হাত কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক
সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে ভারতকে হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। সিন্ধু নদীর পানির ভাগ যারা দিচ্ছে না তাদের হাত কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে গত বছর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নিহত হওয়ার পর, নয়াদিল্লি ঐতিহাসিক সিন্ধু পানিবন্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। ভারতের এই অনড় অবস্থানের প্রতিক্রিয়াতেই এবার সুর চড়িয়েছে পাকিস্তান।
এক সংবাদ মম্মেলনে পাকিস্তানের মন্ত্রী মালিক অভিযোগ করে বলেন, “ভারত পাকিস্তানের ভাগের পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। পাকিস্তান কাউকেই নিজেদের ভাগের পানিকে বাধাগ্রস্ত করতে দেবে না।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, “পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনিই। পাকিস্তানে তিনি (মোদী) এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না।”
সিন্ধু চুক্তি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার ভারতকে নিশানা করেছে পাকিস্তান। তাতেই এবার নতুন সংযোজন ঘটালেন মালিক।
পাকিস্তানের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যার ৪০-৫০ শতাংশের কর্মসংস্থান কৃষির ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেউ দেশের পুরো খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের ৫০ শতাংশ এবং অর্থনীতির ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।”
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মালিক বলেন, “যারা আমাদের ভাগের পানি দাবি করছে, আমরা তাদের হাত কেটে নেব।”
তিনি বলেন, “পাকিস্তান আগেই ঘোষণা করেছে যে, ইসলামাবাদকে পানি থেকে কেউ বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করবে।”
মালিকের দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তান তাদের পানির ভাগ অক্ষুণ্ণ রাখতে দায়বদ্ধ। ভারত পানির প্রবাহ আটকে দিতে পারে না । মালিকের এই মন্তব্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে ভারত চুক্তিটি স্থগিত করার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ করেছে পাকিস্তান।
সিন্ধু পানিবন্টন চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলোর মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর পানি ভারতের প্রাপ্য।
পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার পানিতে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে। কিন্তু পহেলগামে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই চুক্তি স্থগিত করে ভারত।
সম্প্রতি ভারতের জলশক্তি বিষয়কমন্ত্রী সিআর পাটিল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধুর জল প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপর চলতি মাসে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সজুড়ে গণবিক্ষোভের পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দিনের শেষভাগে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে গত সপ্তাহান্তের মতো ব্যাপক দাঙ্গা ও লুটপাটের পরিস্থিতি এবার এখন পর্যন্ত এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্কুলগুলোর বেহাল দশার প্রতিবাদে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকাতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিভিন্ন শহরে নানা বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেবল স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের দায়ে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় শত শত মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার প্যারিসে ‘পোর্ত দ’ইতালি’ থেকে ‘পোর্ত দ্য ভিনসেন’ পর্যন্ত একটি পদযাত্রা শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল। পদযাত্রার শেষভাগে বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানে সাধারণত সংগঠিত অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত একটি বিশেষ ইউনিটও অংশ নেয়।
কিছু বিক্ষোভকারীকে অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে দেখা যায়। এ সময় মুখোশধারী তরুণদের একটি দল একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙচুর করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরাঁ নুনেজ বলেন, পদযাত্রার শেষ অংশে কয়েক হাজার উগ্রবাদী কর্মী জড়ো হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গাবাজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মার্সেইতে আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাস্তা অবরোধে ধাতব পাত ব্যবহার করা হয়। শহরটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িকে জ্বলন্ত ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যায়। বোর্দোতে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী একটি ভবন থেকে তক্তা খুলে রাস্তা অবরোধে ব্যবহার করেন।
লিওঁ শহরে স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরটির এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমাদের দলে প্রায় ১৫০ জন ছিলাম, যাদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হঠাৎ করেই কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু হয়। রাস্তায় তখন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।
দিনের শেষভাগে নুনেজ জানান, প্রায় ১ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, দুজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের একজন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে এবং অন্যজন মধ্যাঞ্চলীয় ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে আহত হন।
প্যারিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলি নামের এক নারী বিবিসিকে বলেন, মানুষ সত্যিই হতাশ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। ম্যাখোঁ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
২৬ বছর বয়সী জেলি বলেন, তারা আমাদের চুপ করিয়ে রাখে। তারা আমাদের টাকা নিয়ে নেয়, আমাদের ওপর প্রচুর কর চাপায়, অথচ আমরা কিছুই বলতে পারি না। আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি, কারণ অনেক সময় পেরিয়ে গেছে, আর সহ্য করা যাচ্ছে না।
মুখোশধারী দুই কিশোর বিক্ষোভকারী, যারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি, জানায়, তাদের প্রজন্ম চরম হতাশায় ভুগছে এবং সরকারের কাছ থেকে পুরোপুরি অবহেলিত বোধ করছে।
শনিবারের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমার মনে হয় লুটপাট করাটা মোটেও ঠিক নয়। তবে দারিদ্র্য আর পুলিশের সহিংসতার কারণেই এমনটা ঘটছে। আমাদের দাবিগুলোর জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। আমরা সত্যিই ফ্রান্সে পরিবর্তন চাই।
এদিকে, উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় অর্লেয়ঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
ফ্রান্সের মতো একই ধরনের ইস্যুতে শনিবার ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনায় শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘অকারণে ঘটানো সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছে। এ ঘটনায় ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী হাজারো বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইতালির মিলানে পুলিশ ও শত শত সেনাসদস্যের সমন্বয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়। গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের শহরে জড়ো হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন, জানালার কাচ ভেঙেছিলেন এবং দোকানপাটে লুটপাট চালিয়েছিলেন।
গত সপ্তাহান্তে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এসব বিক্ষোভে জনঅসন্তোষ আরও প্রকাশ পায়। এর পরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথম দিকে বিক্ষোভ মিছিলগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে সেগুলোর একাংশ সহিংসতা, লুটপাট ও ভাঙচুরে রূপ নেয়। ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজারের বেশি দোকানপাট ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআই) জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের বেলা কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছে।
ফ্রান্সে ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন সময়ে ধারাবাহিক বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান প্রার্থীরা চলমান পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ও তার মন্ত্রীদের দায়ী করেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে স্কুল বন্ধ রাখার অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিকল্পনা ফেঁদেছিল এক কিশোরী শিক্ষার্থী। তবে সেই ফন্দি শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য। দিল্লির লোধি রোডের ‘এয়ার ফোর্স বাল ভারতী স্কুল’-এ বোমাতঙ্কের ভুয়া ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ওই স্কুলেরই এক নাবালিকা ছাত্রী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি উড়ো হুমকি সম্বলিত ইমেইল পাঠানো হয়। ইমেইলটির সাবজেক্ট লাইনে লেখা ছিল—‘আপনার ভবনে বোমা রাখা আছে’ (Bombs Placed in Your Building)। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে বোমাতঙ্কের হুমকি ইমেইল আসার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে ঘিরে মুহূর্তেই চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রেরককে শনাক্ত করতে বিস্তারিত কারিগরি ও ডিজিটাল তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। সাইবার ইউনিটের সহায়তায় ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ, আইপি অ্যাড্রেস এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত লিংক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, হুমকি বার্তাটি বাইরের কোনো সন্ত্রাসী চক্রের নয়; বরং প্রতিষ্ঠানটিরই এক নাবালিকা ছাত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নয়, কেবল সেদিন যেন স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়—সেই ইচ্ছাতেই ছুটির লোভে এই বোমাতঙ্কের নাটক সাজিয়েছিল ওই কিশোরী।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ভারতের ‘জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট’-এর প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন মেনে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সের পর এবার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইতালি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোম, তুরিন ও বোলোনিয়ায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। এদিকে সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি।
তুরিনে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একইভাবে রোমে মিছিল চলাকালে বোতল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বোলোনিয়ায়ও বিক্ষোভকারীদের বোতল ও পটকা নিক্ষেপের পর পুলিশ তাদের পিছু হটিয়ে দেয়। এ ছাড়া মিলান ও ফ্লোরেন্সে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি অংশে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার তদন্তে ইতালির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মিলান ও পার্শ্ববর্তী মনজা শহরসহ মোট ২২টি শহরে দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রতি হুমকি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, যানবাহন ভাঙচুর এবং ভবনে আগুন দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি জানিয়েছেন, যেসব শহরকে নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে আজ নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়ত ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে। ইরানে মার্কিনিরা যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন রোববারই এ হামলা শুরু হতে পারে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”
তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয় তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”
ট্রাম্প দাবি করেন তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে।
গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোতে যথার্থ হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাজটি হয়ত সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়ত চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”
সূত্র: আনাদোলু
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।