• প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৫ এএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শান্তা রানী দাস (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নয়, স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।


বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট এলাকার জেলে বাড়ির বাসিন্দা ও নিহতের বাবা অনন্ত জলদাস জানান, চার বছর আগে পারিবারিক ভাবে শান্তার সঙ্গে সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ির নিমাই দেব নাথের ছেলে বাপ্পী দেব নাথের (২৯) বিয়ে হয়। তাদের ১৮ মাস বয়সী বর্ষা দেব নাথ নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বাপ্পী আগে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে গার্মেন্টসের এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকরি ছেড়ে এলেও ওই নারীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এ নিয়ে সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এবং বাপ্পী শান্তাকে মারধর করেন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝগড়ার পরে রাতে শান্তা স্বামীর জেঠা গণেশের ঘরে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে তাকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে বেলা ১১টার বাপ্পী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাপ্পী দেব নাথের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ পিএম

সন্ত্রাস মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


তিনি হবিগঞ্জ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহর ও নেতাদের উপর হামলার সমালোচনা করে বিএনপির উদ্দেশে বলেন, “হবিগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জ। আমরা যা দেখছি, দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যের দিকে আবারও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র আবারও জাতির সামনে উন্মেচিত হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে, জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে।”


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের কিছু আগে গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।


অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা গোলাপগঞ্জ যাব, আমরা দাঁড়াব, দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না। আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।’’


তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক কোনো শক্তির উত্থান ঘটুক বর্তমান সরকার সেটা চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এনসিপির ওপর হামলা করছে।”


এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৮ পিএম

ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কার কাজ পরিপূর্ণভাবে করার তাগিদ দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, “সংবিধানের আঘাতের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে। আমরা একটা অভাগা জাতি, যে অবস্থায় আছি। এই শিকলটা আমাদের ভেঙে দিতে হবে এবং এই শিকল ভাঙ্গার জায়গাটাতে প্রথমেই সংবিধানে আঘাত করতে হবে। 


বাংলাদেশের সংস্কারটা কমপ্লিট করা প্রয়োজন। যদি এটা না হয় আপনার, আমার, সন্তানের, বাংলাদেশের কারো ভবিষ্যৎ নাই। কেন নাই? এটা আপনারা একটু গভীরভাবে পড়াশোনা করবেন, কেন সংস্কারটা প্রয়োজন।”


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


এ সময় এনসিপি নেতা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ। দয়া করে, জুলাইয়ে আমাদের ১৪০০ ভাই চলে গিয়েছে, এই বিচারটা বাংলাদেশে কমপ্লিট করা আমাদের প্রয়োজন। সে জায়গা সাস্ট ভূমিকা পালন করবে।”


সভায় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ঠিক করবেন কোন সমাবেশে যাবেন, কোন সমাবেশে যাবেন না। কার পক্ষে ভোট দিবেন, কার পক্ষে দিবেন না। কিন্তু কথা বলতে গেলে, আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দিবে, প্রশাসন এসে বাধা দিবে নিরাপত্তার নামে- এটা বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া যাবে না।


“এটা বিগত আমলের কৌশল এবং আপনারা পারলে নতুন কৌশল হাজির করেন। শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ শেখ হাসিনাকে কপি করলে, শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরানো হয়েছে এইটা এখানকার বাচ্চা-বাচ্চা পোলাপানরাও জানে। ফলে যদি নতুন কৌশল আনতে পারেন সেটা আপনাদের জন্য সুবিধার হবে।”


নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নতুন দিনের রাজনীতি নিয়ে হাজির হয়েছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, ছিল, থাকবে। কিন্তু আমরা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাব। যেকোনো গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে, দাবি আদায়ের পক্ষে এনসিপি সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকবে।”


অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।


আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্ৰামে আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আয়োজনে ও কিশোরগঞ্জ এরিয়া ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম ওয়ার্ল্ড ভিশনের আয়োজনে উক্ত সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।




আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আইরিন বেগমের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা সমবায় অফিসার জাকিয়া ফারহানা। আরোও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী বেগম, কোষাধক্ষ্য লক্ষ্মী রানী রায়।


অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ এপির প্রোগ্রাম অফিসার জন কেনেডি ক্রুশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম সংক্ষেপে জানান।


উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান সমিতির সদস্যের মাঝে নিম গাছের চারা বিতরণ করেন এবং দুইজন সদস্যকে সমিতির ঋণ বাবদ ২টি ছাগল বিতরণ ও একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের বহুল আলোচিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কোম্পানি-সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের জামিন লাভের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের বাসিন্দারা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী মামলার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি জানান।


স্থানীয়দের বক্তব্য, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। তাদের দাবি, আদালত থেকে জামিন লাভের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি পক্ষপাতহীনভাবে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।


স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মামলায় আসামি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বুলু, কাজী দাউদসহ আরও কয়েকজন। তাদের সমর্থকদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হলে নির্দোষ ব্যক্তিরা আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পাবেন।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন যেন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।


এদিকে, মামলাকে ঘিরে দলীয় পদ নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার বিষয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মতামত দেন। তাদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা বা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা ন্যায়সংগত নয়। তাদের মতে, অভিযোগ ও অপরাধ প্রমাণ এক বিষয় নয়; একটি মামলায় নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।


বক্তারা আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি দোষমুক্ত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার সাংগঠনিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা বা পুনর্বহালের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


তবে এ বিষয়ে উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তি বহিষ্কৃত হয়েছেন বা পুনরায় দলীয় পদে বহাল হয়েছেন—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা যায় না। তাই এ ধরনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য দলীয় নথি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ভিত্তিতেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত।


স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। তাদের মতে, এতে যেমন প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে, তেমনি নির্দোষ ব্যক্তিরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং জনমনে বিদ্যমান বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে নিজের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে ৩৩ বেত্রাঘাত, গলায় জুতার মালা পরানো এবং নাকে খত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের জিরুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ (৪২) গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জ্যাঠাদের জানালে মঙ্গলবার রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়।


ডমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটু বলেন, মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবাকে ডেকে আনা হয়। দুই পক্ষের কথা শুনে সালিশী বৈঠকে ৫-৬ সদস্যের একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। পরে তাদের সিন্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বলেন, "বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

বিয়ের দিন বরের বাড়িতে এসে হাজির হন দুই তরুণী। তাদের একজন নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। ওই তরুণীর উপস্থিতির পর বিয়ে ভেঙে যায়। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫)। আর এরপরই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে দাবি স্থানীয়দের।


বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।


স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।


বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিকেল ৩ টার দিকে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে দুই তরুণী এসে উপস্থিত হন। তাদের একজন কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার। তিনি নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। অন্যজন তার মামাতো বোন।


তরুণীর দাবি, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একসঙ্গে ছিলেন। ২৮ জুলাই তাদের বিয়ের কথা ছিল। তবে হেলাল মিয়া মোবাইল বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় তাদের বিয়ে হয়নি।


তরুণী জানান, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন এবং পূর্বের সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


এ ঘটনা বিয়েবাড়িতে জানাজানি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়েটি আর সম্পন্ন হয়নি। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরপক্ষ বাড়িতে ফিরে আসে।


স্থানীয়দের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাত ১১টার দিকে নিজ বসতঘরের পূর্ব পাশে সাইদুল ইসলামের পুকুরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁস দেন তিনি।


পরে সুরুজ মিয়ার স্ত্রী হেলেনা স্বামীকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।


পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা দুই তরুণীকে হেফাজতে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।