ছবি : সংগৃহীত
'মা'কে নিয়ে যে পরিমাণে গান তৈরি হয়েছে বা যত পরিচিতি পেয়েছে, সে তুলনায় 'বাবা' নিয়ে গান সেভাবে কমই দেখা যায়। তবে আধুনিক সময়ে 'বাবাকে' নিয়ে তৈরি হওয়া বেশ কিছু গানই মানুষের মনে ছাপ ফেলেছে। জনপ্রিয়তা, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং দীর্ঘ দিন ধরে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেওয়ার মতো বিষয় বিবেচনায় কয়েকটি গান বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। এসব গান তৈরির পেছনের গল্প বা ইতিহাস সম্পর্কে কী জানা যায়?
'বাবা' - জেমস
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে নগর বাউলখ্যাত জেমসের কণ্ঠে গাওয়া 'বাবা' গানটির অবস্থান অনেক এগিয়ে। "বাবা কতদিন, কতদিন দেখিনা তোমায়, কেউ বলেনা তোমার মত কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়" এই গানটিকে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে বাবাকে নিয়ে সবচেয়ে আবেগঘন আধুনিক গানের একটি হিসেবেও দেখেন অনেকে।গানটির গীতিকার এবং সুরকার প্রিন্স মাহমুদ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ফারুক মাহফুজ আনাম বা জেমস নাকি এই গানটি গাইতেই আগ্রহী ছিলেন না। শিল্পী ও সুরকার তানভীর তারেকের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে সেটি উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারটি তানভীর তারেকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। "রেকর্ডিং-এ জেমস ভাই গানটি শুনে… এই কয়েকদিন আগে মা বললাম, এখন কী বাবা... কেমন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে প্রিন্স। তখন আমি বললাম জেমস ভাই, এটা গাইতে হবে। জেমস ভাই বলে কী, আরেকটা গান দে আমারে," সে সাক্ষাৎকারে বলছিলেন মি. মাহমুদ। তখন স্টুডিওতে প্রয়াত শিল্পী হাসান আবেদুর রেজা জুয়েলও ছিলেন এবং প্রিন্স মাহমুদ তাকে বলার পর তখন তিনি গানটি গাইতে রাজি হন। "জুয়েল ভাই তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' এটা গেয়ে ফেলছে, তখন আমি জুয়েল ভাইকে বললাম আপনি বাবা গানটি গান, জেমস ভাইকে এটা দিয়ে দেই" বলছিলেন তিনি।
পরের দিন আবারও স্টুডিওতে আসেন তারা তিনজন। জেমস তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' গানটা শুনে রেকর্ডিং শুরুর ঠিক আগে আবার বাবা গানটা শুনতে চান। "এদিকে জুয়েল ভাই তো বাবা গানটা মোটামুটি বোধহয় তুলে ফেলছে, কিন্তু জুয়েল ভাই এত ভালো মানুষ ছিল… পরে জেমস ভাই এসে বলে ঠিক আছে এটাই গাই।" নব্বই দশকের শেষদিকে এসে প্রকাশিত সেই গান এখনও বাবা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বাবাকে হারানোর বেদনা আর স্মৃতিমেশানো সেই গান অনেকের জন্য গভীর আবেগের কারণ হয়।
'আয় খুকু আয়': হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদার
বাবাকে নিয়ে বাংলা গানের ইতিহাসে বড় সাড়া জাগানো গান 'আয় খুকু আয়'। গানটি প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে। এর গীতিকার ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুরকার ছিলেন পণ্ডিত ভি. বালসারা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের কণ্ঠে গানটি জনপ্রিয়তা পায়। গানটি পরবর্তীতে আরও অনেকেই নতুন করে গেয়েছেন। কিন্তু সত্তরের দশকের সেই গানটিই আবেদন ধরে রেখেছে মানুষের মনে।
গানটি মূলত শ্রাবন্তী মজুমদারের অ্যালবামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর সুরকার ভি. বালসারার প্রাথমিকভাবে গানটি পছন্দ হয়নি, কারণ এতে কিছু ইংরেজি শব্দ বা আধুনিক ধাঁচের রূপ ছিল সেটার তেমন প্রচলন সেসময় ছিল না; কলকাতার ডিডি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে এভাবে বর্ণনা করেছিলেন মিজ মজুমদার। তার আগ্রহেই সুরকার বালসারা রাজি হন এবং তিনি চেয়েছিলেন গানটি তার সাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাইবেন। তারা একসাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কাছে যান।
"আমার বুক দুরু দুরু করছে যদি হেমন্তদা বলেন আমি করবো না… হেমন্তদা পড়েই বললেন- আমি গাইবো" বলেন মিজ মজুমদার। তিনি ভি. বালসারাকে অনুরোধ করেন যেন সুরটা খুব 'সিম্পল ও মনোটনাস' হয় যেন সবাই সহজে গাইতে পারে। এরপর বাধা হয়ে দাঁড়ালো গানটা লম্বা হয়ে যাওয়া। "গানটা এত বড়, আমাদের তো তখন সাড়ে ছয় মিনিটের বেশি করা যাবে না। তো মি. বালসারা, আমি আর পুলকদা গেলাম হেমন্তদার কাছে। মি. বালসারা গিয়ে বললেন যে হেমন্তদা, যদি শেষের দুটা ভার্স (লাইন) বাদ দিয়ে দেওয়া যায় তাহলে গানটা ঠিকমতো মিউজিকে আসে"।
