ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও কমে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রণালিটি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের সাতটির তুলনায় কম এবং ১০ দিনের গড় ১৮টির তুলনায় অনেক নিচে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, প্রাথমিক হিসাবে মঙ্গলবার মোট চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে এবং দুটি প্রবেশ করেছে।
তবে এসব তথ্য এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরে তা পরিবর্তন হতে পারে। কারণ মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ট্যাংকার চলাচল করেনি। এছাড়া কয়েকটি জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে প্রণালি পার হয়েছে।
ফলে সেগুলো আনুষ্ঠানিক হিসাবের মধ্যে আসেনি। অবশ্য মঙ্গলবারের জাহাজ চলাচলের সংখ্যা গত ১০ দিনের গড় ১৮টির তুলনায় অনেক কম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ার পর বুধবার তেলের দাম কমেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
লোহিত সাগরের দিকে যাওয়া সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর দেশটি ইয়ানবু টার্মিনাল থেকে তেল পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৮২ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার উভয় ধরনের তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল। এতে করে গত ১৯ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় তেলের দাম। ইয়ানবু টার্মিনাল থেকে তেল পাঠানো বন্ধ হওয়া এবং ইউরোপে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল।
মক্কা অভিমুখে ড্রোন হামলায় ওআইসির নিন্দা
ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা অভিমুখে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনার নিন্দা তীব্র জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অভিযোগকে ‘পুরোনো মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছে হুতিরা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, মক্কার কাছে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে পড়ে।
আল-মালিকি এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগও হুতিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল।
তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘লাল রেখা’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অভিযোগ এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
এদিকে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হুতিদের হামলার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। সংস্থাটির মহাসচিবালয়ের এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের চলমান হামলারও নিন্দা করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদ লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে।
ওআইসি বলেছে, পবিত্র স্থান, উপাসনালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামি মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থি।
পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘনকে অগ্রহণযোগ্য ও অসহনীয় উল্লেখ করে এর জন্য দায়ীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে ওআইসি বলেছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা বজায় রাখতে রিয়াদ যেসব পদক্ষেপ নেবে, তাতে সংস্থাটির সমর্থন রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদির খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি অঞ্চল দখল করার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে।
তিনি জানান, ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন পরিচালনায় ব্যবহৃত ওই ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি তিনি।
হুথি মুখপাত্র দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সামরিক ঘাঁটিটি থেকে ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছিল, যার জবাবে এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে তুমুল সংঘাত শুরু হয়েছে।
হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেই সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনে একটি পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে সৌদি জ্বালানি তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প মাধ্যম ছিল এই পাইপলাইনটি। আকস্মিক হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে তেল পরিবহন আপাতত পুরোপুরি স্থগিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, হুথিরা সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হুথিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে কোনো লড়াই করতে চায় না। তারা চায় আমরা যেন তাদের অভিযানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ না করি।’
একই সঙ্গে সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে তেহরান এ হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন
মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। আজ মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ আহ্বান জানান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে প্রথমবারের মতো অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র জিয়াকুন বলেন, ‘মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া বন্ধ করা উচিত।’ তিনি মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর বিষয়েও সতর্ক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
মেইঙ্ক বলেন, ‘শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমরা আমাদের আধিপত্য বজায় রাখি, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে মেইঙ্ক অস্ত্রগুলোর ধরন বা সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেন, তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।
ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব। মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তবে মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন করা নিষিদ্ধ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রস্তাবিত এ বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার নতুন নিয়ম আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিয়ম কার্যকরের এক দিন আগে সোমবার তা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেনিস সেলার প্রাথমিকভাবে নতুন নিয়মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে মামলার মূল প্রশ্নে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আগামী ২ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন নিয়মটি প্রস্তাব করেছিল। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হতো। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।
