স্পাইডার ম্যান

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

বিশ্ব বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্ভেল ও সনির ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির মাত্র ১৭ দিনের মাথায় সিনেমাটি ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম চলচ্চিত্র হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। 


এর আগে সবচেয়ে দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছাতে ‘অ্যাভঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর সময় লেগেছিল মাত্র ১১ দিন।


বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক শূন্য ২২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। টম হল্যান্ড ও জেনডায়া অভিনীত এবং ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আয় করেছে ৭৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১ দশমিক ২৩৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে মাত্র অষ্টম ছবি, যা ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে।


তৃতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বব্যাপী সপ্তাহান্তের আয় ১৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এসেছে ৭০ মিলিয়ন ডলার। এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়। এই তালিকায় এখনো শীর্ষে আছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকনস’। আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি ৬৭টি দেশে চলমান। তৃতীয় সপ্তাহান্তে বিদেশি বাজার থেকে আয় করেছে ১১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার ছিল চীন, যেখানে সপ্তাহান্তে আয় ১০ মিলিয়ন ডলার এবং মোট আয় ২১০ মিলিয়ন ডলার। 


এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৬৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন), যুক্তরাজ্য (১০৬ মিলিয়ন), মেক্সিকো (৭৮ মিলিয়ন), ব্রাজিল (৫৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন) ও ভারত (৫৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার)। ভারতসহ ৩৬টি আন্তর্জাতিক বাজারে এটি সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে গেছে। তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ইতালি, স্পেন, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ।


অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ও দুর্দান্ত গতিতে এগোচ্ছে। মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহে ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে আয় ৫০৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৭৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। শুধু চীনেই প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৩৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। 


তবে এই মুহূর্তে বিশ্ব বক্স অফিসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ১৭ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে ছবিটি শুধু স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নয়, পুরো সুপারহিরো সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা যখন ব্যর্থতার মুখে, তখন নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ কীভাবে সাফল্য পেল? জেনে নেওয়া যাক সম্ভাব্য ১০ কারণ-


‘স্পাইডার-ম্যান’ নিজেই এক বিশাল ব্র্যান্ড


টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সও নয়-স্পাইডার-ম্যান নিজেই একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মতো স্পাইডার-ম্যানও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সুপারহিরোদের একজন। এমসিইউর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে চরিত্রটি আরও বড় একটি জগৎ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা এমসিইউর ওপর নির্ভরশীল নয়।

এই কারণেই টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দেখতে দর্শক শুধু মার্ভেলের ভক্ত হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে যান না। 


সাধারণ দর্শকের কাছেও চরিত্রটির আলাদা আবেদন আছে। ফলে এমসিইউর অন্য কিছু সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমলেও স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।


টম হল্যান্ডের আগের তিন সিনেমাই ছিল সফল


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর আগে টম হল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া তিনটি স্পাইডার-ম্যান সিনেমা-‘হোমকামিং’ (২০১৭), ‘ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯) ও ‘নো ওয়ে হোম’ (২০২১)-দর্শক ও সমালোচকদের কাছেই জনপ্রিয় হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এও হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দর্শক পছন্দ করেছেন।


অর্থাৎ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শূন্য থেকে শুরু করেনি। আগের সিনেমাগুলো চরিত্রটির জন্য যে আস্থা তৈরি করেছে, নতুন ছবিটি সেই আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে যেন ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষত থেকেছে-আগের প্রতিটি সিনেমা পরের সিনেমার জন্য দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। মার্ভেলের বৃহত্তর ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু চরিত্র ও গল্প নিয়ে যেখানে দর্শকের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনা ছিল অনেক বেশি ধারাবাহিক।


‘নো ওয়ে হোম’-এর আবেগ এখনো তাজা


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’কে বোঝার জন্য ‘নো ওয়ে হোম’-এর শেষটাও গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমাটির শেষে পিটার পার্কারকে এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার ফলে পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে যায়। এমনকি তার প্রিয় মানুষ এমজিও আর জানে না পিটার পার্কার কে।


