ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ক্রিস্টাল জিমারম্যান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধ নিয়ে বেশ চিন্তিত। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে আগে সমর্থন দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে।
একের পর এক বোমা হামলা আর চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ট্রাম্পের হুমকির পর এখন একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই। জিমারম্যানের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো নিজের অজান্তেই এক অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।
বাগদাদ থেকে ফেরার পর বিষণ্নতা ও অনিদ্রায় ভুগছেন ৪০ বছর বয়সী জিমারম্যান। কলোরাডো স্প্রিংসের একটি ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া শেষে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ আসলে সম্পদ ও অর্থের অপচয়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি একজন উৎপীড়কের মতো হয়ে উঠছে।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাত সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প আবারও তার চিরায়ত বাগাড়ম্বর ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ফিরে গেছেন।
ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি দেশটির বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকের মনেই ক্ষোভ, হতাশা ও বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৬ জনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের বিরোধী। বলা বাহুল্য, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ বা ’৯০-এর দশকে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ে জনগণের জোরালো জনসমর্থনের তুলনায় এটি এক বড় পরিবর্তন।
অনেকের মতে, এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বিভ্রান্ত। তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধের জন্য জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেননি এবং যুদ্ধের কারণও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। উত্তর ক্যারোলাইনার ফেয়্যাটভিল শহরে কফিতে চুমুক দিতে দিতে ১৯ বছর বয়সী এমেলিয়া লরেঞ্জেন বলেন, ‘আমার মনে হয় না ট্রাম্প কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’
ফেয়্যাটভিল শহরটি ফোর্ট ব্র্যাগ সেনাঘাঁটির জন্য বিখ্যাত। এখানে সেনাবাহিনীর স্পেশাল অপারেশনস এবং থার্ড স্পেশাল ফোর্সেস গ্রুপের সদর দপ্তর অবস্থিত। তবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই বিরোধিতার সুর এখনো বেশ মৃদু। ক্যাফের আড্ডা কিংবা সাবেক সেনাসদস্যদের সভায় আলাপচারিতার মধ্যেই মূলত এই অসন্তোষ দানা বাঁধছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের প্রাক্কালে যেমন বিশাল গণবিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, এবার তার পরিবর্তে শুধু ছোটখাটো সমাবেশ হচ্ছে।
আমি অবাক হচ্ছি যে আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।
৬৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক মাইক কিফ
অরেগনের পোর্টল্যান্ডে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ৬৪ বছর বয়সী মাইক কিফ বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি, আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।’
ইরান যুদ্ধের বিরোধিতার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক দলের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরোধী। অন্যদিকে রিপাবলিকান ভোটারদের বেশির ভাগই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাচ্ছেন। জরিপটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আগে করা হয়েছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়তে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য অশনিসংকেত দিচ্ছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ। এতে দেখা গেছে, রিপাবলিকানঘেঁষা নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থন নিয়ে স্পষ্ট বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের প্রতি ৫২ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানালেও ৪৫ শতাংশই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
সিএনএনের মার্চ মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান দলের ভেতরের এই ফাটল মূলত ট্রাম্পের গতানুগতিক কট্টর সমর্থকদের বাইরে থেকে তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নিজেদের ‘মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) রিপাবলিকান’ হিসেবে পরিচয় দেন না, তাদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থনের হার কট্টর সমর্থকদের তুলনায় অনেক কম।
এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকানদের তুলনায় তরুণ রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে অনেক কম সমর্থন করছেন। সামগ্রিকভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটাররা এই যুদ্ধের জোরালো বিরোধিতা করছেন।
এমনকি যেসব রিপাবলিকান এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন, তাঁরাও এ পরিস্থিতিকে খুব একটা সন্তোষজনক মনে করছেন না। পিউ জরিপ বলছে, এই রিপাবলিকানদের মাত্র অর্ধেক মনে করেন যে যুদ্ধ ঠিকঠাক এগোচ্ছে।
কলোরাডো স্প্রিংস, সান আন্তোনিও এবং ফিয়্যাটভিলের মতো সামরিক শহরগুলোয় নেওয়া এসব সাক্ষাৎকারে ভোটাররা তাঁদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্প ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধবিরোধী’ এবং শান্তির পক্ষে প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় এলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।
