• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১২:২০ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ২:১২ এএম

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১২:২০ এএম

পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বসানো হলে তা থেকে তাপ তৈরি হবে। সেই তাপে পানি থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে আর সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পাবনার রূপপুরে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হচ্ছে আজ।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।


জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।


দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে কম খরচে দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ দেবে রূপপুর। দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করবে। এর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ। আজ সেই শক্তি ব্যবহার শুরু হচ্ছে।


এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছায় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। এরপর আসে আরও কয়েকটি চালান। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুত করে রাখা হয়েছে রূপপুরে।


পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগের শুরুটা ১৯৬১ সালে। রূপপুরে জমি অধিগ্রহণের কয়েক বছর পর প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। স্বাধীন দেশে এ নিয়ে আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক শক্তিকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও রুশ ফেডারেশন সরকারের মধ্যে একটি আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।


চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জেনারেল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন, কমিশনিং, পরীক্ষামূলক পরিচালনা, জনবলের প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রূপপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের কাঠামো তৈরি প্রায় শেষের দিকে। প্রথমটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সঞ্চালন লাইনের কাজও শেষ হয়ে গেছে। জ্বালানি প্রবেশ করানোর আগে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ শেষ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনপ্রক্রিয়া এক বছর ধরে চলতে পারে। এ সময়ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। নিতে হবে আন্তর্জাতিক সংস্থার ছাড়পত্র ও দেশের পরমাণু সংস্থার অনুমোদন।


পারমাণবিক জ্বালানি কী


পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। প্রথমে ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো জ্বালানি দানা (প্যালেট) বানানো হয়। এগুলোর ব্যাস সাধারণত ৮ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এমন অনেক জ্বালানি দানা প্রায় চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি হয় জ্বালানি রড। আবার নির্দিষ্ট কাঠামোতে অনেকগুলো রড একসঙ্গে যুক্ত করলে তৈরি হয় জ্বালানি বান্ডিল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। রূপপুরে ব্যবহৃত প্রতিটি বান্ডিলে ৩১২টি জ্বালানি রড আছে।


বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই জ্বালানি বান্ডিল চুল্লির কেন্দ্রে বসানো হবে। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডিল ব্যবহারের কথা। ২০২৩ সালে অতিরিক্ত একটিসহ মোট ১৬৪টি বান্ডিল দেশে আনা হয়। একবার জ্বালানি বসালে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ব্যবহৃত জ্বালানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকে। তাই তা বিশেষ নিরাপত্তায় রাশিয়ায় নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে প্রতিটি জ্বালানি বান্ডিলের হিসাব থাকবে।


বাণিজ্যিক উৎপাদনে আরও এক বছর


পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি দিতে হবে। জ্বালানিবর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।


রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, জ্বালানি প্রবেশ করাতে ৩০ দিন সময় প্রয়োজন হবে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে বিশেষ নজরদারিতে এটি করতে হবে। জ্বালানি প্রবেশ করানোর পর শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া। এ সময় পারমাণবিক বিকিরণ ঘটানো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে আরও ৩৪ দিন লাগবে। এরপর ধীরে ধীরে চুল্লিপাত্রের শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ৩, ৫, ১০, ২০, ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এতে আরও ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ করা সম্ভব হবে। এখান থেকে শুরু হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় গ্রিডে শতভাগ বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে।


দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে পারমাণবিক শক্তিকে বিবেচনা করছে সরকার। কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে দুই কোটি টন এবং গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ৮০ লাখ টন কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করবে রূপপুর। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্মাণ চলাকালে দিনে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ কাজ করেছেন রূপপুরে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চুক্তি অনুসারে প্রথম তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানির দাম প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে বছরে জ্বালানি খরচ হবে এক হাজার কোটি টাকা। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বছরে কয়লা লাগবে প্রায় এক কোটি টন। আর জ্বালানি তেল লাগবে ১৯ কোটি গ্যালন। এ ছাড়া কয়লা বা জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ বছর। আর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলবে ৬০ বছর পর্যন্ত। প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।


সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে, বেড়েছে খরচ


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মানেই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। সব নিরাপত্তা পরীক্ষা করেই এটি চালু করতে হবে। নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া পারমাণবিক বর্জ্য হাজার বছর পর্যন্ত তেজস্ক্রিয় থাকে। তাই এটাও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বেশি খরচ নিয়েও প্রশ্ন আছে।


ঠিকাদারের সঙ্গে করা মূল চুক্তি অনুসারে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। আর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ করার কথা ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল প্রকল্পের মেয়াদ।


এখন অতিরিক্ত চুক্তিতে প্রথম ইউনিটের জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময় নির্ধারণ করেছে সরকার। কাজ শেষ করার সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে একটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে গত বছরের ২০ জুন। গত জানুয়ারিতে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। তারা বাড়ায়নি। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে।


বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ব্যাহত হয়েছে। আর্থিক লেনদেনে জটিলতা, যন্ত্রপাতি দেশে আনা, বিশেষজ্ঞদের আসায় জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ডলার–সংকটে বিল পরিশোধে দেরি মিলিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। এতে কাজ পিছিয়ে গেছে। রূপপুর প্রকল্পের খরচের জন্য বছরে বরাদ্দ করা মোট অর্থের ১০ শতাংশ দিতে হয় বাংলাদেশ সরকারকে। ডলার–সংকটের কারণে এটিও নিয়মিত পরিশোধ করা যায়নি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে আরও এক বছর লাগবে। কোনোভাবেই এর চেয়ে বেশি সময় নেওয়া ঠিক হবে না। জ্বালানি প্রবেশ বড় মাইলফলক। তবে মানুষ বিদ্যুৎ পাওয়ার পর পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের মূল অর্জন নিশ্চিত হবে।



সর্বশেষ সব খবর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।


আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 


প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।  


ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। 


দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।


অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা। 


দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ। 


এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৯ পিএম

রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগার থেকে দুজনের নমুনা (ইউরিন) সংগ্রহ করা হয়।


পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দুজনের শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।


বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‌‘গতকাল (রোববার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ ফলাফল পেয়েছি। এতে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’


রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে ২৩ আগস্ট ভোরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুনের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী।


এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দিতে ২০ আগস্ট দিনগত মধ্যরাত থেকে পরদিন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ওই দুই আসামি ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।


রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্ট করার জন্যে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ওই আসামিদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডোপ টেস্টটা যেন জেলগেটে করা হয়, সেরকম একটা অনুরোধ আমাদেরকে করা হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখান থেকে দুইজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলগেটে পাঠাই। সেখান থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট সিলগালা করে আমরা আবার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিই।’


তিনি আরও বলেন, ‘এমফিটামিন অনেকদিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এরপরে আর পাওয়া যায় না। বিধায় যেহেতু এরা সাতদিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাতদিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।




প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’। 


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।


ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।


এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

সিলেটে স্বপ্ন দেখিয়ে নিভে গেল ৩৩৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প 'হাইটেক পার্ক। কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্নী এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় প্রতিষ্টিত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ট্রায়াল দেওয়া হয়। এ প্রজেক্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগ কারীরা। যারা প্লটও স্পেস ভাড়া নিয়েছিলেন তারাও বিরত রয়েছেন বিনিয়োগ থেকে। ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে জমি ও স্পেস ভাড়া দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে মাত্র একটি। ফলে মেগা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় হাইটেক পার্ক। মাটিভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩৩৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পটি। প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে ছিল হাইটেক পার্কে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদন।


এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যানড্রয়েড মোবাইল অপারেশন, জাভা এসই-৮ প্রোগ্রামিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কোর হার্ডওয়ার্ক অ্যান্ড অপারেটিং সিস্টেম, বিপিও, ই-কমার্স, এস কিউ, এল এডমিনিস্ট্রেশন, ওরাকল ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামীর প্রযুক্তিবিদও গড়ে তুলতেই নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এজন্য প্রকল্পে আইটি সেন্টারসহ দুটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়। 


হাইটেক পার্কটি পুরোদমে চালু হলে সেখানে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য ও সেবা দেশের ভেতর ও সিলেট সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ‘সেভেন সিস্টারে’ রফতানির প্রত্যাশা ছিল। এই প্রত্যাশা নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইটেক পার্কটিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১.৩৯৯ একর জমি এবং ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার ৭৬০ বর্গফুট স্পেস ৪০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বরাদ্দ নেওয়ার পর অনেকে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে বিনিয়োগ থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকে বিনিয়োগ স্থগিত রাখেন। এর মধ্যে নোহা অ্যান্ড সোহান এন্টারপ্রাইজ পাঁচতারকা হোটেলের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে চুক্তি বাতিল করেন। সিমেড লিমিটেড নামক অন্যএকটি প্রতিষ্ঠানও একই কারণে তাদের বরাদ্দকৃত জমি ছেড়ে দেয়।


এদিকে, পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি স্থগিত বা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেয় হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার হাইটেক পার্কগুলোকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কগুলোতে বিরাজমান সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে ঘটবে বিপ্লব। কর্মসংস্থান হবে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ তরুণ-তরুণীর। বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া সিলেটে গড়ে ওঠবে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প। গতি সঞ্চার হবে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতিতে। এমন স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হাইটেক পার্ক’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখানো ৩৩৬ কোটি টাকার সেই মেগা প্রকল্পের আকাশে জমেছে ঘনকালো মেঘ।


হাইটেক পার্কের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোরশেদুল আলম জানান, প্রকল্পটি শুরুতে বিনিয়োগকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দেশের অন্য এলাকা থেকে কম- এজন্য বিনিয়োগকারীরা ও আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পকারখানা স্থাপনে পিছিয়ে গেছেন। বর্তমানে র‌্যাংগস গ্রুপ তাদের ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং ইউনিট চালু করেছে। গ্যাসের অভাবে বাকি ইউনিটগুলো তারা চালু করতে পারেনি। সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে পার্কের কারখানাগুলো চালু রাখা বেশ ব্যয়বহুল।