এভাবে বেশ অনেকগুলো সাক্ষাৎকারেই বর্ণনা করেন মিজ মজুমদার। তার ভাষায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন "গানের ওই ভার্স যদি বাদ দাও তাহলে আর গানটা দাঁড়ায় না, তুমি তোমার মিউজিক বাদ দিয়ে দাও, ফেলে দাও। এই দুটো ভার্স থাকতেই হবে"। পরে সেসব রেখেই মিউজিক কম্পোজ করেন মি. বালসারা। সেসময় গানের রেকর্ডিং এখনকার মতো বারবার করার সুযোগ ছিল না। সবাই মিলে একসাথে এক-দুইবারে যেমন হয়। এইটা তিনবার রেকর্ড করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গানটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
'বাবার মুখে শুনেছিলাম গান': এন্ড্রু কিশোর
"আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, সেদিন থেকে গানই জীবন, গানই আমার প্রাণ" গানটি ১৯৮৪ সালের নয়নের আলো চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
গানটির সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এবং গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। নয়নের আলো চলচ্চিত্রের শুধু এই গানটিই না, প্রায় সবগুলো গানই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। যেমন আমার বুকের মধ্যেখানে, আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, এমন বেশ কিছু গান।
প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ২০১৪ সালে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই চলচ্চিত্রের গানের কাজ পাওয়া 'হিমালয় পর্বতের চূড়ায় ওঠা'র মতো ছিল। সে সময় অনেকের মাঝে বসিয়ে কড়া মন্তব্যের মুখে তাকে পড়তে হতো বলছিলেন তিনি। "ঐ সময় তো সাউন্ডপ্রুফ রুম ছিল না, আমার বাসায় বসে বসে টিউন করতাম, ক্যাসেট রেকর্ডারে গানগুলো ধারণ করতাম। তো কখন মুরগি ডাকলো কখন কুকুর ডাকলো সেটা আমি শুনতে পেতাম না। ওরা ঠিকই গান শুনতে গিয়ে বলতো, এই মুরগী ডাকলো কেন, কুকুর ডাকলো কেন? গান আবার ঠিক করে নিয়ে আসো। এটা করতে করতে আমার জীবন বার হয়ে গেছে, এটা আমার মনে পড়ে" বলেছিলেন তিনি। আগে দেশাত্মবোধক গান করলেও নয়নের আলো'র জন্য গান তৈরিকে নিজ ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে জানান তিনি।
সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইমন সাহা বলছিলেন, ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার সময়ে মি. বুলবুল তার বাবা সত্য সাহার কাছ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ নিতেন। "বাবা বলছে দেখ, যেটাই, করিস না কেন, আমাদের গ্রামীণ অডিএন্সটাকে, মাথায় রাখিস। ফিল্মের অডিএন্স কিন্তু গ্রামের অডিএন্স, ফোক বেজ যদি কিছু করিস তাহলে দেখবি যে জিনিসটা খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। নয়নের আলো ছবির গানগুলি শুনলেই বুঝবেন যে কোথায় জানি, একটা মাটির গন্ধ আছে" বলছিলেন ইমন সাহা। ব্যক্তিগতভাবে বাবা নিয়ে নয়নের আলো চলচ্চিত্রের গানটি ছোটবেলা থেকেই গুনগুন করে গাইতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরাসরি বাবা নিয়ে না, কিন্তু
এমন বেশ কিছু গান রয়েছে যেগুলো ঠিক বাবাকে নিয়ে গান না, কিন্তু মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। এর মাঝে প্রথমেই থাকবে মান্না দের 'তুই কি আমার পুতুল পুতুল সেই ছোট্ট মেয়ে' যেটি মেয়েকে নিয়ে বাবার গান। গানটি নিয়ে মান্না দে তার আত্মজীবনী 'জীবনের জলসা ঘরে' বইতে উল্লেখ করেছেন, গীতিকার মিল্টু ঘোষের লেখা গানটি সুপর্ণকান্তি ঘোষকে গানটি সুর করতে বলেছিলেন তিনি সঙ্গীত পরিচালক নচিকেতা ঘোষের ছেলে সুপর্ণকান্তিকে তিনি খোকা বলতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই খোকার গানটির কথা সেভাবে পছন্দ হয়নি। কিন্তু সেটা অবিবাহিত তরুণ খোকার জন্য স্বাভাবিক বলেই বর্ণনা করেন তিনি।
"মেয়েকে বিদায় দেওয়ার নাড়ী-ছেঁড়া অসহ্য যন্ত্রণার সে অভিজ্ঞতা আমার আছে। দু'-দু'বার সেই নাড়ী-ছেঁড়া যন্ত্রণায় কেঁদেছি আমি। তাই আমি জানি ভাষাটা সত্যিই মনের কথা থেকেই হয়েছে" মান্না দে লেখেন। দুই জন কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে মান্না দে'র মন ছুঁয়েছিল সেই গান। আরেকটি 'গান বাবা বলে গেল আর কোনোদিন গান করো না' যেটি লিখেছেন আমজাদ হোসেন, সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলীর ও গেয়েছেন শামীমা ইয়াসমিন দিবা। বাবার শাসন থেকে শুরু হওয়া এই গানটির মূল থিম অবশ্য 'গান গাওয়া', বাবা নয়। তবে 'জন্ম থেকে জ্বলছি' চলচ্চিত্রের এই গানটি অনেক বেশি পরিচিত।
বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ: তানভীর ইভান
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব পরিচিত হয়ে ওঠা গান 'বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ, বলো তোমার মতো করবে কে শাসন'। পিরান খানের সুরে গাওয়া এই গানটি মূলত 'আপন' নামের একটি নাটকের জন্য গাওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে শিল্পী তানভীর ইভান দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন নাটকটির "পরিচালক অমি ভাই পিরানকে ফোন করে বলেন, বাবাকে নিয়ে একটা গান লাগবে। পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আমরা বসে গানটা তৈরি করি। তানজিব সৌরভের লেখা কথায় সুর করেন পিরান। মেহেদীবাগের (চট্টগ্রাম) স্টুডিওতে গানটা তৈরি করি"।
