গাইবান্ধা সদর উপজেলায় কৃষকদের জন্য সারের সঠিক সরবরাহ ও সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে সার বিক্রির প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে নজরদারিতে রেখেছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম।
কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করে ঢুকে পড়েন সার বিক্রির পয়েন্টে। সেখানে সারের মূল্য, ক্যাশ মেমোসহ প্রকৃত কৃষক যাচাই করেন তিনি। এতে করে কৃত্রিম সংকটকারীদের জন্য আতঙ্ক এই অফিসার রাকিবুল আলম।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, গাইবান্ধা সদরে সার মনিটরিং খুব ভালো হওয়ায় আমরা সার পাচ্ছি। সারের কোন সংকট নাই। তবে আগে হয়রানি হলেও এখন কোন ডিলার হয়রানি করে না। অনায়াসে বস্তা বা খুচরা সার নিতে পারছি।
লক্ষীপুরের ডিলার পয়েন্ট মেসার্স প্রবীর কুমার সাহা 'র এর ম্যানেজার গোপালের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার দেয়া হয়। এতে করে সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততা সেরে কৃষকরা আমাদের পয়েন্ট থেকে সার নিয়ে থাকেন। কৃষকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
দক্ষিণ ঘাগোয়া ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম মন্ডল জানান, আমাদের সদর উপজেলার কৃষি অফিসার স্যারের নির্দেশনায় আমি প্রতিমাসে বরাদ্দকৃত সার, ইউরিয়া টি এস পি ,ডি এ পি, এমওপি সঠিকভাবে উত্তোলন করছেন কিনা তা যাচাই-বাছাই করি এবং ডিলার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার কৃষকদের নিকট বিক্রয় করছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করি। ঘাগোয়া ইউনিয়নে সারের কোন সংকট নেই কৃষকরা সরকারি মূল্যেই সার কিনতে পারছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,সারের কোন ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কেউ বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সারের নজরদারি নিয়ে কথা হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলমের সাথে তিনি প্রতিবেদককে জানান, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলারদের পয়েন্টে উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা গোপনে গিয়ে কৃষকদের সাথে সারের মূল্য নিয়ে কথা বলেন। যাতে ডিলাররা সারের অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারেন। বস্তার পাশাপাশি যার যতটুকু সার প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমরা তৎপর।
সচেতনমহল বলছেন, প্রকৃত কৃষকের মাঝে হয়রানিমুক্ত ভাবে সার দিতে কৃষি বিভাগের লোকজন নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাদের কঠোর মনিটরিংয়ের ফলেই আমরা সময়মত সার পাচ্ছি। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকটকারীরা এবার পাত্তাই পাচ্ছেন না।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিশাত আফিফা (২৮) নামে এক স্কুল শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বি.এড. পরীক্ষার ভাইভায় অংশ নিতে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে পিরোজপুর যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিশাত আফিফা ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক( ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে বি.এড. পরীক্ষার ভাইভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ভাণ্ডারিয়া থেকে পিরোজপুরের দিকে রওনা হন নিশাত আফিফা। পথে চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও তিন বছর বয়সী একটি শিশুসন্তান রেখে গেছেন।
নিশাত আফিফার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্বজনরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দখল, দূষণ ও পলি জমে নাব্যতা সংকটে পড়া ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র নদকে রক্ষা এবং এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ, নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা। একই সঙ্গে নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণের উৎস বন্ধ, সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় স্থানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খননের দাবি জানান তারা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ রাজঘাট থেকে নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নৌযানে করে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন হয়ে বন্দর উপজেলার সাব্দী এলাকা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পরিবেশবিদ, নদী গবেষক, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকালে নদীর বর্তমান অবস্থা, নাব্যতা, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নদীকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি নদীর বিভিন্ন সংকট চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
