• প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:২৮ পিএম

শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে ‘নতুন বিতর্ক এড়াতে’ একটি সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লির পুলিশ, যেখানে আলোচক হিসেবে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। নয়া দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) শনিবার সন্ধ্যায় এই সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। 


এফসিসি সাউথ এশিয়া ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যৌথভাবে 'ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়লগ টু আ পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রসপারিটি' শীর্ষক এ আয়োজন করছিল। তবে 'কিছু বিতর্কের' কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে সেমিনারটি আয়োজনের অনুমতি দেয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার ও দ্য প্রিন্ট।


গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের ‘হস্তক্ষেপের’ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে এবং এই আকস্মিক পরিস্থিতি আয়োজকদের ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’।


এফসিসির এক কর্মকর্তা দ্য প্রিন্টকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিলক মার্গ থানায় গিয়ে তারা নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু থানার পক্ষ থেকে সিল ও স্বাক্ষরসহ চিঠিতে হাতে লিখে জানানো হয়, “প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্ক থাকায় এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি।”


দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) শচীন শর্মা পুলিশি হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।


তিনি দ্য প্রিন্ট-কে বলেছেন, এফসিসির কোনো প্যানেল আয়োজনে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং পুলিশ তাদের অনুষ্ঠানে কোনো হস্তক্ষেপ ‘করেনি’।


তবে নিরাপত্তা চেয়ে লেখা এফসিসির ওই চিঠির ছবি ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে, যেখানে পুলিশের মন্তব্য ও অনুষ্ঠান করার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেই লেখা রয়েছে। তিলক মার্গ থানার সিল ছিল এবং থানার ওসির স্বাক্ষরও দেখা গেছে সেখানে।


আলোচকদের তালিকায় ছিলেন যারা


সেমিনার সামনে রেখে আয়োজকরা সেশাল মিডিয়ায় যে পোস্টার প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে আলোচক হিসেবে দশজনের নাম ছিল। ওই তালিকায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ। 


এছাড়া ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি নূরুন নবী, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম এবং নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে।


বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার বীণা সিক্রি, সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তাল, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আসিফ ইকবাল, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল এ এফ এম গোলাম জিলানী নামও আলোচকদের তালিকায় দেখা যায়।


তবে ভিসা না পাওয়ায় জিলানী ভারতে যেতে পারেননি। তিনি দ্য ওয়্যারকে বলেন, তার ভিসার প্রক্রিয়া চলছিল এবং কেন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।


পুলিশ অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের কোনো বিষয় নেই দাবি করে জিলানী বলেন, “এটি বাংলাদেশ বা ভারতের বিষয় নয়। এটি ইউরোপ-এশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে।”


হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষা নিয়ে তারা কাজ করেন।


তবে দ্য ওয়্যার লিখেছে, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদন এবং ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ইউরোপে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করে আসছে।


কেন বন্ধ হল অনুষ্ঠান?


এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পুলিশের নথিতে শুধু ‘কিছু বিতর্কের কারণে’ অনুষ্ঠানটির অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


এফসিসির প্রেসিডেন্ট ওয়ায়েল আওয়াদ দ্য প্রিন্টকে বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে একটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা’। কেন পুলিশ অনুমতি দেয়নি, তা তিনি জানেন না।


তবে এফসিসি-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে বলেছেন, গত ৫ অগাস্ট এই ক্লাবেই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আর তারপর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল বাংলাদেশ।


ওই সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত নেতাকে বক্তা হিসেবে রাখা এবং রোহিঙ্গা অধিকার কাজ করা আরেক বক্তার উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানটি নিয়ে দিল্লির আপত্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।


নতুন বিতর্ক এড়াল পুলিশ?


