ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তি এ কথা জানিয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। 


সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা তাঁর অবস্থান ও অভ্যাস সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে।


সিআইএ জানতে পারে, গতকাল শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।


সিআইএ এই তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলার সময় বদলে ফেলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।


এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় এক সুযোগ তৈরি করে দেয়। তারা মনে করে, এতে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।


অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের পর তারা ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল।


একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড দেখিয়ে দিল, যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত থাকার পরও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সুরক্ষায় যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না।


সূত্রগুলো জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ। সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি এসব তথ্য দিয়েছেন।


ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য ও নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করে এই হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হত্যা করা।


প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।


বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।


ইসরায়েলের ধারণা ছিল, সেখানে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।


অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে। তখন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র।


উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে।


ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এক বার্তায় বলেন, ‘আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা চালানো হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্সে।’


ওই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবু এই হামলায় ইসরায়েল ‘কৌশলগত চমক’ দিতে পেরেছে। হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।


আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, গতকাল শনিবারের হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি ও মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল আগেই তাঁদের হত্যার দাবি করেছিল।


অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ফল।


গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। চাইলে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব।


সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে।


এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা তথ্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসি কীভাবে যোগাযোগ ও চলাফেরা করছিল- সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তারিত তথ্য পায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।


এ ছাড়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করেছিল। ইরানের নেতৃত্ব অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পরবর্তী ধাপে, যেসব স্থানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন, সেসব স্থানেও হামলা চালানো হয়।


তবে ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বড় অংশই এই অভিযানে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩০ পিএম

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে।


তিনি জানান, ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন পরিচালনায় ব্যবহৃত ওই ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি তিনি।


হুথি মুখপাত্র দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সামরিক ঘাঁটিটি থেকে ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছিল, যার জবাবে এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে তুমুল সংঘাত শুরু হয়েছে।


হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেই সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনে একটি পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। 


কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে সৌদি জ্বালানি তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প মাধ্যম ছিল এই পাইপলাইনটি। আকস্মিক হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে তেল পরিবহন আপাতত পুরোপুরি স্থগিত হয়ে পড়েছে।


এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, হুথিরা সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। 


মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হুথিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে কোনো লড়াই করতে চায় না। তারা চায় আমরা যেন তাদের অভিযানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ না করি।’


একই সঙ্গে সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। 


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে তেহরান এ হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। আজ মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ আহ্বান জানান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে প্রথমবারের মতো অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছে।


এক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র জিয়াকুন বলেন, ‘মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া বন্ধ করা উচিত।’ তিনি মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর বিষয়েও সতর্ক করেন।


যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।


মেইঙ্ক বলেন, ‘শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমরা আমাদের আধিপত্য বজায় রাখি, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’


তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে মেইঙ্ক অস্ত্রগুলোর ধরন বা সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেন, তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।


ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব। মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। 


তবে মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন করা নিষিদ্ধ।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। 


গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রস্তাবিত এ বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার নতুন নিয়ম আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিয়ম কার্যকরের এক দিন আগে সোমবার তা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেনিস সেলার প্রাথমিকভাবে নতুন নিয়মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে মামলার মূল প্রশ্নে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আগামী ২ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।


যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন নিয়মটি প্রস্তাব করেছিল। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হতো। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।


নতুন নিয়মে বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস করার কথা ছিল। এরপর একই মেয়াদের জন্য ভিসা বাড়ানোর আবেদন করা যেত।


বর্তমানে বিদেশি সাংবাদিকেরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে চীনা সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিয়ম আরও কঠোর। তাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৯০ দিনের ভিসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে আরও ৯০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।


নতুন ভিসা বিধির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক সেলার নতুন নিয়ম কার্যকরে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন।


রায়ের সঙ্গে দেওয়া এক স্মারকে বিচারক নতুন নিয়ম নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার আওতায় গত কয়েক দশকে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাদের মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিও উপকৃত হয়েছে।


বিচারকের মতে, সেই ব্যবস্থা উন্নত করার পরিবর্তে ডিএইচএস এমন একটি কর্মসূচি নিয়েছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করার ক্ষেত্রে ডিএইচএসকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন বিচারক সেলার।


তিনি বলেন, সীমিত ও অস্পষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে ডিএইচএসের একজন কর্মকর্তা কোনো কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কোনো বিদেশি নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতার কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে না।


বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ হলে সাংবাদিকদেরও কার্যকর কোনো প্রতিকার বা আপিলের সুযোগ থাকবে না।


বিচারক আরও বলেন, সরকারের সমালোচনা করেন-এমন বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা নবায়ন না করার আশঙ্কা রয়েছে।


নতুন নিয়ম প্রস্তাবের সময় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছিল ডিএইচএস। তবে বিচারক সেলার এ যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, অল্প কয়েকটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নিরাপত্তার এমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্যতার সীমার কাছাকাছি নয়।


বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা এবং বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ কঠোর করার মতো পদক্ষেপও রয়েছে।


মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের শীর্ষ দেশ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩২ পিএম

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ ১২ জনের বেশি বিশ্বনেতা অংশ নেন।


