ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ক্রিস্টাল জিমারম্যান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধ নিয়ে বেশ চিন্তিত। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে আগে সমর্থন দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। 


একের পর এক বোমা হামলা আর চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ট্রাম্পের হুমকির পর এখন একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই। জিমারম্যানের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো নিজের অজান্তেই এক অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।


বাগদাদ থেকে ফেরার পর বিষণ্নতা ও অনিদ্রায় ভুগছেন ৪০ বছর বয়সী জিমারম্যান। কলোরাডো স্প্রিংসের একটি ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া শেষে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ আসলে সম্পদ ও অর্থের অপচয়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি একজন উৎপীড়কের মতো হয়ে উঠছে।’


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাত সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প আবারও তার চিরায়ত বাগাড়ম্বর ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ফিরে গেছেন। 




ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি দেশটির বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকের মনেই ক্ষোভ, হতাশা ও বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে।


জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৬ জনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের বিরোধী। বলা বাহুল্য, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ বা ’৯০-এর দশকে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ে জনগণের জোরালো জনসমর্থনের তুলনায় এটি এক বড় পরিবর্তন।


অনেকের মতে, এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বিভ্রান্ত। তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধের জন্য জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেননি এবং যুদ্ধের কারণও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। উত্তর ক্যারোলাইনার ফেয়্যাটভিল শহরে কফিতে চুমুক দিতে দিতে ১৯ বছর বয়সী এমেলিয়া লরেঞ্জেন বলেন, ‘আমার মনে হয় না ট্রাম্প কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’


ফেয়্যাটভিল শহরটি ফোর্ট ব্র্যাগ সেনাঘাঁটির জন্য বিখ্যাত। এখানে সেনাবাহিনীর স্পেশাল অপারেশনস এবং থার্ড স্পেশাল ফোর্সেস গ্রুপের সদর দপ্তর অবস্থিত। তবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই বিরোধিতার সুর এখনো বেশ মৃদু। ক্যাফের আড্ডা কিংবা সাবেক সেনাসদস্যদের সভায় আলাপচারিতার মধ্যেই মূলত এই অসন্তোষ দানা বাঁধছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের প্রাক্কালে যেমন বিশাল গণবিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, এবার তার পরিবর্তে শুধু ছোটখাটো সমাবেশ হচ্ছে।


আমি অবাক হচ্ছি যে আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।


৬৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক মাইক কিফ


অরেগনের পোর্টল্যান্ডে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ৬৪ বছর বয়সী মাইক কিফ বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি, আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।’


ইরান যুদ্ধের বিরোধিতার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক দলের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরোধী। অন্যদিকে রিপাবলিকান ভোটারদের বেশির ভাগই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাচ্ছেন। জরিপটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আগে করা হয়েছিল।


তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়তে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য অশনিসংকেত দিচ্ছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ। এতে দেখা গেছে, রিপাবলিকানঘেঁষা নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থন নিয়ে স্পষ্ট বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের প্রতি ৫২ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানালেও ৪৫ শতাংশই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।


সিএনএনের মার্চ মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান দলের ভেতরের এই ফাটল মূলত ট্রাম্পের গতানুগতিক কট্টর সমর্থকদের বাইরে থেকে তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নিজেদের ‘মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) রিপাবলিকান’ হিসেবে পরিচয় দেন না, তাদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থনের হার কট্টর সমর্থকদের তুলনায় অনেক কম।


এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকানদের তুলনায় তরুণ রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে অনেক কম সমর্থন করছেন। সামগ্রিকভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটাররা এই যুদ্ধের জোরালো বিরোধিতা করছেন।


এমনকি যেসব রিপাবলিকান এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন, তাঁরাও এ পরিস্থিতিকে খুব একটা সন্তোষজনক মনে করছেন না। পিউ জরিপ বলছে, এই রিপাবলিকানদের মাত্র অর্ধেক মনে করেন যে যুদ্ধ ঠিকঠাক এগোচ্ছে।


কলোরাডো স্প্রিংস, সান আন্তোনিও এবং ফিয়্যাটভিলের মতো সামরিক শহরগুলোয় নেওয়া এসব সাক্ষাৎকারে ভোটাররা তাঁদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্প ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধবিরোধী’ এবং শান্তির পক্ষে প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় এলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।


যুদ্ধ শুরুর ছয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মার্কিনদের অনেকেই জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য কী, কিংবা কেন তিনি এ সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে হামলায় যোগ দিলেন-সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তাঁদের মতে, সবকিছুই খুব দ্রুত এবং অসংলগ্নভাবে ঘটেছে।


