ছবি : সংগৃহীত
তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে একাই ৩১৬টি আসন জিতেছে। এটাই কোনো নির্বাচনে দলটির সেরা ফল। জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জোট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ায় ক্ষমতাসীনদের প্রতিশ্রুত করছাড় বাস্তবায়ন এবং চীনকে মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীর পেছনে খরচ বাড়ানোর পথ খুলল।
গতকাল রোববারের নির্বাচনে রক্ষণশীল তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে একাই ৩১৬টি আসন জিতেছে। এটাই কোনো নির্বাচনে দলটির সেরা ফল, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জোটের শরিক জাপান ইনোভেশন পার্টির (ইশিন নামে পরিচিত) কল্যাণে নিজেকে ব্রিটেনের ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচার দ্বারা অনুপ্রাণিত বলা তাকাইচি এখন জাপানের পার্লামেন্টের শক্তিশালী নিম্নকক্ষের ৩৫২টি আসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছেন; যা তাকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘কর্তৃত্ব’ এনে দেবে, যার ফলে উচ্চকক্ষের বাধা টপকে আইনে পাস সহজ হবে।
জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে তাকাইচির দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
শীতের ভোটে তুষারঝড়
“এই নির্বাচনের সঙ্গে বড় বড় নীতি পরিবর্তনের প্রসঙ্গ জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতি বড় রদবদল, পাশাপাশি নিরাপত্তা নীতি জোরদারের প্রসঙ্গও আছে।
“এসব নীতি নিয়ে এতদিন ধরে ব্যাপক বিরোধিতা দেখা গেছে। যদি আমরা জনসমর্থন পাই তাহলে সর্বশক্তি দিয়েই আমাদের এসব ইস্যুর সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে,” ভোটের ফল যখন একটু একটু করে আসতে শুরু করেছে তখন টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তাকাইচি।
ফল ঘোষণার পর তাকাইচিকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, “তার রক্ষণশীল, শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার এজেন্ডা পাসে শুভকামনা থাকলো।”
“নির্বাচন ডাকার মতো সাহসী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত তাকে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে,” বলেছেন ট্রাম্প। আগামী মাসেই হোয়াইট হাউসে তার সঙ্গে তাকাইচির দেখা হওয়ার কথা।
গত বছরের শেষ দিকে তাকাইচি জাপানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এলডিপির প্রধান পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা বাড়ছিল, এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই ৬৪ বছর বয়সী ‘লৌহমানবী’ শীতকালে আগাম নির্বাচন ডেকে বসেন।
তার সোজাসাপ্টা কথা, কঠোর পরিশ্রমী ভাবমূর্তি ভোটারদের আকৃষ্ট করলেও তাকাইচির কট্টর-জাতীয়তাবাদী ঝোঁক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশি জোর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছে। তার কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতিও বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
তার ডাকে রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেই ভোট দিতে হয়েছে জাপানিদের; প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের কারণে রোববার দেশটির কিছু এলাকায় মারাত্মক যানজটও দেখা গেছে, কোথাও কোথাও ভোটকেন্দ্র আগেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
এ নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৃতীয়বার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হল জাপানে; সাধারণত দেশটিতে তুলনামূলক সহনশীল আবহাওয়ার সময় ভোট হয়।
পাহাড়ি নিগাতা প্রশাসনিক এলাকার উওনামা শহরের একটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে ব্যাপক ঠাণ্ডা ও ভারি তুষারপাতের মধ্যে তাকাইচির এলডিপিকে ভোট দিতে যান ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষক কাজুশিগে চো।
“মনে হচ্ছে তিনি দেশকে দিশা দিচ্ছেন, যেন পুরো দেশ একত্রিত হয়ে অগ্রসর হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি সহনীয় করতে খাদ্যপণ্যে ৮% বিক্রয়কর বাতিলের যে প্রতিশ্রুতি তাকাইচি নির্বাচনের সময় দিয়েছিলেন তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা বেশ চিন্তিত। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণভারে জর্জরিত জাপান এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ পাবে কই, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
রোববার তাকাইচি বলেছেন, তিনি বিক্রয়কর কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন, একইসঙ্গে আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মনোযোগী হবেন।
তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা-উন্মাদনা, চীনের কড়া নজর
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়িক লবি কেইদানরেনের প্রধান ইয়োশিনোবু সুৎসুই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাকাইচির জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
“টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে জাপানের অর্থনীতি,” বলেছেন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পুরোটা সময়ই জাপান শাসন করে আসছে এলডিপি, কিন্তু তাকাইচির পূর্বসূরী শিগেরু ইশিবার আমলে দলটি পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্ন উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলেছিল।
তরুন ভোটারদের মন জয় করে তাকাইচি এই পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছেন। তাকে কেন্দ্র করে জাপানে ‘সানাকাতসু’ উন্মাদনাও শুরু হয়েছে। এ ‘সানাকাতসু’র অনুবাদ করা যায় ‘সানায়ে পাগলামি’ হিসেবে। তার হ্যান্ডব্যাগ ও পার্লামেন্ট তিনি যে গোলাপি কলম দিয়ে নোট নেন জাপানে এখন সেগুলোর ব্যাপক চাহিদা।
তবে চীন যে তার ভক্ত নয়, তা হলফ করেই বলা যায়।
ক্ষমতায় বসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকাইচি তাইওয়ানে বেইজিং হামলা চালালে টোকিও প্রত্যুত্তর দিতে পারে—এমনটা প্রকাশ্যে বলে চীনের সঙ্গে কয়েক দশকের মধ্যে জাপানকে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন তার নিজের অংশ মনে করে।
তাকাইচির ওই মন্তব্যের পাল্টায় চীন একাধিক ব্যবস্থা নেয়, নাগরিকদের জাপান সফর না করতেও তাগাদা দেয় তারা।
জাপানে এরই মধ্যে ‘লৌহমানবী’ হিসেবে সুপরিচিত হয়ে ওঠা তাকাইচি নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রথম যে বিদেশি নেতারা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার মধ্যে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’ও আছেন।
তিনি তাকাইচি জয়ী হওয়ায় ‘জাপান ও এ অঞ্চলে তার অংশীদারদের’ ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হবে বলে আশাও প্রকাশ করেছেন।
পার্লামেন্টে শক্ত অবস্থান তৈরি হওয়ায় তাকাইচি জাপানের প্রতিরক্ষা জোরদারে তার পরিকল্পনা নিয়ে জোরেশোরে অগ্রসর হতে পারেন, ফিরিয়ে আনতে পারেন জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী শক্তিশালী ভাবমূর্তি। তেমনটা হলে তা বেইজিংকে ক্রুদ্ধ করে তুলতে পারে।
রোববার সন্ধ্যায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি একাধিক টিভি স্টেশনকে বলেছেন, তিনি জাপানের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার নীতি নিয়ে অগ্রসর হতে চান, পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সংলাপও চালিয়ে যেতে চান।
“বেইজিং তাকাইচির জয়কে ভালো চোখে দেখবে না। তার অবস্থান সুসংহত, এবং তাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা যে সফল হয়নি চীন এখন এই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে,” বলেছেন বিভিন্ন কোম্পানিকে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া প্রতিষ্ঠান এশিয়া গ্রুপের অধ্যক্ষ ডেভিড বোলিং।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা