এমপি ফজলে হুদা বাবুল
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেশের বিশিষ্ট টক শো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। যতদিন নিষিদ্ধ আছে ততদিন তাদের রাস্তায় নামতে দেয়া হবেনা, নামতে দিবোনা, দিবোনা, দিবোনা। এখনও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে আওয়ামী দোসররা আড্ডা দেয়। আপনারা এগুলো খেয়াল রাখবেন, থানা পুলিশকে জানাবেন।”
এমপি বলেন, “বিএনপি ছাড়া এই আসনে অন্যকিছু থাকবেনা। একটি দল আসলে ধর্মীয় দল না। এরা হচ্ছে ভারতের বি টিম। এরা ৪৭ এ ভারতকে সাপোর্ট করেছে। এজন্য বক্তব্যের সময় এই গুপ্তরা ভারতকে টেনে আনে। তোমরা বেঈমান, তোমরা মুনাফেক, তোমরা ব্যাংক ডাকাত। আমরা দেখেছিলাম শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাত, আর সংসদে বলেছি ইসলামী ব্যাংকে এরা ডাকাতি করেছে ১১ হাজার কোটি টাকা।”
এমপি ফজলে হুদা বলেন, “মসজিদে কোন রাজনীতি চলবেনা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমামদের নিরপেক্ষ হতে হবে। তারা কোন রাজনৈতিক লিডার হতে পারবেন না। ইমাম সাহেবরা একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হয়ে গেছেন। কিছু কিছু মসজিদ কমিটিতে এখনও আছে আওয়ামী দোসর, ধান্দাবাজ, বাকশালী, দেশ বিক্রিকারীদের লোক। এদের পরিবর্তন করতে হবে। এই ব্যাপারে আপনারা সোচ্চার থাকবেন।”
গত শনিবার বিকেলে এমপি নওগাঁর মহাদেবপুর থানা পুলিশের নবনির্মিত চারতলা ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে থানা ভবন মিলনায়তনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে কথাগুলো বলেন। এমপি মামলা করতে আসা কারো কাছ থেকে টাকা না নেয়ায় মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুকের প্রশংসা করেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডমিন) মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ, মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক, উপজেলা পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম, পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুরে এমপির রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।
এসময় অন্যদের মধ্যে থানা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মমিনুল ইসলাম চঞ্চল, সাধারণ সম্পাদক এটিএম ফিরোজ দুলু, বদলগাছীতে এমপির রাজনৈতিক সচিব ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউন নবী স্যান্ডো, মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু, সহ-সভাপতি, সফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস, এম, হান্নান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সাগর, হাজী আককাস, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী রওশন জাহান, হাতুড় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সেকেন্দার আলী, উত্তরগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আলী, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, চেরাগপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান সবুজ, উপজেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন অর রশিদ রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহমুদুল হাসান সুমন, হারুন অর রশিদ হারুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাফ্ফর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদস্য সচিব রিপন মাহমুদ, জেলা ছাত্রদলের নেতা এফআই ইসলাম সবুজ প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। তখন দোতলা পর্যন্ত এর ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। পরে উপরে আরো দুটি তলার জন্য বরাদ্দ করা হয় চার কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে ভবনটির কাজ সমাপ্ত না হলেও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গতবছর ২০ মে ভবনটি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ভবনটিতে নানান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এতদিন এটি ব্যবহার উপযোগী ছিলনা। থানা পুলিশ নিজ অর্থ ব্যয়ে কিছু কিছু ফিটিংসের কাজ করান। এখনও এর মূল বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। থানার পুরোনো ভবন থেকে লাইন টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রুহিয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজুল হক, রুহিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি লুৎফর রহমান, রুহিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি রহিমা খাতুন, রুহিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি আনার আলী, রুহিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলাল হোসেন, রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের অন্যতম সদস্য রেজওয়ানুল বিশ্বাস রাহী প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলের ভূমিকা তুলে ধরেন। এ সময় রুহিয়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫৫টি ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে। (১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার) ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১০ লাখ টাকা ইয়াবা বিক্রির বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালন্দর ইউনিয়নের চেরাডাঙ্গী বাজারসংলগ্ন নয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় মো. আসাদুজ্জামান (৩৮) ওরফে দুলালকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার কচুবাড়ি ভাটা এলাকায়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে লুঙ্গির ডান কোচর থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাসহ আশপাশে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন।
অন্যদিকে, সোমবার দুপুরে হরিপুর থানার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) বিলগামী নয়াবাশ এলাকায় অভিযান চালায় হরিপুর থানা-পুলিশ। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন মো. নাজির হোসেন (৫৫)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, নাজির হোসেনের কাছ থেকে ১৪৫টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম (৪৮) সেখানে একটি শপিং ব্যাগ নিয়ে এলে সেটি তল্লাশি করে নগদ ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই টাকা মাদক বিক্রির।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজির ও নাজমা দীর্ঘদিন ধরে হরিপুর ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, নাজমা মাদক ব্যবসায় অর্থের জোগান ও সহযোগিতা করতেন। তাঁদের সঙ্গে মাদক সরবরাহকারী, ক্রেতা ও সহযোগী আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে। হরিপুর থানায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে এবং ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আখ রোপণ
