ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীন যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওপর খুবই হতাশ হবেন। খবর সিএনএনের।
গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এর আগে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনে তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার (ম্যানপ্যাডস) পেতে পারে। চুক্তিটির সম্ভাব্য মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এটি বিস্ময়কর হবে। এমন ঘটনা ঘটলে আমি অবাক হবো। শি জিনপিং আমাকে খুব দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, তিনি এতে অংশ নেবেন না। আর তিনি জানেন, যদি এমনটি হয় তাহলে আমি খুবই হতাশ হবো।
এর আগে সিএনএন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, চীন ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস ওই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছিল।
চীন থেকে ইরানের কাছে সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে এখনো বেইজিং বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও অন্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই সমঝোতা গাজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণে বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে। গাজা আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।’
হামাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে হামাস ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র শাখাগুলোর সম্মতিসূচক একটি নথি আল জাজিরার হাতে এসেছে। হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, গাজা শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না।
ট্রাম্প বলেছেন, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের এই প্রক্রিয়া গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। এ যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। চুক্তির পর থেকে তারা ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আরও এলাকা দখলে নিয়েছে এবং গাজায় মানুষ ও পণ্যবাহী যান চলাচলে বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ আরও ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, নিরস্ত্রীকরণ শেষ হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এরপর সেখানে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা হবে। এই বাহিনী নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এই সমঝোতার আওতায় গাজার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে যাবে, যারা নিজেদের জনগণের সেবা করবে।’
গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে হামাসের নেতারা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে তাঁরা মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন। গতকাল হামাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল–জাজিরাকে বলেন, আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হচ্ছে।
প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের
গত ৬ জুলাই গাজায় নিজেদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্তির ঘোষণা দেয় হামাস। এর মধ্য দিয়ে উপত্যকাটিতে প্রায় দুই দশকের হামাসের শাসনের অবসান ঘটে। হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
গাজি হামাদ আরও বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একটি জাতীয় কমিটি এ কাজের নেতৃত্ব দেবে।
চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনা ‘জটিল’ ছিল উল্লেখ করে গাজি হামাদ বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্য থেকে হামাস সরে আসেনি।
ধাপে ধাপে নিরস্ত্র করা হবে
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে হামাস ও অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা হবে। এরপর আরও ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
ফিশার বলেন, ‘ফিলিস্তিনি পুলিশ একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। এই বাহিনীতে কোন কোন দেশ থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, এতে ইন্দোনেশিয়া এবং সম্ভবত তুরস্কও থাকতে পারে। অবশ্য বিষয়টি [তুরস্কের থাকা] ইসরায়েলের পছন্দ নাও হতে পারে।’
আল-জাজিরার হাতে আসা সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুতের প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নসূচি ১৪ দিনের মধ্যে তৈরি করতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশন সম্মত হলে এ সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
ফিশার বলেন, সব পক্ষকে চুক্তিতে সইয়ের পর্যায়ে আনতে এখনো কিছু বাধা রয়েছে। তবে হামাসকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এই চুক্তিতে সম্মত না হলে আর্থিকভাবে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
ফিশারের ভাষ্য, ‘এই চুক্তি মেনে নিতে হামাসের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ছিল- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, বোর্ড অব পিসে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েলের ব্যাপক সমালোচনা ছিল। কিন্তু দেশ দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, এই সমঝোতা তার প্রমাণ।
ওই মার্কিন কর্মকর্তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও হামাসের বাইরে একটি বিকল্প সামনে এসেছে। এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অরাজনৈতিক সরকার হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণে কাজ করা।’
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি এবং তাদের দুই বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। এর আগে উদ্ধার হওয়া অপর দুই শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফার্স বার্তা সংস্থা এবং হরমুজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় নিহত তিনজন হলেন ওই ভবনে বসবাসকারী এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান।
মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ সদস্যের ওই পরিবারটির বাকি দুই শিশুকে এর আগে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সাত ও নয় বছর বয়সী আহত ওই দুই শিশু এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ধ্বংসস্তূপ থেকে তৃতীয় এক শিশুকে উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ফার্স বার্তা সংস্থা ধ্বংসস্তূপ থেকে দম্পতি ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ইরাকে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে গঠিত একটি আধাসামরিক জোটের ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।
ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী আর সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে তারা ইরাকে ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি আধাসামরিক ওই জোটের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান দুই দেশই ইরাকের অন্যতম মিত্র। কিন্তু তাদের শত্রুতার কারণে বাগদাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও হিমশিম খাচ্ছে।
ইরাকে ইরান সমর্থিত আধাসামরিক জোটটি ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ বা পিএমএফ নামে পরিচিত। এক সময় সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তাদের তেমন তৎপরতা নেই। পিএমএফ জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ২০ জন যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন।
পিএমএফ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি যৌথ আগ্রাসন চালিয়ে বাগদাদ, উত্তর ইরাকের নিনেভ এবং দক্ষিণের বসরাসহ ৭টি প্রদেশের ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। জোটের নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, নিনেভ এবং মধ্য ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের হামলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইরাকে পিএমএফ গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। পরে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ করা হয়। এর মধ্যে ইরান সমর্থিত কিছু ব্রিগেডও আছে। সেগুলো নিজেদের মতো করে কার্যক্রম চালায়।