এই সমাপ্তি শুধু একটি সিনেমার শেষ ছিল না; এটি ছিল চরিত্রটির জীবনে বড় এক পরিবর্তন। ফলে পরের সিনেমায় কী হবে, পিটার কীভাবে এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে-তা জানার কৌতূহল তৈরি হয় দর্শকের মধ্যে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই আবেগের জায়গা থেকেই গল্প শুরু করেছে। ফলে আগের সিনেমার দর্শকের জন্য এটি শুধু আরেকটি নতুন স্পাইডার-ম্যান সিনেমা নয়; বরং অসমাপ্ত একটি আবেগের পরের অধ্যায়।


এবার মাল্টিভার্স নয়, নিউইয়র্কের রাস্তায় স্পাইডার-ম্যান


সাম্প্রতিক এমসিইউর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাল্টিভার্স। অন্য জগৎ, বিকল্প বাস্তবতা, অসংখ্য চরিত্র ও সময়ের নানা স্তর-সব মিলিয়ে বিশাল এক গল্পের কাঠামো। ‘নো ওয়ে হোম’ও সেই মাল্টিভার্সকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল এবং দর্শক সেটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপর একই ধরনের ধারণার পুনরাবৃত্তিতে দর্শকের একাংশ ক্লান্ত হয়েছে।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পথ থেকে সরে এসেছে। ছবিটির গল্প তুলনামূলকভাবে স্ট্রিট-লেভেল বা মাটির কাছাকাছি। পিটার পার্কার নিউইয়র্কে নিজের মতো করে কাজ করছেন, অপরাধীদের মোকাবিলা করছেন, পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন।


এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্পাইডার-ম্যানের আসল শক্তি শুধু পৃথিবী বাঁচানো নয়; একজন সাধারণ তরুণ কীভাবে নিজের ব্যক্তিজীবন ও সুপারহিরো পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখে-সেটিও।


‘ম্যাকগাফিন’ নেই, আছে চরিত্র


সুপারহিরো সিনেমার বহুল ব্যবহৃত একটি কাঠামো হলো কোনো বিশেষ বস্তু খুঁজে বের করা, রক্ষা করা কিংবা ধ্বংস করা। কখনো পাথর, কখনো কিউব, কখনো তলোয়ার, কখনো এমন কোনো বস্তু যা পুরো মহাবিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পরিচিত কাঠামো থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে।


স্পাইডার-ম্যান কমিকসের দীর্ঘদিনের লেখক জে মাইকেল স্ট্র্যাজিনস্কিও এ বিষয়টিকে ছবিটির সাফল্যের একটি কারণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, দর্শক বারবার একই ধরনের ‘ম্যাকগাফিন’ বা রহস্যময় বস্তুকেন্দ্রিক গল্প দেখতে দেখতে ক্লান্ত হতে পারেন।


‘এন্ডগেম’-এর পর আবার সেই উন্মাদনা?


‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছিল এমসিইউর একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অনেক সিনেমাই ব্যবসা করেছে, কিছু সিনেমা বড় সাফল্যও পেয়েছে। কিন্তু ‘এন্ডগেম’-এর মতো সর্বজনীন সাংস্কৃতিক ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর সাফল্য তাই শুধু স্পাইডার-ম্যানের সাফল্য নয়। এটি মার্ভেলের জন্যও একধরনের স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল-সুপারহিরো সিনেমা কি তার আগের আবেদন হারিয়ে ফেলেছে?-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তার উত্তর দিয়েছে অন্যভাবে। দর্শক হয়তো সুপারহিরো সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তাঁরা শুধু একই ধরনের সুপারহিরো সিনেমা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়েছেন। 


তাই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ যখন একই পুরোনো চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে এনে গল্পকে ব্যক্তিগত করেছে, মাল্টিভার্সের বদলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ফিরিয়েছে, অতিরিক্ত ম্যাকগাফিন বাদ দিয়েছে এবং টম হল্যান্ড-জেন্ডায়ার মতো তারকাদের আবেগকে সামনে রেখেছে-তখন দর্শক আবারও সাড়া দিয়েছেন। আর এখানেই ছবিটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা: সুপারহিরো সিনেমার সমস্যা হয়তো সুপারহিরো নয়, সমস্যা গল্প বলার ধরনে।


