শিকে স্বাগত জানালেন কিম জং উন ও তার স্ত্রী

  • প্রকাশ : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:২৬ এএম

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।


সোমবার সকালে তার আগমনের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের পর এটি তার প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। সফরের শুরুতেই তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনায় স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল জু। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, কিম জং উন ও রি সোল জু হাসিমুখে শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর এলাকায় লাল গালিচা বিছানো ছিল এবং উত্তর কোরিয়ার সেনারা দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে।


চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া পৃথক প্রতিবেদনে জানায়, শি জিনপিং ও কিম জং উন হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় উত্তর কোরিয়ার শিশুরা শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে ফুল উপহার দেয়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সফরের বিস্তারিত আলোচ্যসূচি বা শীর্ষ বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি। ফলে দুই নেতার মধ্যে কোন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।


এর আগে সফরের প্রাক্কালে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদপত্র রোদং সিনমুনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে শি জিনপিং চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ককে 'রক্তে গড়া কমব্যাট ফ্রেন্ডশিপ' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পার্টি, সরকার ও সামরিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ আস্থা ও সহযোগিতা সময়ের পরীক্ষায় টিকে আছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।


শি জিনপিং আরও বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়া 'আত্মীয়দের মতো' নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করবে এবং 'নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু' থেকে সম্পর্ককে আরও কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাবে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় রয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান কৌশলগত সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।


দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আশা করছেন শি জিনপিংয়ের এই সফর পিয়ংইয়ংকে যুক্তরাষ্ট্র ও সিউলের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে কিছুটা উৎসাহিত করতে পারে। তবে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সেই সম্ভাবনা এখনো সীমিত।


পর্যবেক্ষকদের মতে, লাল গালিচা সংবর্ধনা, সেনা কুচকাওয়াজ এবং দুই দেশের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রচারিত 'চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব' বার্তা বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরছে।

 



যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে


ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের উল্লাস

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ভোটের ফলাফলও আসতে শুরু করেছে। দেশটির কংগ্রেসের দুটি কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। 


জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধসের কারণে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।  ১০০ আসনের সিনেটে এবার দুটি শূন্য আসনসহ ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। 


দেশটির স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর মধ্যে দুটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এরই মধ্যে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সাতটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন পর্যন্ত কোনো আসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জয়লাভের খবর পাওয়া যায়নি।  


সিবিএস নিউজের এক পূর্বাভাস জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হবে এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পাবে।


সবার মনোযোগ টেক্সাস, মিশিগান ও মেইন- এই তিনটি অঙ্গরাজ্যের দিকে। নির্বাচনে এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।  টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে গত ৩০ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটে যাননি, কিন্তু সাবেক স্কুল শিক্ষক জেমস টালারিকো সেই ইতিহাস বদলাতে চাইছেন। ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।


মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে লড়াই মনোযোগ কেড়েছে। যেখানে রোববার শেষ মুহূর্তে এল-সাইদের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৪২টি ভোট গণনা করা হয়েছে। যা মোট ভোটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। এখনও প্রায় ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ভোট গণনা বাকি রয়েছে।


প্রাথমিক ফলে আবদুল এল-সাইয়েদ পেয়েছেন ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৪৬ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্সের ঝুলিতে রয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত লিডিয়া ক্রিস্টেনসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৯১ ভোট। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সাইয়েদকে হারাতে হলে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে। 


মেইন অঙ্গরাজ্যের বর্তমান সিনেটর সুসান কলিন্স একজন রিপাবলিকান, যিনি ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।


ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকা এই অঙ্গরাজ্যে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন তিনি, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এসব আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। 


বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে। ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। 


সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল। এসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তবে ভোট গণনা শেষ হলেই সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে, এমন নয়। 


অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি আলাদা। কোথাও ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা হয়ে যায়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফলাফল জানতে দেরি হতে পারে। 


প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। এ কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।


পারমাণবিক বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে। এতে বিস্ফোরণের সময় কীভাবে আশ্রয় নিতে হবে, তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে এলে কী করতে হবে এবং কখন আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য প্রচারিত নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা, আশ্রয় গ্রহণ এবং তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্দেশনাগুলো হলো:


বিস্ফোরণের ঝলকের দিকে তাকাবেন না, আশ্রয় নিন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটলে দ্রুত শক্ত কোনো প্রতিবন্ধকের আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে। বিস্ফোরণের তরঙ্গ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।



বিস্ফোরণের পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করুন


বিস্ফোরণের তরঙ্গ চলে যাওয়ার পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করতে হবে। জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। বিস্ফোরণের পর বাইরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়েছে।


তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলুন


তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কন্ডিশনার ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। গোসল করা সম্ভব না হলে পানি বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ, হাত ও শরীরের অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।


অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলে থাকুন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।


সরে যাওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন


২৪ ঘণ্টা পার হলেই আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ হয়ে গেছে, এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। কোনো ভবনের ভেতরে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।


নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক সতর্কতা, উপযুক্ত আশ্রয় গ্রহণ এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শান্তি আলোচনায় কোনো ধরনের সমঝোতা বা অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। এমন অবস্থায় মার্কিনিরা যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায় তাহলে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানি আলোচক দলের মুখপাত্র ঈসমাইল বাঘেই এমন তথ্য জানান। তবে এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।    


বাঘেই বলেন, “কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে অতীত অভিজ্ঞতা আছে, সেই হিসাবে আশার দরজা বন্ধ। তবে তারা যদি কোনো হামলা চালায় তাহলে আমরা আমাদের নিজেদের রক্ষা করব এবং বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালাব।”


“একই সময়ে, ইরান তার বৈধ স্বার্থ এবং দাবি আদায়, শত্রুদের আগ্রাসন রুখে দিতে এবং এই অঞ্চলে নিরাপত্তা স্থাপনে কূটনৈতিক উপায় বা সুযোগকে হাতছাড়া করবে না।”- যোগ করেন বাঘেই। 


যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আজ দেশটিতে চলছে ভোটগ্রহণ। যা বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৭টা পর্যন্ত চলবে।


এরমধ্যে গতকাল রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যদিও তারা এটিকে বড় হামলা হিসেবে জাহির করতে চাইছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন কেশম দ্বীপের হামলা যুদ্ধ শুরু নয়; এটি একটি ছোট হামলা। 


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম

স্থগিত থাকা ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে আবার নিয়মিত ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। শনিবার (৭ নভেম্বর) থেকে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ রুটে স্থগিত রাখা হয় বিমানের ফ্লাইট। 


মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এ বিমান সংস্থার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭ নভেম্বর থেকে এ রুটে প্রতিদিন দিনের বেলায় ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। 


আপাতত চালু হচ্ছে না ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট 

অন্যদিকে, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট আপাতত চালু হচ্ছে না। বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রিয়াদগামী যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাতায়াত করায় এ রুটে বর্তমানে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা নেই। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


টিকিট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

সৌদি আরব থেকে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল (এক লাখ ২৫ হাজার ৭০০ বাংলাদেশি টাকা) জরিমানা করেছেন দেশটির শুল্ক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে পানির পুরো চালান।


সোমবার (২ নভেম্বর) খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্বিতীয় প্রাথমিক শুল্ক কমিটির এক রায়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।


সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে কিং ফাহদ কজওয়ে শুল্ক চেকপোস্টে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এর পেছনের ডিকিতে লুকিয়ে রাখা ৩৮০ লিটার জমজমের পানি উদ্ধার করেন শুল্ক কর্মকর্তারা।


শুল্ক কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সৌদি আরবের বিধি অনুযায়ী জমজমের পানি দেশটির বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। যথাযথ ঘোষণা ছাড়াই এসব পানি বহনের চেষ্টা করায় ঘটনাটিকে শুল্ক পণ্য পাচার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।


রায়ে ওই ব্যক্তিকে জব্দ পানির সমমূল্য ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা পানির চালান বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলির পক্ষ থেকে জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড এবং জব্দ করা পণ্য বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির আগে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড না থাকায় কারাদণ্ডের আবেদন নাকচ করেন কমিটি। তাদের মতে, আরোপিত অন্যান্য শাস্তিই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।


উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর অভিন্ন শুল্ক আইনের ১৪২, ১৪৪ ও ১৪৫ নম্বর ধারার আওতায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় শুল্ক পণ্য পাচারের সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে।


সূত্র: খালিজ টাইমস



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

ইসলামি বক্তা ও ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে মালয়েশিয়া। তাকে দিল্লির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণ না করার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদনও পায়নি তারা।


পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, ভারতের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক আবেদন কবে এসেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না এসব বিষয়েও স্পষ্ট করেছেন।


ভারত প্রথমবার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। এরপর ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিরোধী দলের নেতারা ব্যাখ্যা দাবি করেন। পাসের মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান জানতে চান, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এবং কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে ভারতের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইনের শর্ত পূরণ করে কি না, তাও স্পষ্ট করার দাবি তোলেন তিনি।


অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভারত জাকির নায়েককে ফেরত চায়। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে ভারতের অবস্থান এবং মালয়েশিয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করা হয়।


সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।