সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনাস্থল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০০ পিএম

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছে সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনাস্থল। আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে নগর ভবনের সংর্বধনাস্থলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। তবে তখনও রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছাননি। 


আজ বিকেলে সিলেট নগরভবনে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। দুপুর ২ টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা সংবর্ধনাস্থলে এসে হাজির হতে শুরু করেন। নগরের নানা শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতারা নগরভবনে হাজির হয়েছেন। বেলা পৌনে ৩ টার কিছু আগে হঠাৎ নগর ভবনের বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকার হয়ে পড়ে মঞ্চ। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। পরে বিদ্যুৎ আসে। তবে এটি কোন লোডশেডিং ছিল না বলে জানিয়ছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। 


তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে লোডশেডিং করার তো প্রশ্নই আসে না। এটি অন্য কোন গলযোগের কারণে হতে পারে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি আসায় আজ সিলেটে কোন লোডশেডিং নেই। তবে লো ভোল্টেজের কিছু সমস্যা আছে। সেটিও আমরা ঢাকার সাথে কথা বলে সমাধান করেছি।


এরআগে সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর হজরত শাহজালাল (রঃ) ও হজরত শাহ পরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। 


রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তাঁর প্রথম সিলেট সফর। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম এ সফরে তাঁর সাথে আছেন।সার্কিট হাউজে স্বল্প বিরতির পর দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরের দরগাগেট এলাকায় সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখানে তিনি দেশ ও জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। 


হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি রওনা দেন সিলেটের খাদিম নগরে হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজারের উদ্দেশে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং যোহরের নামাজ আদায় করেন।



সর্বশেষ সব খবর

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সংবর্ধনা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সফলতার পেছনে অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান সিনিয়র শিক্ষকদের সংবর্ধনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। প্রধান আলোচক ছিলেন নরসিংদী কাদের মোল্লা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান মৃধা।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য  রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত  থেকে বক্তব্য  রাখেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিনসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা।


সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মানন্নোয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ভূমিকা পালনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, শিক্ষার আসল কারিগর হলেন শিক্ষকরা। একটি জাতি গঠনে এবং আলোকিত সমাজ নির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষকরা হলেন পথপ্রদর্শক, তাই ক্লাসে পড়ালেখাকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আনন্দময় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। 


তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এ মেরুদণ্ডকে গড়ার একমাত্র কারিগর শিক্ষকরা। আমাদের আজকের মতবিনিময় সভায় হলো শিক্ষাকে  কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায়। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ইচ্ছার প্রয়োজন, শিক্ষকরা যদি চাই  ভবিষ্যত প্রজন্ম মানুষ হউক, আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারবো।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি যেন দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া উপজেলার  ফাঁসিয়াখালী, ফুলছড়ি  রেঞ্জের আওতাধীন ডুলাহাজারা, খুটাখালী, মেধাকচ্ছপিয়া, বনবিটে সরকারি বনভূমি দখল করে একের পর এক গড়ে উঠছে বসতঘর, দোকানপাট,পাহাড় কাটা, বালিউত্তোলন শিক্ষাপ্রতিষ্টান, মসজিদ  মুরগির খামারসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা।


এসব বনবিট কার্যালয়ের অদূরেই প্রকাশ্যে বনভূমি দখলের এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খোদ, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তারা মাসোহারা নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে যাচ্ছে। 


স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী,ফুলছড়ি রেঞ্জ কার্যালয়ের প্বার্শবর্তী মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মালুমঘাট খ্রীস্ট্রান মেমোরিয়াল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা এখন ব্যাপক লুটতরাজ চলছে। পাশে ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন মাদারট্রি গর্জন বাগান ও সামাজিক বনায়ন এলাকার বনভূমিতে বেশ কিছুদিন ধরে দখলদারিত্ব চলছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন বসতি, মুরগির খামার ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। ফলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে সংরক্ষিত বনভূমি।




অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি শক্তিশালী দখলদার সিন্ডিকেট বন বিভাগের জমি দখলে সক্রিয় রয়েছে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরবতার সুযোগে তারা দিনের পর দিন নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।


উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও একই স্থানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। 


তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। কিন্তু দখলবাজ চক্রের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কা থাকায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছি না।


এ বিষয়ে চকরিয়া পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)'র সভাপতি একেএম বেলাল উদ্দিন  বলেন, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সরকারি বনভূমি সংকুচিত হবে। এর ফলে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জানতে চাইলে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ডুলাহাজারা বনবিটের ওই এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা ও মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়েছে। 


অভিযুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। রেঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খসরুল আমিন বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের পরও জড়িত দখলদাররা সেখানে পুনরায় মুরগির খামারসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। এ অবস্থায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সেখানে কঠোর অভিযান পরিচালনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


এদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোয়াজাইননা নতুন পাহাড় এলাকায় পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তিনি মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে। 


অন্যদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের নতুন মসজিদ, রিংভং ও ছগিরশাহকাটা এলাকায় মৃত আস্কর আলীর ছেলে আমির হামজার বিরুদ্ধেও বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না; উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। 


তাদের আশঙ্কা, এখনই বনভূমি দখল বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে ডুলাহাজারার সংরক্ষিত বনাঞ্চল আরও সংকুচিত হবে। এতে বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।


বিতর্কিত ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে বনভূমি বিক্রি করে কোটি টাকার বানিজ্যের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযোগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে নানা অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলে ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার আস্থাভাজন হওয়ায় গত এক বছরের বেশী সময় ধরে তিনি এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

