সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যসচিব ও ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মুনমুন নাহার আশা বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা কাশিকাপন এলাকায় এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে দুই বাসের চালকই পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওসমানীনগর থানায় মামলা করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনাকবলিত দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। তদন্ত শেষে শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যসচিব।
সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের মাঠে পড়ে থাকা প্রেশার কুকারে রাখা বোমাসদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশেষায়িত ইউনিটটি বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় দূর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে সাদা ধোঁয়া দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান স্থানীয়রা। ড্রামের ভেতরে কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার ছিল। পরে স্থানীয়রা সেটি ড্রাম থেকে বের করে মসজিদের মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বুধবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রেশার কুকারটি দেখে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, রাতে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি প্লাস্টিকের ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের পরিচয় কিংবা উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ শোনা যায় এবং পরে আকাশে ধোঁয়া দেখা যায়।
সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক ইমরান হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করে।
এর আগে মঙ্গলবার সাভারের দক্ষিণ শ্যামনগরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নয়টি পাইপ বোমা, পাঁচটি ককটেল ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনায় আরিফ হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়।
পরপর বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সাভারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সাধাপুরের মসজিদের মাঠে পাওয়া প্রেশার কুকারের ভেতরে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং কারা এটি সেখানে রেখেছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
ঢাকার আশুলিয়ায় ১০ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তর জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম সানভিসহ দুই জনকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আটককৃতদের ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গেল ১০ তারিখ আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় একটি স্কুলের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা আরিফা আক্তার আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে একটি অপহরন মামলা নং-৬২ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মূল হোতাকে আটক করতে পারেনি আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অপহরণের ঘটনায় মা বাদি হয়ে থানায় অপহরণ মামলা রুজু করলে আমরা তাতক্ষণিক তদন্ত শুরু করলে অপহরণে সংগঠিত সহযোগী তৌহিদুল ইসলাম সানভি ও নাজিম কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করি। ভিকটিমকে উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলমান আছে।
ঝালকাঠির নলছিটিতে ছাত্রদল নেতা তাইসুর রহমান বাপ্পি ও আসকার মোর্শেদ খান সুপ্রিম খানের নেতৃত্বে বৃক্ষরোপন অভিযান শুরু করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুরু করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আক্তার, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদুল আলম মান্না,সাবেক ছাত্রনেতা বেলায়েত হোসেন নান্নু,সরদার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, রাজিব আহসান, প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে এই বৃক্ষরোপন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় ১ হাজার ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপন করা হবে।
গৃহকর্মীসহ ব্যবসায়ী দম্পতি খুন
সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন রায়নগর আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের কিশোরী গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সিসি ক্যামেরা এড়াতে লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়েই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লাশ উদ্ধার করে।
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকা। ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে বাস করেন ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্সের সদস্য আব্দুস আব্দুস সাত্তার (৯০) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬)। সাথে ছিলেন গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)। এই বৃদ্ধ দম্পতির চার সন্তানই দেশের বাইরে থাকেন। দুজন ইংল্যান্ড ও দুজন আমেরিকা। সিলেটের নিজেদের বাসায় কেবল স্বামী-স্ত্রী থাকনে। সাথে এক গৃহকর্মী। আজ বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসাটির দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা ত্রিপল নাইনে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দম্পতি ও গৃহ পরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করে।কেন এই দম্পত্তি খুন হলেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।
নিহত দম্পত্তির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, রায়নগরে বাসায় মা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সাথে এক কাজের মেয়ে থাকতো। সকাল ৯টার দিকও তাদের সাথে আলাপ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ৯টার পর তাদের হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মামির আমেরিকার ভিসা রয়েছে। কিন্তু মামা দেশের বাইরে যেতে চাননি। তাই দেশেই ছিলেন তারা। এই দম্পত্তির আরেক নারী আত্মীয় বলেন, আমার মামা শা্শুর (আব্দুস সাত্তার) হাউজিং, আইপিসহ অনেক ব্যবসা ছিলো। তার কোন শত্রু ছিলো না। ৯০ বছরের এই লোকটাকে কেন খুন করা হলো? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকেও যদি ঘরের ভেতরে খুন হতে হয়, তাহলে আজকে আমাদের নিরপত্তা কোথায়?
