বৈঠকের আগে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (মাঝে) ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন। ছবি: এএফপি
প্রায় দুই দশকের আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারত একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটে পণ্য বাজারে আরও বৈচিত্র্য আনার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ মঙ্গলবার চুক্তি সইয়ের এ ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ও ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা।
এই চুক্তির বিষয়ে জার্মান পত্রিকা ডের স্পিগেল বলেছে, বাণিজ্যিক বাধা ও শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে ইইউ ও ভারতের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা বিনিময় বাড়ানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চুক্তি সইয়ের পর ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভন ডার লেন বলেন, ‘আজ ইউরোপ ও ভারত ইতিহাস তৈরি করেছে। আমরা সব চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি সম্পন্ন করেছি।’ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ইইউ কমিশনের মতে, প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হচ্ছে, যা উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকে বার্তা দেবে যে নিয়মভিত্তিক সহযোগিতা এখনো চমৎকার ফল দিতে পারে।
এই চুক্তি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে সম্প্রতি ইইউর করা মেরকোসুর চুক্তির মতো এতটা বিস্তৃত না হলেও ভারতের বিশাল বাজারের কারণে এটি এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৪৬ কোটির কাছাকাছি। চীনের ১৪০ কোটি জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়ে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। অন্যদিকে ইইউতে বসবাস করে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ। ভারত ও ইইউ বিশ্বের মোট জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ও জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
ইইউর দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডের স্পিগেল আরও বলেছে, এই চুক্তি থেকে বিশেষভাবে জার্মান গাড়িশিল্প উপকৃত হতে পারে। এখন পর্যন্ত ভারত ইইউ থেকে আমদানি করা যানবাহনের ওপর সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। নতুন চুক্তির আওতায় বছরে আড়াই লাখ গাড়ির জন্য ধাপে ধাপে এই শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। এ ছাড়া যন্ত্রপাতির ওপর ৪৪ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যের ওপর ২২ শতাংশ এবং ওষুধের ওপর ১১ শতাংশ শুল্কের বেশির ভাগ বাতিল করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় ভারতের সঙ্গে ইইউর এই চুক্তিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
ইইউর তথ্যমতে, বর্তমানে ভারতে ছয় হাজারের বেশি ইউরোপীয় কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইইউ আশা করছে, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউর রপ্তানি দ্বিগুণ হবে। কারণ, ইইউ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিল বা কমানো হবে। এর ফলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ইউরো (৫৮ হাজার ২৮ কোটি টাকা) শুল্ক সাশ্রয় হবে।
তবে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের সম্ভাবনা এখনো সীমিত। ভারতের ভোক্তামনস্ক মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রায় ১৫ কোটি হলেও দেশটিতে এখনো সম্পদ ও ক্রয়ক্ষমতার বড় বৈষম্য বিদ্যমান।
চুক্তিটি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, চুক্তির পূর্ণ আইনি যাচাই এবং ইইউর সব দাপ্তরিক ভাষায় এর অনুবাদ প্রয়োজন। এরপর সদস্যরাষ্ট্রগুলো এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে।
ইইউ ও ভারতের মধ্যে ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আগেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা হয়েছিল, তবে সেগুলো ব্যর্থ হয়। ২০২২ সালে আবার আলোচনা শুরু হয় এবং ট্রাম্পের শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষ এ নিয়ে আগ্রহ দেখায়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে, এর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ রয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত মস্কো ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে। দেশটি তেল ও গ্যাসের বড় অংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে রাশিয়ার আয়ের উৎস হয়ে উঠছে বলে পশ্চিমাদের অভিযোগ।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষি খাতকে সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে ধরা হয়। তবে মেরকোসুর চুক্তির মতো বড় ধরনের প্রতিবাদের আশঙ্কা এখানে নেই। কারণ, ইউরোপীয় কৃষকদের জন্য সংবেদনশীল খাতগুলোকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। ইইউ কমিশন জানিয়েছে, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, চাল ও চিনি এই চুক্তির আওতায় উদারীকরণ থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ থাকবে। পাশাপাশি, ভারতীয় সব কৃষিপণ্যকে ইইউর কঠোর স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা