• প্রকাশ : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ এএম

নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশার আবহে মুখর হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের ভালুকা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভালুকা উপজেলা ও পৌর শাখার নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শুভেচ্ছা মিছিল। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সদরে আয়োজিত শুভেচ্ছা মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। পরে তাঁর নেতৃত্বে এবং নবনির্বাচিত নেতাদের অংশগ্রহণে মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলজুড়ে দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন এবং নেতাকর্মীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত ভালুকা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, ভালুকা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিয়াদুল হক খান মিয়াদ, সদস্য সচিব ইমরুল হাসান কায়েসসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী।


উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আজিজুল হাকিম আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভালুকা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি এবং ভালুকা পৌর ছাত্রদলের ১৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে মো. রিয়াদ পাঠানকে সভাপতি এবং মাহমুদুল হাসান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। পাশাপাশি শরীফ হাসানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মো. আনোয়ার হোসেনকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. জাহিদ হাসান প্রান্তকে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে মিয়াদুল হক খান মিয়াদকে, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিদ আল হাসান মৃদুল এবং সদস্য সচিব ইমরুল হাসান কায়েসকে। বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জেলা ছাত্রদলের দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


মিছিল শুরুর পূর্বে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আদর্শকে সমুন্নত রেখে দেশ, জাতি এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের সফলতা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।


নবনির্বাচিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিয়াদ পাঠান বলেন, “দল আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা সততা, নিষ্ঠা ও ঐক্যের সঙ্গে পালন করব। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করে ভালুকা উপজেলা ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”


সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু বলেন, “তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে ছাত্রদলকে আরও গতিশীল করা হবে। দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা থাকবে।”


এদিকে, নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আজিজুল হাকিম আজিজ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নেতাকর্মীরা। শুভেচ্ছা মিছিলের মাধ্যমে তারা সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার পর থেকেই উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটির নেতৃত্বে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদলের কার্যক্রম নতুন মাত্রা লাভ করবে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

‘অগ্রহায়নের আট, যেখানে মন সেখানে ধান কাট’ অর্থাৎ অগ্রহায়নের ৮ তারিখ থেকে আমন ধান কাটা যাবে-দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রবাদ রয়েছে পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে। কিন্তু সেদিন বদলেছে। এখন কার্তিকের শুরুতেই মাঠে পাঁকছে আগাম জাতের আমন ধান। এখন পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলাগুলোতে আর আশ্বিন-কার্তিক মাস অভাবের মাস থাকে না। আমন ধান রোপনের পর থেকে অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত কৃষি শ্রমিকদের হাতে কোন কাজ থাকত না। এই সময়টাতে অনেকে কাজের সন্ধানে চলে যেত ভিন্ন জেলায়। এখন আর পঞ্চগড়সহ এই এলাকার লোকজনদের আর কাজের সন্ধানে খুব বেশি একটা জেলার বাইরে যেতে হয়না। 


আগাম জাতের ধান চাষ এবং সেই জমিতে আগাম শীতকালীন শাক সবজি আবাদ করার কারণে কৃষি শ্রমিকদের কাজ লেগেই থাকে। অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকার জমিতে লাগানো ধান কেটে বাড়িতে আনায় কৃষকের ঘর নতুন ধানের গন্ধে মৌ মৌ করছে। চলছে পিঠা-পুলির আয়োজনও। আর এখনও যাদের ধান পাকেনি তারা তাদের কাছ থেকে ধান ধার করে নিয়ে দিন পার করছেন। আর ধান কেটে এনে বাড়িতে মাড়াইয়ের পর কাঁচা খড়ের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট থাকায় অনেকে এই কাঁচা খড় অধিক দামে বিক্রয় করে অধিক লাভ করতে পারছে কৃষকরা।  


