যুক্তরাষ্ট্র তুষারঝড়ের কবলে

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বিশাল এলাকা মারাত্মক এক তুষারঝড়ের কবলে পড়ায় অনেক রাজ্য যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া এ তুষারঝড় সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল পর্যন্ত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে ধারণা দেওয়া হয়েছে। 


এটি এক দশকের মধ্যে ওই এলাকার সবচেয়ে বাজে তুষারঝড় হতে যাচ্ছে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।


এ দুর্যোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান বন্দরে এরই মধ্যে ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটএওয়্যারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।


ম্যাসাচুসেটস, কানেটিকাট, ডেলওয়ার, নিউ জার্সি ও রোড আইল্যান্ডসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।


বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইটের অবস্থা জেনে নিতে যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, ডেলওয়ার, কানেটিকাট ও নিউ জার্সিতে সোমবার অসংখ্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে; তবে সেসব অঙ্গরাজ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়নি।


ওয়াশিংটন ডিসিতে মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেছেন, সরকারি স্কুলগুলো ‘দুই ঘণ্টা দেরিতে খুলবে’। এরই মধ্যে পেনসিলভানিয়ার পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও ৪৫ সেন্টিমিটার তুষার রেকর্ড হয়েছে। আজ সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও ৬০ সেন্টিমিটার তুষারেরও দেখা মিলতে পারে সতর্ক করা হয়েছে।


নিউ ইয়র্ক সিটি, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া ও লং আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪ কোটি বাসিন্দা তুষারঝড়ের সতর্কতার মধ্যে রয়েছেন, আরও প্রায় দুই কোটি মানুষ যেসব এলাকায় আছেন সেগুলো পড়েছে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায়।


নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ জার্সি ও কানেটিকাটের কোথাও কোথাও ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারের দেখা মিলতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ।


নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি রোববার স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫টি প্রশাসনিক এলাকার সড়ক ও সেতুতে জরুরি যানবাহন ছাড়া অন্য সব যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। সোমবার শহরটির সব স্কুলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ইরান যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে (ছবি-বিবিসি)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে গোলাবারুদের ‘ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে এবং পুনরায় সরবরাহে একটি অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।


এ বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ তিনি বারবার অস্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ঘাটতির মুখে রয়েছে। খবর-বিবিসি



ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ সরবরাহ ‘প্রায় সীমাহীন’ এবং এ-সংক্রান্ত ভিন্ন ধরনের প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ বলেও উল্লেখ করেছেন। 



তবে স্বাধীন এই তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র গোলাবারুদ খাতে ২২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে, যার ফলে ‘কৌশলগত মজুদের ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে।



এই প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে “প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট বেশি” গোলাবারুদ রয়েছে।



প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে পাওয়া প্রথম ধরনের একটি ধারণা তুলে ধরেছে। সাধারণত এ ধরনের তথ্য গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ থাকে।



এর আগে বিভিন্ন মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দীর্ঘপাল্লার স্থল হামলা ব্যবস্থার পাশাপাশি ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।


জুলাইয়ের শেষ দিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর এক মূল্যায়নে দেখা যায়, কিছু প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ, যেমন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড), উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এ ঘাটতি অর্ধেকেরও বেশি ছিল।





সর্বশেষ সব খবর

একটি পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।(ছবি-সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩১ এএম

উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের একটি প্রথম সারির যুদ্ধজাহাজ ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ নৌচালনার অভিযোগ তুলে ইসলামাবাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই সংঘর্ষ ঘটে। 



ঘটনার পরদিন অর্থাৎ আজ বুধবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একই ধরনের লিখিত প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে জড়িত পাকিস্তানের জাহাজটি ছিল পিএনএস হুনাইন। এটি ইয়ারমুক শ্রেণির একটি অফশোর টহল জাহাজ বা কর্ভেট। 



ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি উচ্চ গতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে এসে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। ভারতের দাবি, সংঘর্ষে পাকিস্তানি জাহাজটির কিছু ক্ষতি হয়েছে। পরে সেটি নিজ বন্দরে ফিরে যায়। তবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সেটি নির্ধারিত নজরদারি অভিযান অব্যাহত রাখে।



ভারতের কড়া বিবৃতি 

ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন আচরণ ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক মহড়া, কৌশলগত চলাচল ও সেনা মোতায়েন সম্পর্কে আগাম অবহিতকরণ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। চুক্তির ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে পরস্পরের থেকে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।



বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব সামরিক ইউনিটকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।’



সংঘর্ষের ঘটনা বিরল

তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন হিসেবে না দেখে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলের সময় নির্ধারিত দূরত্ব ও নৌচালনার পেশাদার মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটগুলো নজরদারি মিশনে মোতায়েন রয়েছে। একই অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি অবস্থান নতুন নয়, তবে সংঘর্ষের ঘটনা বিরল।



এডেন উপসাগরে আরেক ঘটনার স্মৃতি 

এই সংঘর্ষ ২০১১ সালের জুন মাসে এডেন উপসাগরে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ পিএনএস বাবরের সঙ্গে ভারতীয় ফ্রিগেট আইএনএস গোদাবরীর সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই ঘটনার পরও ভারত পাকিস্তানের নৌ উপদেষ্টাকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দেন।


পাকিস্তান সরকার বা দেশটির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সংঘর্ষের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইসলামাবাদও ভারতের অভিযোগের জবাব দেয়নি।



সর্বশেষ সব খবর

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন, তার দেশ ইরানের অধিকার ‘রক্ষায়’ প্রস্তুত।


বিবিসি নিউজ ফার্সির এক খবরে বলা হয়েছে, বেইজিং সফররত আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন ইরানের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রস্তুত।


তিনি বলেন, আমরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তিবোধ ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন সফর করার কথা রয়েছে।


এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদারদের অন্যতম চীন দীর্ঘদিন ধরে কয়েক মাসব্যাপী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করে আসছে। এই সংঘাত ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।


ওয়াং ই বলেন, আমরা ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে দেখতে চাই না।


এ সপ্তাহে চীন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র “ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে সরবরাহ করেছে”। ওই হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন।

বিষয় : ইরান চীন

সর্বশেষ সব খবর

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উপস্থিতিতে লিয়েন নজিরবিহীন এই প্রস্তাব দেন।


ফন ডার লিয়েন মত দেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভূরাজনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে যথা সম্ভব সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চাই। আমাদের অংশীদারত্বকে জরুরিভিত্তিতে নতুনভাবে ভাবতে হবে।’


এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাঁর দেশের অতিরিক্ত বাণিজ্যনির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কানাডা ও ইউরোপীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলায় অটোয়া ও ব্রাসেলসের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।


ফন ডার লিয়েন জানান, বিদ্যমান ইইউ-কানাডা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানো হবে। আর্কটিক অঞ্চলকেও দুই পক্ষের যৌথ প্রকল্পের অন্যতম কেন্দ্র করা হবে।


তবে ‘সহযোগী সদস্য’ বলতে ঠিক কী বোঝাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২৭ সদস্যের ইইউতে এ ধরনের সদস্যপদের কোনো বিদ্যমান কাঠামো নেই। নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ইইউর ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও তারা ইউনিয়নের সদস্য নয়।


আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনে প্রস্তাবটি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা। এরই মধ্যে কানাডার সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—২০১৬ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এখনো ১০টি ইইউ সদস্যদেশ তা অনুমোদন করেনি।


বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতা ইইউকে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও নমনীয় কাঠামো তৈরির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের লোগো

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ পিএম

সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের জন্য আরোপ করা সতর্কতা হালনাগাদ করেছে ওয়াশিংটন। এখন ‘সতর্কতা লেভেল ৩’ জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। হালনাগাদ সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ এবং আঞ্চলিত অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে মার্কিন প্রশাসন।


আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ ভ্রমণ সতর্কতার কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন স্বার্থের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে।


সেই সঙ্গে সৌদি আরবের কিছু এলাকায় হামলার ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার কথাও সতর্কতায় উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।


অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকেই ‘সতর্কতা লেভেল ৪’ জারি রয়েছে। এতে ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার কথা বলা হয়েছে।


ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের লড়াই চলছে। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে হুতিদের সঙ্গে এ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবও।


চলমান ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের আগের সেই বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবের দাবি, পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ কারণে শহরটিতে গতকাল নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি আরব সরকার।


সর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা পবিত্র এ নগরীতে হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো। তবে জারি করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তা তুলে নেয় সরকার। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

সরকারি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর জন্য পাঁচ লাখেরও বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এক অপরাধ চক্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। এ ঘটনার পর পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব ও সুরক্ষা বলয়ের ত্রুটি নিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।


গতকাল মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।


গুগলের অন্যতম বড় বাজার ভারত। এর আগে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় অপরাধীরা গুগলের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ফায়ারবেইস’-এর অপব্যবহার করায় এরইমধ্যে ভারত সরকারের কড়া নজরদারিতে রয়েছে গুগল।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমের রাজ্য গুজরাটের সাইবার ক্রাইম শাখা এ সপ্তাহে আন্তঃরাজ্য বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত এক বড় পরিসরের ইমেইল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে।


ধারাবাহিক অভিযানে এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ২০২২ সাল থেকে অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও এর পাসওয়ার্ড জব্দ করেছে পুলিশ।


রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সবার আগে যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হচ্ছে, এ বড় অপরাধ চক্রের নেপথ্যে গুগলের সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতাও তদন্তের আওতায় আসছে।


গুজরাট পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভেদা বলেছেন, “এত বিপুল সংখ্যক ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট একত্রে ব্যবহারের ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি, যা বিস্ময়কর।


“আমরা খুব দ্রুতই গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেব। তাদের প্ল্যাটফর্মের পলিসিতে কিছু পরিবর্তন আনতে বলা হবে, যাতে এ ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া না যায়।”


তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই গুগলকে এ মামলার তদন্তের কাঠগড়ায় একটি পক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগের পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।


এ ঘটনা ও তদন্তের বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত গুগল কোনো ধরনের আইনি অভিযোগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়বে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।


ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বোমা হামলার হুমকি


ভারতে আর্থিক জালিয়াতির কারণে সাইবার অপরাধে বার্ষিক ক্ষতি ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন অপরাধে ব্যবহৃত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানও নিয়েছে।


সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের কয়েক দিন আগে ১০ সেপ্টেম্বর গুজরাট রাজ্য সরকার এক বোমা হামলার হুমকির ইমেইল পাওয়ার পর এ তদন্ত শুরু হয়।


পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ওই ইমেইলটিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ বিভিন্ন দেশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।


ভেদা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত এসব হুমকি ভুয়া ছিল। তবে এ চক্রের আন্তর্জাতিক সংযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের একজন বাংলাদেশের এক ক্রেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আংশিক অর্থ পরিশোধ করে জিমেইল অ্যাকাউন্টগুলোর বিভিন্ন ব্যাচ কিনতেন ও পরবর্তীতে ভুয়া ইমেইল পাঠাতেন।


পুলিশের উদ্বেগের আরেকটি বিষয়, প্রতিটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে গুগলের টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু ছিল। অপরাধ চক্রটি এত বড় সংখ্যক অ্যাকাউন্টে তা কীভাবে করল সেটাও তদন্তের আরেকটি দিক।

সর্বশেষ সব খবর