যুদ্ধ শুরুর ছয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মার্কিনদের অনেকেই জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য কী, কিংবা কেন তিনি এ সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে হামলায় যোগ দিলেন-সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তাঁদের মতে, সবকিছুই খুব দ্রুত এবং অসংলগ্নভাবে ঘটেছে।
মার্কিন নাগরিকেরা বলছেন, জর্জ ডব্লিউ বুশ বা তাঁর বাবা জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের মতো সাবেক প্রেসিডেন্টরা আফগানিস্তান বা ইরাক হামলা এবং কুয়েত থেকে সাদ্দাম হোসেনকে হটানোর অভিযানের আগে মাসের পর মাস এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। তখন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল এবং কংগ্রেসেও বিতর্ক হয়েছিল।
অথচ এবার ইরানে হামলার আগে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এর ওপর সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনালাপে এবং ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গভীর রাতে ট্রাম্পের দেওয়া একের পর এক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্চের শুরুর দিকের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার এবং ৭১ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার মনে করেন, যুদ্ধের আগে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। বিপরীতে ইরাক যুদ্ধের আগে বুশ যেসব যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, তা জনসাধারণের বড় একটি অংশের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল বলে জরিপে দেখা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া লরেঞ্জেন তাঁর একটি হুমকিতে বিশেষভাবে বিচলিত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় সেই ভয়াবহ ঝুঁকি আপাতত এড়ানো গেছে।
লরেঞ্জেন বলেন, ‘ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান দিক ছিল তিনি নিজেকে একজন যুদ্ধবিরোধী মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। অথচ সেই কথা বলার পর এখন আমরা তাঁকে এত দ্রুত যুদ্ধের দিকে পা বাড়াতে দেখছি। বিষয়টি আসলে মোটেও বোধগম্য নয়।’
ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে এই ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। ওই দুই যুদ্ধে ৭ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য ও ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ভোটাররা ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সেই মিথ্যা দাবি এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের রক্তাক্ত বিদায়ের কথা টেনে আনছেন। তাঁদের মনে এখন একটাই সংশয়, আবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?
৫৫ বছর বয়সী সাবেক মেরিন সেনা কুয়েতা রদ্রিগেজ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সময় ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে এক ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সে সময়কার সম্মিলিত শোক এবং মার্কিন নাগরিকদের একতাবদ্ধ হওয়ার কথা মনে করেন। ইরাক আক্রমণের বিষয়ে বুশের যুক্তির সঙ্গে তিনি একমত না হলেও রদ্রিগেজ মনে করেন, বুশ অন্তত জনগণকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
সান আন্তোনিওর বাসিন্দা রদ্রিগেজ এখন ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ, ট্রাম্প দেশকে এমন এক অঞ্চলে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে অনেক সেনা ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় তিনি কংগ্রেসের ওপর হতাশ এবং অনেক নাগরিককে এই যুদ্ধ নিয়ে নির্লিপ্ত দেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রিপাবলিকানপন্থী অন্যান্য সাবেক সেনা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁরা এখনো ট্রাম্প ও এই যুদ্ধকে সমর্থন করেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া এবং শত শত মার্কিন সেনা হত্যায় সহায়তা করা একটি ‘ধর্মতাত্ত্বিক স্বৈরতন্ত্রের’ ওপর হামলা চালানোর জন্য তাঁরা ট্রাম্পের প্রশংসা করছেন।
ট্রাম্পের সমালোচকেরা যেখানে ইরান হামলাকে অগোছালো বলছেন, সেখানে তাঁর গোঁড়া সমর্থকেরা মনে করেন এই হামলা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।
ইরাকে দায়িত্ব পালন করা ৫৮ বছর বয়সী গ্যারি ফ্রিস বলেন, ‘ইরান একটা হুমকি, একে নির্মূল করা দরকার।’ বর্তমানে নিজের হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেল নিয়ে রকি মাউন্টেন চষে বেড়ানো এই সাবেক সেনা বলেন, ইরান আক্রমণ করে ট্রাম্প দেখিয়েছেন, ‘তাঁর মেরুদণ্ড আছে।’
পশ্চিম আইওয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রতি জোরালো সমর্থনও রয়েছে। গত তিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ অঞ্চলে ট্রাম্পের জয়ের ব্যবধান ক্রমাগত বেড়েছে।
নিজের খামারের গরুর মাংস বিক্রি করেন ৫১ বছর বয়সী কেলি গ্যারেট। তিনি এমন একজন কৃষক, যিনি সরকারের এই ইরান আক্রমণের যৌক্তিকতা পুরোপুরি না বুঝলেও তাতে সমর্থন দিচ্ছেন। মূলত অনেক রিপাবলিকানেরই প্রেসিডেন্টের ওপর অটুট বিশ্বাস রয়েছে।
ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে আগে থেকেই বিপর্যয়ের মুখে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলো। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। ঠিক যে সময় কৃষকেরা বীজ বপনের জন্য জমি ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করছিলেন, তখনই অর্থনীতির ওপর এই নতুন আঘাত এল।