চরিত্রনির্ভর গল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে তাই গল্পের কেন্দ্রে কোনো জাদুকরি বস্তু নয়; বরং পিটার পার্কার নিজেই। তার হারানো সম্পর্ক, একাকিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নতুন শত্রুর মোকাবিলা-গল্পের আবেগ তৈরি হয়েছে এসব জায়গা থেকে। সুপারহিরো সিনেমায় এটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তন হলেও দর্শকের কাছে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।


বাস্তবধর্মী আবহ দর্শককে টেনেছে


‘গ্রাউন্ডেড’ বা বাস্তবধর্মী-শব্দ দুটি শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগে, কারণ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ কোনো বাস্তবধর্মী পারিবারিক নাটক নয়। এটি স্পাইডার-ম্যানের সিনেমা। তবু মার্ভেলের অন্যান্য অনেক ছবির তুলনায় এর গতি কম উন্মত্ত, গল্প বেশি চরিত্রনির্ভর এবং বেশ কিছু দৃশ্যকে নিছক সিজিআই প্রদর্শনী মনে হয় না।


সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের মধ্যে বাস্তবধর্মী নির্মাণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে-লো-ফাই ঘরানার সফল সিনেমা থেকে শুরু করে বড় বাজেটের কিছু ছবিতেও বাস্তব সেট, বাস্তব অ্যাকশন ও চরিত্রনির্ভর গল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ও সেই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে।


এমনকি ছবিটির সবচেয়ে দুর্বল অংশ হিসেবে যে দীর্ঘ লড়াইয়ের দৃশ্যটির কথা বলা হয়েছে, সেটিও হলো সবচেয়ে বেশি ‘মার্ভেলসুলভ’ অংশ-স্পাইডার-ম্যান ও হাল্কের দীর্ঘ লড়াই। অর্থাৎ ছবিটির যে অংশটি বেশি প্রচলিত সুপারহিরো ঘরানার, সেটিই তুলনামূলকভাবে গল্পের জন্য কম জরুরি বলে মনে হয়েছে।


টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার প্রভাব


স্ট্রিমিংয়ের যুগে অনেকেই মনে করেন, বড় তারকার প্রয়োজন কমে গেছে। কিন্তু বক্স অফিস আবারও দেখাচ্ছে, তারকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।


টম হল্যান্ড ও জেনডায়া দুজনই বর্তমানে নিজেদের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার শীর্ষ পর্যায়ে। বাস্তব জীবনেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ফলে পর্দায় পিটার পার্কার ও এমজের সম্পর্কও বাড়তি আবেগ তৈরি করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে এই সম্পর্কই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর এমজি পিটারকে মনে না রাখার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি নতুন সিনেমার শুরু থেকেই দর্শকের আবেগের কেন্দ্র।


অর্থাৎ এখানে তারকাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং চরিত্রের আবেগ-দুটো একে অন্যকে শক্তিশালী করেছে।


স্যাডি সিঙ্ককে ঘিরে রহস্য


সিনেমা মুক্তির আগে স্যাডি সিঙ্ককে নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলাদা কৌতূহল। মার্ভেল তাঁর চরিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ভক্তদের মধ্যে নানা তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কে-এই প্রশ্নের উত্তর জানতে দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জিন গ্রের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে, বিশেষ করে এমসিইউতে এক্স-মেনের নতুন যুগ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে।


বর্তমান সময়ে সিনেমার বড় কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে চরিত্রের পরিচয় গোপন রাখা নিজেই একটি বিপণন কৌশলে পরিণত হয়।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই কৌশল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখতে গেছেন শুধু গল্পের জন্য নয়, স্যাডি সিঙ্ক আসলে কে-সেটি নিজের চোখে দেখার জন্যও।


দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা


বক্স অফিসে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য প্রথম সপ্তাহের আয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সব নয়। একটি সিনেমাকে দীর্ঘ দৌড়ের জন্য প্রয়োজন দর্শকের ভালোবাসা।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই জায়গাতেও সুবিধা পেয়েছে। দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং সিনেমাকে ঘিরে নানা মিম-সব মিলিয়ে ছবিটি মুক্তির পরও পপ সংস্কৃতির আলোচনায় থেকে গেছে। একটি সিনেমা যত বেশি মানুষকে কথা বলায়, নতুন দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।


এই ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখে মুখে প্রচারই বড় বাজেটের সিনেমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিজ্ঞাপনগুলোর একটি।


শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি দর্শকের ভালো লেগেছে


সব বিশ্লেষণের পর সবচেয়ে সহজ কারণটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- দর্শকের সিনেমাটি ভালো লেগেছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ টম হল্যান্ড যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমা। দর্শক-প্রতিক্রিয়াও ছিল অসাধারণ। ছবিটির দর্শক স্কোর ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা লাইভ-অ্যাকশন ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।


ছবিতে ক্যামিও আছে, ভবিষ্যৎ সিনেমার জন্য কিছু প্রস্তুতিও আছে, আছে নানা চমক ও মোড়। কিন্তু এসবের মধ্যেও গল্পের কেন্দ্র থেকে সরে যায়নি পিটার পার্কার। একদিকে তাকে নতুন এক রহস্যময় শত্রুর মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে।


বিশেষ করে পিটার ও এমজেকে ঘিরে একটি ছাদদৃশ্য দর্শকের আবেগকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ প্রমাণ করে, সুপারহিরো সিনেমার সাফল্যের জন্য সব সময় পৃথিবী ধ্বংসের হুমকি দরকার হয় না; কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা দিয়েও লাখো দর্শককে নাড়া দেওয়া সম্ভব।



সর্বশেষ সব খবর

যতটা পাপ কামিয়েছি, সবটা ধুয়েমুছে মরতে চাই: পপি

রঙিন দুনিয়া থেকে দূরে থাকার ইঙ্গিত


চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ এএম

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। রুপালি পর্দা থেকে আড়ালে থাকা এই অভিনেত্রী এখন জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে চান বলে জানিয়েছেন। 




একই সঙ্গে ধর্মীয় জীবনযাপনের প্রতিও নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে পপি বলেন, ‘সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই।’




এই বক্তব্যে চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়া থেকে নিজেকে আরও দূরে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় পপির। দীর্ঘ ২৮ বছরের অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, এখন জীবনের অন্য একটি অধ্যায়কে গুরুত্ব দিতে চান।




পপি বলেন, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’ তার এমন বক্তব্যে নিজের জীবন নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অবশ্য অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে ২০২৫ সালে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছিল পপির কণ্ঠে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলেও যে কোনো কাজ দিয়ে নয়, ভালো কোনো কাজের মাধ্যমেই ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন তিনি। 



তবে ২০২৬ সালেও চলচ্চিত্রে তার প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত। ১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পপির। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি প্রশংসিত বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। করোনাভাইরাস মহামারির সময় দীর্ঘদিন শুটিং থেকে বিরতিতে ছিলেন পপি। নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। 




সুস্থ হয়ে ওঠার পর ২০২১ সালের শুরু থেকেই মিডিয়াসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই বন্ধ করে দেন এই অভিনেত্রী। এরপর থেকেই তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।




একপর্যায়ে গুঞ্জন ওঠে, বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন পপি। পরে জানা যায়, তিনি এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। তার ছেলের নাম আয়াত। বর্তমানে তার বয়স প্রায় চার বছর।



সর্বশেষ সব খবর

অপু বিশ্বাস

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপালে থাকা অপু ও পুরো শুটিং ইউনিট নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বললেন অপু বিশ্বাস।


তিনি বলেন, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা দূরের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। অথচ পরদিন, ২৭ আগস্ট, একই পথ দিয়ে তাদের যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।


অপু জানান, একদিনের ব্যবধানেই বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে তাদের দল। যে পথ দিয়ে কাঠমান্ডু ফেরার কথা ছিল, দুর্যোগের কারণে সেটি এখন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপালে শুটিং চালিয়ে যাওয়াকে উপযুক্ত মনে করেননি অপু।