২৯ অগাস্টের এই ঘটনা ঘটেছে ৫ অগাস্ট দিল্লির এফসিসিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের ২৪ দিন পর। ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর সেটিই ছিল দিল্লিতে প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তৃতা দেওয়ার ঘটনা।


জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে এফসিসি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অডিও কলে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।


তার অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তার দল আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর জারি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।


এফসিসির ওই অনুষ্ঠানের আগে ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লির সহযোগিতা চেয়ে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনা যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য বা এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করতে পারেন, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।


ভারত তখন বলেছিল, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজন এবং সেখানে যেসব বক্তব্য দেওয়া হতে পারে, তার সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।


কিন্তু তারপরও ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তৃতা দিলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে এমন একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর।


একই সঙ্গে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বাংলাদেশের অনুরোধের কোনো জবাব না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।


শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আলোচনাতেও পড়ে।


ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তারেকের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে ৫ অগাস্টের অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ স্পষ্ট করে যে, এই সফরের জন্য আগে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।


১৬ অগাস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ চায়, ওই পরিবেশ তৈরির জন্য ভারত শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করুক। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদেরও ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় ঢাকা।


এর আগে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা ‘প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায়’ পর্যালোচনা করছে।


সম্প্রতি কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের দাবি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ফলে ২৯ অগাস্ট দিল্লিতে এফসিসির অনুষ্ঠানটি সরাসরি বাংলাদেশকেন্দ্রিক না হলেও, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাদের উপস্থিতি এবং শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপড়েনের কারণে ঘটনাটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

ভারতের উগ্র কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভাগবত সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার সময় অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ। 


মানবাধিকার, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান ও দলিত অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও সহিংসতায় লিপ্ত রয়েছে।


সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত শনিবার নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ (এএইচইডি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


উগ্র কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত আরএসএসকে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে মনে করা হয়। সংগঠনটির প্রধান ভাগবতের এই বক্তব্য ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরএসএসের সফরের শেষ কর্মসূচি। ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া এই সফরের বিভিন্ন পর্যায়েই তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ হয়েছে।


সংবাদমাধ্যম বলছে, আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিদেশে বসবাসরত হিন্দু সংগঠনগুলোর আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে তিন দেশের সফরে বের হয়েছেন ভাগবত। গত মঙ্গলবার সফরের প্রথম ধাপে নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি।


আরএসএসের সহযোগী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলকে সিআইএ ইতোমধ্যেই ‘উগ্রপন্থি ধর্মীয় সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।


এদিকে মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরের আগেই বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) ওয়াশিংটনকে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভাগবতের ভিসা বাতিলেরও আহ্বান জানানো হয়।


ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, কয়েক দশক ধরে আরএসএস চরম অসহিষ্ণুতা দেখিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।


এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর-এনওয়াই) মতো আরও কয়েক ডজন অধিকার ও সামাজিক সংগঠনও ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরের নিন্দা জানিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার পদে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারও ভাগবতের সফরের সমালোচনা করেছেন। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মুসলিম, শিখ, দলিত ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছে-এমন একটি সংগঠনের নেতার ‘ঘৃণা ছড়ানোর’ বিষয়টি শহর কর্তৃপক্ষ ‘সহ্য করবে না’। ভাগবতের বক্তব্যের কয়েক দিন আগে থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এবং নিউইয়র্ক সিটি হলের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসের পাঁচ মাস আগেই পূর্বাভাস মিলেছিল যে কী ঘটতে যাচ্ছে সামনে। পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে মার্চে প্রকাশ করা হয়েছিল দু’টি প্রতিবেদন। আঞ্চলিক একটি আন্তঃদেশীয় জ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্রের সেই প্রতিবেদনে হিন্দুকুশ হিমালয়ে দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।


হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের মানুষের পক্ষে কাজ করা কাঠমাণ্ডু-ভিত্তিক ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) প্রতিবেদন দু’টিতে বলা হয়, অঞ্চলটিতে হিমবাহ দ্রুত থেকে আরও দ্রুত গতিতে গলছে এবং সহস্রাব্দ শুরুর পর থেকে বরফ হারানোর হার দ্বিগুণ হয়েছে।


১৯৭৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। নেপাল ছাড়াও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভুটান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার আইসিআইএমওডি- এর সদস্যদেশ।


‘এশিয়ার ওয়াটার টাওয়ার’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলের গলিত পানির ওপর নির্ভরশীল ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য ভবিষ্যতে বিপজ্জনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রতিবেদন দু’টিতে।


ওই পূর্বাভাসের পাঁচ মাসের মাথায় দুই দিন আগেই নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬২৬ জনের। এই ভয়াবহ দুর্যোগের সঠিক কারণ এখনও খুঁজে দেখছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। তাদের অনেকেই মনে করছেন, একাধিক কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টিপাত হওয়া।


