সংগৃহীত ছবি
পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে মাস দেড়েক আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জামালপুর সদর উপজেলার মো. আরমান আলী (৩০)। ধারদেনা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটি এজেন্সির মাধ্যমে তিনি রাশিয়া যান। কথা ছিল কোনো কোম্পানির কিংবা নির্মাণশ্রমিকের কাজ পাবেন। কিন্তু দালাল তাঁকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রাণহানির শঙ্কা নিয়ে যুদ্ধশিবিরে দিন পার করছেন আরমান। ইতিমধ্যে যুদ্ধে আহতও হয়েছেন তিনি। এখন যুদ্ধশিবির থেকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
আরমান আলী জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের গোদাশিমলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাড়িতে পাঁচ মাস বয়সী এক সন্তান ও স্ত্রী আছে। গত ৭ মে আরমান রাশিয়ায় যান। এর পর থেকে তিনি রুশ সেনাবাহিনীর হেফাজতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করছেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে আরমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। তাঁদের মুখে হাসি নেই। এখন শুধুই দুশ্চিন্তা। আরমানের যুদ্ধশিবিরে আটকা পড়ার খবরে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় করছেন। সবার মধ্যে দীর্ঘশ্বাস। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি দোলনায় দোল খাচ্ছিল। যুদ্ধশিবির থেকে তার বাবা ফিরতে পারবেন কি না, সে জানেও না।
টিনশেড ঘরের দরজায় বসে কাঁদছিলেন আরমানের মা রেখা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে সংসারের অভাব দূর করতে চেয়েছিল আরমান। কিন্তু এখন প্রতিদিনই আমরা অপেক্ষা করি, ছেলের একটি ফোনকলের জন্য। কই আমার বাবার ফোন তো আসে না। আমার বাবাকে ফেরত চাই।’
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাশিয়ায় যাওয়ার পর আরমানের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ ছিল না। ২৬ মে হঠাৎ আরমান ফোন করে জানান, তাঁকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তের মাঝামাঝি কোনো একটা যুদ্ধশিবিরে আছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি বাঁচার আকুতি জানিয়ে দেশে ফিরতে সহযোগিতা চান। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা আর কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না।
কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পোশাক পরা অবস্থায় আরমানের কান্নাজড়িত একটি ভিডিও দেখতে পান স্বজনেরা। ভিডিওতে আরমানকে বলতে দেখা যায়, তিনিসহ ৩০ জন একসঙ্গে রাশিয়ায় যান। এজেন্সির লোকজন তাঁদের কোম্পানি অথবা কনস্ট্রাকশন সাইটে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু রাশিয়ায় নেওয়ার দুই দিনের মধ্যে তাঁদের রাশিয়ার দুই নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের যুদ্ধের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে আরমানকে বলতে শোনা যায়, ‘রুশ ক্যাম্পে আমাদের তিন থেকে চার দিনের ট্রেনিং দেয়। এরপর ৩০ জনের মধ্যে ১৪ জনকে একটি ক্যাম্পে এবং আমিসহ ১৬ জনকে অন্য একটি ক্যাম্পে পাঠায়। আমাদের মধ্য থেকে পাঁচ থেকে ছয়জনকে ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়। ফ্রন্টলাইনে মাটির নিচে গ্রেনেড থাকে, মাইন পোঁতা থাকে ও ওপরে ড্রোন থাকে। আমাদের ড্রোন দিয়ে কন্ট্রোল করা হয়। মাছের টোপের মতো আমাদের ব্যবহার করা হয়। ডাইনে যাইতে বললে ডাইনে যাইতে হয়, বামে যাইতে বললে বামে যাইতে হয়। এভাবে আমাদের ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। এখন চারজন জীবিত আছি। তবে ড্রোন হামলায় আমরা আহত। আমি বাম হাতে আহত হইছি। আমাদের দুজন এখনো হাসপাতালে আছে।’
ভিডিওর আরেকটি অংশে আরমান বলেন, ‘আমাদের এখন ক্যাম্পে রাখা হইছে। যেকোনো সময় ফ্রন্টলাইনে পাঠায় দিতে পারে। কখন পাঠাবে আমরা জানি না। আল্লাহ ভরসা, আল্লাহই ভালো জানে। আমরা তো ভাষা বুঝি না, কোনো কিছু বুঝি না, বুঝাইয়া বলতেও পারি না। আমাদের যখন যা বলে, তা–ই করতে হয়। ফ্রন্টলাইনে না যেতে চাইলেই আমাদের মারধর করা হয়। মাটির নিচে বাংকারে আটকায়া রাখে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার বাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চা আছে। আমরা তো এই জীবন চাই নাই। আমরা আসছিলাম শুধু ডাল-ভাত খাইয়া বাঁচার জন্য। আমাদের এভাবে বিক্রি করে দিছে। এখন কী করব বুঝতে পারতেছি না। আমাদের রক্ষা করুন, প্লিজ।’
আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উন্নত জীবনের জন্য ছেলেটা প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিল। তাঁকে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তিনি তাঁর ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চান।