তবু আইওয়ার অনেক রিপাবলিকান কৃষক এই উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং করপোরেট মুনাফাখোরদের দায়ী করছেন।
অবসরপ্রাপ্ত কৃষক কট্টর রিপাবলিকান সমর্থক ওয়েইন ব্রিঙ্কস (৭২) মনে করেন, যদি এই যুদ্ধের ফলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যায়, তবে বর্তমানের এই সাময়িক কষ্ট মেনে নেওয়া সার্থক হবে।
ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে ব্রিঙ্কস বলেন, ‘ওরা চরম ধর্মীয় উগ্রপন্থী। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ভেবেছেন পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। পরে কখনোই তা সম্ভব হবে না। আমাদের কিছু একটা করতেই হতো।’
তবে কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইওয়াতেও এখন সন্দেহ আর উদ্বেগ দানা বাঁধছে। উডবেরি কাউন্টির কৃষক ও রিপাবলিকান সুপারভাইজার মার্ক নেলসন (৩৫) ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই আক্রমণ প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বার্তাকেই ক্ষুণ্ন করছে।
ট্রাম্পপন্থী প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন, অ্যালেক্স জোনস এবং মেগিন কেলিদের মধ্যেও এমন সমালোচনা এখন জোরালো হচ্ছে।
নেলসন বলেন, ‘এই যুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় হচ্ছে, তা হাস্যকর।’ যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রভাব কতটা ছিল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। নেলসনের মতে, ‘আমার মনে হয় না, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কোনো আসন্ন বিপদ ছিল।’
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল। আগামী সপ্তাহে সরকারি সফরে ব্রাজিল যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল সরকারের আশঙ্কা ছিল, ওই দুই মার্কিন কর্মকর্তা আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে সন্দেহ ও বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইলি এম. বার্নস এবং উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল স্যামসন ২০ জুলাই ভিসার আবেদন করেন। চার দিন পর, ২৪ জুলাই তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার মুখোমুখি হবেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ফ্লাভিওর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
গত মে মাসের শেষ দিকে ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার ভাই এদুয়ার্দো ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের দুটি বড় মাদক পাচারকারী সংগঠন-ফার্স্ট কমান্ড ক্যাপিটাল ও রেড কমান্ডকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। সে সময় এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট লুলা।
এরই মধ্যে শুক্রবার থেকে ব্রাজিলের রপ্তানি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিলের কিছু বাণিজ্যনীতি বিদেশি ব্যবসার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার লঙ্ঘন ঠেকাতেও দেশটি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে লুলা প্রশাসন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আসন্ন নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বার্নস ও স্যামসনের ২৭ থেকে ৩০ জুলাই ব্রাসিলিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল। সফরে তারা সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এটি ছিল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর। কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই এবং এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন, যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি তার ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোও একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে শনিবার সাও পাওলোতে লিবারেল পার্টি তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট
ইসরায়েলে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ভোটের মাঠে আবির্ভূত হয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনে ভোট হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আইজেনকোটের উত্থান ঘটেছে। তাঁর দলের নাম ইয়াশার। ২০২৫ সালে তিনি এই দল গঠন করেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে হামলা চলায়। ওই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হওয়া সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগে ভোটাররা তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আসনসংখ্যার পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে সামান্য ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে আইজেনকোটের নতুন দল ইয়াশার। জরিপ অনুযায়ী, ইয়াশার পেতে পারে ২৩টি আসন, আর লিকুদ পেতে পারে ২২টি।
একই জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৪৩ শতাংশের মতে, ৬৬ বছর বয়সী গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে উপযুক্ত মনে করেন ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা।
আইজেনকোটও অবশ্য উগ্রবাদী ইসরায়েলি ধ্যানধারণা পোষণ করেন। হামাসের হামলার পর ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তিনি লেবাননে ইসরায়েলের অন্যায্য সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রবর্তক হিসেবেও পরিচিত। তিনি চান ইসরায়েল শত্রুপক্ষের হামলার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী বা ব্যাপক সামরিক জবাব দেওয়ার নীতি গ্রহণ করুক।
