আন্দ্রেয়া রুইজ বেলো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করে এক বছরের সন্তান আলানাকে বাঁচিয়েছেন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬, সময় : ৩:৩৪ এএম

ধ্বংসাবশেষের মধ্যে জীবনবাজি রেখে সর্বস্ব দিয়ে আগলে রেখেছেন সন্তানকে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের শরীর দিয়ে এক বছরের কন্যাসন্তানকে ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে রক্ষা করে গেছেন। মেয়ে আলানা’কে বাঁচাতে পেরেছেন ঠিকই। তবে সন্তানের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ করে গেছেন ভেনেজুয়েলার এক মা। 


সন্তানের প্রতি বীরত্বপূর্ণ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া এই নারীর নাম আন্দ্রেয়া রুইজ। তিনি দেশটির ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী। 


ভেনিজুয়েলার উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার কুমানা শহরের একটি বহুতল ভবনে পরিবারসহ তারা বসবাস করতেন। বুধবার শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। এ সময় শিশুটিকে বিপদ থেকে আড়াল রাখেন মা। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আন্দ্রেয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। মায়ের এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগের কারণে ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরে শিশু আলানা। তাকে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শিশুটি সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।  


ভেনিজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশন আন্দ্রেয়া রুইজের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। প্রতিবেদনে মা আন্দ্রেয়ার অনন্য আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়, যিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের শরীর দিয়ে এক বছরের কন্যাসন্তানকে ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।


এ ঘটনার পর ফুটবলার হেক্টর বেলো চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়েন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক পোস্টে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে না পারা এবং পরিবারকে রক্ষা করতে না পারার গভীর অপরাধবোধ ও তীব্র মানসিক কষ্ট প্রকাশ পেয়েছে তার এসব পোস্টে। এমনকি ভবিষ্যতে বড় হওয়ার পর সন্তানকে তার মায়ের এই চিরতরে চলে যাওয়া এবং বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের কথা কীভাবে জানাবেন, তা নিয়েও তিনি চরম এক সংকটের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। তিনি এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য মানসিকভাবে শক্তি খুঁজছেন বলে জানিয়েছেন।


আন্দ্রেয়া রুইজের উদ্দেশে হেক্টর বেলো ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘তোমার মেয়েকে আমি কীভাবে বোঝাব যে, তুমি তার জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন হারিয়েছ, আর আমি সেখানে কিছুই করার জন্য উপস্থিত ছিলাম না? কীভাবে বোঝাব আমি? আমাকে এখন শক্তি দাও।’


মূল্যবান ভালোবাসা দিয়ে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় তাদের ছোট শিশুটির জীবন বাঁচিয়েছেন আন্দ্রেয়া রুইজ- এ কথা উল্লেখ করে হেক্টর বেলো তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন,‘বড় হয়ে আলানা জানতে পারবে কীভাবে তার মা নিজের জীবন দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছে।’


ভেনেজুয়েলার ফুটবল ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়াইরার খেলোয়াড় হেক্টর বেলো পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি তাকে সেই গল্প শোনাব যে, তুমি কীভাবে তাকে বাঁচিয়েছ, কীভাবে তুমি আমাদের মেয়ের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছ, তুমি কেমন সাহসী নারী ছিলে যে, নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মুহূর্তেও তাকে ছেড়ে যাওনি।’


হেক্টর বেলো ধারাবাহিক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি কারাকাসে গিয়েছেন যেখানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


শুক্রবার দিবাগত রাতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার মেয়ে এবং তার খালা ভালো আছে। তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে না। তারা হাসপাতালেই থাকছে।’


ভেনিজুয়েলার স্থানীয় ফুটবল গণমাধ্যম ও প্রচার সংস্থা কুমানা দে ক্যাম্পিওনেস ও আন্দ্রেয়া রুইজের মৃত্যু নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছে। 


সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, কুমানা শহরের বাসিন্দা ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রীকে ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে পুরো পরিবার যে ভবনটিতে বসবাস করত, সেটি ধসে পড়লেও তাদের কন্যাসন্তান অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে। 


যুক্তরাষ্ট্রের স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও ফুটবলার বেলোর স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি প্রকাশ করেছে। গত বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে আরও অনেকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।


ভেনিজুয়েলান ফুটবল ফেডারেশন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুজন ফুটবল খেলোয়াড়ও রয়েছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সাথে মারা গেছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব তাদের এই তরুণ প্রতিভার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে লিখেছে, ‘তার আনন্দ, নিষ্ঠা এবং সাহচর্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের সাথে থাকবে।’


কারাকাসভিত্তিক ক্লাব স্পোর্ট সান অগুস্তিন তাদের ইনস্টাগ্রামে লিখেছে, ভিক্টর প্যালাসিওস তাদের একাডেমিতে একটি ‘অমোচনীয় দাগ’ রেখে গেছেন। তার চলে যাওয়ার এই বেদনা প্রকাশ করার মতো পর্যাপ্ত শব্দ আমাদের কাছে নেই।’


ভিক্টর প্যালাসিওসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ভেনিজুয়েলান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে যে, তিনি মারিতিমো দে লা গুয়াইরা ক্লাবের হয়েও খেলেছেন।


এদিকে সাবেক মিস ভেনিজুয়েলা গিজেল রেইস তার ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে জানিয়েছেন, জোড়া ভূমিকম্পের কারণে লা গুয়াইরায় তার মায়ের বহুতল ভবনটি ‘সম্পূর্ণ ধসে’ পড়ায় তার মা মারা গেছেন।


গিজেল রেইস জানিয়েছেন যে, ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি এবং এর ভয়াবহ প্রভাবের কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মা মারা গেছেন। তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নার্স, যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন, তিনিই এই দুঃখজনক খবরটি সবাইকে জানান। 


রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯২০ জনের মৃত্যু এবং তিন হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বেঁচে থাকা মানুষদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।


চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।


মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।


সূত্র: এনডিটিভি


চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।


চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।


চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।


শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।


ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।


আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম। 


উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল। 


দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।


আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।


বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।


সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।


আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।


মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।


মোহাম্মদ সাদিক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। 


এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।


মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।


উৎসবের' আবহ


মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।


পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।


৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।


তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"


'নামটাও মনে থাকে না'


তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।


মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"


মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।


এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।


স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন


বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।


আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।


শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।


যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।


পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।


সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।


শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।


মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে


শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।


জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।


এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।


মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।


কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।


নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।


"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতে হুতিদের আক্রমণে অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার।


এর জেরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতেও তেলের দাম চড়া থাকতে পারে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৩৫ ডলার বা ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ১১২ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ মের পর এটিই ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ দাম।


একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৮ ডলার বা ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৮৩ ডলারে পৌঁছেছে।


পিভিএম অয়েলের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা বলেন, ‘ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে... হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরব ও তার তেল অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা নতুন করে চিন্তার কারণ হয়েছে। এসবের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংঘাতের পূর্ববর্তী মাত্রার চেয়েও বেশি তেল রপ্তানির খবর পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত এসব সংঘাত হ্রাসের কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম চড়া থাকবে।’


এদিকে, মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা এক নোটে অনুমান করেছেন, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি নিয়েও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোর কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।


এরই মধ্যে বুধবার সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। হামলার মধ্যে দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে আঘাতের ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।


অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিকেও বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।


এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। নতুন এক বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে আবারও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তেল অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা- সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে তেলের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


সূত্র: রয়টার্স, দ্য স্টার