আরমানের ছোট ভাই মো. সালমান বলেন, ‘আমার ভাই আগে কাজের জন্য ইরাকে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় চার বছর ছিলেন। তিন বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। দুই বছর আগে বিয়ে করেন। ইরাক থেকে ফেরার পর দীর্ঘদিন কোনো কাজকর্ম ছিল না। সংসারের অভাব দূর করে ভালোভাবে বাঁচার আশায় আবার বিদেশে যান। গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়েছেন। এখন তাঁদের দিয়ে যুদ্ধ করানো হচ্ছে। আমরা জানি না ভাই এখন কোথায় আছে, কেমন আছে, আদৌ বেঁচে আছে কি না। কী করব, কার কাছে যাব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা শুধু চাই, আমার ভাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসুক।’
গ্রাম পুলিশ। লোগো
গ্রাম পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী ‘দফাদার’ পদবি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ করা হয়েছে। এছাড়া ‘মহল্লাদার’ পদ পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন পদবি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ৪৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উপরি-উক্ত বিধিমালার সর্বত্র উল্লিখিত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট খুলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মনিরুল দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। স্থানীয়রা জানান, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তার বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। মুড়ির প্যাকেটটি ঘরের ভেতর মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।
তারা জানান, এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্রে আগুন ধরে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দূর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ অভিমুখে এলজিইডির বাস্তবায়নে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে।
দীর্ঘদিন থেকে খানাখন্দে ভরপুর রাস্তা যেন যৌবন ফিরে পেল এমনটা মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্ষাকালে এই পথ দিয়ে প্রায় হাঁটু পরিমাণ কাঁদা হতো৷ ইদিলপুর থেকে ধাপের হাট যেতে ঘুরতে হতো ১০ কিলোমিটার রাস্তা। এতে করে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থের পাশাপাশি নষ্ট হতো পণ্যও৷ সেইসাথে শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হতো চরম বিপাকে। এমনকি রাস্তা খারাপ থাকায় বিয়ে পর্যন্ত ভেঙ্গে যেত।
বর্তমানে এলজিইডি সাদুল্লাপুরের নিবিড় তদারকিতে রাস্তার কাজ স্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
রাস্তা উন্নয়নের বিষয়ে ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান জানান, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত সকল মালামাল মানসম্মত দেখেছি। তবে আমার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।
ধান,হলুদ,মরিচ,পেঁয়াজসহ বহু কৃষিজাত পণ্যের সমাহার ধাপেরহাট ও ইদিলপুর এলাকায়। উর্বর মাটিতে যেন সোনা ফলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নীতকরণের ফলে এখানকার কৃষি একধাপ এগিয়ে যাবে এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।
রাস্তা নির্মাণ নিয়ে কথা হয় সাদুল্লাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মেনাজ এর সাথে তিনি জানান, ইদিলপুরে আমাদের ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তায় প্রতিটা লেয়ারে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভালোভাবে করা হয়েছে। আমাদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট সকলে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
রাস্তা উন্নয়ন মানেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে কাজের মান ভালো হলেই স্থায়িত্ব ভালো হবে। ভালো কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এমনটা প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার( ৩ নভেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি- ২ আসনের সাংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ,নলছিটি পাবলিক লাইব্রেরি এন্ড সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাহার,নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল খান,ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলার সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হায়দার বাদল। এসময় উপজেলার ১০৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সড়কের পাশে অবস্থান নিতে এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম খান রাজু, ভালুকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তারা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে থাকা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।