এই গানটির ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ছাড়াও গানটি শুনে মি. ইভানের বাবা-মা আবেগে কেঁদেছেন, সেটা তার জন্য একটা বড় পাওয়া। আরও অনেক গানই আছে বাবা নিয়ে যেগুলো মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। যেমন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গাওয়া 'বাবার কথা মনে পড়ে,' আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে 'বাবা তোমার কথা মনে পড়ে' আসিফ আকবরের 'বাবা নেই', গীতিকবি মিল্টন খন্দকারের 'আমি যাচ্ছি বাবা' (গেয়েছেন ঝিনুক) বা 'বাবা তোমার ছেলে আজ বড় হয়েছে' (গেয়েছেন মনির খান), এমন অনেক গানই রয়েছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে 'জংলি' চলচ্চিত্রে প্রিন্স মাহমুদের পরিচালনায় 'বাবা তোমায় ছাড়া' গানটিও বেশ পরিচিতি পেয়েছে।
চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি
দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। রুপালি পর্দা থেকে আড়ালে থাকা এই অভিনেত্রী এখন জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে চান বলে জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ধর্মীয় জীবনযাপনের প্রতিও নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে পপি বলেন, ‘সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই।’
এই বক্তব্যে চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়া থেকে নিজেকে আরও দূরে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় পপির। দীর্ঘ ২৮ বছরের অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, এখন জীবনের অন্য একটি অধ্যায়কে গুরুত্ব দিতে চান।
পপি বলেন, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’ তার এমন বক্তব্যে নিজের জীবন নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অবশ্য অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে ২০২৫ সালে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছিল পপির কণ্ঠে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলেও যে কোনো কাজ দিয়ে নয়, ভালো কোনো কাজের মাধ্যমেই ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে ২০২৬ সালেও চলচ্চিত্রে তার প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত। ১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পপির। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি প্রশংসিত বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। করোনাভাইরাস মহামারির সময় দীর্ঘদিন শুটিং থেকে বিরতিতে ছিলেন পপি। নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।
সুস্থ হয়ে ওঠার পর ২০২১ সালের শুরু থেকেই মিডিয়াসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই বন্ধ করে দেন এই অভিনেত্রী। এরপর থেকেই তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে গুঞ্জন ওঠে, বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন পপি। পরে জানা যায়, তিনি এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। তার ছেলের নাম আয়াত। বর্তমানে তার বয়স প্রায় চার বছর।
অপু বিশ্বাস
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপালে থাকা অপু ও পুরো শুটিং ইউনিট নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বললেন অপু বিশ্বাস।
তিনি বলেন, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা দূরের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। অথচ পরদিন, ২৭ আগস্ট, একই পথ দিয়ে তাদের যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
অপু জানান, একদিনের ব্যবধানেই বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে তাদের দল। যে পথ দিয়ে কাঠমান্ডু ফেরার কথা ছিল, দুর্যোগের কারণে সেটি এখন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপালে শুটিং চালিয়ে যাওয়াকে উপযুক্ত মনে করেননি অপু।
তার ভাষায়, মানুষের এমন দুর্ভোগের মধ্যে গানের দৃশ্য ধারণ করা অমানবিক মনে হতে পারে। তাই পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসেন।
কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন অপু বিশ্বাস ও তার সহশিল্পীরা। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ভক্তরা।
এর আগে কলকাতায় ফিরে খরাজ মুখার্জিও জানান, তারা নিরাপদেই ছিলেন। পরে ঢাকায় ফিরে অপু বিশ্বাসও নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তানজিন তিশা
টিভি নাটকে তানজিন তিশার উপস্থিতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল অনিশ্চয়তা। গত বছর সাকিব ফাহাদের ‘সোলজার’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর নাটকের কাজে নিয়মিত দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে।
প্রায় সাড়ে চার মাস নতুন কোনো নাটকের শুটিংয়ে অংশ না নেওয়ায় তার নাটক ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই গুঞ্জনে ইতি টেনে আবারও নাটকের শুটিংয়ে ফিরেছেন তানজিন তিশা। বিরতির পর এরই মধ্যে দুটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি।
মহিদুল মহিমের ‘ভালোবাসার অভিযান’র পাশাপাশি চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।
চয়নিকা চৌধুরীর নির্মাতা হিসেবে ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রথম দেখার পর’। নাটকটিতে তিশার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ।
শুটিংয়ের ফাঁকে নাটকে ফেরার কারণ জানিয়ে তিশা বলেন, নাটক তার শিকড় এবং এই জায়গা থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখতে চান না।
তার ভাষায়, “প্রায় সাড়ে চার মাস নাটকের শুটিং করিনি। এ কারণে সবাই ধরে নিয়েছিল, সিনেমার জন্য হয়তো নাটক ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, আমার শিকড় আমি কখনো ভুলি না। নাটক আমার শিকড়, একই সঙ্গে এটি আমার ভালোবাসার জায়গা। যখন মনে হলো আবার শুরু করা উচিত, তখন চয়নিকা দিদির ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকের জন্য শিডিউল দিই। এর আগে আরও একটি নাটকের কাজ করেছি।”
‘প্রথম দেখার পর’ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, এটি একটি সুন্দর ভালোবাসার গল্প। দীর্ঘদিন পর চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে তার। নির্মাতার সঙ্গে আগের কাজগুলোর মতো এবারও দর্শকের ভালোবাসা পাবেন বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।
অন্যদিকে তানজিন তিশার সিনেমা ‘সোলজার’র কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছর সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও একটি গান ও কয়েকটি দৃশ্যের কাজ বাকি রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী মাসে বাকি অংশের শুটিং শুরু হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে সিনেমাটি।
সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ এ তানজিন তিশার বিপরীতে অভিনয় করছেন শাকিব খান। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এতে আরও অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, তারিক আনাম খান ও তৌকীর আহমেদসহ আরও অনেকে।
তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনি
তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ করেছেন এক নারী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ে ও সিনেমায় কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন এই নির্মাতা। পরে জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে।
৭ আগস্ট হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা থানায় ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ পবন সাদিনেনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বিচারিক হেফাজতে চাঞ্চলগুডা কারাগারে পাঠান।
অভিযোগকারীর দাবি, এক বছরের বেশি সময় ধরে পবনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। শুরুতে পবন তাঁকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন, হাসপাতালে নিয়ে যেতেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার ও আর্থিক বিষয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতেন। ওই নারী একটি সিনেমা পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছিলেন, সেটি প্রযোজনা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন পবন।
একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তানও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পবন তাঁকে জানান, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকেই বিয়ে করবেন-এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ওই নারীর অভিযোগ, পরে তাঁদের সম্পর্ক মূলত যৌন সম্পর্কে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময়ও পবন তাঁকে বিয়ে, বাড়ি, আর্থিক নিরাপত্তা ও সিনেমায় কাজের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও সেগুলো পূরণ করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও পবন তাঁকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করতেন। এমনকি প্যানিক অ্যাটাকের কথা জানালেও ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তাঁর আশঙ্কা, এসব ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগে ৫ আগস্টের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তাঁর দাবি, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাড়িতে পবন তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। মুখে আঘাত করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মুখ ও চোখের আশপাশে ফোলা, মাথাব্যথা ও পিঠে ব্যথা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে গোলকোন্ডা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ ধারা-প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন-এবং ১১৫(২) ধারা-ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা-এ মামলা করেছে।
