বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। পরে ফুল দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অর্জন ও কার্যক্রম তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তীতে রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ডিন পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয় পর্ব শেষে নবীনদের উদ্দেশ্যে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, 'আমাদের গ্ৰাজুয়েটরা পুরো বিশ্বে দাপটের সাথে সকল সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে। তোমাদেরও দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন গ্ৰাজুয়েট হিসেবে বাকৃবি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে হবে। শুধু প্রিন্ট করা শীট বা বিভিন্ন এআই টুলসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পাঠ্যপুস্তক নির্ভর হতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষকদের ভরসাস্থল হতে হবে এবং তাদের পাশে থাকতে হবে।'
প্রধান অতিথি ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন,'বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির উন্নতি, দেশের উন্নতিতে সবচাইতে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক, গবেষণালব্ধ সহযোগিতা যে প্রতিষ্ঠান করেছে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তোমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তোমরা এই দেশের কৃষির ঐতিহ্যকে ধারণ ও বহন করবে এবং এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।'
ছাত্র-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, 'শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পর্ক থাকবে অসাধারণ। যদি ছাত্র ও শিক্ষকের মাঝে সুসম্পর্ক না থাকে কোনভাবেই একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।'
ইউজিসির বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের অনেকগুলো প্রচেষ্টার মধ্যে একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করা। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাই স্পিড ইন্টারনেট, ওয়াইফাই সিস্টেম ও স্মার্ট ক্লাসরুম থাকবে। সেই সাথে আমাদের বড় একটি পরিকল্পনা যে প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে নিশ্চিত করা। যেকোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিন থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এবং এরপরেও প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকবে।'
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) প্রদর্শিত হলো শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ী প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রদর্শনী।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান এ টি এম ওহিদুজ্জামান এবং ‘পায়ের ছাপ’ তথ্যচিত্রের পরিচালক ও চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি মোস্তফা মল্লিক।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে তেজগাঁও শিল্প এলাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ মনু মিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তাঁদের জন্য বিশেষভাবে ‘পায়ের ছাপ’ ও ‘সুতোর মহাকাব্য’ প্রামাণ্য তথ্যচিত্র দুটি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় শারীরিক প্রতিবন্ধী আয়শা আক্তারের জীবনের গল্প নিয়ে প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’ ও বুটেক্সকে নিয়ে ‘সুতোর মহাকাব্য’। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই, অভাবের তাড়নায় বাবা একসময় তাকে সার্কাসে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই আয়েশা আক্তার আজ বাংলাদেশের অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য প্রতীক। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সব বাধা জয় করে, পা দিয়ে লিখে সদ্য মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়াহাট গ্রামের এই তরুণী।
‘পায়ের ছাপ’ তথ্যচিত্রটিতে উঠে এসেছে, কীভাবে শৈশবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আয়েশা আক্তারকে ভর্তি নিতে চাননি। কিন্তু স্থানীয় এক শিক্ষকের সাহায্যে আয়েশা বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। ২০১২ সালে এসএসসি ও ২০১৪ সালে এইচএসসি পাসের পর আয়েশার জীবন বদলে যায় চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর আয়েশা প্রথম ঢাকায় এসে ‘কিংবদন্তি অ্যাওয়ার্ড’ পান এবং এককালীন দুই লাখ টাকা অনুদান লাভ করেন। পরবর্তী সময় একজন ফ্রান্সপ্রবাসী ব্যবসায়ীর সহায়তায় আয়েশা উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান এবং ২০২৫ সালে মাস্টার্সে প্রথম বিভাগ অর্জন করেন।
‘সুতোর মহাকাব্য’ প্রামাণ্য তথ্যচিত্রটিতে প্রদর্শিত হয়েছে বুটেক্সের সমৃদ্ধ ইতিহাস, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগগুলোর একটি সুস্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হয়। ১৯২১ সালে ঢাকার নারিন্দায় প্রতিষ্ঠিত উইভিং স্কুল থেকে শুরু করে ২০১০ সালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঐতিহাসিক যাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া তথ্যচিত্রে বিশ্বমানের আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন এবং বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরে বুটেক্সের বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রদর্শন করা হয়। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের মাধ্যমে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বুটেক্সের গ্র্যাজুয়েটরা কীভাবে অবদান রেখে চলেছেন, তা উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ববি হাজ্জাজ বলেন, “এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে কতখানি অদম্য হতে পারে সেটা দেখলাম। আপনারা যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব না। শুধু আপনাদের একটু কষ্ট করে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি কাজ যেটা করতে হবে, সেটা হলো আপনাদের পড়াশোনা। অনেক ভালো করে পড়তে হবে। আপনারা একটু মনোযোগ দিয়ে যদি পড়াশোনা করেন, কোনোটাই আপনাদের হাতের বাইরে না।”
বুটেক্সকে উদ্দেশ্য করে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আগামী দিনগুলোতে আমার মনে হয় বুটেক্সের জায়গাটা অনেক বড়। আজ থেকে ২৫০ বছর আগে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে ১০ শতাংশ ছিল এই বাংলায়। এটার মূল কারণ ছিল আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে। কিন্তু বিশ্বের এই ১০ শতাংশ অর্থনীতি আমাদের এখানে আনতে বুটেক্সের অনেক বড় অবদান রাখার সুযোগ আছে।”
‘পায়ের ছাপ’ তথ্যচিত্রের পরিচালক মোস্তফা মল্লিক স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা সবাই আয়শাকে ছাড়িয়ে যাও, প্রধানমন্ত্রীকেও ছাড়িয়ে যাও, স্পিকারকেও ছাড়িয়ে যাও, ভিআইপিদের ছাড়িয়ে যাও এই আশা আমরা করি। তোমাদের ভালো রেজাল্ট করতে হবে, বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। ভালো করে পড়াশোনা করে বাংলাদেশের সেবা করতে হবে”
সভাপতির বক্তব্যে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “আয়শা অদম্য, সে দুইটি হাত না থাকার পরেও সে দুইটি পায়ের মাধ্যমেই হাতের কাজটি সম্পন্ন করেছে। সে দুর্গম অঞ্চলে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সে স্কুলে গিয়েছে, স্কুলে পড়াশোনা করেছে এবং সে বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেছে। সর্বশেষ পরিণতি যে আজকে তার একটি চাকরি হয়েছে এবং সে তার জীবনে সফলতা অর্জন করেছে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এখনই তোমাদের শিক্ষার মুল ভিত্তি তৈরি করার সময়। এই মুহূর্তে তোমরা যারা প্রাইমারি বা হাইস্কুলে পড়াশোনা করছ, তোমাদের শিক্ষাটা সত্যিই একটা শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে হবে। সেজন্য তোমাদের পরিশ্রম করতে হবে।”
মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস ও পার্থ সরকার
দীর্ঘসময় পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ঘোষিত নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ সরকারকে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবিত তালিকা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর তারা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমাদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দীর্ঘদিন পর কমিটি গঠিত হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজপথের কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে আমরা ইতিবাচক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে চাই।'
দুই মাসে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে
আসছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে লম্বা ছুটি পেতে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। আগামী দুই মাসে সাপ্তাহিক ছুটি ও বিভিন্ন সরকারি ছুটি মিলিয়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই ছুটি উপভোগ করবেন।
আগস্ট মাসে ছুটি
সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে মোট ছুটি থাকবে ১২ দিন।
সেপ্টেম্বর মাস
মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়া উপলক্ষে ছুটি থাকলেও তা শনিবার পড়ায় এ উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি মিলবে না। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে ছুটি থাকবে মোট ৯ দিন। দুই মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট ২১ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন
সাংবাদিকদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের প্রতিবাদে রাকসুর সব ধরনের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠন। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) যৌথ এক প্রতিবাদলিপিতে এ ঘোষণা দেয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রক্টর দপ্তরে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকসু ভবনে হামলা এবং পরে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গ্রন্থাগারে ঢুকে হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে নিন্দনীয়ভাবে বিঘ্নিত করে। এ নিয়ে রাকসু আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করলে ভিপি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষপাত করার অভিযোগ করেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে মায়াকান্নাসহ একাধিক ট্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ‘জড়ো করে ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দেন।
তিন সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাকসু ভিপির এমন বক্তব্য সাংবাদিকদের জন্য চরম অপমানজনক। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি এ নিয়ে প্রতিবাদ দিতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির মাধ্যমে সাংবাদিকদের ট্যাগিং ও হুমকি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের হুমকি ও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
ছাত্র সংসদ বা তার কোনো প্রতিনিধি কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব ধরনের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
টেলিভিশন সাংবাদিকদের নিন্দা
একই ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ)। আজ বিকেলে এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা, হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো বক্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
গত সোমবার দফায় দফায় মারধর ও হামলার ঘটনায় ‘রাকসু ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান।
তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এত মায়াকান্না করা যাবে না। আপনারা সাংবাদিকেরা যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা কালকে ছাত্রলীগকে ডিফেন্স করে (পক্ষ হয়ে) অনেকে নিউজ করেছেন। এই সাংবাদিক এখানেও অনেকে আছে। আমরা সেগুলো জড়ো করে করে এখানে ব্যবস্থা নেব।’
সাংবাদিকদের শব্দ প্রয়োগে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাকসুর ভিপি বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আমরা হামলা করেছি। এটা কোন ধরনের কথা? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা এই শব্দ বলতে এত কাঁপাকাঁপি করেন কেন? আর আপনারা এত মায়াকান্না দেখান কেন ছাত্রলীগের প্রতি?’
অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতির নতুন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন । বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ড. শামীমা নাসরিনকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) শিক্ষক সমিতির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক পদ শূন্য হওয়ায় কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিনকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষক সমিতির ব্যাংক হিসাব পরিচালনার স্বাক্ষরকারী হিসেবেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের পরিবর্তে নতুন আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিনকে স্বাক্ষরকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সাইফুল মালেক আকাশ ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘ভাষা-সাহিত্য পরিষদ’-এর ১০ম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল মালেক আকাশ এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছেন স্নাতক ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ।
বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এবং প্রভাষক মো. গোলাম মাহমুদ পাভেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আনাস আহম্মদ আব্দুলাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফারহা খানম, সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রোমান মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক মো. ফাহিম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন অপূর্ব, প্রচার সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এবং সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আহনাফ তাহমিদ। এছাড়া বিভাগের পাঁচটি শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঁচজন শ্রেণি প্রতিনিধি কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি শিক্ষক, সহপাঠী ও অনুজদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, ভাষা-সাহিত্য পরিষদকে একটি সক্রিয়, সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে চান।
সহ-সভাপতি সাইফুল মালেক আকাশ বলেন, এ দায়িত্বের জন্য তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, ভাষা-সাহিত্য পরিষদকে সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে এগিয়ে নিতে এবং বিভাগের যেকোনো সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে তিনি কাজ করবেন।
কমিটির সব সদস্যই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নবগঠিত কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।