ঠাকুরগাঁও চিনিকলে আখ রোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। (১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার) সদর উপজেলার চিলারং এলাকার চাষী মো: ফয়েজ উদ্দিনের জমিতে রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ।
এ সময় চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে রাজশাহী সুগার মিল হতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে আখ রোপণ ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডবোকেট মো: শামছুজ্জামান সুরুজ।
ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ বিএসএফআইসি’র টেকনিক্যাল সার্ভিস (টিএস) প্রধান কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক। এছাড়া সভায় সুগার মিলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কৃষক গণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সুগারমিল কর্তৃপক্ষ জানায়, একটা সময় আখ চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ভালো দামের কারণে আবার আশাব্যঞ্জকভাবে আখচাষে ঝুঁকছেন। মিল জোন এলাকায় এবার আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার একর জমি। আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ মেঃ টন, চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩শত মেঃ টন।
সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউজে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব নির্দেশ প্রদান করেন। সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরিবেশ, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন- সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থার সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান জড়িত। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও জরুরি। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনসহ সীমান্ত এলাকার ঝুঁকির বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তা বরদাশত করা হবে না।
সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাই লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র এবং নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে বিতর্কিতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মব সৃষ্টি বা ‘মব জাস্টিস’-এর বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা, সেমিনারসহ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা তুলে ধরতে হবে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে মাদকের শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর তালিকা প্রণয়ন করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সিলেট এসএমপি দেশের অন্যতম বৃহৎ পুলিশি এলাকার দায়িত্ব পালন করছে। আগামীতে এসএমপি, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে হবে।
সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে থার্মাল ইমেজিং ও নাইট ভিশন সুবিধাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। এ জন্য সিলেটে দেশের প্রথম ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ চালু করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম, ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনী ও মহড়া দেখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব সীমান্ত এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা কঠিন, সেখানে ডিজিটাল নজরদারি, নাইট ভিশন ও থার্মাল ইমেজিং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধ শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রোন ও ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে সীমান্তের বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকেও সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিজিবির জন্য দেশে ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সেটা আমাদের জন্য একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ড্রোন রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের উন্নত ড্রোন এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নত ড্রোন এখানে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।শুধু সীমান্ত নজরদারি নয়, দুর্যোগের সময়ও ড্রোন ব্যবহার করা যাবে বলে জানান তিনি। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো ও উদ্ধারকাজে ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিজিবি সদস্যরা এরই মধ্যে এ ধরনের কাজে ড্রোন ব্যবহার করেছেন বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপাতত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিজিবি সদস্যদের জন্য পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ অনুযায়ী বেসামরিক জনগণকেও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হতে পারে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের কাজেও এই সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সপ্তাহের সাত দিনই সরকার জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দুঃস্থ ভাতা, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। জনগণের ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এসেছে। এখন গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে জেলায় বন্ধ থাকা উন্নয়নকাজগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যথাযথ মান বজায় রেখে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এসব সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে নিজে কী পেলেন-সেটি বড় বিষয় নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রকে কী দিতে পারলেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সমুন্নত রেখে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আ. মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম মল্লিক জোমাদ্দার।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।