গত সোমবার সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে উড্ডয়ন করা বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিতের কথা জানিয়েছিল। এসব ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু ছিল পেট্রোলিয়াম স্থাপনা। তখন ইরাকি কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাস্থল কুমামোতো শহরের কাছে আংশিক ধসে পড়া একটি বিপণিবিতানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতো শহরের কাছে অবস্থিত একটি শপিং মলের একাংশ ধসে পড়ে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভবনের ভেতরে সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিপণিবিতান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মীর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে চারজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সরকার সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে।
ধসে পড়া ভবনে দমকল, পুলিশ ও প্রায় ১৭০ জন সেনাসদস্য উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ- এর একটি কারখানায় চিমনি ধসে সাতজন নিখোঁজ এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে বহু আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো কুমামোতো প্রিফেকচারে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভবন ধস ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য ৩৮৬টি জরুরি কল পেয়েছে পুলিশ।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াতসুশিরো শহরে বহু বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। একটি সেতুর অংশ কুমাগাওয়া নদীতে ভেঙে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ ওই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
আজ বুধবার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছালে ৩৬ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উকি শহরের একটি হাসপাতালের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আরেকটি হাসপাতাল ৮৬ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়ার পর অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন জরুরি রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া দ্রুতগতির ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। কম্পন অনুভূত হওয়ার পর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি দোকানবিশিষ্ট আয়ন মলের একপাশ সম্পূর্ণ ধসে পড়ে ভেতরের ইস্পাত কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং পার্কিং এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে রেনেসাস ইলেকট্রনিক্স, সনি, টোকিও ইলেকট্রন ও হোন্ডা তাদের স্থানীয় কারখানার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। টয়োটা মোটর জানিয়েছে, সরবরাহকারীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার পর্যন্ত কুমামোতো প্রিফেকচারের বাইরের তিনটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত জাপানে বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ১০ বছর আগে কুমামোতোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। এবারের ভূমিকম্পেও ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গ, কয়েকটি উপাসনালয় এবং সপ্তদশ শতাব্দীর একটি চা-পানের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে এই হামলা চালানো হয়ে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আকস্মিক হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা ফের চরম আকার ধারণ করলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে এক আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে সেসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ সতর্ক ও উচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।’
এর আগে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর নৈশ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে গালফ বা পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইরান। তবে গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে গোলাগুলি বা আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল।
চরম সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ লড়াই
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হওয়া অতি সংকীর্ণ ও কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’-তে ইরান কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। গত জুন উভয় পক্ষের মধ্যে এক অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত এই প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক লড়াই শুরু হয়ে যায়।
ইরানের দাবি হলো, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে ও তেহরান এর জন্য শুল্ক বা ফি আদায় করার অধিকার রাখে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনের অধীনে ওমানের উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে যখন একের পর এক জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান।
ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরের দিকে মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হওয়া ড্রোন হামলার পেছনে এই ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেই যৌথ এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই অভিযুক্ত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কথিত ড্রোন হামলার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে ‘ইরাকি ভূখণ্ডকে কোনো বন্ধুপ্রতীম বা ভাতৃপ্রতিম দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের রুট বা লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়।’
তবে ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সৌদি তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার সব দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত মোর্চা ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদির এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সোমবার (২৭ জুলাই) সংঘটিত এই হামলাগুলো মূলত ইয়েমেনের হুথিরাই চালিয়েছে; যারা নিজেরাই সৌদি তেলের স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ সংগৃহীত
মুম্বাইয়ের পুলিশ ভ্যান আটকে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা মডেল রিয়া আহির এবার অনলাইনে তীব্র আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর তিনি সাইবার পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজি পার্কের কাছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশ ভ্যান আটকে দিয়েছিলেন রিয়া আহির।
ছাই রঙের হুডি পরে ভ্যানের বনেটে হাত রেখে তার সাহসিকতার সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পুলিশ অন্যায় করছে বুঝতে পেরেই তিনি সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
তবে এই সাহসী ঘটনার পর থেকেই অনলাইনে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমআইডিসি পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি এবং তার অনলাইন কন্টেন্টে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে।
রিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ঘৃণা প্রচার চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে মানহানি, ভীতি প্রদর্শন, নারীর প্রতি অবমাননাকর অপব্যবহার, টার্গেটেড হয়রানি এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সাইবার হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন এবং মানহানিকর কন্টেন্টের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ইউআরএল ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রিয়া আহির জানান, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এত বড় একটি অসাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে, তা এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।
সূত্র: এনডিটিভি।