নতুন নিয়মে বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস করার কথা ছিল। এরপর একই মেয়াদের জন্য ভিসা বাড়ানোর আবেদন করা যেত।
বর্তমানে বিদেশি সাংবাদিকেরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে চীনা সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিয়ম আরও কঠোর। তাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৯০ দিনের ভিসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে আরও ৯০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন ভিসা বিধির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক সেলার নতুন নিয়ম কার্যকরে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন।
রায়ের সঙ্গে দেওয়া এক স্মারকে বিচারক নতুন নিয়ম নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার আওতায় গত কয়েক দশকে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাদের মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিও উপকৃত হয়েছে।
বিচারকের মতে, সেই ব্যবস্থা উন্নত করার পরিবর্তে ডিএইচএস এমন একটি কর্মসূচি নিয়েছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করার ক্ষেত্রে ডিএইচএসকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন বিচারক সেলার।
তিনি বলেন, সীমিত ও অস্পষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে ডিএইচএসের একজন কর্মকর্তা কোনো কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কোনো বিদেশি নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতার কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে না।
বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ হলে সাংবাদিকদেরও কার্যকর কোনো প্রতিকার বা আপিলের সুযোগ থাকবে না।
বিচারক আরও বলেন, সরকারের সমালোচনা করেন-এমন বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা নবায়ন না করার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন নিয়ম প্রস্তাবের সময় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছিল ডিএইচএস। তবে বিচারক সেলার এ যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, অল্প কয়েকটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নিরাপত্তার এমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্যতার সীমার কাছাকাছি নয়।
বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা এবং বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ কঠোর করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে।
মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের শীর্ষ দেশ।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ ১২ জনের বেশি বিশ্বনেতা অংশ নেন।
বিশ্বনেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ গত শনিবার সন্ধ্যায় বসে এ আয়োজন। নৈশভোজের খাবারের তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়েছে। নৈশভোজের পুরো মেনুই ছিল নিরামিষ। মাছ-মাংসের কোনো পদ রাখা হয়নি। তবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা ধরনের খাবার ছিল তালিকায়।
শুরুতে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় খান্ডভি মিলেফয় ও খুম্ব গালৌটি কাবাব। গুজরাটের জনপ্রিয় খাবার খান্ডভি বেসন দিয়ে তৈরি। এতে সর্ষে, নারকেল ও কারিপাতার ব্যবহার রয়েছে। কেসর আম, দই ও সবুজ পাতা দিয়ে সাজিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়।
মাশরুম দিয়ে তৈরি খুম্ব গালৌটি কাবাব পুদিনাপাতা দিয়ে গ্রিল করা হয়। পরে শিরমাল রুটির সঙ্গে এটি পরিবেশন করা হয়। মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, গুচ্চি মারমিক, ক্যারট বিন পোরিয়াল, থাক্কালি বেলে সারু ও মিলেট পোলাও।
উত্তর ভারতের জনপ্রিয় পদ পনির লাবাবদার তৈরি করা হয় ছোট পেঁয়াজ ও টমেটোর ঘন ঝোলে নরম পনির দিয়ে। আর হিমালয়ের বিশেষ গুচ্চি মাশরুমের সঙ্গে জাফরান, কিশমিশ ও কাঠবাদাম মিশিয়ে তৈরি করা হয় গুচ্চি মারমিক।
ক্যারট বিন পোরিয়ালে গাজর ও বিভিন্ন ধরনের সবুজ বীজের সঙ্গে নারকেল তেল ও দক্ষিণ ভারতীয় মসলা ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে থাক্কালি বেলে সারু হলো টমেটো, কারিপাতা ও ডাল দিয়ে তৈরি দক্ষিণ ভারতীয় একটি পদ।
সুগন্ধি বাসমতী চালের সঙ্গে বাজরা ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় মিলেট পোলাও। এর সঙ্গে ছিল দই মেশানো বিটরুটের রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি।
নৈশভোজের শেষপাতে ছিল পুরোনো দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ফ্রুটক্রিম ও জিলাপি। মৌসুমি ফলের সঙ্গে হালকা হুইপড ক্রিম মিশিয়ে তা জিলাপির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ছিল শাহুতুত ফিরনিও। দুধ, চাল, মিষ্টি মালবেরি ও খাবার উপযোগী সোনার পাত দিয়ে তৈরি করা হয় এ মিষ্টান্ন।
নৈশভোজে খাবারের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। এতে অংশ নেন ১৬০ জন শিল্পী। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংগীতের পাশাপাশি ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও এতে অংশ নেন। পরিবেশিত হয় ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কত্থক।
তবে মোদির আয়োজিত নৈশভোজে আমন্ত্রিত নেতাদের সবাই উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদকেও সেখানে দেখা যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে দেশটির তেল নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির উদাহরণ টেনেছেন। রোববার আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এক গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
তিনি আবারও দাবি করেন, চলতি বছরের মধ্যেই ইরানের যুদ্ধ শেষ হতে পারে। এমনকি নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সরে আসবে-তবে তেল ধরে রাখার জন্য সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির তুলনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে আয় করছে, তা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ বহুবার পরিশোধ করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান বলেও জানান ট্রাম্প। তবে তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়-এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন না।
ইরান নিয়মিত শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তেহরান অতীতে এমন দাবি নাকচ করেছে।
ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে রোববার সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনা তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার কারণে সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগস্টে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই চুক্তির সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান ধরে রাখার বিষয়টি তুলনা করে নতুন ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।