ভারতের দেহরাদুন ভিত্তিক ‘ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজি’-এর এক বিজ্ঞানী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উুঁচুতে যেখানে তুষারপাত হওয়ার কথা, সেখানে বৃষ্টি হওয়ার কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াই হয়ত উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের বদলে বৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ।


চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত আইসিআইএমওডি- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং আনুমানিক জমে থাকা বরফের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।


পর্যবেক্ষণাধীন ৩৮টি হিমবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইসিআইএমওডি’র তৈরি করা ‘এইচকেএইচ গ্লেসিয়ার আউটলুক ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এটি হিমালয়ের বরফাবৃত অংশ গলে এমন এক পর্যায়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখান থেকে তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।


আইসিআইএমওডি-এর গবেষকরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন যে, অতিরিক্ত উচ্চতা থেকে বরফ ও পাথরের ধস বন্যার সূত্রপাত করেছিল কি না। বিপুল বরফ ও পাথরের ধ্বংসস্তূপ লেহন্দে খোলা (ভোটে কোশি নদীর উপনদী) নদীতে পড়ে পানি, পলি ও বিশাল পাথরখণ্ড গড়িয়ে এনে নিম্নাঞ্চলে হড়পা বান সৃষ্টি করতে পারে।


আইসিআইএমওডি-এর জ্যেষ্ঠ ক্রায়োস্ফিয়ার বিশেষজ্ঞ ও ভারতের আইআইটি ইন্দোরের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক আজম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তুষারাবৃত এলাকা কমে যাওয়া এবং হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগ রয়েছে। তুষারের আবরণ কমে নগ্ন হয়ে পড়া পাথুরে এলাকাগুলো বেশি তাপ শোষণ করায় পাহাড়ের ঢাল আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।


‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের’ (আইসিআইএমওডি) তথ্যানুযায়ী, মেরু অঞ্চলের বাইরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের ভাণ্ডার হল এই হিন্দুকুশ হিমালয়। সেখানে ৬৩ হাজার ৭০০টিরও বেশি হিমবাহ রয়েছে; যা ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।


হিমবাহগুলো এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎস; যা শত শত কোটি মানুষের খাবার, পানি, জ্বালানি ও জীবিকার জন্য সহায়ক।


মার্চের আইসিআইএমওডি প্রতিবেদন বলা হয়, ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উঁচুতে থাকা হিমবাহের অন্তত ৭৮% অংশ উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে আছে।

সর্বশেষ সব খবর

নেপালের ত্রিশুলি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ার

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

কাদামিশ্রিত পানির স্রোত যখন চারপাশে ছুটে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল মাটি যেন ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে। ঢলের পানিতে পাহাড়ের ঢালগুলোও পানিতে ভরে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। 


নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন নেপালের ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী সারাসওয়াইত ঘালে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমরা এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব না।’


সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দারা এখন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে আসছেন। কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কেউ চেষ্টা করছেন যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা উদ্ধার করতে। কিন্তু সারাসওয়াইত ঘালের ঘরটি আর নেই।


তিনি জানান, চারপাশের পাহাড়ি ঢাল পানিতে ভরে যাওয়ার পর কাদামিশ্রিত পানির প্রবল স্রোত নিচের দিকে ছুটে আসে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি কোনোভাবে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় পৌঁছান। সেখান থেকে দেখেন, পানির স্রোতে ঘরের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে যাচ্ছে।


পানি ও কাদার স্তর চারপাশে জমে যাওয়ার পরও সেই ভয়াবহ দৃশ্য তার মনে গেঁথে আছে। দুর্যোগের পর নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে সারাসওয়াইতের মনে হচ্ছে, যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন মনে হয় কোনো পৃথিবীই নেই। কী-ই বা বাকি আছে? মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি।’


নিজের হারানো জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কিছুই নেই।’


ত্রিশুলি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ারও এই দুর্যোগে নিজের ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়েছেন। জন্মের পর যে জায়গায় বেড়ে উঠেছেন, সেই জায়গাটি এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। রিশিকা বলেন, ‘যে জায়গায় আমরা জন্মেছি, যেখানে বড় হয়েছি। আমাদের মা-বাবা অনেক কষ্ট করেছেন, অন্যরাও অনেক কষ্ট করেছেন।’


এই দুর্যোগের ক্ষত সহজে ভুলতে পারবেন না বলেও জানায় কিশোরীটি। তিনি বলেন, ‘মনে হয়না, এই কষ্টের কথা আমি কখনো ভুলতে পারব।’


সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৬ পিএম

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে দেশবিরোধী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারত একদিন পুনর্দখল করবে বলে মন্তব্য করেছেন।


কাশ্মীর নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ (Pakistan-occupied Kashmir)’ স্লোগান দেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়। শুভেন্দু বলেন, তাঁর প্রশাসন একটি ‘শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক’ সরকার পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যাম্পাসে চলা কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ এবং বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সমালোচনা করেন শুভেন্দু। এ বক্তব্যে পুলওয়ামা হামলা তথা অপারেশন সিঁন্দুর-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সামরিক অভিযান পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।


তিনি বলেন, যারা বলে ‘কাশ্মীরের আজাদি চায়’, তাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা উচিত। অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে আমাদের ভারতীয় বিমানবাহিনী মাসুদ আজহারের বংশধরদের নিশ্চিহ্ন করেছে। আমরাও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দখল করব।


যাদবপুর ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদি নেতা কিষাণজির প্রতি সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ধরনের প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হয় তারা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। যথেষ্ট হয়েছে। এর মাঝামাঝি আর কিছু থাকবে না।


তিনি বলেন, বিজেপি সরকার যে সব শক্তিকে দেশবিরোধী বলে মনে করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।


‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কলকাতার রাস্তায় যখন ‘আজাদি’র স্লোগান ওঠে, তখন আমার কষ্ট হয়। আপনারা কী স্বাধীনতা চাইছেন? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। রাজৌরি এলাকায় সীমান্তের ওপার থেকে নতুন করে একটি ড্রোনের তৎপরতা শনাক্ত হওয়ার পর বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।


সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট রাত প্রায় ৮টা ৫ মিনিটে পাকিস্তানের দিক থেকে একটি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের চলাচল শনাক্ত করা হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাজৌরির বেহরুটি এলাকার আকাশে ড্রোনটিকে চক্কর দিতে দেখেন। এলাকাটি ২২ জম্মু ও কাশ্মীর রাইফেলসের দায়িত্বাধীন অভিযানের এলাকার মধ্যে পড়ে। ড্রোনটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখেন সেনাসদস্যরা।


একপর্যায়ে এটি মঙ্গলনার-দাবরোতে এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে তা নথিভুক্ত করে।


এরপর নিয়ন্ত্রণরেখার সামনের পুরো এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। আকাশ ও স্থল- দুই পথেই কঠোরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য হলো, ড্রোনের মাধ্যমে মাদক, অস্ত্র বা অন্য কোনো অবৈধ পণ্য সীমান্তের এপারে ফেলে যাওয়া হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। একই সঙ্গে নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তের কাছের এলাকাগুলোতে তল্লাশি অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা ব্যক্তির সন্ধান পেতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালানো হচ্ছে।


তবে ড্রোনটির তৎপরতার উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে কোনো কিছু সীমান্তের এপারে পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আরো সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম
  • আপডেট : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ওআইসির মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করেছেন। তিনি বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন।


২০২১ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।


ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ কূটনীতিক। জাতিসংঘে কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।


ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। চাইলে একবার মেয়াদ নবায়ন করা যায়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ মহাসচিব নির্বাচন করে। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান ও সমান সুযোগের পাশাপাশি প্রার্থীর দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সংস্থাটির সনদে মহাসচিবের পদ আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো ক্রমানুসারে বণ্টনের বিধান নেই। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ন্যায্যতা ও পালাক্রমের নীতি অনুসরণ করা হয়।


ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা এরই মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের সমর্থন পেয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। সেখানে মৌরিতানিয়াকে উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে এবার একজন মৌরিতানীয় কূটনীতিক আসছেন। সংস্থাটির সদস্যদের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার দেশ।

বিষয় : ওআইসি

সর্বশেষ সব খবর