কৃষকরা জানান, আদিকাল ধরেই পঞ্চগড়ের কৃষকরা সম্পূর্ণ প্রকৃতি নির্ভর আমন ধান চাষ করে আসছেন। আগে অগ্রহায়ন মাসের শুরু থেকে আমন ধান কাটা শুরু হলেও এখন তার থেকে এক-দেড় মাস আগেই কৃষকরা ঘরে তুলতে পারছেন আমন ধান। বর্ষা মৌসূমের শেষ দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে উত্তরের জেলাগুলোতে। আগামে জাতের ব্রি ধান-৩৩, ৫৬, ৬২, ৭২, বিনা-৭ ধান, ভারতীয় জাতের গুটি পারি, স্বর্ণা পারিসহ বিভিন্ন ধান ইতোমধ্যে পাকা শুরু করেছে। পুরনো জাতের আমন ধান আবাদ করে যেখানে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৮-১০ মন ধান পেত; আগাম জাতের ধান আবাদ করে তারা ১৫-২০ মন পর্যন্ত ধান পাচ্ছেন। শুরুতে ধানের দাম কিছুটা কম হলেও কাঁচা খড় বিক্রয় করে অধিক টাকা আয় করতে পারছেন কৃষকরা। এক বিঘা জমির ধান কেটে মাড়াইয়ের পর কাচা খড় হিসেবে ধানের আটি বাজারে বিক্রয় হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। অনেকে আবার ধান কাটার পর দ্রুত জমিতে চাষ দিয়ে মাটি শুকিয়ে নিচ্ছেন। কিছু দিনের মধ্যে ধানের জমিতে আগাম জাতের আলু, সরিষাসহ শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করবেন কৃষকরা।


পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ময়দানদিঘী ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে সব ধান পেকে গেছে। ধানের চেহারা খুব ভাল। প্রতি বিঘায় ১৯-২০ মন ফলন আসতে পারে। আগামী দুই/দিনের মধ্যে ধান কাটবেন তিনি। 


তিনি আরও জানান, বর্ষার শেষ থেকে ধান ক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমনে দিশেহারা হয়েছিলেন তিনি। অনেক টাকার ওষুধ জমিতে স্প্রে করতে হয়েছে। আগের থেকে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। পাশের ময়দানদিঘী বাজারে নতুন প্রতি মন ধান এক হাজার একশ থেকে এক হাজার দুইশ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। প্রতি মন ধান এক হাজার পাঁচশ টাকা হলে আমরা কৃষকরা লাভবান হতে পারতাম। আমি দুই বিঘা জমির ধান কেটে ওই জমি চাষ করে আলু লাগাবো। কিছু জমিতে বিভিন্ন শাক সবজি চাষ করব। বাড়ির খাওয়ার পর অবশিষ্ট শাক সবজি ময়দানদিঘী বাজারে নিয়ে বিক্রয় করতে পারব।  


এ নিয়ে কথা বললে পঞ্চগড়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, চলতি আমন মৌসূমে পঞ্চগড় জেলায় এক লাখ ৪৪ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ জেলায় এক লাখ ৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি। আমাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তিন লাখ ৬১ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন। তবে আমাদের আশা এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি ধান উৎপাদিত হবে। 


তিনি আরও জানান, নতুন কাঁচা ধান বাজারে উঠায় এখনও দাম বেশ কম। আমরা আশা করছি পুরো মৌসূম শুরু হলে এবং মিলাররা ধান কেনা শুরু করলে ধানের দাম আরও বেড়ে যাবে। এছাড়া আগাম ধান কাটার পর সেই জমিতে আলু, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন শাক সবজি আবাদ করে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৫ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।  


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।


পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।


তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।


পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।


এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।


পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।


অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।


এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ নগর ছাত্রদল নেতা রিফাত দেওয়ান ও তাঁর বন্ধু জুম্মনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। টিভি আনোয়ার ও তাঁর ভাগিনা মঞ্জুর নির্দেশে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে এরশাদনগরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিফাত দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, গত ২৯ অক্টোবর ফুটবল খেলতে মাঠে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

একই ঘটনায় তাঁর বন্ধু জুম্মনও হামলার শিকার হন। হামলার সময় তাঁকে টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামুর সঙ্গে চলাফেরা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন রিফাত। তিনি আরও জানান, হামলায় রিফাতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত জুম্মনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৩০ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম কামু।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ওরফে টিভি আনোয়ার তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কামরুল ইসলাম কামু আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কারণে তাঁকে হামলা-মামলা ও নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে এবং বাড়িছাড়া থাকতে হয়েছে। এমনকি বাড়িতে থাকতে না পারায় নিজের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। তাঁর ভাগিনা মঞ্জুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন কামরুল ইসলাম।

এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মঞ্জু কীভাবে যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ছাত্রদল নেতাসহ দুজনের ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা অবিলম্বে মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের পর এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৬) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।


মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের অদূরে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ওই নারীকে হত্যার পর রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হলেও প্রথম দিকে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পরিবার ওই নারীকে তাদের মেয়ে মনে করে তাঁর দাফন সম্পন্ন করে।


ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ৮ মার্চ রাতে কিসমত এলাকায় ইজিবাইক চুরির সময় রিফাত বিন সাজ্জাদ নামে ওই যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাঁকে ইজিবাইকসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁর মোবাইল ফোনে ওই অজ্ঞাত নারীর একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।


পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি রাতে দিনাজপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে কিসমত রেলস্টেশনে নামিয়ে নেন তিনি।


এরপর তাঁকে শাপলা কিন্ডারগার্টেনের একটি পরিত্যক্ত ঘরে এবং একটি সুপারি বাগানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই নারী তাঁর মোবাইল ফোন ও টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে ওই নারী গালাগাল করলে তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন রিফাত। পরে একটি চাকু সংগ্রহ করে ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং যৌনাঙ্গ ও স্তন কেটে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আলামত আড়াল করতে মরদেহ টেনে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।


এ ঘটনায় আটোয়ারী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত এ রায় দেন।


পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খলিলুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। এ রায় ন্যায়বিচারের একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০২ পিএম

লালপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার ( ৩ নভেম্বর) লালপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়াজেদ আলী মৃধা, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু । 


এসময় উপস্থিত ছিলেন দপ্তর প্রধান গণ, ইউপি চেয়ারম্যান গণ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক।


ইমাম গাজ্জালী (ডিগ্রী) কলেজের একাডেমিক ভবন এবং স্মার্ট ফোন নিষিদ্ধ করে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

এইচএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ও একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরাতে স্মার্টফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রামের রাউজানের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র ছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


গত সোমবার (২ নভেম্বর) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল জব্বার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। মঙ্গলবার স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।


কলেজ কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাটন ফোন ছাড়া অন্য কোনো স্মার্টফোন শিক্ষার্থীদের কাছে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।


কলেজটির চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ৩৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৮২ জন। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কেউ জিপিএ-৫ পাননি। পাসের হারের দিক থেকে রাউজান উপজেলার ১৩টি কলেজের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১২তম।


ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের পর শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।


এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল জব্বার চৌধুরী বলেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফলের অন্যতম প্রধান কারণ শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি। অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ না দিয়ে স্মার্টফোন নিয়ে সময় কাটায়। পড়াশোনা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও আদান-প্রদানে স্মার্টফোনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও শিক্ষার্থীরা এর অপব্যবহার করছে। এইচএসসি পর্যন্ত, বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।


অধ্যক্ষ আরও বলেন, গত সোমবার একাদশ শ্রেণির ক্লাস থেকে ২৫টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা ফোনগুলোর মালিক শিক্ষার্থীদের কারও কারও কাছে বই নেই বা বই কেনার সামর্থ্য নেই, অথচ তাদের হাতে দামি স্মার্টফোন রয়েছে। তাঁরা শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার চেয়ে মোবাইল ফোনেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে নিয়মিত ক্লাসে এলে জব্দ করা ফোনগুলো তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে ফোন জব্দের পর স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা সেগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁকে ফোন করেছেন বলেও জানান তিনি।


এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের আরেকটি কারণ হিসেবে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন অধ্যক্ষ। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরই মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে ছয় বিষয়ে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীসহ অনেককে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হয়েছে। এ ধরনের চাপ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মুক্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।


কলেজের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ছাত্রদের নির্ধারিত পোশাক সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট। ছাত্রীদের সাদা থ্রি-কোয়ার্টার অ্যাপ্রোন, সাদা সালোয়ার-কামিজ ও সাদা ওড়না পরতে হবে। তবে বোরকা পরিহিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ইউনিফর্মের শর্ত শিথিলযোগ্য রাখা হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে বুধবার (৪ নভেম্বর) এসএসসি পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র কলেজ অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কলেজের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অনেকে। অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের আসক্তি ও অপব্যবহার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতা ও অভিভাবকদের তদারকি জরুরি।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন থাকাই মূল সমস্যা নয়, বরং এর ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাই উদ্বেগের বিষয়। তাই তাদের মধ্যে সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির যুগে স্মার্টফোন থেকে পুরোপুরি দূরে না রেখে কোন কাজে, কীভাবে ও কতটুকু ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।


১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজটি রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সামনে অবস্থিত। দীর্ঘদিনের এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ফলাফল শিক্ষার গুণগত মান ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্মার্টফোন নিষিদ্ধ, ইউনিফর্ম ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করাও জরুরি।