আইজেনকোট ১০ দফা কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা গড়ে তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচি ইসরায়েলের নিরাপত্তা, জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করবে।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান (চিফ অব স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গাদি আইজেনকোট। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের শীর্ষ অঙ্গীকার হলো, ২০২৩ সালে সীমান্ত পার হয়ে হামাসের রক্তক্ষয়ী হামলার বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা। ওই হামলার পরই গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়, যা দ্রুত বিস্তৃত হয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। একই সঙ্গে এই ঘটনার জেরে নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নে ব্যর্থতার অভিযোগও ওঠে।
এ ধরনের তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে কয়েক দফায় হাজার হাজার ইসরায়েলি বিক্ষোভ করেছেন। তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এর পরিবর্তে এমন একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার সদস্যদের নির্বাচন করবেন রাজনীতিকেরাই।
এ ছাড়া আইজেনকোট ‘নতুন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তানীতি’ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হবে সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা এবং ইসরায়েলের সীমান্তনিরাপত্তা আরও জোরদার করা। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সামগ্রিক প্রশ্নে তাঁর অবস্থান এখনো তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার পর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যুদ্ধ হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার। এখন পর্যন্ত আলোচনা থেকে কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তাদের আগের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সংলাপ চলছে। এই হামলা তেহরানের কাছ থেকে আলোচনার টেবিলে সুবিধা পাওয়ার জন্যও চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার ইরানের জাহাজে আঘাত হানে ইউক্রেন।
ইরান জানায়, এতে তাদের এক নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইউক্রেনের কূটনীতিকদের তলব করেছে তেহরান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূরপাল্লার ওই হামলায় ইরানের সামরিক কার্গো বহনকারী জাহাজ ও রুশ রণতরীতে হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তা অভিযোগও তুলেছেন। এমন একটি সময় এসব ঘটনা ঘটল, যখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ দিন হামলার পর ইরানে আঘাত হানা বন্ধ করেছে।
ইরান বর্তমানে দক্ষিণ উপকূল নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে নৌযান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগরে যুদ্ধ গড়ালে ইরানের ওপর চাপ বাড়বে। তারা সেখান দিয়ে নৌযান পার করতে পারবে না। এতে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিপ্রধান কাজা কাল্লাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, আরাঘচি এই আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মহলকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কখনও প্রত্যক্ষভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ায়নি।
ইরান এর আগে জানিয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগীদের ওপর হামলা করবে তারা। সেই সময় যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। যুক্তরাজ্য শুরু থেকে এ সংঘাতে প্রত্যক্ষভাবে না জড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ চালাতে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছিল। সেটি নিয়েই ক্ষুব্ধ হয় ইরান। পরে জবাবে যুক্তরাজ্য জানায়, তাদের বাহিনী প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত সব সময়।
যেখানে মিল দুই যুদ্ধের
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর ইউক্রেনকে অস্ত্র ও রসদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের যেসব উদ্যোগ অতীতে দেখা গেছে, সেগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, ইরানের দিকে অতীতে বেশ কয়েক দফায় ইউক্রেন অভিযোগ তুলেছে, তারা শাহেদ ড্রোন দিয়ে রাশিয়াকে সহায়তা করছে। ইরান যুদ্ধের প্রথম দফায় ইউক্রেন উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে ইরানের ড্রোন ঠেকানোর প্রযুক্তি দিতে পারবে বলেও জানিয়েছিল।
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। অন্যতম বড় মিলটি হলো, দুই পরাশক্তি নিজের তুলনায় কম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে আটকে গেছে। ইউক্রেনের ইরানের জাহাজে হামলা চালানোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে দুই যুদ্ধ পরিস্থিতিই যে এটির মধ্যে দিয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে, সে আশঙ্কা তীব্র।
ইউক্রেন এখন কী বলছে
জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ফল পেয়েছে ইউক্রেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, ‘জুলাইয়ের শুরু থেকে আমরা উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও সেখানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় রাশিয়ার স্যাটেলাইটের সক্রিয় নজরদারির বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। ওই ছবিগুলো পরে ইরানে পৌঁছেছে।’
জেলেনস্কি আরও জানান, রাশিয়ার স্যাটেলাইটগুলো ১৯ ও ২০ জুলাই চারটি বিমানঘাঁটিতে নজরদারি চালায়। এর মধ্যে দুটি বাহরাইনে, একটি জর্ডানে ও একটি কুয়েতে অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে অবশ্যই থামাতে হবে। এই যুদ্ধ থামাতে হবে। আগ্রাসীর ওপর চাপ অবশ্যই কাজ করবে।
