গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন ও ডেন্স বিটুমিনাস কার্পেটিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অনুমোদিত কারিগরি নির্দেশনা ও মিশ্রণ নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং প্রকৌশলীদের তদারকির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান ৪ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফ্রেঞ্চ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ‘আর-০৯’ পরিকল্পনার আওতায় গাইবান্ধা রোড থেকে হিলো-আজিজ মুন্সি হয়ে নওশা হাউস/হিও-আতাউর হাজীর সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫১ টাকা ৬০ পয়সা।
লিখিত অভিযোগে সড়কের পূর্ববর্তী পাথরখোয়া স্তরে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ এবং চলমান ডেন্স বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ে অনুমোদিত মিশ্রণ নকশা অনুযায়ী বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণ, তাপমাত্রা, পুরুত্ব ও চাপ প্রয়োগ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা এবং প্রকল্পের পরিমাপ বই, মিশ্রণ নকশা, পরীক্ষাগার পরীক্ষার প্রতিবেদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিবেদন ও বিল-ভাউচার যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরপরই ০১৭১২৩৩৯৩৫৩ ও ০১৭৮১৪৪৭২২৮ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া এবং অকথ্য ভাষায় কথা বলা হয়। এসব ফোনালাপের কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন। ফোনদাতাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী বলেন, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি জানান, কারা ফোন দিয়ে এধরণের হুমকি দিয়েছে তাদের বিষয়ে খোজ নেয়া হচ্ছে। আর কাজের গুনগত মান যেন ঠিক রেখে করা হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মনিটরিং করা হবে।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পিরোজপুরের কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) উভয় উপজেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল-‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’।
কাউখালী: কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুর রহমান, উপজেলা ক্রীড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ-এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রেহেনা আক্তার তাঁর জীবনে শিক্ষকদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “একজন সত্যিকারের শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারেন।”
তিনি শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদানে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে তাঁর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে।
ভাণ্ডারিয়া: সকাল ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষকবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরাই জাতি গঠনের প্রধান কারিগর। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশে শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চর কিং ইউনিয়নে দুর্যোগকালে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি, গ্রাম পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে চর কিং ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী চর কিং ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রান এর উদ্যোগে দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক প্রকল্পের আওতায় এ ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করা হয়। চর কিং ইউনিয়নের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মোট ২৫ জন স্থানীয় প্রতিনিধি এতে অংশগ্রহণ করেন।
ওরিয়েন্টেশনের শুরুতে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। এরপর দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি, নারী ও কিশোরীদের বিশেষ ঝুঁকি এবং তাদের নিরাপত্তায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
পটুয়াখালী কলাপাড়ার বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণনাট্য র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৫অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কলাপাড়া পটুয়াখালীর আয়োজনে এবং উপজেলা শিক্ষক সমিতি কলাপাড়া পটুয়াখালী সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষ পায়রায় লিপস্টিক তাৎপর্য উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে উপজেলা পরিষদ থেকে এক বর্নাট্য র্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক। উপজেলা শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নূরুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাসারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মো. মনিরুজ্জামান খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মুসুল্লিয়াবাদ একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ চায়না টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালাম, ধানখালী টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মাহামুদা খানম, খেপুপাড়া নেছার উদ্দিন কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি চাকামইয়া বেতমোর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব উল্লাহ লিটন, হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল এমরান হারুন, কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.খলিলুর রহমান, জালাল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো.আল মামুন, মোয়াজ্জেমপুর ছালিহিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মো.নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা শিক্ষকদের দু:খ, দূর্দশা এবং সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সকলের সহায়তা কামনা করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিটিটিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা। অন্যথায় ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। আজ সোমবার সকালে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচিতে সরকারদলীয় শ্রমিক দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।কর্মসূচির কারণে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল বেলা দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এ সময় পুলিশ, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। এখন কিছু প্রক্রিয়াগত কাজ সেরে চুক্তির পালা। চুক্তির আগেই বন্দর রক্ষা আন্দোলনের বানারে এই কর্মসূচির ঘোষণা এল।
আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির বলেন, সরকার যখন অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তখন এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিতে কেন এত তাড়াহুড়া করছে, তা জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বললেন, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থে কাজ করছেন। বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করবে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু আমরা হতাশ।’
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি তপন দত্ত ঘোষণা দেন, দাবি আদায়ে ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে ঘেরাও করা হবে। কার্যালয় থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন বললেন, বিদেশিদের ইজারা নিয়ে সরকার আমাদের বুঝিয়ে দেবে অন্যথায় আমরা নিজেরাই বুঝে নেব। এভাবে আমরা আর বসে থাকব না।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন বলেন, বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়া হলে তারা নামমাত্র কর দিয়ে বড় অংশের অর্থ নিয়ে যেতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। দেশীয় জনবল দিয়ে বন্দর পরিচালনা করলে এর আয় দেশের অর্থনীতিতেই থাকবে।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাসদ মার্ক্সবাদী চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ছবি : সংগৃহীত
বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দুবাজার এলাকায় পর্যটকবাহী একটি জিপগাড়ি (স্থানীয়ভাবে চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত) খাদে পড়ে দুই পর্যটক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচজন।
আজ সোমবার বিকেল পৌনে চারটায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বলেন, আটজনের একটি পর্যটক দল চাঁদের গাড়িতে করে আলীকদম থেকে তিন্দুবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ক্রানি অং মারমা জানিয়েছেন, তিন্দুবাজারের মাত্র আধা কিলোমিটার আগে খাড়া পাহাড়ি সড়ক দিয়ে নামার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয়েছেন। তিন্দুবাজারটি সাঙ্গুনদের রাজাপাথর বা বড়পাথর এলাকায়। সাঙ্গুর উজানে রাজাপাথর হয়ে রেমাক্রী এবং নাফাখুমে ভ্রমণের জন্য পর্যটকেরা এই পথে যাতায়াত করেন।
ঘটনাস্থল থেকে ফল ব্যবসায়ী মো. বেলাল থানচির স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিহত দুজন হচ্ছেন মো. জসীম ও মো. জিয়াবুল। তাঁদের বাড়ি কক্সবাজারের খুটাখালী। আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল, লিটন শিকদার, কাদের হোসেন, শাহজালাল হোসেন, মো. লিটন।
বিজিবি বলীপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াসির আরাফাত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তিন্দু বিজিবি ক্যাম্পের ৬০০ মিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিজিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে আলীকদম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠায়। নিহত দুজনের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
থানচি থানার ওসি কানন সরকার জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার জন্য তাঁরা তিন্দু যাচ্ছেন। সেখানে গেলে দুর্ঘটনার ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বন্ডেড অ্যাক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব কাঁচামালের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানায়, অভিযানে অনলাইন নথিতে থাকা মজুতের সঙ্গে বাস্তব মজুতের বড় ধরনের এমন অসংগতি পেয়েছে সংস্থাটি। জ্যাস অ্যাকসেসরিজ বিডি লিমিটেড বন্ডেড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ইউপি বা কাঁচামাল ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে বাস্তবে থাকা কাঁচামালের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে।
নথিপত্র অনুযায়ী, অনলাইন ইউপির হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড ওয়্যারহাউসে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা। কিন্তু সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।
অর্থাৎ নথিতে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায়নি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল। পরিমাণের হিসাবে ঘাটতি প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি।
সর্বশেষ আমদানি করা বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুসারে না পাওয়া এসব কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদির পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের এ ধরনের ঘাটতির বিষয়টি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। কাঁচামালগুলো অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে-তা অধিকতর যাচাই করা হচ্ছে। বিস্তারিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।