২০১৩ সালে ‘প্রেম ইশক কাদাল’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় পবন সাদিনেনির। এরপর ‘সাবিত্রী’ (২০১৪) পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ ২০২৩ সালের ওয়েব সিরিজ ‘দয়া’, যা ‘তাকদির’ সিরিজের রিমেক।
বর্তমানে দুলকার সালমান, পূজা হেগড়ে ও শ্রুতি হাসান অভিনীত সিনেমা ‘আকাশম লো ওকা তারা’ পরিচালনা করছেন পবন।
খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত
নেপালের চীন সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত। খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের আরও সদস্য রয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছেন দুই অভিনেতা। গত ২০ আগস্ট তারা সেখানে পৌঁছান। এরপর থেকেই টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে তারা হোটেলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বিমানও ধরতে পারেননি তারা। ফলে বিকল্প পথে নেপাল থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খরাজ বলেন, বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে এসেছি ২০ অগস্ট। ২৬ তারিখ ফেরার কথা ছিল। বৃষ্টির কারণে আটকে পড়েছি। আর এখন ভয়াবহ বন্যা। ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় যাতায়াত করার অবস্থা নেই। গোরখপুর থেকে ২৮ তারিখের প্লেন ধরে কলকাতা ফিরব।
জানা গেছে, সড়কপথে ভারত সীমান্তের কাছে গোরক্ষপুর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখান থেকে ২৮ আগস্ট সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে ফেরার কথা রয়েছে শুটিং দলের। এদিকে তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।
রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে খরাজ, রজতাভসহ শুটিং দলের সদস্যরা নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রভা
হঠাৎ করেই অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গোপনে তিনি ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ করেছেন এমন দাবিও করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রভা। তার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। গতকাল (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তৃতীয় বিয়ের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী।
প্রভা বলেন, ‘আমি বিয়ে করিনি এবং আমি কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ হননি। যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রভা লেখেন, ‘একজন সাংবাদিকের লেখার শক্তি অনেক বেশি। একই কলম দিয়ে কাউকে ‘ভয়ংকর মানুষ’ হিসেবে, আবার কাউকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবেও তুলে ধরা সম্ভব। তাই এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।’
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবেদনশীল কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান প্রভা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধও করেন তিনি।
নিজের ভক্তদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, কোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে কান দিয়ে যেন তারা বিভ্রান্ত না হন। তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে সঠিক ও সত্য তথ্য তিনি তার ফেসবুকের মাধ্যমেই জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
শেষে ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনকে নিজের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে ভালো ও সুস্থ থাকার আহ্বান জানান সাদিয়া জাহান প্রভা।
২০০৫ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সাদিয়া জাহান প্রভা। পরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। বর্তমানে নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজ করছেন এই অভিনেত্রী।
সর্বশেষ একটি সিনেমার শুটিং করেছেন প্রভা। সিনেমাটির কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। শিগগিরই আবারও শুটিংয়ে দেখা যেতে পারে তাকে।
https://www.facebook.com/share/p/1FBbA7HBYu/?mibextid=wwXIfr