প্রতীকী ছবি
সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৯০ জন। এ সময় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৮ জন। অধিকাংশ রোগী ও মৃত্যুর হার রাজধানীকেন্দ্রিক। তবে চলতি বছর ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন খুলনা বিভাগে।
এ বছর খুলনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৯ শতাংশ খুলনায়। এ সময় খুলনায় রোগটি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন বছর আগে ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ ছিল বরিশাল ও চট্টগ্রামে। ওই সময় বরিশালে ৩৮ হাজার ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০৯ জন মারা যান। ২০২৪ সালে ঢাকার বাইরে মৃত্যুর হিসাবে তৃতীয় শীর্ষে উঠে আসে।
গত বছরও প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থা ছিল। এ বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর মৃত্যুচিত্রে ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটছে। চলতি মাসের শেষদিকে ঢাকার বাইরে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুর অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এ বছর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এডিস মশা নিধনে জোর দিতে হবে। সেপ্টেম্বর মাসে এডিস মশার প্রজনন রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা খুলনা এলাকায় আরও বাড়তে পারে।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক রোগ নয়। গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুর কেন্দ্র পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বছর ঢাকার বাইরে খুলনা অঞ্চলে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। বর্ষার শেষভাগে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে, ফলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং দ্রুত রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সেখানে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়াটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
ঢাকার বাইরে মৃত্যুতে দ্বিতীয় বরিশাল-ময়মনসিংহ ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৩১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১১ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। খুলনায় এ বছর এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যার মধ্যে শুধু খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৩ জন। খুলনা বিভাগের পরই ঢাকার বাইরে প্রাণহানির তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ। এই দুটি বিভাগের প্রতিটিতেই ডেঙ্গুতে আটজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। বরিশালে মৃত আটজনের মধ্যে চয়জন মারা গেছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় একজন করে মোট দুইজন রোগী মারা গেছেন। বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৪৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে মৃত আটজনের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলা সদরে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। যাদের সবাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া শেরপুর জেলায় একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এ পর্যন্ত রোগটি শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৯৬ জনের। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
শনাক্তের হিসেবে অধিকাংশই পুরুষ, মৃত্যুহার বেশি নারীর ডেঙ্গু শনাক্তের হিসেবে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর হিসেবে নারীর সংখ্যাই বেশি। এ বছর শনাক্ত ৩২ হাজার ৫৯০ রোগীর মধ্যে ২০ হাজার ৩৮ জন পুরুষ। আর ১২ হাজার ৩৫৫ জন নারী। অর্থাৎ, ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ, আর ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী। এ বছর মোট মারা যাওয়া ৮৮ জনের মধ্যে ৫১ জন নারী, আর ৩৬ জন পুরুষ। অর্থাৎ, ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী, আর ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ।
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ২ হাজারের বেশি রোগী ডেঙ্গু নিয়ে নতুন ৩৪২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮০ জন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ৬১৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ছাড়া খুলনায় ৫৭৫, বরিশালে ৩৫৬, ময়মনসিংহে ১৭৯, চট্টগ্রামে ১৬৩, রাজশাহীতে ১৫৩, রংপুরে ৩০ ও সিলেট বিভাগে সাতজন চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৯০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩০ হাজার ৪২২ জন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন মন্ত্রীকে দেখতে তিনি সেখানে যান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং তা নিশ্চিত করেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
অনিবার্য কারণবসত নির্ধারিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সভাটি হওয়ার কথা ছিল।
এতে সভাপতিত্ব করতেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশন থেকে গত রাতে অনিবার্য কারণে সভাটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কারণে সভাটি স্থগিত করা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রোববার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। আজ শনিবার রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আখতারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
এর আগে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো। এর মধ্যে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত করেছে সরকার।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলেন, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এদিন ফল প্রকাশিত হবে।
জানতে চাইলে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সরকার ফল প্রকাশের জন্য ২৯ শে অক্টোবর দিনটি চূড়ান্ত করেছে।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়।
কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো এই সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেসারকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হৃদয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শোকবার্তায় বিসিবি জানায়, তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা হৃদয় ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেস বোলার। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিসিবি।
অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্ত ও অস্থিমজ্জার দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন হৃদয়। তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গত জুলাইয়ে হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় বিসিবি। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। আজ শনিবার এমন পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরের এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানা গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামের আমবাগানে, ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামীকাল রোববার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।