তার ভাষায়, মানুষের এমন দুর্ভোগের মধ্যে গানের দৃশ্য ধারণ করা অমানবিক মনে হতে পারে। তাই পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসেন।


কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন অপু বিশ্বাস ও তার সহশিল্পীরা। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ভক্তরা।


এর আগে কলকাতায় ফিরে খরাজ মুখার্জিও জানান, তারা নিরাপদেই ছিলেন। পরে ঢাকায় ফিরে অপু বিশ্বাসও নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সর্বশেষ সব খবর

তানজিন তিশা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

টিভি নাটকে তানজিন তিশার উপস্থিতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল অনিশ্চয়তা। গত বছর সাকিব ফাহাদের ‘সোলজার’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর নাটকের কাজে নিয়মিত দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে। 


প্রায় সাড়ে চার মাস নতুন কোনো নাটকের শুটিংয়ে অংশ না নেওয়ায় তার নাটক ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই গুঞ্জনে ইতি টেনে আবারও নাটকের শুটিংয়ে ফিরেছেন তানজিন তিশা। বিরতির পর এরই মধ্যে দুটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি। 


মহিদুল মহিমের ‘ভালোবাসার অভিযান’র পাশাপাশি চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।


চয়নিকা চৌধুরীর নির্মাতা হিসেবে ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রথম দেখার পর’। নাটকটিতে তিশার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ। 


শুটিংয়ের ফাঁকে নাটকে ফেরার কারণ জানিয়ে তিশা বলেন, নাটক তার শিকড় এবং এই জায়গা থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখতে চান না।


তার ভাষায়, “প্রায় সাড়ে চার মাস নাটকের শুটিং করিনি। এ কারণে সবাই ধরে নিয়েছিল, সিনেমার জন্য হয়তো নাটক ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, আমার শিকড় আমি কখনো ভুলি না। নাটক আমার শিকড়, একই সঙ্গে এটি আমার ভালোবাসার জায়গা। যখন মনে হলো আবার শুরু করা উচিত, তখন চয়নিকা দিদির ‘প্রথম দেখার পর’ নাটকের জন্য শিডিউল দিই। এর আগে আরও একটি নাটকের কাজ করেছি।”


‘প্রথম দেখার পর’ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, এটি একটি সুন্দর ভালোবাসার গল্প। দীর্ঘদিন পর চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে তার। নির্মাতার সঙ্গে আগের কাজগুলোর মতো এবারও দর্শকের ভালোবাসা পাবেন বলে আশাবাদী এই অভিনেত্রী।


অন্যদিকে তানজিন তিশার সিনেমা ‘সোলজার’র কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছর সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও একটি গান ও কয়েকটি দৃশ্যের কাজ বাকি রয়েছে। 


জানা গেছে, আগামী মাসে বাকি অংশের শুটিং শুরু হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে সিনেমাটি।


সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ এ তানজিন তিশার বিপরীতে অভিনয় করছেন শাকিব খান। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এতে আরও অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, তারিক আনাম খান ও তৌকীর আহমেদসহ আরও অনেকে।

সর্বশেষ সব খবর

তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৩ পিএম

তেলেগু সিনেমার পরিচালক পবন সাদিনেনির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ করেছেন এক নারী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ে ও সিনেমায় কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন এই নির্মাতা। পরে জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে।


৭ আগস্ট হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা থানায় ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ পবন সাদিনেনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বিচারিক হেফাজতে চাঞ্চলগুডা কারাগারে পাঠান।


অভিযোগকারীর দাবি, এক বছরের বেশি সময় ধরে পবনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। শুরুতে পবন তাঁকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন, হাসপাতালে নিয়ে যেতেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার ও আর্থিক বিষয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতেন। ওই নারী একটি সিনেমা পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছিলেন, সেটি প্রযোজনা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন পবন।


একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, পবন বিবাহিত এবং তাঁর সন্তানও রয়েছে। 


অভিযোগ অনুযায়ী, পবন তাঁকে জানান, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকেই বিয়ে করবেন-এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।


