ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের ছয় উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার সকালে জানান, এখনো বিজিবি মোতায়েন করা হয়নি। বৃহস্পতি ও শুক্রবার ছয়টি উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে।
৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সিলেটের ছয় উপজেলায় পদযাত্রা ও সমাবেশ করবে এনসিপি। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলায় কর্মসূচি বিকেল ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় কর্মসূচি থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিজিবি মোতায়েনের আবেদন করে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কোন উপজেলায় কখন বিজিবি মোতায়েন হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করতে পারেননি।
সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার পর সিলেটের কর্মসূচি ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ওসমানীনগরে পদযাত্রা শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ, বিকেল ৫টায় গোয়াইনঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় জৈন্তাপুরে পদযাত্রা ও সমাবেশ করবে দলটি।
বরগুনায় মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগে এক বাদীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং খালাসপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল গবুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বরগুনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইকবাল মাসুদ এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকতার হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোশারফ হোসেন ওরফে হারুন অর রশীদ। তিনি বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া গ্রামের সেকান্দার আলীর ছেলে। মামলায় খালাসপ্রাপ্ত আসামি একেএম শহিদুল ইসলাম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সালনা বাজার এলাকার বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর মোশারফ হোসেন বামনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একেএম শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তার ছেলেকে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে শহিদুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা নিলেও বিদেশে পাঠাননি এবং অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতে অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপিত না হওয়ায় আসামি একেএম শহিদুল ইসলামকে খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে অভিমত দেন।
পরে গত ২০ জুলাই আদালত বাদীকে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে আত্মগোপনে থাকেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ২৫০(২) ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত মোশারফ হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে খালাসপ্রাপ্ত একেএম শহিদুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে চীফ জুডিসিয়াল আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকতার হোসেন বলেন, মামলায় বাদীর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাদীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিয়েছেন। এবং শুনানির সময়ে বাদি উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেয়া হয়েছে।
বিআরটিসি বাসের চাপায় শিক্ষক আ ত ম ইউসুফ নিহত
নওগাঁয় অটো চার্জারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে দ্রুতগামী বিআরটিসি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে আ ত ম ইউসুফ (৪৫) নামে এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। তিনি নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জয়পুরহাট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সকালে প্রতিদিনের মত ইউসুফ তার স্কুটি মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে কর্মস্থল জয়পুরহাটে যাচ্ছিলেন। শহরের দয়ালের মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এতে তিনি রাস্তার মাঝে ছিটকে পড়ে যান। এসময় বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের দিক থেকে শহরের মুক্তির মোড়ের দিকে দ্রুত গতিতে আসা একটি বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সুধারাম মডেল থানা, নোয়াখালী
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের মারধরে একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) সায়মা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ৩টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের তাজু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে একদল ডাকাত বাড়ির প্রধান গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সোনাপুরের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন ফরহাদের ঘরের দরজা কোরাবাড়ি দিয়ে খুলে ঘরে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরবর্তীতে ঘরে থাকা নগদ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং আড়াই থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এসআই সায়মা সুলতানা আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন, ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন ও রক্সি ইসলাম।
প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর জখম, চুরি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
মামলার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদের ভাষ্য, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের শিকার হন তাঁরা। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে তাঁর দাবি।
গত মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করে এনসিপি। সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় এনসিপি এবং বিএনপি ও ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে শহরে প্রবেশ করতে না পেরে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং রাতে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়েছে।
১৪৪ ধারা প্রত্যাহার
এদিকে এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা ১৪৪ ধারা আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বুধবার জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ এ আদেশ জারি করেছিলেন।
জেলা প্রশাসক আজ সকালে প্রথম আলোকে জানান, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিন ও তরুণী লিজার সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর
প্রেমের টানে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় ছুটে এসেছেন ওয়্যাং সুলিন (৩০) নামের এক চীনা যুবক। শুধু আসাই নয়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছেন নাজমিন আক্তার লিজা (২০) নামের এক তরুণীকে।
মুসলিম হওয়ার পর এই চীনা যুবকের নাম রাখা হয়েছে মো. নুর উদ্দিন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন পেশায় একজন আসবাব ব্যবসায়ী। তাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
এদিকে ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। ভাইয়ের সঙ্গে মিলে নিজ দেশে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি।
জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে লিজা ও সুলিনের প্রথম পরিচয়। যোগাযোগের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
বিষয়টি দুই পরিবারের কাছে জানালে উভয় পক্ষই এতে সম্মতি দেয়। এর পরই প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান সুলিন। সেখান থেকে লিজার স্বজনরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ২১ জুলাই স্থানীয় আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করে ধর্মান্তর ও বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ করতে আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জে জমকালো বিয়ের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে কনেপক্ষ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি পাত্রদের ক্ষেত্রে প্রতারণার নানা খবর আসায় কনের পরিবার ছিল বেশ সতর্ক। লিজার বাবা নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আমরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করেছি। সব কিছু সঠিক পাওয়ার পর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করে নিশ্চিত হয়ে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই। এমপি সাহেবের সঙ্গে নবদম্পতি দেখাও করেছে। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি চীনে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা প্রস্তুত করে লিজাকে নিয়ে যাবেন।’
এদিকে চীনা যুবকের সঙ্গে বাংলাদেশি মেয়ের বিয়েকে ঘিরে মোহনগঞ্জজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় উৎসুক মানুষ প্রতিনিয়ত লিজাদের বাড়িতে ভিড় করছে নতুন জামাইকে একনজর দেখতে এবং ছবি তুলতে।
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ এ আদেশ জারি করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. মঈনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়।
আদেশে বলা হয়, বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর এনসিপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। এর প্রেক্ষিতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল ১০টার পর হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্ব পালন করে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।