ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

কোনো দেশ পরিচালনা করেন না। নেই নিজস্ব সেনাবাহিনী। এমনকি কোনো সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার ক্ষমতাও নেই। তারপরও জাতিসংঘ মহাসচিবের পদটি বিশ্বমঞ্চে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। 


এ পদে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা একের পর এক যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করেছেন, শান্তিচুক্তি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছেন এবং মানবিক সংকটে বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেবে, সেটির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান মহাসচিব ও পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। পরদিন জাতিসংঘের দশম মহাসচিব হিসেবে নতুন কেউ দায়িত্ব নেবেন।


নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত আটজন প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ। প্রথম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে পিছিয়ে গেছেন। বিপরীতে অবস্থান মজবুত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থীর।


পরিষদে প্রথম দফার ভোটটি হয় জুলাই মাসে। গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। তবে এসব ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থীই যে মহাসচিব হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলো যেকোনো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন কারও মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া যায় না। 


কারা প্রার্থী হয়েছেন?


পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আছেন পাঁচজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘে নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 


আরেক প্রার্থী কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএডি) প্রধান। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কৃষ্ণসাগর শস্য উদ্যোগের সমঝোতা করাতে ২০২২ সালে তিনি ভূমিকা রাখেন। ৭০ বছর বয়সী গ্রিনস্প্যান ইহুদি পরিবারের সন্তান। হলোকাস্টের সময় তাঁর মা-বাবা কোস্টারিকায় আশ্রয় নেন।


চিলির আগুস্তো পিনোশের শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হওয়া মিশেল বাশেলেত এবার প্রার্থী হয়েছেন। বাশেলেত চিলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট (২০০৬) ছিলেন। পরে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব নেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি চীনের উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন।


৭৪ বছর বয়সী বাশেলেতকে সমর্থন দিয়েছে মেক্সিকো ও ব্রাজিল। তবে নিজ দেশের পক্ষ থেকে তিনি কোনো সমর্থন পাননি। গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কথা বলায় যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর সমালোচনা করেছে।


বাকি প্রার্থীদের মধ্যে আছেন- ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (৬১)। তিনি এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও নিজ দেশের সমর্থন পাননি। একই দেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ইভোনে আ-বাকি। ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। 


এছাড়া, কাতারে রাষ্ট্রদূত থাকার সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন।


এরপর আছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাইরে থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাকি সাল (৬৪)। তিনি সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনে তাঁর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ আছে। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। 


এছাড়া, কফি আনানের সময় আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা ওলারা ওতুনু (৭৫) এবার প্রার্থী হয়েছেন। তিনি উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 


কোন দেশের প্রার্থীরা এগিয়ে?


শুক্রবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে আছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট। কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের গোপন ভোটে পিছিয়ে গেছেন আগের মাসে এগিয়ে থাকা কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান।


প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়। তৃতীয় স্থানে আছেন, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। এরপরের অবস্থানে আছেন পর্যায়ক্রমে সেনেগালের মাকি সাল, চিলির মিশেল বেশেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা ও উগান্ডার ওলারা ওতুনু। 


জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টনের একটি রীতি আছে। সে অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা থেকে কারও মহাসচিব হওয়ার কথা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা ছাড়াও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের অধিকাংশই এই অঞ্চলের।


নতুন প্রার্থী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোর্তি সম্প্রতি এএফপিকে বলেন, ‘ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ দেশ নিজেদের অবস্থান জানাতে আরও সময় নিতে পারে। একইসঙ্গে নতুন প্রার্থীরাও এই দৌড়ে যোগ দিতে পারেন।’ 


একই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যে প্রার্থীদের দেখছি, তাদের কাউকে নিয়ে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয়, যদি কেউই এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে আরও কিছু প্রার্থীকে এই দৌড়ে দেখা যেতে পারে।’


কীভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই


নিরাপত্তা পরিষদে এমন আরও অনানুষ্ঠানিক ভোট হওয়ার কথা আছে। সভাপতি দেশ ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিনা লাসেন বলেছেন, পরবর্তী অনানুষ্ঠানিক ভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে পরিষদে আলোচনা চলছে। আর সদস্য দেশ কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত জেনন এনগাই মুকঙ্গো বলেছেন, এখনই ঐকমত্যে পৌঁছানোর সময় আসেনি।


নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর বিপক্ষে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো থাকা যাবে না। এই দুই বাধা পার হতে পারলে সেই প্রার্থীর নাম অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে তোলা হয়।


১৯৮০-এর দশকের শুরুতে দুই প্রার্থীকে ভেটো দেওয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ ধরনের অবস্থা যাতে পরবর্তীতে তৈরি না হয় সেজন্য চূড়ান্ত প্রার্থীকে বাছাইয়ের আগে অনানুষ্ঠানিক ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়। স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের সমালোচনা থাকলেও প্রক্রিয়াটি এখনো চালু আছে।


নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য কোনো প্রার্থীর বিপরীতে তিনটি মতামতের যেকোনো একটি দিতে পারে। সেগুলো হলো- সমর্থন, বিরোধিতা অথবা কোনো মত নেই। এই প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ব্যালটের রং একই রকম থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের পর পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের জন্য ব্যালটের রং আলাদা করা হয়। ওই সময় কোনো প্রার্থীর বিপক্ষে ভেটো থাকার বিষয়টি বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে তা জানা যায় না।


উল্লেখ্য, পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। সেগুলো হলো- চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। ১০টি দেশ দুই বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য হয়।


আগের মহাসচিবরা কেমন ছিলেন


জাতিসংঘ সনদে (১৯৪৫) মহাসচিবকে রাজনৈতিক নেতা নয়; বরং সংস্থাটি প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের প্রধান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তিরা এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেসব দেশকে বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।


সংস্থাটির প্রথম মহাসচিব ছিলেন নরওয়ের ত্রিগভে লি। তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কোরীয় যুদ্ধ নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধিতার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে দায়িত্ব পান সুইডেনের দাগ হ্যামারশোল্ড। কোনো বিষয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকলে তিনি মধ্যস্থতা ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মহাসচিবের কার্যালয়কে কাজে লাগাতেন।


পরবর্তী মহাসচিবরা শান্তিরক্ষায় এই পদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করেন। মিয়ানমারের উ থান্ট (১৯৬১-১৯৭১) কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। অস্ট্রিয়ার কার্ট ভাল্ডহাইম (১৯৭২-১৯৮১) মধ্যপ্রাচ্য, সাইপ্রাস ও নামিবিয়ায় কাজের মাধ্যমে ‘শাটল কূটনীতি’র ধারণা এগিয়ে নেন। 


পেরুর হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েলার (১৯৮২-১৯৯১) ইরান-ইরাক যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতা করেন। মিসরের বুতরোস বুতরোস-ঘালি (১৯৯২-১৯৯৬) স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ঘানার কফি আনান (১৯৯৭-২০০৬) জাতিসংঘের নিজস্ব কাঠামোর ভেতর থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে মহাসচিব হওয়া প্রথম ব্যক্তি। 


দক্ষিণ কোরিয়ার বান কি-মুন (২০০৭-২০১৬) জলবায়ু পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেন। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সময় জাতিসংঘকে অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এসব যুদ্ধে স্থায়ী সদস্যদের ভেটোর কারণে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বারবার আটকে গেছে।


মহাসচিবের কী কী ক্ষমতা আছে


সনদের ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে জাতিসংঘ মহাসচিবের রাজনৈতিক ক্ষমতার কথা বলা আছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন যেকোনো বিষয়কে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনতে পারেন। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তবে এই ক্ষমতা খুব অল্প কয়েকবার ব্যবহার হয়েছে। 


মহাসচিবের চারটি প্রধান দায়িত্বের মধ্যে আছে- মধ্যস্থতা, নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সতর্ক করা। তিনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনে মধ্যস্থতা করতে পারেন। পুরো জাতিসংঘের পক্ষে কথা বলার একমাত্র কর্মকর্তা তিনি।


একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান। এছাড়া, কোনো বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে, বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মহাসচিব ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক করতে পারেন।


তবে এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ পিএম

দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (পতাকা ওড়াও) মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কনট প্লেসের কাছে মান্ডি হাউস থেকে পুলিশ আটক করেছে বামপন্থী ছাত্র নেতা নেহা বোরাকে। এর আগে নিজ বাসা থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে অভিজিৎ দীপকে তার বাসা এবং নেহা বোরাকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।


ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণে সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মূলত এই পতাকা মিছিল কর্মসূচি।


 ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। এর একদিন আগে ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদ স্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।পরে তাদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। শুক্রবার দীপকে-কে আটকের আগে দিল্লি পুলিশ তার বাসায় গিয়ে মিছিল না করার বিষয়ে একটি নোটিশ দেয়।


ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা ওই নোটিশে বলা হয়, দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কর্নাট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ কার্যকর রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত তিরঙ্গা যাত্রার জন্য নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় সিজেপি মিছিল করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।


গান্ধীর ছবি সংবলিত সাদা টি-শার্ট ও জিনস পরা ৩১ বছর বয়সী এই নেতাকে পুলিশ জানায়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো আইনবিরুদ্ধ নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা এবং লোকসমাগম ঘটানো নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল। এক্ষেত্রে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।


এ ছাড়া জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে পতাকা বিধি মেনে চলার বিধিনিষেধ সম্পর্কেও তাকে জানানো হয়।


সূত্র: এনডিটিভি


ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

ভারতে চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণের কথা বলছেন। কেউ সরকার বদলের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তারা অরাজকতা তৈরি করে সরকার বদল করতে চায়। ঠিক যেমন বাংলাদেশে হয়েছে।’সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার একটি মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম। এতে নেহার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে হওয়া আন্দোলন তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।


আইসা সভাপতির ওই মন্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেয়ার করেন বিজেপি নেতারা। সিইসির পদত্যাগ দাবির আন্দোলনের পেছনে সরকার বদলের উদ্দেশ্য থাকা নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন।


শুক্রবার লখনউয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, ভারতে বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তরুণদেরকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা স্বীকার করছেন। একটি পক্ষ প্রকাশ্যেই সরকার ফেলে দেওয়ার ডাক দিচ্ছে।


ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ থেকেই স্পষ্ট, তাদের একমাত্র লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলে অশান্তি ছড়ানো। এই আন্দোলন নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য নয়। এসআইআর বা জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করেও নয়। বরং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র চলছে।’


ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং বলেন, রাহুল গান্ধী একবার দাবি করেছিলেন, ৭০ বছরের এক মহিলা দ্বৈত ভোটার। আরেক সময়ে তিনি অভিযোগ করেন, ৩৫ বছরের এক মহিলা ১২৪ বছরের ভোটার। কখনও কখনও সাধারণ নাগরিকদের ভুয়া ভোটার বলে চিহ্নিত করে তিনি সম্মানহানির চেষ্টা করেছেন।


ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও জেন-জি বিক্ষোভকে শুরু থেকেই বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রচার করছেন বিজেপি সমর্থকরা। তাদের দাবি, বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে ‘ডিপ স্টেট’।


প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের এক মন্তব্যের পর বিজেপি সমর্থকদের বয়ান আরও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি নেতা বোরা ও সিজেপির অভিজিত দীপকের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা কেন্দ্র সরকারে বদল চাই।’


প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘আমরা সবাই কেন্দ্র সরকারে বদল চাই। এতে কোনো সমস্যা আছে?’ বিজেপিও অতীতে সরকার বদলের লক্ষ্যে একাধিক আন্দোলন করেছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘ওদের মুখে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব মানায় না।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কিশোরের গুলিতে তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছে। এ সময় সেখানে থাকা এক ব্যক্তির গুলিতে ওই কিশোরও প্রাণ হারিয়েছে।


বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ওরেগনের বেন্ড শহরের ‘সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে’ এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর।


গুলিতে সাত বছর বয়সি আরেক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সি এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল কি না কিংবা স্কুলটির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।


বেন্ড পুলিশ জানায়, দুপুর একটার কিছু আগে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করে এক ব্যক্তি জানান, স্কুলের বাইরে তার গাড়ি লক্ষ্য করে লম্বা বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়ছে একজন।


এর কয়েক মিনিটের মাথায় স্কুলভবন থেকেও একাধিক কল আসতে থাকে। হামলাকারী বন্ধ দরজার লক লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। স্কুলের ভেতরে এমন পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা হামলাকারীকে ধাওয়া করে স্কুলের ভেতরে ঢোকেন এবং পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে প্রতিহত ও হত্যা করেন।


খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হামলাকারী কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে।


পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী স্থানীয় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তবে তার নাম বা নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।


নিহত ও আহতদের নাম কিংবা বন্দুকধারীকে গুলি করা সেই বাসিন্দার পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।


নির্মম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রশাসনিক প্রধান স্টিভেন কুক বলেন, “এমন বিবেকহীন এক ট্র্যাজেডিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তব্ধ। আমাদের কমিউনিটি যে শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”


স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সাড়ে চারশ শিক্ষার্থীর এই স্কুলটিতে বিশেষ নিরাপত্তা দরজা লাগানো হয়েছিল, যা মাত্র একটি সুইচের সাহায্যে ক্লাসরুম ভেতর থেকে লক করে দেওয়া যায়।


মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার বেন্ড শহরের সব বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেইসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে গুলির ২৩৫টি ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত এমন ঘটনার সংখ্যা অন্তত ১৪০টি।


লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজবধূ মেহরা আল নাহিয়ানকে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

কড়া মাত্রার কোকেন সেবনের পর শিশু সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এক রাজবধূকে। ৩২ বছর বয়সী ওই রাজবধূ হলেন মেহরা আল নাহিয়ান।


‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর তিনি পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। কাছেই খালি পায়ে খেলা করছিল তার তিন বছরের সন্তান। অল্প দূরে পড়েছিলেন আরেক অচেতন পুরুষ। মেহরা বিয়েসূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজ পরিবারের সদস্য। এ ঘটনার পর লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে একটি মামলা হয়। গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে শিশু অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মেহরা। 


আদালতে জানানো হয়, রাজবধূ মেহরাকে গত ১৩ জুন রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পান পথচারীরা।


‘দ্য টাইমসের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত পৌঁনে দুইটায় পুলিশ পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত স্থানীয় পথচারীরা শিশুটিকে দেখাশোনা করেন। ৩০ মিনিটের মতো অচেতন ছিলেন মেহরা। চেতনা ফিরলে তিনি বলে ওঠেন, ‘এটা তো কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন? আপনাদের এত মাথা ব্যথা কিসের?’


ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্রিলে হেলান দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রয়েছেন মেহরা। তিনি ব্রিটেনে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড সরকারি ভাতা পান।


মামলার এক কৌঁসুলি আদালতে বলেন, শিশুটিকে অভিভাবকহীন অবস্থায় খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরতে দেখেন পথচারীরা। এক পর্যায়ে সে দ্রুতগতির যানবাহনের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় এবং দুর্ঘটনার ভয়ে পথচারীরা এগিয়ে আসেন।


মেহরা আল নাহিয়ানকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার পর তাকে একটি মাদক নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।


মেহরার পক্ষের আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানান, যেদিন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় সেদিন তিনি মাদক সেবন করেননি। তবে তার আগে কয়েকদিন কোকেন সেবন করার কারণে অনেক ক্লান্ত ছিলেন।


স্টিফেন যোগ করেন, মেহরা তার ভুলের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেদিন যে তিনি এক মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, তা এখন বুঝতে পারছেন।


মামলার বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পথচারীরা যদি সময়মতো এগিয়ে না আসতেন, তবে শিশুটির গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা তার চেয়ে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারত। শিশুটি হয়তো হারিয়ে যেত, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতি করতে পারত অথবা তাকে তুলে নিয়ে যেতে পারত। তাছাড়া দুজনকে এভাবে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে শিশুটি মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারত।’


মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের ‘কমিউনিটি অর্ডার’ (কমিউনিটি সেবা দেওয়ার আদেশ) এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ও আরব নিউজ


ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ এএম

কেন্দ্রস্থল ভিলিউচিনস্কের ১২৩ কিলোমিটার দূরে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাতকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।


স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কম্পনে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কামচাতকার ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে।


যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১০ এএম

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 


সরকারের একটি সূত্র জানায়, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।


ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ জানান, নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন।


হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি ও সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে সরকার।


হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া কাসিম সারী দাবি করেছেন, এডেনে সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।


সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে-এমন স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জানান তিনি।


২০১৪ সালে ইয়েমেনের সরকারের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটি কার্যত বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি