরা গ্রহণ করেছি এবং এটার বাস্তবায়ন করা হবে। দেশে বর্তমান আর্থিক প্রেক্ষাপটের কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি। এটাকে মাথায় নিয়ে পে স্কেল ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নবম পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ছয় মাসের পর্যালোচনার পর প্রতিবেদন জমা দেয় ২১ সদস্যের কমিটি। যেখানে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগস্টে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিত্যক্ত হয়ে থাকা শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছেন ধানমন্ডি থানার এসআই ওয়াদুজ্জামান।
মো. শাকিল নামে ২০ বছরের ওই যুবকের বাসা মোহাম্মদপুরে হলেও তিনি থাকতেন ধানমন্ডির জিগাতলার শিবপুর টালি অফিস এলাকায়।
এসআই ওয়াদুজ্জামান বলেন, “আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি সুধা সদনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অজ্ঞাত এক যুবক গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে৷ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।”
আঙুলের ছাপ শনাক্তের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথা বলছে পুলিশ।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রমনা বিভাগের উপ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রিকশাচালক এই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে স্ত্রী চলে গেছে। বাবা-মায়ের সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক নেই। এসব নানা কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। এই হতাশা থেকেই সে গত রাতে বাসাটি ফাঁকা পেয়ে আত্মহত্যা করে বলে আমরা ধারণা করছি।”
শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ডাকনাম সুধা মিয়া। সেই হিসেবে বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল সুধা সদন। বাড়িটি একসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কার্যালয় হয়ে উঠেছিল। সেখানে নেতাকর্মীরা নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির ওই বাড়িতে কয়েকদফা হামলা-ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত। সেখানে এখন ভবঘুরেদের যাতায়াত।
প্রতীকী ছবি
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ৬৯১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭২১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৬১৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ২৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ভেরিফিকেশন ট্রেনিং এমবেডেড সিস্টেম পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্স প্যাকেজিং— এসব ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছেন। সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। এই খাতের উন্নয়নে খুব সম্ভবত একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটা একটা সম্মিলিত জাতীয় মিশন।
তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি এই সেক্টরকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য আমরা কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি; বিশেষ করে এই বাজেটে সেমিকন্ডাক্ট শিল্প তৈরির সব কাঁচামালের ওপরে সব ধরনের ট্যাক্স বা শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপরে নগদ ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানও রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি কর সুবিধা, বন্ডের সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দুদিনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
সামিটে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিসসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সামিটের পাশাপাশি ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হবে।