তিন দফা দাবিতে নলছিটিতে অবস্থান কর্মসূচী

  • প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:০৮ এএম

অসম্পূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার কাজ সম্পন্নকরন, নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিল রহিতকরন ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কারের তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে সাধারণ নাগরিকরা।


নলছিটি পৌরসভা চত্তরে আজ ১৫ জুন সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত নলছিটি পৌরসভার সামনে অবস্থান কর্মসূচী ও প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা কর্মসূচি পালন করা হয়। সাধারণ নাগরিকদের ব্যানারে তিন দফা দাবিতে প্রায় তিন ঘন্টা শান্তিপূর্ণ এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়। 


এতে তাদের দাবি ছিলো ২০২০-২১ সালে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রায় দশটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করেই পরে আছে যা জনভোগান্তি তৈরি করেছে সেগুলো সহ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির কিছু কাজ উদ্বোধন করেও সম্পন্ন হয়নি সেগুলো দ্রুত সম্পন্নকরন।


পৌরসভার আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা একটি প্রকল্পের প্রায় তেরো কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিলের পথে আছে সেই বাতিল রহিত করন। এবং নতুন বাড়তি বরাদ্দ আনয়ন। এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পৌরসভার প্রাপ্ত পুরো বরাদ্দ দিয়ে কোনো কাজ করা হয়নি যা বিধি অনুযায়ী সরকারের তহবিলে ফেরত দিতে হবে, সেই অর্থ ফের‍ত না দিয়ে বিধিমত এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আটকে থাকা সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসেই নতুন অর্থবছরে প্রকল্প গ্রহণ করে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টের নির্মান কাজ শুরু করতে হবে।


কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী নেত্রী সাথী আক্তার, তিনি বলেন দেরশো বছরের এই শহরটি পুরো উপজেলার মানুষের জন্য ঐতিহ্যের প্রতিক ছিলো কিন্তু শহরটিতে কোনো উন্নয়ন নেই। রাস্তাঘাট, পার্ক, টার্মিনাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বস্তি উন্নয়ন কিছুই নেই। রাস্তাঘাটের বরাদ্দ এলেও সব লুটপাট হয়েছে যারফলে ভুগছি আমরা। তাই আমাদের দাবি লুটপাট হওয়া রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি সহ আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা এই অবস্থানে অনড় থাকবো।


আরেক আন্দোলনকারী ইমরান হোসেন বলেন, দেশের দ্বিতীয় পৌরসভা হলেও উন্নয়নের দিক থেকে আমরা একেবারেই পিছিয়ে আছি। এতবছরেও উন্নয়নের ছিটেফোটাও বাস্তবায়ন হয়নি। অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক ইঞ্চিও উন্নয়ন কাজ হয়নি যেকারণে সেই বরাদ্দ এখন ফেরত যাবার পথে কেন আমরা সেই প্রশ্নের জবাব চাই। আমরা এক পয়সাও ফেরত যেতে দেবো না। এবং দ্রুত সব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে হবে।


আরেক আন্দোলকারী আসিফ জিয়া মুন্না বলেন, ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া নগরীতে রাস্তাঘাট নেই, একটি শিশুপার্ক নেই, সড়কবাতি জ্বলে না, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেই, বারবার বরাদ্দ আসে কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে এর নিরসন চাই।


মো: রাহাত বলেন, এত বড় একটি পৌরসভার অথচ এর সামনের রাস্তাটিই বেহাল দশা, সংকীর্ণ রাস্তা এরমধ্যে ফুটপাত দখলের কারনে আরও বেশি দুর্ভোগ হয়। এছাড়াও কোনো সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেই, তাই আমরা এই নগরীর আধুনিকায়ন চাই।


আহত জুলাই যোদ্ধা মূসা সরদার বলেন, এতো পুরনো পৌরসভার রাস্তাঘাট সবগুলোই মরনফাদ হয়ে আছে আর বরাদ্দ আত্মসাৎ করছে এটা হতে পারে না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই,কারন এই শহরে শুধু পৌরসভার নাগরিকরা থাকে না পুরো উপজেলার মানুষ আসে যায় তাই আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। এটা শুধু দাবি নয় আমাদের অধিকার। 