ওই নারীর অভিযোগ, পরে তাঁদের সম্পর্ক মূলত যৌন সম্পর্কে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময়ও পবন তাঁকে বিয়ে, বাড়ি, আর্থিক নিরাপত্তা ও সিনেমায় কাজের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও সেগুলো পূরণ করেননি।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও পবন তাঁকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করতেন। এমনকি প্যানিক অ্যাটাকের কথা জানালেও ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তাঁর আশঙ্কা, এসব ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।


অভিযোগে ৫ আগস্টের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। 


তাঁর দাবি, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাড়িতে পবন তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। মুখে আঘাত করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মুখ ও চোখের আশপাশে ফোলা, মাথাব্যথা ও পিঠে ব্যথা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


অভিযোগের ভিত্তিতে গোলকোন্ডা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ ধারা-প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন-এবং ১১৫(২) ধারা-ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা-এ মামলা করেছে।


২০১৩ সালে ‘প্রেম ইশক কাদাল’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় পবন সাদিনেনির। এরপর ‘সাবিত্রী’ (২০১৪) পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ ২০২৩ সালের ওয়েব সিরিজ ‘দয়া’, যা ‘তাকদির’ সিরিজের রিমেক।


বর্তমানে দুলকার সালমান, পূজা হেগড়ে ও শ্রুতি হাসান অভিনীত সিনেমা ‘আকাশম লো ওকা তারা’ পরিচালনা করছেন পবন।

সর্বশেষ সব খবর

খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০০ পিএম

নেপালের চীন সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত। খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের আরও সদস্য রয়েছেন।


হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছেন দুই অভিনেতা। গত ২০ আগস্ট তারা সেখানে পৌঁছান। এরপর থেকেই টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে তারা হোটেলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বিমানও ধরতে পারেননি তারা। ফলে বিকল্প পথে নেপাল থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 


অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খরাজ বলেন, বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে এসেছি ২০ অগস্ট। ২৬ তারিখ ফেরার কথা ছিল। বৃষ্টির কারণে আটকে পড়েছি। আর এখন ভয়াবহ বন্যা। ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় যাতায়াত করার অবস্থা নেই। গোরখপুর থেকে ২৮ তারিখের প্লেন ধরে কলকাতা ফিরব। 


জানা গেছে, সড়কপথে ভারত সীমান্তের কাছে গোরক্ষপুর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখান থেকে ২৮ আগস্ট সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে ফেরার কথা রয়েছে শুটিং দলের। এদিকে তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।


রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে খরাজ, রজতাভসহ শুটিং দলের সদস্যরা নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।  

সর্বশেষ সব খবর

প্রভা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম

হঠাৎ করেই অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গোপনে তিনি ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ করেছেন এমন দাবিও করা হয়।


বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রভা। তার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। গতকাল (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তৃতীয় বিয়ের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। 


প্রভা বলেন, ‘আমি বিয়ে করিনি এবং আমি কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ হননি। যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ 


সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রভা লেখেন, ‘একজন সাংবাদিকের লেখার শক্তি অনেক বেশি। একই কলম দিয়ে কাউকে ‘ভয়ংকর মানুষ’ হিসেবে, আবার কাউকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবেও তুলে ধরা সম্ভব। তাই এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।’


ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবেদনশীল কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান প্রভা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধও করেন তিনি।


নিজের ভক্তদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, কোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে কান দিয়ে যেন তারা বিভ্রান্ত না হন। তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে সঠিক ও সত্য তথ্য তিনি তার ফেসবুকের মাধ্যমেই জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।


শেষে ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনকে নিজের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে ভালো ও সুস্থ থাকার আহ্বান জানান সাদিয়া জাহান প্রভা।


২০০৫ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সাদিয়া জাহান প্রভা। পরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। বর্তমানে নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। 


সর্বশেষ একটি সিনেমার শুটিং করেছেন প্রভা। সিনেমাটির কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। শিগগিরই আবারও শুটিংয়ে দেখা যেতে পারে তাকে।

https://www.facebook.com/share/p/1FBbA7HBYu/?mibextid=wwXIfr

সর্বশেষ সব খবর