বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
যারা নতুন জালেম হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে, যারা গুপ্ত বলে পরিচিত তারা ভুয়া সিল-ব্যালট ছাপাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর দেখতে পাচ্ছি, যারা নতুন জালেম হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে, যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে তাদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি, তাদের পরিচিত সেসব প্রেস আছে সেখানে তারা ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে, যেটি তারা পকেটে করে নিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, আমার দেখেছি, তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নাম্বার নিচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে। এই গুপ্তের দল, এই জালেমের দল বলছে, তারা নাকি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। আরে ভাই, আপনারা তো নির্বাচনের আগে জাল ব্যালট ছাপাচ্ছেন, নির্বাচনের আগেই তো আপনাদের লোকজন মা-বোনদের এনআইডি নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে। প্রথমই তো আপনারা অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করছেন, অনৈতিক কাজ দিয়েই তো মানুষের ভোটকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। যাদের ভোটের শুরুটা অনৈতিক, তারা কি সৎ মানুষের শাসন দিতে পারে? পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মা-বোনদের অপমান করার পরে তারা বলে, তারা এ কাজ করেনি। তারা বলছে, তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়নি। যখন তারা ধরা পড়েছে, তখন তারা বিভিন্ন রকম মিথ্যা কথা বলা শুরু করেছে।’
২০ বছর পর তারেক রহমান বরিশালে দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা করেন। তিনি হেলিকপ্টারে দুপুর ১২টায় স্টেডিয়াম মাঠে পৌঁছান। সেখান থেকে বেলস পার্ক মাঠে সমাবেশের উদ্দেশে রওনা করেন। নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় ঠেলে তাঁর গাড়িবহর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশ মাঠে পৌঁছায়। তিনি মঞ্চে উঠে হাত তুলে সমাবেশে আগতদের অভিনন্দন জানান। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বক্তৃতা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
সকাল ১১টায় সমাবেশের নির্ধারিত সময় ছিল। বিভাগের ছয় জেলা-উপজেলা থেকে সকাল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর মিছিল নিয়ে বেলস পার্ক মাঠে আসতে থাকেন। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হওয়া জনস্রোত বান্দ রোড, রাজা বাহাদুর সড়ক ও জেলা স্কুলের মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ভিড়ে আগত অনেককে অসুস্থ হতে দেখা যায়। সহকর্মীরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের নবীজির স্ত্রী বিবি খাদিজা একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন। কর্মজীবী নারীদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য মা খাদিজাকেও অসম্মান করা হয়। অথচ গুপ্ত সংগঠন নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু একজন নারীকে ইসলাম কিভাবে সম্মান করে তারা তা জানে না।
গুপ্ত দলের আরেকজন নেতা কুমিল্লায় কর্মীদের বলেছেন- আপনারা ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরুন, ১৩ তারিখ থেকে ৫ বছর জনগণ আমাদের পা ধরবে। এই দলটির মনের পরিকল্পনা জনগণ বুঝে গেছে। তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তারা নির্বাচিত হাতে পারলে জনগণের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলবে।’
বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে বিএনপির ১৯ ও শরীক দলের আন্দালিব রহমান পার্থ ও নুরুল হক নুরকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারেক জিয়া বলেন, ‘আমি গুপ্ত দলের উল্টো বলে গেলাম, আপনারা আমাদের প্রার্থীদের ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখুন, ১৩ তারিখ থেকে তারা আপনাদের দেখবেন।’
তিনি বলেন, ‘বরিশালের জন্য আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে। নির্বাচিত হতে পারলে সে কাজগুলো করব। বরিশাল-ভোলা সেতু আমাদের করতে হবে। ভোলায় মেডিকেল কলেজ করতে হবে। শের-ই-বাংলা মেডিকেলের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়ন করব। নদীভাঙ্গন আমাদের ঠেকাতেই হবে। এজন্য বেড়িবাঁধ করে দেব।’
বরিশালে মৎস্য ও কৃষিসম্পদের জন্য হিমাগার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত হতে পারলে খাল খনন করার জন্য আমি আবার বরিশালে আসব। আপনারা আমার সঙ্গে খাল কাটতে নামবেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ৫ বছর জনগণের পা ধরে থাকতে হবে। কারণ আমরা দেখেছি জনগণের পেছনে যারা থাকেন না, জনগণের সমর্থন যাদের থাকে না, তার পরিণতি কি হতে পরে। আমরা সেটা দেখেছি। আমরা বিশ্বাস করি, জগণই সকল ক্ষমতা উৎস। তাই জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য আমরা সকল পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত করতে হবে। জনগণের সমর্থন ছাড়া সেটি করা সম্ভব নয়। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১২ তারিখ সকাল থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। আপনাদের অধিকার কেউ যেন ছিনিয়ে নিতে না পারে।’
বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার ও জহির উদ্দিন স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রমুখ।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।
পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।
গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।
সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।
উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন।
সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা।
দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব
রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগার থেকে দুজনের নমুনা (ইউরিন) সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দুজনের শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘গতকাল (রোববার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ ফলাফল পেয়েছি। এতে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে ২৩ আগস্ট ভোরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুনের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী।
এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দিতে ২০ আগস্ট দিনগত মধ্যরাত থেকে পরদিন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ওই দুই আসামি ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্ট করার জন্যে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ওই আসামিদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডোপ টেস্টটা যেন জেলগেটে করা হয়, সেরকম একটা অনুরোধ আমাদেরকে করা হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখান থেকে দুইজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলগেটে পাঠাই। সেখান থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট সিলগালা করে আমরা আবার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমফিটামিন অনেকদিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এরপরে আর পাওয়া যায় না। বিধায় যেহেতু এরা সাতদিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাতদিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’
ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।
এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।
সিলেটে স্বপ্ন দেখিয়ে নিভে গেল ৩৩৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প 'হাইটেক পার্ক। কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্নী এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় প্রতিষ্টিত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ট্রায়াল দেওয়া হয়। এ প্রজেক্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগ কারীরা। যারা প্লটও স্পেস ভাড়া নিয়েছিলেন তারাও বিরত রয়েছেন বিনিয়োগ থেকে। ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে জমি ও স্পেস ভাড়া দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে মাত্র একটি। ফলে মেগা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় হাইটেক পার্ক। মাটিভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩৩৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পটি। প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে ছিল হাইটেক পার্কে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদন।
এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যানড্রয়েড মোবাইল অপারেশন, জাভা এসই-৮ প্রোগ্রামিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কোর হার্ডওয়ার্ক অ্যান্ড অপারেটিং সিস্টেম, বিপিও, ই-কমার্স, এস কিউ, এল এডমিনিস্ট্রেশন, ওরাকল ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামীর প্রযুক্তিবিদও গড়ে তুলতেই নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এজন্য প্রকল্পে আইটি সেন্টারসহ দুটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়।
হাইটেক পার্কটি পুরোদমে চালু হলে সেখানে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য ও সেবা দেশের ভেতর ও সিলেট সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ‘সেভেন সিস্টারে’ রফতানির প্রত্যাশা ছিল। এই প্রত্যাশা নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইটেক পার্কটিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১.৩৯৯ একর জমি এবং ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার ৭৬০ বর্গফুট স্পেস ৪০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বরাদ্দ নেওয়ার পর অনেকে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে বিনিয়োগ থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকে বিনিয়োগ স্থগিত রাখেন। এর মধ্যে নোহা অ্যান্ড সোহান এন্টারপ্রাইজ পাঁচতারকা হোটেলের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে চুক্তি বাতিল করেন। সিমেড লিমিটেড নামক অন্যএকটি প্রতিষ্ঠানও একই কারণে তাদের বরাদ্দকৃত জমি ছেড়ে দেয়।
এদিকে, পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি স্থগিত বা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেয় হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার হাইটেক পার্কগুলোকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কগুলোতে বিরাজমান সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে ঘটবে বিপ্লব। কর্মসংস্থান হবে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ তরুণ-তরুণীর। বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া সিলেটে গড়ে ওঠবে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প। গতি সঞ্চার হবে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতিতে। এমন স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হাইটেক পার্ক’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখানো ৩৩৬ কোটি টাকার সেই মেগা প্রকল্পের আকাশে জমেছে ঘনকালো মেঘ।
হাইটেক পার্কের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোরশেদুল আলম জানান, প্রকল্পটি শুরুতে বিনিয়োগকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দেশের অন্য এলাকা থেকে কম- এজন্য বিনিয়োগকারীরা ও আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পকারখানা স্থাপনে পিছিয়ে গেছেন। বর্তমানে র্যাংগস গ্রুপ তাদের ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং ইউনিট চালু করেছে। গ্যাসের অভাবে বাকি ইউনিটগুলো তারা চালু করতে পারেনি। সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে পার্কের কারখানাগুলো চালু রাখা বেশ ব্যয়বহুল।
মোরশেদুল আলম আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। অর্ন্তবর্তী সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা সিলেট হাইটেক পার্কে গ্যাস সংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু পেট্রোবাংলা সেটি আটকে দেয়। বর্তমান সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিরাজমান সমস্যার সমাধান হলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো ফিরবেন।’