বিশ্বনেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ গত শনিবার সন্ধ্যায় বসে এ আয়োজন। নৈশভোজের খাবারের তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়েছে। নৈশভোজের পুরো মেনুই ছিল নিরামিষ। মাছ-মাংসের কোনো পদ রাখা হয়নি। তবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা ধরনের খাবার ছিল তালিকায়।


শুরুতে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় খান্ডভি মিলেফয় ও খুম্ব গালৌটি কাবাব। গুজরাটের জনপ্রিয় খাবার খান্ডভি বেসন দিয়ে তৈরি। এতে সর্ষে, নারকেল ও কারিপাতার ব্যবহার রয়েছে। কেসর আম, দই ও সবুজ পাতা দিয়ে সাজিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়।


মাশরুম দিয়ে তৈরি খুম্ব গালৌটি কাবাব পুদিনাপাতা দিয়ে গ্রিল করা হয়। পরে শিরমাল রুটির সঙ্গে এটি পরিবেশন করা হয়। মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, গুচ্চি মারমিক, ক্যারট বিন পোরিয়াল, থাক্কালি বেলে সারু ও মিলেট পোলাও।


উত্তর ভারতের জনপ্রিয় পদ পনির লাবাবদার তৈরি করা হয় ছোট পেঁয়াজ ও টমেটোর ঘন ঝোলে নরম পনির দিয়ে। আর হিমালয়ের বিশেষ গুচ্চি মাশরুমের সঙ্গে জাফরান, কিশমিশ ও কাঠবাদাম মিশিয়ে তৈরি করা হয় গুচ্চি মারমিক।


ক্যারট বিন পোরিয়ালে গাজর ও বিভিন্ন ধরনের সবুজ বীজের সঙ্গে নারকেল তেল ও দক্ষিণ ভারতীয় মসলা ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে থাক্কালি বেলে সারু হলো টমেটো, কারিপাতা ও ডাল দিয়ে তৈরি দক্ষিণ ভারতীয় একটি পদ।


সুগন্ধি বাসমতী চালের সঙ্গে বাজরা ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় মিলেট পোলাও। এর সঙ্গে ছিল দই মেশানো বিটরুটের রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি।


নৈশভোজের শেষপাতে ছিল পুরোনো দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ফ্রুটক্রিম ও জিলাপি। মৌসুমি ফলের সঙ্গে হালকা হুইপড ক্রিম মিশিয়ে তা জিলাপির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ছিল শাহুতুত ফিরনিও। দুধ, চাল, মিষ্টি মালবেরি ও খাবার উপযোগী সোনার পাত দিয়ে তৈরি করা হয় এ মিষ্টান্ন।


নৈশভোজে খাবারের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। এতে অংশ নেন ১৬০ জন শিল্পী। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংগীতের পাশাপাশি ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও এতে অংশ নেন। পরিবেশিত হয় ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কত্থক।


তবে মোদির আয়োজিত নৈশভোজে আমন্ত্রিত নেতাদের সবাই উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদকেও সেখানে দেখা যায়নি। 

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে দেশটির তেল নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির উদাহরণ টেনেছেন। রোববার আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এক গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। 


তিনি আবারও দাবি করেন, চলতি বছরের মধ্যেই ইরানের যুদ্ধ শেষ হতে পারে। এমনকি নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সরে আসবে-তবে তেল ধরে রাখার জন্য সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।


তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’


ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির তুলনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে আয় করছে, তা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ বহুবার পরিশোধ করেছে।


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান বলেও জানান ট্রাম্প। তবে তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়-এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন না।


ইরান নিয়মিত শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তেহরান অতীতে এমন দাবি নাকচ করেছে।


ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে রোববার সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনা তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার কারণে সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা।


এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগস্টে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই চুক্তির সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান ধরে রাখার বিষয়টি তুলনা করে নতুন ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।

 

সর্বশেষ সব খবর

শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তার বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৫ পিএম

 সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই রপ্তানির জন্য মজুত তেল ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।


ইরান যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সৌদির তেল সরবরাহ আরও কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদহার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


শুক্রবার ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরব তাদের বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। তবে পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কত দিন এটি বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি সূত্র ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথা জানিয়েছে। একটি সূত্রের মতে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আরেকটি সূত্র বলেছে, এর আগেই মেরামতের কাজ শেষ হতে পারে এবং কাজ চলার মধ্যেই পাইপলাইনের একটি অংশ দিয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


গত ছয় মাসে সৌদি আরবের জন্য এই পাইপলাইনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আরব উপদ্বীপের মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে সৌদি আরবকে অনেকটাই রক্ষা করেছে।


বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত। এই পরিমাণ তেল বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।


কিন্তু পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে মজুত তেল দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরের আইন সকনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিন ক্রেতাদের তেল সরবরাহ করা সম্ভব।


শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ইয়ানবু বন্দরে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সকনা ও সিদি কেরির মজুত সক্ষমতা যথাক্রমে ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল। তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়। ফলে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি আবার চালু করা না গেলে একপর্যায়ে এসব মজুতও শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র।


এদিকে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় বলে শুক্রবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।


আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৬ শতাংশ।


যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক মাত্র ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে

সর্বশেষ সব খবর