ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬, সময় : ১:০৩ এএম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বহু বছর ধরে নেতানিয়াহু নিজেকে ওয়াশিংটনে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। মার্কিন রাজনীতিতে তার বিশেষ প্রভাব রয়েছে বলেও ধারণা করা হতো। 


কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার পরও কীভাবে তিনি ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে এতটা উপেক্ষিত হলেন?


একই সঙ্গে আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইরানকে ইসরায়েলের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতি করা নেতানিয়াহু কীভাবে এমন একটি যুদ্ধবিরতির বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন, যেখানে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে তেহরান আগের চেয়ে আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে?


এদিকে ইসরায়েলের ‘মি. সিকিউরিটি’ হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তিও ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চাপের কারণে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করতে হয়, তাহলে তার নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিচয় আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের ভাষায়, নেতানিয়াহুর সামনে এখন মূলত দুটি পথ খোলা রয়েছে-একদিকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের চাপ মেনে নিয়ে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থে ছাড় দেওয়া।


পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। বৈরুতে হামলার নির্দেশ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু ‘কোনো বিবেচনার পরিচয় দেননি’ বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, সেটিকে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে বিরোধীরা। আগামী অক্টোবরে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে এই ইস্যু আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


শুধু বিরোধীরাই নয়, নেতানিয়াহুর নিজ দল লিকুদ এবং ক্ষমতাসীন জোটের কট্টরপন্থী অংশ থেকেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে তেহরানের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে-এমন খবর প্রকাশের পর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।


ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই। আমরা এমন কোনো চুক্তির অংশ নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।' অন্যদিকে লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য অ্যারিয়েল কালনার বলেছেন, ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে থাকবে। যদিও তিনি সরাসরি নতুন হামলার ইঙ্গিত দেননি।


মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ সিমা শিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বোঝা কঠিন। তার ভাষায়, লেবাননের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে ইরানকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হলে হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখার পথও খোলা থাকবে। একই সঙ্গে লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনে হিজবুল্লাহর প্রভাবও আরও সুসংহত হতে পারে।


তীব্র সমালোচনার মধ্যেও নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। সাধারণত কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে তিনি দ্রুত সামনে আসেন। কিন্তু এবার তার নীরবতাকে অনেকেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। 


নিরাপত্তা বরাবরই নেতানিয়াহুর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি যে আরও আক্রমণাত্মক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেন, তার ফলাফল নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সেই কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই তা ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত বাস্তবতা বদলে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও হামাস পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বরং সংগঠনটি এখনো গাজার উল্লেখযোগ্য অংশে প্রভাব ধরে রেখেছে এবং পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।


একই সময়ে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও রিজার্ভ বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার মতো কার্যকর কোনো কূটনৈতিক পথও এখনো স্পষ্ট নয়।


বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে ইরান পুরোপুরি দুর্বল হয়নি; বরং দেশটির কট্টরপন্থী শক্তিগুলো আরও প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে তেহরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তার মতে, তেহরান ইস্যুতে আরও বাস্তববাদী ও সংযত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি লিখেছেন, এখন ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকেই ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভণ্ডুলের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।


একসময় বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধের সময় নেতানিয়াহু মার্কিন কংগ্রেস ও জনমতের সমর্থন কাজে লাগিয়ে হোয়াইট হাউসকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ তার হাতে আর নেই বললেই চলে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী বাস্তবতায় নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে পড়েছেন, যেখানে তার প্রতিটি সিদ্ধান্তই আগামী নির্বাচনের আগে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

 



সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক


সর্বশেষ সব খবর

রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

সৌদি আরব বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে অভিযোগ তুলে এর প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছে তারা। হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা এবং নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইয়েমেনের হুদায়দাহ শহরের সামরিক ঘাঁটি এবং কামারান দ্বীপে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব।


সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল এমন হুথি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দিয়েছেন।


তিনি দাবি করেন, এ সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ক্রমেই আরও আন্তরিক হচ্ছে। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে এখনই বড় ধরনের কোনো সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।


ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।


এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।


অন্যদিকে ওমান উপসাগরে মার্কিন অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম। একই সময়ে ইরাকের এরবিল, কুয়েতের উদাইরি এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো।


সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ এএম

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও নিজেদের প্রধান দাবি থেকে সরে আসেনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ‘আলোচনার অযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অংশ নেন। সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আরেক তরুণ প্রতিনিধি।


বৈঠক শেষে সৌরভ দাস বলেন, তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো আপস হবে না।


তিনি আরও জানান, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।


সিজেপির এক প্রতিনিধি বলেন, সরকার মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা কিছু মেনে নেবেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে শনিবার আবারও আলোচনা হবে।


দ্য হিন্দু বলছে, এটি সিজেপি ও সরকারের মধ্যে তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।


গত ২০ জুলাই দিল্লিতে পার্লামেন্টমুখী মিছিলে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) পেলেট গান ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) জানিয়েছে, তারা এ-সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করছে।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিলেও সিজেপির অবস্থান, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করা।


এদিকে সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

সর্বশেষ সব খবর