আন্দোলনের সমন্বয়কারী সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে পৌরসভা এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, পয়নিস্কাষন, ড্রেনেজ, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, বস্তি এলাকা উন্নয়ন, নতুন গোরস্থান তৈরি, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক নির্মান, ফায়ার হাইড্র‍্যান্ট বসানো, গার্বেজ রিসাইক্লিং প্লান্ট, বিউটিফিকেশনের মতো সুযোগ থাকা সিটিসিআরপি প্রকল্পর এই অংশটির বরাদ্দ বাতিল হতে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য একেবারেই দু:খজনক। আমরা বছরের পর বছর এগুলো নিয়ে আন্দোলন করেছি এই মুহুর্তে ডিপিপি রিভিশনের সময় এই অংশ বাতিল হলে আমরা তা মেনে নেব না। প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর সময় অতিবাহিত হলেও অগ্রগতি না থাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কিছুদিন আগে নলছিটি পৌরসভা পরিদর্শনের সময় এই উদ্বেগ আরও বেরে যায়। পৌরসভার খালি জমি না থাকার অযুহাতে প্রকল্পের এই আধুনিকায়নের অংশটি বাতিল হতে পারে বলে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।


এছাড়াও ২০২১ সালে শুরু করা রাস্তার কাজও আজ পর্যন্ত সমাপ্ত করা হয়নি, লুটপাটের কারনে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে পরেছে। এসব রাস্তা এখনো আদায় না হলে পরবর্তীতে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এই প্রকল্পের শেষ সাক্ষী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামা, তিনি এই বছর নভেম্বরের দিকে অবসরে যাওয়ার কথা তিনি অবসরে চলে গেলে এসব রাস্তা পুনরুদ্ধার একেবারেই অসম্ভব হয়ে পরবে। তাই ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের অসম্পন্ন সবগুলো রাস্তার নির্মান কাজ সম্পন্ন করতেই হবে এবং এই দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য দ্বায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। 


এছাড়াও ১৬ একর সম্পত্তির মালিক থাকা পৌরসভায় জমি সংকট দেখিয়ে আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা প্রকল্পের প্রায় চৌদ্দ কোটি টাকার অংশ বাতিল হওয়ার মতো দু:খজনক বিষয় আর নেই। অথচ পৌরসভাটি প্রতি বছর প্রায় সারে তেরো একর জমির ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে অথচ সব জমি কেউ চেনে না, কাদের দখলে আছে কেউ জানে না,কেউ বলে না। প্রয়োজনে পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে জমি ক্রয় করে হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমরা এই বরাদ্দ বাতিল রহিতকরনের দাবি জানাচ্ছি এবং অসম্পূর্ণ সকল রাস্তাঘাট সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কাজ জুলাই আগস্টের মধ্যে শুরু করার দাবি জানাই।আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।


প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচী পালন করে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) রিজভী আহমেদ সবুজের কাছে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।


আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।  


রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।


পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।


ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।


গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।


ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে  এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।




সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট  আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।


উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 


এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। 


সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

সর্বশেষ সব খবর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।


আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 


প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।  


ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। 


দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।


অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা। 


দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ। 


এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৯ পিএম

রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগার থেকে দুজনের নমুনা (ইউরিন) সংগ্রহ করা হয়।


পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দুজনের শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।


বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‌‘গতকাল (রোববার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ ফলাফল পেয়েছি। এতে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’


রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে ২৩ আগস্ট ভোরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুনের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী।


এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দিতে ২০ আগস্ট দিনগত মধ্যরাত থেকে পরদিন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ওই দুই আসামি ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।


রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্ট করার জন্যে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ওই আসামিদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডোপ টেস্টটা যেন জেলগেটে করা হয়, সেরকম একটা অনুরোধ আমাদেরকে করা হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখান থেকে দুইজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলগেটে পাঠাই। সেখান থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট সিলগালা করে আমরা আবার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিই।’


তিনি আরও বলেন, ‘এমফিটামিন অনেকদিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এরপরে আর পাওয়া যায় না। বিধায় যেহেতু এরা সাতদিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাতদিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।




প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’। 


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।


ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।


এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

সিলেটে স্বপ্ন দেখিয়ে নিভে গেল ৩৩৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প 'হাইটেক পার্ক। কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্নী এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় প্রতিষ্টিত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ট্রায়াল দেওয়া হয়। এ প্রজেক্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগ কারীরা। যারা প্লটও স্পেস ভাড়া নিয়েছিলেন তারাও বিরত রয়েছেন বিনিয়োগ থেকে। ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে জমি ও স্পেস ভাড়া দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে মাত্র একটি। ফলে মেগা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় হাইটেক পার্ক। মাটিভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩৩৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পটি। প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে ছিল হাইটেক পার্কে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদন।


এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যানড্রয়েড মোবাইল অপারেশন, জাভা এসই-৮ প্রোগ্রামিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কোর হার্ডওয়ার্ক অ্যান্ড অপারেটিং সিস্টেম, বিপিও, ই-কমার্স, এস কিউ, এল এডমিনিস্ট্রেশন, ওরাকল ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামীর প্রযুক্তিবিদও গড়ে তুলতেই নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এজন্য প্রকল্পে আইটি সেন্টারসহ দুটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়। 


হাইটেক পার্কটি পুরোদমে চালু হলে সেখানে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য ও সেবা দেশের ভেতর ও সিলেট সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ‘সেভেন সিস্টারে’ রফতানির প্রত্যাশা ছিল। এই প্রত্যাশা নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইটেক পার্কটিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১.৩৯৯ একর জমি এবং ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার ৭৬০ বর্গফুট স্পেস ৪০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বরাদ্দ নেওয়ার পর অনেকে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে বিনিয়োগ থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকে বিনিয়োগ স্থগিত রাখেন। এর মধ্যে নোহা অ্যান্ড সোহান এন্টারপ্রাইজ পাঁচতারকা হোটেলের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে চুক্তি বাতিল করেন। সিমেড লিমিটেড নামক অন্যএকটি প্রতিষ্ঠানও একই কারণে তাদের বরাদ্দকৃত জমি ছেড়ে দেয়।


এদিকে, পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি স্থগিত বা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেয় হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার হাইটেক পার্কগুলোকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কগুলোতে বিরাজমান সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে ঘটবে বিপ্লব। কর্মসংস্থান হবে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ তরুণ-তরুণীর। বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া সিলেটে গড়ে ওঠবে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প। গতি সঞ্চার হবে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতিতে। এমন স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হাইটেক পার্ক’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখানো ৩৩৬ কোটি টাকার সেই মেগা প্রকল্পের আকাশে জমেছে ঘনকালো মেঘ।


হাইটেক পার্কের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোরশেদুল আলম জানান, প্রকল্পটি শুরুতে বিনিয়োগকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দেশের অন্য এলাকা থেকে কম- এজন্য বিনিয়োগকারীরা ও আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পকারখানা স্থাপনে পিছিয়ে গেছেন। বর্তমানে র‌্যাংগস গ্রুপ তাদের ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং ইউনিট চালু করেছে। গ্যাসের অভাবে বাকি ইউনিটগুলো তারা চালু করতে পারেনি। সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে পার্কের কারখানাগুলো চালু রাখা বেশ ব্যয়বহুল।


মোরশেদুল আলম আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। অর্ন্তবর্তী সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা সিলেট হাইটেক পার্কে গ্যাস সংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু পেট্রোবাংলা সেটি আটকে দেয়। বর্তমান সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিরাজমান সমস্যার সমাধান হলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো ফিরবেন।’

সর্বশেষ সব খবর