গ্রামীণ সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে ভিআইপি গাড়ি। সামনে পিছনে নেই গতানুগতিক মোটরসাইকেলের বহর। মাঝপথে হঠাৎই থেমে গেলে গাড়ি। খুলে গেল গাড়ির দরজা। ভিতর থেকে নেমে এলেন নেতা। ধান কাটার ভরা মওসুম তখন। মাঠে কাজ করছেন একদল কিষাণ-কিষাণী। এক পা, দু’পা করে তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন নেতা। কামলারা ভয় পেলেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা। নেতা তাদের একদম কাছে গিয়ে তাদের ভঙ্গিমায় তাদের ভাষায় সালাম দিলেন (গড় লাগি)। কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। সুখ দু:খের কথাও শুনলেন। আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়লেন তারা। অভিভূত হলেন উপস্থিত অন্যরাও। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর মাঠের কাহিনী এটি। আর নেতা হলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের নবনির্বাচিত এমপি ফজলে হুদা বাবুল।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই, কৃষকের ঘামেই দেশের সমৃদ্ধি।”
তার ভাষায়, বিএনপি মাঠে ঘাটে কৃষকের মাঝে, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশনেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা। জনসেবাই রাজনীতি। বিএনপি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে চলছে। সাধারণ মানুষের ভালবাসাই বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি। মাঠের ঘামে যে মানুষ দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে, সেই কৃষকের সম্মানেই গড়ে উঠবে নতুন নওগাঁ, নতুন বাংলাদেশ। কৃষকের হাসি মানেই দেশের সমৃদ্ধি।
নওগাঁ-৩ থেকে শুরু হোক উন্নয়ন, মানবতা আর ভালোবাসার নতুন ইতিহাস। এমপি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “আদিবাসীদের জন্য আমি দুই উপজেলায় দুইটা প্রতিষ্ঠান করতে চাই, আদিবাসীদের সংস্কৃতি ধারণ করার জন্য এবং সংরক্ষণ করার জন্য।”
প্রতিবছরের মত চলতি ইরি বোরো মওসুমেও ধান কাটা শ্রমিকের দারুণ সংকট দেখা দেয়। গত ১৬ মে এমপি ফজলে হুদা বাবুল নিজে নেতাকর্মীদের নিয়ে দু:স্থ কৃষকের ধান কেটে দেন। শুধুমাত্র ফটো সেশনের জন্য নয়, বরং লুঙ্গি পড়ে, গামছা লাগিয়ে, কাস্তে হাতে দিনভর অন্যদের সাথে ধান কেটেছেন তিনি। মাঠে বসে পান্তা খেয়েছেন সবার সাথে। কাটার পর মাড়াই। তারপর বস্তায় ভরে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। পরে তার নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে অব্যাহত রেখেছিলেন সে ধান কাটা। এছাড়া তার নির্দেশে নেতারা মাঠের পরে মাঠ পেরিয়ে তপ্ত রৌদ্রে দগ্ধ ধান কাটা শ্রমিকদের পাশে গিয়ে তাদের ঠান্ডা পানি আর খাবার বিতরণ করেছেন।
নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি দুই উপজেলার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রতিদিন। গেছেন মাটি ও মানুষের গভীরে, সাধারণ জনতার কাতারে। খেটে খাওয়া মানুষের সাথে দারুণ সখ্য গড়ে তুলেছেন। শুনেছেন তাদের দু:খ গাথা, সহযোগিতা করেছেন বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত ফিরে আসেন তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটারদের মাঝে। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি যান মহাদেবপুর উপজেলার নুরপুর মধ্যপাড়া আদিবাসী পাড়ায়। গতবছর ৩১ জানুয়ারি সড়ক দূর্ঘটনায় এই গ্রামের একই পরিবারের চার জনসহ মোট পাঁচ জন নিহত হয়েছিলেন। এমপি ফজলে হুদা বাবুল সেখানে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। দুর্ঘটনার সময়ও তিনি সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জ্ঞাপন করেছিলেন। কিন্তু আচরণবিধি ভঙ্গ হতে পারে এই আশঙ্কায় তখন তাদের আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেননি। এসময় তিনি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের দু:স্থদের মধ্যে দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করেন। এগুলোও আচরণবিধির কারণে আগে বিতরণ করতে পারেননি। গত ১৭ বছর তিনি বিভিন্ন সময় দু:স্থদের মধ্যে কয়েক হাজার শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছেন। সম্পূর্ণ নিজের অর্থে। নির্বাচিত হবার পর সরকারি অনুদান আসে। কিন্তু অল্প। তিনি নিজ তহবিল থেকে আরো কম্বল, শাড়ি, লুঙ্গি, ঢেউ টিন কিনে এবং বিভিন্ন দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করেছেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিজ তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৪ মার্চ তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে গিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ক্যানসার আক্রান্ত তার বাল্যবন্ধু এস, এম, জার্জিস আলম চপলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। ২২ মে বদলগাছীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম ও শিক্ষার্থী তাসনিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা রাজনৈতিক রেওয়াজ। আন্দোলনের দিনগুলিতে তিনি দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পৃথক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় গত ১৪ মার্চ তিনি মহাদেবপুর উপজেলার শিবপুর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘসময় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাথে কাটান, তাদের খোঁজ খবর নেন, সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন, তাদের সাথে ইফতার করেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