মার্কিন নাগরিকেরা বলছেন, জর্জ ডব্লিউ বুশ বা তাঁর বাবা জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের মতো সাবেক প্রেসিডেন্টরা আফগানিস্তান বা ইরাক হামলা এবং কুয়েত থেকে সাদ্দাম হোসেনকে হটানোর অভিযানের আগে মাসের পর মাস এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। তখন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল এবং কংগ্রেসেও বিতর্ক হয়েছিল।


অথচ এবার ইরানে হামলার আগে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এর ওপর সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনালাপে এবং ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গভীর রাতে ট্রাম্পের দেওয়া একের পর এক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্চের শুরুর দিকের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার এবং ৭১ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার মনে করেন, যুদ্ধের আগে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। বিপরীতে ইরাক যুদ্ধের আগে বুশ যেসব যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, তা জনসাধারণের বড় একটি অংশের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল বলে জরিপে দেখা গেছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া লরেঞ্জেন তাঁর একটি হুমকিতে বিশেষভাবে বিচলিত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় সেই ভয়াবহ ঝুঁকি আপাতত এড়ানো গেছে।


লরেঞ্জেন বলেন, ‘ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান দিক ছিল তিনি নিজেকে একজন যুদ্ধবিরোধী মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। অথচ সেই কথা বলার পর এখন আমরা তাঁকে এত দ্রুত যুদ্ধের দিকে পা বাড়াতে দেখছি। বিষয়টি আসলে মোটেও বোধগম্য নয়।’


ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে এই ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। ওই দুই যুদ্ধে ৭ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য ও ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন। 


বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ভোটাররা ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সেই মিথ্যা দাবি এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের রক্তাক্ত বিদায়ের কথা টেনে আনছেন। তাঁদের মনে এখন একটাই সংশয়, আবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?


৫৫ বছর বয়সী সাবেক মেরিন সেনা কুয়েতা রদ্রিগেজ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সময় ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে এক ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সে সময়কার সম্মিলিত শোক এবং মার্কিন নাগরিকদের একতাবদ্ধ হওয়ার কথা মনে করেন। ইরাক আক্রমণের বিষয়ে বুশের যুক্তির সঙ্গে তিনি একমত না হলেও রদ্রিগেজ মনে করেন, বুশ অন্তত জনগণকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।


সান আন্তোনিওর বাসিন্দা রদ্রিগেজ এখন ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ, ট্রাম্প দেশকে এমন এক অঞ্চলে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে অনেক সেনা ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় তিনি কংগ্রেসের ওপর হতাশ এবং অনেক নাগরিককে এই যুদ্ধ নিয়ে নির্লিপ্ত দেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


রিপাবলিকানপন্থী অন্যান্য সাবেক সেনা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁরা এখনো ট্রাম্প ও এই যুদ্ধকে সমর্থন করেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া এবং শত শত মার্কিন সেনা হত্যায় সহায়তা করা একটি ‘ধর্মতাত্ত্বিক স্বৈরতন্ত্রের’ ওপর হামলা চালানোর জন্য তাঁরা ট্রাম্পের প্রশংসা করছেন।


ট্রাম্পের সমালোচকেরা যেখানে ইরান হামলাকে অগোছালো বলছেন, সেখানে তাঁর গোঁড়া সমর্থকেরা মনে করেন এই হামলা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।


ইরাকে দায়িত্ব পালন করা ৫৮ বছর বয়সী গ্যারি ফ্রিস বলেন, ‘ইরান একটা হুমকি, একে নির্মূল করা দরকার।’ বর্তমানে নিজের হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেল নিয়ে রকি মাউন্টেন চষে বেড়ানো এই সাবেক সেনা বলেন, ইরান আক্রমণ করে ট্রাম্প দেখিয়েছেন, ‘তাঁর মেরুদণ্ড আছে।’


পশ্চিম আইওয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রতি জোরালো সমর্থনও রয়েছে। গত তিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ অঞ্চলে ট্রাম্পের জয়ের ব্যবধান ক্রমাগত বেড়েছে।


নিজের খামারের গরুর মাংস বিক্রি করেন ৫১ বছর বয়সী কেলি গ্যারেট। তিনি এমন একজন কৃষক, যিনি সরকারের এই ইরান আক্রমণের যৌক্তিকতা পুরোপুরি না বুঝলেও তাতে সমর্থন দিচ্ছেন। মূলত অনেক রিপাবলিকানেরই প্রেসিডেন্টের ওপর অটুট বিশ্বাস রয়েছে।


ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে আগে থেকেই বিপর্যয়ের মুখে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলো। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। ঠিক যে সময় কৃষকেরা বীজ বপনের জন্য জমি ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করছিলেন, তখনই অর্থনীতির ওপর এই নতুন আঘাত এল।


তবু আইওয়ার অনেক রিপাবলিকান কৃষক এই উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং করপোরেট মুনাফাখোরদের দায়ী করছেন।


অবসরপ্রাপ্ত কৃষক কট্টর রিপাবলিকান সমর্থক ওয়েইন ব্রিঙ্কস (৭২) মনে করেন, যদি এই যুদ্ধের ফলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যায়, তবে বর্তমানের এই সাময়িক কষ্ট মেনে নেওয়া সার্থক হবে।


ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে ব্রিঙ্কস বলেন, ‘ওরা চরম ধর্মীয় উগ্রপন্থী। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ভেবেছেন পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। পরে কখনোই তা সম্ভব হবে না। আমাদের কিছু একটা করতেই হতো।’


তবে কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইওয়াতেও এখন সন্দেহ আর উদ্বেগ দানা বাঁধছে। উডবেরি কাউন্টির কৃষক ও রিপাবলিকান সুপারভাইজার মার্ক নেলসন (৩৫) ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই আক্রমণ প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বার্তাকেই ক্ষুণ্ন করছে।


ট্রাম্পপন্থী প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন, অ্যালেক্স জোনস এবং মেগিন কেলিদের মধ্যেও এমন সমালোচনা এখন জোরালো হচ্ছে।


নেলসন বলেন, ‘এই যুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় হচ্ছে, তা হাস্যকর।’ যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রভাব কতটা ছিল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। নেলসনের মতে, ‘আমার মনে হয় না, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কোনো আসন্ন বিপদ ছিল।’




সর্বশেষ সব খবর

১৩২ বছরের রেকর্ড খরা যুক্তরাষ্ট্রে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

এবার তীব্র গরমের মধ্যে পুরো গ্রীষ্মকাল কাটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল তাপপ্রবাহ। এতে দেখা দিয়েছে খরা।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) গতকাল বুধবার জানিয়েছে, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপমাত্রা পুরো ২০ শতকের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি। 


এর আগে ১৯৩৬ ও ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবারের গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা সেই রেকর্ডের চেয়েও শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।


আগস্ট ছিল পশ্চিম ইউরোপেরও সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের একটি মাস। এবারের গরম সেখানে ২০০৩ সালের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহকেও ছাড়িয়ে গেছে।


এনওএএ গত ১৩২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে কোনো গ্রীষ্মকালে এবারের মতো এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গত আগস্ট ছিল সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ওই মাসজুড়ে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।


সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তাপমাত্রা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি উষ্ণতম গ্রীষ্মের চারটিই ছিল গত পাঁচ বছরে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধিও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।


১৯৩৬ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার সময়ে গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে তীব্র গরম ও খরার সঙ্গে ক্ষতিকর কৃষিপদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। 


অন্যদিকে, এবারের গ্রীষ্মকালজুড়ে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া ক্রমেই তীব্রতর হয়েছে।


গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে ছিল। এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে খরাকবলিত এলাকার পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গ্রেট প্লেইনস, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।


টেক্সাস ও ওকলাহোমায় গত আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি একই রকমের শুষ্ক ছিল না। ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওর মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গত আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ।


যুক্তরাষ্ট্রে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এখনই কমছে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি আরও সক্রিয় আর শক্তিশালী হচ্ছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত থাকতে পারে।


ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাওলো গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনকার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। অর্থাৎ চার দশক ধরে আমরা যে মাত্রা দিয়ে এটি পরিমাপ করে আসছি, এবার আক্ষরিক অর্থেই সেই মাত্রার বাইরে চলে যেতে পারে।’


এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বেশি বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ডব্লিউএমও সতর্ক করে বলেছে, এখনকার এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা দেখা দিতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে এনওএএ। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে খরা অব্যাহত থাকতে পারে কিংবা আরও তীব্র হতে পারে।


এনওএএ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশকিছু অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

আগামী নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠাতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ‘অবিলম্বে’ ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে আগ্রহী না হলেও আলোচনা ‘হতে পারে’।


সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা কেবল একটি পারমাণবিক অস্ত্র চায়, আর যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তবে পুরো বিশ্ব বিপদে পড়বে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে যাচ্ছি... আরও অনেক বিষয় এখন আলোচনার টেবিলে চলে আসবে, যা তিন মাস আগেও টেবিলে থাকত না।


তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সত্যি বলতে, আমরা এমন কিছু চাইছি না।


তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি; তাদের দেশ বলে এখন খুব সামান্যই বাকি আছে।


হ্যাঁ, একটি আলোচনা হয়ত হতে পারে। আমাদের নির্বাচনের ঠিক পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।


ইসরায়েলের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিগুলোর ওপর সম্প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।


সূত্র: আল জাজিরা


সর্বশেষ সব খবর

ভারতের মাটিতে রাশিয়ার সামরিক বিমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৩ পিএম

ভারতের  নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো তিনটি রুশ সামরিক যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। 


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিমানগুলো বিমানবন্দরে পৌঁছায়, যার মধ্যে একটি আইএল-৭৬ সামরিক পরিবহন বিমান ছিল।


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে রুশ সামরিক কর্মকর্তা ও একটি অগ্রবর্তী দলকে নিয়ে বিমানগুলো ভারতে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত বিমান তিনটি নয়ডা বিমানবন্দরেই অবস্থান করছিল এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বিক ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে।


নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটিই প্রথম কোনো বিদেশি সামরিক বিমানের অবতরণ। এর আগে ভারতে আগত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে মূলত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহৃত হতো। ফলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিমানও নয়ডায় নামতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।


আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নয়ডা বিমানবন্দরে ভিভিআইপিদের যাতায়াত ঘিরে প্রস্তুতি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।


সূত্র: টাইমস নাউ

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ভোট দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতা’র কারণে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ।


ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের একটি সংঘাত শুরু করার পর থেকে আইএইএ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পায়নি। ওই সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলাও চালানো হয়েছিল। সবশেষ যুদ্ধেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং আইএইএ বারবার সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।


প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ২৩ ভোট আর বিপক্ষে ৩ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকে ৮টি দেশ। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দেয়।


এতে আইএইএ’র মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।


ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ইরানের পারমাণবিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার কারণে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর ঘটনা।


এই পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়ার তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের নিন্দা করেছে এবং বলেছে, এটি কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।


আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের অধীনে পাস হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এএফপিকেও বলেন যে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনবে।’

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১১ পিএম

আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনে তিনি এই প্রস্তাব দেন। তবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া বা এর আইনি ভিত্তি কী হবে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক থাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট স্থায়ী প্রাইমটাইম ভাষণে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ‘ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ দুই বছর’ শেষ করার দাবি করেন। তিনি নিজের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মধ্যেও নিজেকে নির্বাচনের কেন্দ্রে স্থাপন করেন।


জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকর্ষণে তার এই প্রচারণামূলক বক্তব্য কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটদের হাতে আমেরিকার ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া হলে দেশকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পরবর্তী এক দশক সময় লেগে যাবে।


সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৩ পিএম

ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কোরনের কাছে সমুদ্রে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


এদিকে আগুন লাগার পর এখন পর্যন্ত ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।


জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার (১ দশমিক ৩ মাইল) দূরে এম/ভি জুন অ্যাস্টার ফেরিটিতে আগুন লাগে। আগুনের পর ফেরিটির পুড়ে যাওয়অর দৃশ্য ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড।


স্থানীয় সময় ভোর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমভি জুন অ্যাস্টার নামের ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য।


ফেরিটি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার বন্দর থেকে ছেড়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কোরনের দিকে যাচ্ছিল। পথে পালাওয়ান প্রদেশের কোরন এলাকার সমুদ্রসীমায় ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়।


আজ দেশটির কোস্ট গার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব জানিয়েছেন, ওই জাহাজে যাত্রী এবং ক্রু তালিকায় মোট ১৩৪ জনের নাম ছিল। তাদের মধ্যে ৫ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই ওই ফেরিতে থাকা ৪২ জনকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ৮৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।


এ ঘটনায় নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


নোয়েমি কায়াবিয়াব জানিয়েছেন, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৪ জন ক্রু এবং ৩৮ জন যাত্রী। তবে তারা এখন কেউই কথা বলার অবস্থায় নেই। সেই কারণেই আগুন লাগার কারণ জানতে এবং যাত্রীরা সবাই কোথায় ছিল, তা জানতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।


জুন অ্যাস্টার নামে ফেরিটি ম্যানিলা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলেও জানা গেছে।

সর্বশেষ সব খবর