নদী পরিদর্শন কর্মসূচির আয়োজক ও সংগঠক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ নদী ফাউন্ডেশন, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিনিধিত্বকারী আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির, নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস এবং পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন। কর্মসূচির উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাপশ কর্মকার ও শিপন সরকার, সাংবাদিক পনির ভূঁইয়া স্টার নিউজ ও ডেইলি সানের সাংবাদিক এস এম শাহাদাত, মনির হোসেন।
এ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক ইয়ামিন ভূইয়াসহ ফজলুল হক ভূইয়া, মান্নান ভূইয়া, রফিকুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, বেলাল হোসেন, মোসলেহ উদ্দীন, খাইরুল কবির লাল ও তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, নদী দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি, কৃষি, নৌ-যোগাযোগ ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও পলি জমার কারণে ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের অনেক নদী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রকে রক্ষা করতে হলে প্রথমে নদীর সীমানা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দূষণের উৎস বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বৈজ্ঞানিকভাবে নদী খননের উদ্যোগ নিতে হবে। নদীতীরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু নদী দিবস পালন বা আলোচনা সভার মধ্যে নদী রক্ষা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। নদীর প্রকৃত অবস্থা জানতে নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশ সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
নদী পরিদর্শন শেষে আয়োজকরা বলেন, ব্রহ্মপুত্র শুধু একটি জলধারা নয়; নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁও ও আশপাশের জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদীটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই ব্রহ্মপুত্রকে দখল ও দূষণমুক্ত করে এর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্রসহ নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আরও সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পরিচালনার ঘোষণা দেন তারা।
বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ 'টাইটান ট্রিগারফিশ'
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘টাইটান ট্রিগারফিশ’। অত্যন্ত শক্ত ও খসখসে চামড়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে এটি ‘চামড়া মাছ’ বা ‘শুয়োর মাছ’ নামেও পরিচিত।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মুন ট্রেডার্স মৎস্য আড়তে প্রায় ৮০০ গ্রাম ওজনের ব্যতিক্রমী অদ্ভুত এ মাছটি নিয়ে আসা হয়। এসময় স্থানীয়দের ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসুক জনতার ভিড় জমতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ‘এফবি মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ও পোয়া মাছের সঙ্গে অদ্ভুত এ মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসা হয়। মাছটি খাবার উপযোগী কি না তা নিশ্চিত না হওয়ায় আড়তে বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
ট্রলারের মাঝি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এর চামড়া অনেক শক্ত এবং গঠন অন্য সব মাছের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও সুন্দর। আগে কখনো এমন মাছ না দেখায় ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়ল।’
মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম মিজান বলেন, ‘এ ধরনের মাছ আগে কখনো চোখে দেখিনি। মাছটির খবর শুনে দেখতে এসেছি। সত্যিই মাছটি দেখতে বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয়।’
মুন ট্রেডার্স মৎস্য আড়তের ম্যানেজার মো. মিরাজ বলেন, ‘এ ধরনের মাছ এর আগে কখনো আমাদের আড়তে আসেনি। এর গঠন ও চামড়া সাধারণ মাছের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি খাওয়ার উপযোগী কি না তা নিশ্চিত না হওয়ায় আপাতত বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।’
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল এই টাইটান ট্রিগারফিশের বৈজ্ঞানিক নাম Balistoides viridescens। মাছটির পিঠের ওপর রয়েছে একটি শক্ত কাঁটা বা স্পাইন, যা বিপদের সময় এটি লক করে রাখতে পারে; এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নাম ‘ট্রিগারফিশ’। এছাড়া সামুদ্রিক তলদেশের শক্ত খোলসযুক্ত প্রাণী ভেঙে খাওয়ার জন্য এর রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী চোয়াল ও বড় ধারালো দাঁত।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘প্রজননকালে এই প্রজাতিটি নিজস্ব এলাকা ও ডিম রক্ষায় বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে এটি খাওয়া হলেও সিগুয়াটেরা (Ciguatera) বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায় এই মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সচেতনতা ও সতর্কতা প্রয়োজন।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার জানান, ‘টাইটান ট্রিগারফিশ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। বঙ্গোপসাগরে এর উপস্থিতি আমাদের উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি নির্দেশ করে। মাছটির নমুনা, ওজন ও পাওয়ার স্থান সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এর বিস্তৃতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা সম্ভব হবে।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘মহিপুর মৎস্য বন্দরে এ বছর বেশ কয়েকটি ব্যতিক্রমী সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে, টাইটান ট্রিগারফিশ তারই একটি উদাহরণ। এ ধরনের মাছ জালে উঠলে ছবি, ওজন ও ধরা পড়ার সঠিক স্থানসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ সহজ করে।’