১৪ মার্চ তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিজে ঝাড়ু হাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, আশেপাশের রাস্তা, ড্রেন পরিষ্কার করেন। মহাদেবপুরেও অনুরুপ কর্মসূচি পালন করা হয়।
১৪ মার্চ তিনি বদলগাছীতে একটি অনুষ্ঠানে যান তার গাড়িবহর রেখে, একটি ভ্যানগাড়িতে চেপে। তার এসব কর্মকান্ড সরকারি দায়িত্বের মধ্যে নয়। কিন্তু একের পর এক তার এসব চমক লাগানো কর্মকান্ড তাকে একজন মানবিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি এখন দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা।
সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিথ্যা, জাল ও ভিত্তিহীন দলিল দিয়ে মামলা করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ বাদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ এই রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মহিউদ্দিননগর গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেন ২০ শতক জমির অংশ (সাহাম) দাবি করে এবং কয়েকটি খতিয়ান তাঁর ওপর বাধ্যকর নয়- এমন ঘোষণার জন্য দর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায় সদর উপজেলার মহিউদ্দিন নগর গ্রামের নাজির হোসেনসহ মোট ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়।
মামলায় ১৯৩৩ সালের ১০ মে সম্পাদিত ২১০০ নম্বরের একটি সাফকবলা দলিল দাখিল করা হয়। ওই দলিলে ১১২ শতক জমির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। দলিলের গ্রহীতা হিসেবে বাদী মোশারফের বাবা আব্দুল মজিদ এবং দাতা হিসেবে নগরবাসী কৈবর্ত ও বনমালী কৈবর্তের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার দায়ের পর বিবাদীপক্ষ শুরু থেকেই দলিলটিকে জাল ও ভিত্তিহীন দাবি করে আসছিল। মোশারফের দাবির ভিত্তি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা দলিলটি প্রায় ৯২/৯৩ বছরের পুরোনো।
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত দলিলটির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দলিলের টিপসই ও লেখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং উভয়পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালতের কাছে দলিলটি জাল, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়।
বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের পর আজ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ধার্য ছিল। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ মামলাটি খারিজ করে দেন। পাশাপাশি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করে বিবাদীদের হয়রানির অভিযোগে মোশাররফকে ৫০ হাজার টাজা জরিমানা করা হয়।
মোশাররফের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা বিবাদীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় বাদী-বিবাদী এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাফিক ইসলাম এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নায়েব নাজির মো. সোলায়মান মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।
পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।
গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।
সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।
উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন।
সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা।
দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব
রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগার থেকে দুজনের নমুনা (ইউরিন) সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দুজনের শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘গতকাল (রোববার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ ফলাফল পেয়েছি। এতে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে ২৩ আগস্ট ভোরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুনের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী।
এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দিতে ২০ আগস্ট দিনগত মধ্যরাত থেকে পরদিন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ওই দুই আসামি ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্ট করার জন্যে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ওই আসামিদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডোপ টেস্টটা যেন জেলগেটে করা হয়, সেরকম একটা অনুরোধ আমাদেরকে করা হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখান থেকে দুইজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলগেটে পাঠাই। সেখান থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট সিলগালা করে আমরা আবার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমফিটামিন অনেকদিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এরপরে আর পাওয়া যায় না। বিধায় যেহেতু এরা সাতদিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাতদিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’
ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।
এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।