সংলাপ যে পর্যায়ে রয়েছে
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ গতকাল রোববার জানিয়েছেন, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে হামলা থামিয়েছেন কূটনীতিকে সুযোগ করে দিতে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। টানা দুই রাত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালানোর পর ওই মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি গতকাল জানান, সংঘাতের সম্প্রসারণ ঠেকাতে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। তিনিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কাতার, মিসর, পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানকে ১০ দিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত দেশ দুটি যাতে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনায় বসার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই এটি করা হয়েছে।
এদিকে, ওমানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে ইরানের। ইসমায়েল বাঘায়ি গতকাল জানান, ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল-সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে। কীভাবে দুই দেশ নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে নৌযান চলাচলের বিষয়টিকে সামাল দেবে, তা নিয়ে আলাপ হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, সে বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র চায় না হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকুক। অন্যদিকে, ইরান হরমুজে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে সার্বভৌমত্বের অংশ বলে মনে করে। দ্বিতীয় দফায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এই নিয়ন্ত্রণকে ঘিরেই শুরু হয়েছিল।
ইরানের অবকাঠামো ঠিক করার নির্দেশ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ হওয়ার পরপরই দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব অবকাঠামোর মধ্যে রেলপথ, আন্তর্জাতিক পারাপার করিডোর রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান যোগাযোগ পথ ঠিক করা কৌশলগত অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পাল্টা হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে ইরান।
দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ হামলা স্থগিত রাখবে, ততক্ষণ ইরানও সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন। এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’
এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না। ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, ‘দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।’
ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি : সংগৃহীত
একসময় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুকেই ঘিরে সৃষ্ট আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক। সে সময় একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভুবনেশ্বরে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ছাত্রসংগঠন এবিভিপির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা ধর্মেন্দ্র ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুই দফা এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখেও পড়তে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে।
বর্তমানে ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের সাবেক জুনিয়র প্রশান্ত রাউত সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সচিবালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে যায়।
প্রশান্ত রাউত আরও দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতির সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলারও শিকার হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক পর্যায়ে তার প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
ছাত্রজীবনের সেই আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে তার রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওড়িশায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি এবং দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং বিরোধী দলগুলোও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো করে।
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলে যে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, প্রায় তিন দশক পর সেই একই ইস্যুই তার মন্ত্রিত্বের ইতি টানল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি রিল ভিডিও বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে ইনস্টাগ্রামের একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের আগের রেকর্ড ভেঙেছে।
সম্প্রতি দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের লক্ষ্য করে মোদী পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ধারণ করা ভিডিও দুটিতে তিনি তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।
ভারতে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় নিট মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ মে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করে।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি-ধাঁচের রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপ সামলাতেই এই নতুন প্রচার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিওটির রেকর্ডসংখ্যক ভিউ ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।