কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা ও রাজশাহী বাঘা উপজেলা সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর ‘ডেঞ্জার জোন’ এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী একটি চক্র। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, নদী ভাঙ্গন রোধ করতে বিআইডব্লিউটিএ, হাইকোর্ট ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক কুষ্টিয়া ও রাজশাহী অঞ্চলের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন।
কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ ও হাইকোর্টের নির্দেশকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন চক্র সিন্ডিকেট করে দিনের পর দিন পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষকে জিম্মি করে দিনে-ভোররাত হতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন তীরবর্তী প্রায় ২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর জমির ফসল ও আবাদি জমি। বসতবাাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। হুমকিতে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের মানুষের বসবাসযোগ্য রক্ষা ব্লক বাঁধ। তবে স্থানীয়রা বলেন, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করারও উপায় নেই। কথা বললেই বন্দুকের মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যমতে, চৌদ্দহাজার মৌজাতে বালু তোলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন-পদ্মার দুইপারের সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবশালীরা। ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি, চৌদ্দহাজার মৌজায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর আশ্রয়স্থল নিশ্চিহ্ন করা হোক, আর সে মোতাবেক আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হোক। তবে পদ্মার সীমান্তবর্তী রাজশাহী বাঘা উপজেলা ও কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে এই চক্রটি প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজাতে। এতে যেকেনো সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যাবহারে প্রানহানি হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অবৈধ বালু উত্তোলনে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত-দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়ন এরিয়ার চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী বাহিনীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত অবস্থায় কয়েকটি বাহিনী (গ্রুপ) অবস্থান করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন স্থানে। পদ্মার সীমান্তবর্তী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ও রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার একাধিক হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, দস্যুতা, ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামীরা বর্তমান আশ্রয় স্থান গড়েছে এই অবৈধভাবে চৌদ্দহাজার বালু উত্তোলনকৃত স্থানে। ইতিপূর্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও চরদখলকে কেন্দ্র করে বাহিনীদের মধ্যে অভ্যান্তরীন কোন্দলের জেরে প্রথম দফায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলো, এর কিছুদিন পর দ্বিতীয় দফায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছিলো। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছিলেন খুলনা ও রাজশাহী রেঞ্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে যৌথ অভিযানের পর কিছুদিন নিস্ক্রিয় থাকলেও সন্ত্রাসী বাহিনীরা পুনরায় আস্তানা গেড়েছেন চৌদ্দহাজার মৌজার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন স্থানে। তবুও থেমে নেই নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন!
তবে অনুসন্ধানে আসে, নদীপথের বালুদস্যু, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী বাহিনীদের আশ্রয়স্থল কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা ইউনিয়নসহ রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার সন্ত্রাসী বাহিনীদের। আর এই সন্ত্রাসী বাহিনীদের নগদ কাচা টাকা ইনকামের বড় অংশ এই দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার বালুঘাট। এখান থেকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমেই নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল তৈরি করার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বর্ডার থেকে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি করে মজুদ করা হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে ওপেন সিক্রেট আরো আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি সন্ত্রাসী বাহিনী। অপরিকল্পিত এ বালু উত্তোলনে বদলে যাচ্ছে নদীর স্বাভাবিক প্রকৃতি।
ভেঙ্গে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি। বিআইডব্লিউটিএ ও হাইকোর্টের উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলা প্রশাসন বালি তোলাকে অবৈধ বলছে। বালু মহাল আইনের পদক্ষেপ জরুরী বলে মনে করে স্থানীয় সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার জমি মালিক ও ফিলিপনগর এবং মরিচা ইউনিয়নের জনগনের প্রানের দাবি-মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজাতে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন বন্ধে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকসহ কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল দপ্তরের সহযোগিতা চেয়ে সেই নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনীদের আশ্রয় স্থল ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে সন্ত্রাসী বাহিনীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের শত কোটি টাকার রক্ষা বাঁধ রক্ষার্থে কুষ্টিয়া জেলা ও দৌলতপুর উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচির ডাক দিবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক বলেছেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক দপ্তর কর্তৃক প্রাপ্ত বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর মৌজাতে ইজারা নিয়েছে, যদি ইজারাপ্রাপ্ত এরিয়ার বাইরে কুষ্টিয়ার মধ্যে বালু উত্তোলন করে, সেটা অবশ্যই অবশ্যই আইন বহির্ভূত। বিষয়টি আমি ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।
সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিথ্যা, জাল ও ভিত্তিহীন দলিল দিয়ে মামলা করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ বাদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ এই রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মহিউদ্দিননগর গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেন ২০ শতক জমির অংশ (সাহাম) দাবি করে এবং কয়েকটি খতিয়ান তাঁর ওপর বাধ্যকর নয়- এমন ঘোষণার জন্য দর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায় সদর উপজেলার মহিউদ্দিন নগর গ্রামের নাজির হোসেনসহ মোট ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়।
মামলায় ১৯৩৩ সালের ১০ মে সম্পাদিত ২১০০ নম্বরের একটি সাফকবলা দলিল দাখিল করা হয়। ওই দলিলে ১১২ শতক জমির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। দলিলের গ্রহীতা হিসেবে বাদী মোশারফের বাবা আব্দুল মজিদ এবং দাতা হিসেবে নগরবাসী কৈবর্ত ও বনমালী কৈবর্তের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার দায়ের পর বিবাদীপক্ষ শুরু থেকেই দলিলটিকে জাল ও ভিত্তিহীন দাবি করে আসছিল। মোশারফের দাবির ভিত্তি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা দলিলটি প্রায় ৯২/৯৩ বছরের পুরোনো।
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত দলিলটির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দলিলের টিপসই ও লেখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং উভয়পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালতের কাছে দলিলটি জাল, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়।
বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের পর আজ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ধার্য ছিল। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ মামলাটি খারিজ করে দেন। পাশাপাশি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করে বিবাদীদের হয়রানির অভিযোগে মোশাররফকে ৫০ হাজার টাজা জরিমানা করা হয়।
মোশাররফের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা বিবাদীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় বাদী-বিবাদী এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাফিক ইসলাম এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নায়েব নাজির মো. সোলায়মান মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।
পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।
গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।
সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।
উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন।
সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা।
দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব
রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগার থেকে দুজনের নমুনা (ইউরিন) সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দুজনের শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘গতকাল (রোববার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ ফলাফল পেয়েছি। এতে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে ২৩ আগস্ট ভোরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুনের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী।
এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দিতে ২০ আগস্ট দিনগত মধ্যরাত থেকে পরদিন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ওই দুই আসামি ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্ট করার জন্যে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ওই আসামিদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডোপ টেস্টটা যেন জেলগেটে করা হয়, সেরকম একটা অনুরোধ আমাদেরকে করা হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখান থেকে দুইজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলগেটে পাঠাই। সেখান থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট সিলগালা করে আমরা আবার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমফিটামিন অনেকদিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এরপরে আর পাওয়া যায় না। বিধায় যেহেতু এরা সাতদিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাতদিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’
ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।
এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।