সংগৃহীত ছবি
ইট বিছানো গ্রামীণ সড়ক পাকা করার কথা বলে আয়োজন করা হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ঘটা করে উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই সড়ক থেকে একে একে তুলে নেওয়া হয় সব ইট। এরপর মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি কোনো নির্মাণকাজ।
পরে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়রা জানতে পারেন, সড়ক পাকা করার কোনো প্রকল্পই নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, প্রতারণার মাধ্যমে সড়কের ইট তুলে নিয়ে গেছে একটি চক্র। একই কায়দায় অন্য একটি সড়কের ইট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ওই চক্রের সদস্যদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ঘটনাটি জামালপুর সদর উপজেলার রশীদপুর ইউনিয়নের। ওই ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে পাকুল্যা ভাঙ্গুনি ঘাট থেকে গজারিআটা ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এবং ভাঙ্গুরিঘাট থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। এতে গজারিআটা, গোপীনাথপুর, হাটুভাঙ্গা, ডুয়াইলপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছিল।
গত মে মাসে ওই সড়ক পাকা করার কথা বলে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের জানানো হয়, চার কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় আবদুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে কোনো সন্দেহ তৈরি হয়নি। কিন্তু অনুষ্ঠানের পরদিন থেকেই আবদুল মান্নানের লোকজন সড়কের পুরোনো ইট তুলে বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
পরে স্থানীয়রা এলজিইডির কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই সড়কের জন্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হয়নি এবং কোনো দরপত্রও হয়নি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের আমেছ আলীর ছেলে আবদুল মান্নান (৫০)। দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকার পর এলাকায় ফিরে তিনি নিজেকে ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের ইট সরিয়ে নেওয়ার পর একই কৌশলে সদর উপজেলার চাঁদপুর এলাকার আরেকটি সড়কের ইট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে গত ১৬ জুন স্থানীয়রা আবদুল মান্নানসহ তার সহযোগীদের আটক করে পুলিশে দেন।
জামালপুরের নারায়ণপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. মঞ্জুরুল খান জানান, চাঁদপুর এলাকায় ইট তুলে নেওয়ার সময় এলাকাবাসী চক্রটির ১১ সদস্যকে আটক করে পুলিশে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙ্গুরিঘাট থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত সড়কের কোথাও একটি ইটও নেই। পুরো সড়কজুড়ে কাদা ও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। অনেকেই জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে চলাচল করছেন।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও ভোগান্তি বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গজারিআটা গ্রামের রফিক মিয়া বলেন, কয়েক মাস আগেও এই সড়ক দিয়ে সহজে চলাচল করা যেত। এখন কাদা ও গর্তের কারণে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত সড়কটি পাকা করা সম্ভব না হলে অন্তত আগের মতো ইট বিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় শিক্ষার্থী শাকিল, রুকন ও কমল মিয়া জানায়, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগছে।
রশীদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য জামিল হাসান বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকায় তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
তবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন বলেন, সংসদ সদস্যের যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তখন বিষয়টি প্রতারণা বলে বোঝা যায়নি।
সড়ক পাকা করার কথিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী (মামুন)।
তিনি বলেন, তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাননি, তবে সড়ক দেখতে গিয়েছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই সড়কের জন্য কোনো প্রকল্প বা দরপত্র হয়নি। এরপর দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, উদ্বোধনের বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হয়নি। তবে মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় সড়কগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলজিইডির জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কগুলোর কোনো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান নেই। তবে মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
কাল দিনভর শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর আজও স্বাভাবিক হয়নি আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অনেক কারখানায় কর্মীরা হাজির হলেও কাজ না করে বিক্ষোভ করে শুরু করেন। কিছু কারখানার ভেতরে এবং কিছুক্ষেত্রে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে অনেক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনন্ত গার্মেন্টস, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নীট এশিয়া, হা-মীম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপ।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কিছু কারখানায় শ্রমিকরা এলেও কাজ না করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এমন প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশুলিয়ায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। রাজধানীর মিরপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এবং নারায়ণগঞ্জে মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। কারখানা ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৫টি, গাজীপুরে ৩, সাভার ও আশুলিয়ায় ২টি। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন।
সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।
ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।
সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।