মোরশেদুল আলম আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। অর্ন্তবর্তী সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা সিলেট হাইটেক পার্কে গ্যাস সংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু পেট্রোবাংলা সেটি আটকে দেয়। বর্তমান সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিরাজমান সমস্যার সমাধান হলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো ফিরবেন।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৭ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন, ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম, ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম, ভালুকা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাইন উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


এসময় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও অংশীজনের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

রংপুর সদর পাগলাপীরের মাদক ও মবসাম্রাজ্ঞী শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’সহ তাঁর সহযোগীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড যেন কোনোভাবেই থামছে না। জমি জবরদখল, মাদকের রমরমা ব্যবসা, হামলা, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।


সর্বশেষ রবিবার অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় তাঁরই সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ভয়ংকর সব অপরাধ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


রবিবার দুপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহিনুর বেগমসহ তাঁর ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাহিনুর বেগমেরই সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ আরও কয়েকজন।


পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে শাহিনুর বেগম ও তাঁর সহযোগীদের অতর্কিত হামলায় আহত হন তাঁরা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


এলাকাবাসী জানায়, দুবাই প্রবাসী নওশের আলম সুমনের মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে কেনা জমিসহ অন্যান্য জমি জবরদখল করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর সঙ্গে শাহিনুর বেগমসহ আরও অনেকের বিরোধ চলে আসছে।


এর জেরে ওই প্রবাসী ছুটিতে দেশে ফিরে জমি উদ্ধারে আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর জমির মামলার নোটিশ হাতে পেয়ে ওই প্রবাসীর বাড়িতে রাতের আঁধারে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় শাহিনুর বেগমসহ তাঁর সহযোগীরা।


এই ঘটনায় ওই প্রবাসী চিকিৎসা শেষে মামলা দায়ের করলে ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে শাহিনুর বেগমও মিথ্যা নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। আর সেই মামলায় সাক্ষী করা হয় তাঁরই সৎ বোন সাবনাজ বেগমকে।


ভুক্তভোগী শাবনাজ বেগম ও তাঁর পরিবারের লোকজন জানায়, নারী নির্যাতনের মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ, ভয়ভীতি, হয়রানি ও অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা।


তাঁদের অভিযোগ, সত্যের বাইরে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় একের পর এক ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবারটিকে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহিনুর বেগম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা, এলাকার মানুষের ওপর হামলা, গালিগালাজ, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।


এলাকাবাসীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাড়াটিতে মসজিদ নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে উত্তেজনা সৃষ্টি, লোকজন জড়ো করে হামলা, মিথ্যা মামলা এবং পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে উসকে দিচ্ছে।


জানা যায়, হরিদেবপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর পশ্চিম পাড়ায় নতুন করে গড়ে ওঠা পাড়ায় স্থানীয়দের ধর্মীয় সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজ অর্থে ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি কেনেন ওই প্রবাসী। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধ ও জবরদখলের কারণে মসজিদের নির্মাণকাজ থমকে আছে।


সম্প্রতি শাহিনুর বেগমের বোনের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকায় ৫৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯।


এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। শাহিনুর বেগমসহ তাঁর সহযোগীরা নতুন করে আবারও ওই প্রবাসীকে জড়িয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়ানো ও হত্যার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


উক্ত ঘটনার জেরে ইতিমধ্যে ওই প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে রংপুর সদর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং প্রবাসী নওশের আলম সুমন প্রবাস থেকে নিজ ও পরিবারসহ সম্পত্তি রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন।


এদিকে, ওই প্রবাসী গতবছর ছুটিতে দেশে আসলে পূর্বের জমির মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সেই চাপ না মানায় মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব তৈরি করে, কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের রংপুর সদর কমিটির সহসভাপতি ও খলেয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন (তোফা খানের) ছেলে রায়হান খাঁন ও তাঁর সহযোগী সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পাগলাপীর আলোয়াকুড়ি নামক জায়গায় ২০২৫ সালের ২২ জুন নওশের আলম সুমনের ওপর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল হামলা চালায়।


এ সময় মারধর, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।


এর পাঁচদিন পর, ২৭ জুন রাতে আবারও ওই প্রবাসীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব তৈরি করে পাঠানপাড়া থেকে লোকজন জড়ো করে প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বাড়িতে হামলার পরিস্থিতি তৈরি এবং পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।


পরে ঘটনাস্থলে যৌথবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সিরাজুল ইসলামের মামাতো দুই ভাই সেনাবাহিনীর কাছে আগুন লাগানোর ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


এদিকে, আদালতের রায় ওই প্রবাসীর পক্ষে গেলেও আদালতের রায় অমান্য করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান খাঁন, সিরাজুল ইসলাম দলবল নিয়ে মসজিদের জমির অপর পাশে জবরদখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন।


এমন বাস্তবতায় পাগলাপীরের মহাদেবপুর পশ্চিমপাড়ার এই বিরোধ এখন আর শুধু ব্যক্তি বা জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রবাসীকে চাঁদা দাবিতে টার্গেট করা, হামলা, ভয়ভীতি, মামলা, জমি দখল এবং মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়ে মব তৈরির অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।


স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।

সর্বশেষ সব খবর