 

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি প্রতিমাসে বালিখেকো বনভূমি দখলদার ও দেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ মাদার ট্রি গর্জন গাছ ও ভূমি বিক্রি করে অন্তত  ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি আখের গুছিয়ে এখন বদলীর তকবির করে দ্রুত সরে ছিটকে পড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এমন কি এক মহিলার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ৪০ শতক বনভূমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন এই এই রেঞ্জ কর্মকর্তা। তাও আবার মেধা কচ্ছপিয়ার জাতীয় উদ্যানের মাদার ট্রি গর্জন বাগানের ভেতরে। এই গর্জন বাগানের ভিতরে রীতিমতো বাজার বসিয়ে দিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুস। তার এসব অপকর্ম নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেনের কাছে স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অসংখ্যবার লিখিত এবং  মৌখিক অভিযোগ দিলে ও অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।


এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বলেন,  যে সব বিষয়ে অভিযোগ আসে সেসব বিষয়ে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোন ভূমি দূস্য, বনদূস্য বালুখেকো বনভূমি জবরদখলকারীর সাথে বন বিভাগের কারো সাথে কোন প্রকার আতাঁত কিংবা অবৈধ লেনদেন প্রমান পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। দৃশ্যমান অনিয়ম দূর্নীতি ও বনভূমি দখলে বনবিভাগের পরোক্ষ সহযোগিতা কি বিভাগীয় বনকর্মকর্তা দেখেন না? 


এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার নজরে আসলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।সবশেষে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন বিভাগের অসহায়ত্বের বিষয়টি অপকটে স্বীকার করেন।

সর্বশেষ সব খবর

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে টাকা না দেওয়ায় এক মাকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুকে প্রচারিত একটি পোস্টকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন দাবি করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী।


আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে নিজের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করার সময় একটি ফেসবুক আইডিতে ওই পোস্টটি দেখতে পান বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।


আরএমও রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ওই পোস্টে দুটি ছবি সংযুক্ত করে লেখা হয়, নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে থেকে একজন মা’কে টাকা না দেওয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পোস্টটি নজরে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালীর হাসপাতাল এলাকার ছবি নয়। প্রকৃত ঘটনা ও স্থান যাচাই না করে ভিন্ন স্থানের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।




জিডিতে বলা হয়েছে, ভিন্ন স্থানের ছবি ব্যবহার করে এমন তথ্য প্রচারের ফলে হাসপাতালের সুনাম, ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে এ ধরনের তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়। জিডিতে ওই ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তির পরিচয় এবং পোস্টটির প্রকৃত উৎস শনাক্ত করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে মহানগর বিএনপি। বিকেলে নগরভবনে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোন নেতা অংশ নেননি। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। এ রিপোর্ট লেখার সময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল।


রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, এ সংবর্ধনা অণুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে মহানগর বিএনপিরর কোন নেতার সাথে আলোচনা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে এটি আয়োজন করেছেন। এছাড়া এতে নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।


তারা জানান, আজকে রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সময় এমন একটি গাড়ি মহানগর বিএনপি নেতাদের জন্য দেওয়া হয়, যেটি মাজার এলাকার ভেতরে প্রবেশের পাস ছিল না। ফলে গাড়িটি মূল সড়কেই আটকে দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সিনিয়র নেতাদের হেঁটেই মাজারে যেতে হয়। এসব কারণে আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি না।


এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, নানা কারণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না। কারণগুলো এখনই বলছি না। তবে সংবর্ধনা ছাড়া রাষ্ট্রপতির বাকীসব অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিয়েছি।


মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবধর্ণা আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 


তবে সোমবার তিনি বলেছিলেন, সংবর্ধনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা নাগরিক সমাজসহ নানা স্তরের নাগরিকদের সাথে কথা বলেছি।রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি সিলেটে প্রথম সফর। সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর হজরত শাহজালাল (রঃ) ও হজরত শাহ পরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। 


সার্কিট হাউজে স্বল্প বিরতির পর দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরের দরগাগেইট এলাকায় হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখানে তিনি দেশ ও জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি রওনা দেন সিলেটের খাদিম নগরে হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজারের উদ্দেশে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং যোহরের নামাজ আদায় করেন।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৫ পিএম

গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা সরকারি ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


তিনি বলেছেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকে বিরোধী দল আছে, সরকারি দল আছে- আমি মনে করি, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা।’ মঙ্গলবার বিকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।



রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার জিয়ারত করেন।  আজ সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে যান হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে। দুই মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে ফিরে দুপুরের খাবার খান তিনি। 



সফরসূচি অনুযায়ী, নাগরিক সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতির সার্কিট হাউসে ফেরার কথা রয়েছে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।


সর্বশেষ সব খবর

ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান মাহমুদুল হাসান বাবুর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী ইভটিজিং বা হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভালুকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহমুদুল হাসান বাবু বলেন, উপজেলার কোনো স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় ইভটিজিং কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটলে তা যেন সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।


মাহমুদুল হাসান বাবু বলেন, “ভালুকার কোনো শিক্ষার্থী ইভটিজিং বা হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি আমাদের জানাতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করার অধিকার রয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি পক্ষের দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, প্রশাসন এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।


এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইভটিজিং বা শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপদে বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।


অভিভাবকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো গেলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।


তবে অভিযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি। একই সঙ্গে ইভটিজিং ও হয়রানির বিরুদ্ধে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

সর্বশেষ সব খবর