রায়নগর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আব্দুস সাত্তার আমাদের এলাকার মুরব্বী। মাঝে মাঝে এলাকার কারো কারো সাথে তার বিভেদ হতো। তবে তা গুরুতর কিছু নয়। তাকে কেউ হত্যা করবে এটা অভাবনীয়।
রায়নগরের পাশ্ববর্তী শিবগঞ্জ এলাকার বিএনপির কেন্দ্রিয় ক্ষুদ্র-উণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, আমার মনে হয়, সম্পত্তির কারণে বিষয়টি হয়ে থাকতে পারে। আমি যেটুকু তাদের পরিবারের কাছ থেকে শুনতে ও জানতে পেরেছি, মদনমোহন কলেজের সামনে এই পরিবারের একটি সম্পত্তি আছে। ওই সম্পত্তি নিয়ে কিছুটা বিরোধ আছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধসহ তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যার খবরে পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বাসার ওয়ারড্রপ ও আলমারি খোলা আছে। স্বর্নসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে জেনেছি। চুরি ডাকাতির ঘটনা কী না তা তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য কোন কারণে হত্যা করা হয়েছে কী না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক বিরোধ আছে কী না তাও খতিয়ে দেখছি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় এই তিন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, সকালে ওই বাসার প্রতিবেশিরা আমাদের জানান, বাড়ির দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে এবং দরজা বন্ধ। এমন খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে যায়। দরজা খুলে তারা আমাদেরকে জানায়। পিবিআই ও সিআইডি ক্রাইমসিন নিয়ে যারা কাজ করেন তারাও চলে আসছে। একটা স্পেশাল টিম গঠন করে দিয়েছি তদন্ত করার জন্য।
ভাড়াটিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী সকালে চিৎকার চেঁচামেচি শুনেছেন। সে হিসেবে সকালে ঘটেছে। আমরা আরও তদন্ত করে জানাবো।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, ‘তাদের কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে কি না, সেটিও আমরা দেখছি। তবে আপাতত ঘটনাস্থলের ক্রাইম সিনে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।’
ঘটনার খবর কীভাবে পুলিশ পেয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, আজ বুধবার সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার একজন বাসিন্দা তাকে ফোন করে মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দরজা বন্ধ থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে বলেও তাকে জানানো হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। এর আগে সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসার ভেতর থেকে বাবা, মা ও মেয়ের লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
হত্যার খবরে পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বাসার ওয়ারড্রপ ও আলমারি খোলা আছে। স্বর্নসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে জেনেছি। চুরি ডাকাতির ঘটনা কী না তা তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য কোন কারণে হত্যা করা হয়েছে কী না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক বিরোধ আছে কী না তাও খতিয়ে দেখছি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় এই তিন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রায়নগরে তিন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
ইউএনও কার্যালয়ে তালা দিল যুবদল-ছাত্রদল
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশ। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সোমবার (১০ আগস্ট) এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দক্ষিণ সুরমায় বেলা ১১টার দিকে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের ব্যানারে একদল নেতা-কর্মী বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা দেড়টা পর্যন্ত তারা ইউএন অফিসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য লোকবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ আনেন। তাদের দাবি, দ্রুত প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োজিতদের বাদ দিয়ে প্রকৃতদের শুমারি কাজে নিয়োগ দিতে হবে।
গত শনিবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে শুমারিকালীন তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের মাধ্যমে পাওয়া বৈধ আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।ফলাফল অনুযায়ী উপজেলার আটটি ইউনিয়নে চূড়ান্তভাবে ৬৯ জন তথ্যসংগ্রহকারী এবং ৬ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বাইরে তথ্যসংগ্রহকারী পদে ৬ জনকে রিজার্ভ ও ৪১ জনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এ ছাড়া সুপারভাইজার পদে একজনকে রিজার্ভ ও চারজনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
তবে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী একজন রাজনীতিবিদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অনেক যোগ্য ব্যক্তি বাদ পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও এমদাদুল হক শরীফ জানান, ‘আমি তখন অফিসে ছিলাম না। তখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মিটিংয়ে যোগ দিতে আসি, এখনো এখানে আছি। শুনেছি, কিছু ব্যক্তি তখন গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য নিয়োগ করা লোকবল নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। কিন্তু কী অনিয়ম হয়েছে, এর কোনো তথ্য তারা দেননি।’
কোনো রাজনীতিবিদের তালিকার ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না, এ অভিযোগের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘এমন তথ্য সঠিক নয়। যারা আবেদন করেছেন, তাদের মধ্য থেকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য লোকবল নিয়োগে মনোনীতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর গত শনিবার রাতে জৈন্তাপুরে এবং গতকাল রোববার কোম্পানীগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায়ও বিক্ষোভ করেছেন একদল ব্যক্তি। তাদের অভিযোগ, নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। অযোগ্যদের তালিকায় ঠাঁই দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত
শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে দিনাজপুর জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং রাজ-২৪৫) ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ৪ হাজার ৭২২ জন ভোটার সদস্য এবং ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জুলফিকার হোসেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রে শ্রমিকদের উপস্থিতি ও উৎসাহ দেখা গেছে। সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের পাশাপাশি শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার, কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে আগামী নেতৃত্ব কী ভূমিকা রাখবে—এ নিয়েও সদস্যদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জুলফিকার হোসেন বলেন, “১০০ শতাংশ নিরপেক্ষভাবে ভোট হচ্ছে।” তিনি জানান, নির্বাচনে ৪ হাজার ৭২২ জন সদস্য ভোটার এবং ৪২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনে কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি রয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থিতা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটগ্রহণের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জুলফিকার হোসেন। নির্বাচন কমিশনের সদস্য শহিদুল ইসলাম শহীদুল্লাহ ও মো. গোলাম নবী দুলালও দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মো. সাদাকাতুল বারি সাদা। এছাড়া সড়ক সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সড়ক সম্পাদক পদেও একজন করে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত মো. সাদাকাতুল বারি সাদা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর জেলার ১৩টি থানার অনেক শ্রমিক ২৫ থেকে ৩০ বছর গাড়ি চালানোর পর অবসরে যান। কিন্তু অবসরের পর অনেক শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে না। এ অবস্থায় শ্রমিক অবসরে যাওয়ার পর যাতে জীবনের বাকি সময়টা কিছুটা স্বচ্ছন্দে কাটাতে পারেন, সে বিষয়ে সংগঠনের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবারকে ৬০ হাজার টাকা, দুর্ঘটনায় সাধারণ চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা এবং শ্রমিকের মেয়ের বিয়েতে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিভিন্ন উৎসব ও অন্যান্য প্রয়োজনেও শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হয়। ভবিষ্যতে শ্রমিকদের এসব সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সংগঠনের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন সাদাকাতুল বারি সাদা। তিনি বলেন, দেশের পরিবহন খাতের বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব সংগঠনের আর্থিক অবস্থার ওপরও পড়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার চেষ্টা থাকবে।
শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণের পাশাপাশি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের দিক থেকেও এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, পেশাগত নিরাপত্তা এবং কল্যাণমূলক বিষয়গুলোতে সংগঠনটি ভূমিকা রেখে আসছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক হয়রানি ও পরিবহন খাতের নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের কর্মসূচি ও আন্দোলনের বিষয়ও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। নির্বাচিত নতুন নেতৃত্বের কাছে শ্রমিকদের অন্যতম প্রত্যাশা হলো—কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, অসহায় ও দুর্ঘটনাকবলিত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো, পেশাগত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর শ্রমিকদের আস্থার প্রতিদান হিসেবে প্রথম কাজ কী হবে—এ প্রশ্নের জবাবে সাদাকাতুল বারি সাদা বলেন, “শ্রমিকদের প্রতিটি আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়াবো।
যেকোনো সমস্যা হলে তা সমাধানের চেষ্টা করবো। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থে নতুন কিছু করারও আশা রাখি।” সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্ধারণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ, জবাবদিহি ও সাংগঠনিক গণতন্ত্রের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই নতুন নেতৃত্ব শ্রমিকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।