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ার ঘটনায় গবেষকরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের জলসীমায় বিদ্যমান সমৃদ্ধ সমুদ্র-জীববৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
মুচলেকায় ছাড়া পেলেন গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাইকে আটকের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এর আগে বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছিল অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, চার খুন মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের বাবা ও বড় ভাইকে আমরা বিকেলে এনেছিলাম। আমরা এর আগে তাদেরকে অনেকবার বলেছি, আমাদের অফিসে এসে তাদের সাক্ষাৎকারটা দেয়ার জন্য, কিন্তু তারা কোনোভাবেই আসেননি। সেজন্য আমরা তাদের নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। আনার পর আমরা তাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছি। কিছু তথ্য আমরা তাদের কাছ থেকে পেয়েছি। এই বিষয়গুলো আমরা আবার যাচাই-বাছাই করব।
সনাতন চক্রবর্তী আরও জানান, তাদেরকে আমরা মুচলেকা নিয়ে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেগুলো তারা জানিয়েছে, সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। আর পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে আবার তাদের আমরা ডাকব। তারা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ডাকলে আমাদের অফিসে তারা আসবেন।
এদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সেন্ট্রাল রোডের কার্যালয় থেকে সিঁড়ি বেয়ে তিনতলা থেকে নামার সময় পার্থ দাসকে তার বাবাসহ অন্য একজনের কাঁধে ভর করে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পার্থ দাস জানান, আমাদের সঙ্গে কিছু হয়নি, সুন্দর ব্যবহার করেছে। আমি বাড়িতে ভয়ে ছুটোছুটি করেছি, ওই কারণে পায়ে কোমরে আঘাত লেগেছে। এজন্য খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছি। ডিবি অফিসে আমাদেরকে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
তবে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস জানান, আইনগত বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কীভাবে মারা গেছে, কী ঘটনা- এসব তারা জানতে চেয়েছিল। আমরা আগে সাংবাদিকদের যা বলেছি, এখানেও তাই বলেছি। এখানে নিয়ে আসার পর আমাদের সঙ্গে নির্যাতন বা ভয়ভীতি দেখানোর মতো কিছু হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পরদিন দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
কাপ্তাই লেক
কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার সময় প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
পানি ছাড়ার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এবার দ্বিতীয় বারের মতো জল কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার রাত ১০টায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি গেট ৬ (ছয়) ইঞ্চি পরিমাণ খুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্ত পানির উচ্চতা দ্রুততার সঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় প্রায় দু’ঘণ্টা আগেই জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান।
আজ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত মাসেও কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে পানি ছাড়া হয়েছিল।
বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে আরও প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ায় কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে পারে।
এ কারণে কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই ডিবি হেফাজতে
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার বিকালে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “বিকালে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।”
২২ অগাস্ট রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চারজনকে হত্যার এ ঘটনায় রোববার নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। পরে মঙ্গলবার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
পুলিশ দাবি করেছে, এই তিনজন ঘটনার রাতে একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এর মধ্যে বুধবার রাতে সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস আলামত নষ্টের অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।
যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলামত নষ্ট করতে ছাদ ধোয়া হয়নি; ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় ট্যাংক থেকে পানি উপচে ছাদ ভিজে যায়।