অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার
ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর সদর পেরিয়ে এখন গ্রামাঞ্চলের গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে এক নীরব কিন্তু মারাত্মক সংকট অনলাইন জুয়া। স্মার্টফোন ও সস্তা ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এই অবৈধ কার্যক্রমকে অদৃশ্য স্রোতের মতো প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পৌঁছে দিয়েছে। এর প্রভাবে বাড়ছে আসক্তি, ভেঙে পড়ছে পারিবারিক বন্ধন, আর নিঃস্ব হয়ে পড়ছে অসংখ্য পরিবার।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় হাটবাজার, চায়ের দোকান কিংবা পাড়ার আড্ডাস্থলে মোবাইল ফোনে নিমগ্ন তরুণদের একটি বড় অংশ আসলে যুক্ত রয়েছে অনলাইন বেটিং, ক্যাসিনো গেম কিংবা ভার্চুয়াল জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। কয়েক বছর আগেও যেখানে গ্রামীণ জুয়ার পরিধি ছিল সীমিত, সেখানে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির হাত ধরে তা নিয়েছে ভয়াবহ রূপ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেসবুক গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং নানা ধরনের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে মানুষ। শুরুতে অল্প পুঁজি দিয়ে খেলার প্রলোভন দেখানো হলেও, পরে বড় অঙ্কের টাকার লোভে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। লেনদেনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস; কিছু ক্ষেত্রে গোপন অনলাইন ওয়ালেটও ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এই সংকটের মানবিক চিত্র আরও স্পষ্ট হয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতায়। উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের এক গৃহবধূ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমার স্বামী আগে খুব ভালো ছিলেন। এখন সারাদিন মোবাইল নিয়ে থাকে। জুয়ার জন্য ঘরের জিনিসপত্র পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছে। সংসারে শান্তি নেই, সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।”
আরেক মা জানান, তার কলেজপড়ুয়া ছেলে জুয়ার আসক্তিতে পড়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ঋণও করেছেন, যা পরিশোধ করতে গিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জুয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও শিশুদের ওপর। সংসারে অশান্তি, আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ভালুকা পৌরসভার স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম বলেন, “ইসলামে জুয়া সম্পূর্ণ হারাম। এটি মানুষের নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয় এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করা হয়েছে। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ এর অধিকাংশ প্ল্যাটফরম বিদেশভিত্তিক। তবে নিয়মিত দালাল ও এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবুও সচেতনতার অভাবে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। অনলাইন জুয়া নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসঙ্গে এসব নিয়ে কাজ করতে হবে।”
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন মাসুদ এ প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার আজ আমাদের তরুণ সমাজ ও পারিবারিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণরা খুব সহজেই এই আসক্তির ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, “একসময় মাদক ছিল সমাজ ধ্বংসের প্রধান কারণ, এখন সেই জায়গায় ভয়ঙ্কর রূপে যুক্ত হয়েছে অনলাইন জুয়া। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। পরিবারে অশান্তি বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, এমনকি সামাজিক অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
রুহুল আমিন মাসুদ বলেন, “এই সংকট মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাইকে একসঙ্গে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্ম বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সন্তানদের রক্ষায় এখনই সচেতন হতে হবে। নতুবা অনলাইন জুয়ার এই নীরব মহামারি ভবিষ্যতে সমাজের জন্য আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।”
আইনগত দিক থেকে বাংলাদেশে জুয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রচলিত আইনে জুয়ায় সম্পৃক্ততার জন্য জেল ও জরিমানার বিধান থাকলেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এর প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে যা নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার এবং সামাজিক আন্দোলন সবকিছু একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবে এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায় এই অদৃশ্য জুয়ার জাল কি সময়মতো ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব? নচেৎ, নীরবে বিস্তারমান এই ডিজিটাল আসক্তি কেবল ব্যক্তিকে নয়, ধীরে ধীরে গ্রামবাংলার সামাজিক ভিত্তিকেই ভেঙে দিতে পারে যার প্রতিক্রিয়া বহন করতে হবে পুরো সমাজকে।
গ্রাম পুলিশ। লোগো
গ্রাম পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী ‘দফাদার’ পদবি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ করা হয়েছে। এছাড়া ‘মহল্লাদার’ পদ পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন পদবি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ৪৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উপরি-উক্ত বিধিমালার সর্বত্র উল্লিখিত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট খুলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মনিরুল দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। স্থানীয়রা জানান, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তার বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। মুড়ির প্যাকেটটি ঘরের ভেতর মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।
তারা জানান, এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্রে আগুন ধরে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দূর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ অভিমুখে এলজিইডির বাস্তবায়নে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে।
দীর্ঘদিন থেকে খানাখন্দে ভরপুর রাস্তা যেন যৌবন ফিরে পেল এমনটা মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্ষাকালে এই পথ দিয়ে প্রায় হাঁটু পরিমাণ কাঁদা হতো৷ ইদিলপুর থেকে ধাপের হাট যেতে ঘুরতে হতো ১০ কিলোমিটার রাস্তা। এতে করে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থের পাশাপাশি নষ্ট হতো পণ্যও৷ সেইসাথে শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হতো চরম বিপাকে। এমনকি রাস্তা খারাপ থাকায় বিয়ে পর্যন্ত ভেঙ্গে যেত।
বর্তমানে এলজিইডি সাদুল্লাপুরের নিবিড় তদারকিতে রাস্তার কাজ স্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
রাস্তা উন্নয়নের বিষয়ে ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান জানান, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত সকল মালামাল মানসম্মত দেখেছি। তবে আমার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।
ধান,হলুদ,মরিচ,পেঁয়াজসহ বহু কৃষিজাত পণ্যের সমাহার ধাপেরহাট ও ইদিলপুর এলাকায়। উর্বর মাটিতে যেন সোনা ফলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নীতকরণের ফলে এখানকার কৃষি একধাপ এগিয়ে যাবে এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।
রাস্তা নির্মাণ নিয়ে কথা হয় সাদুল্লাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মেনাজ এর সাথে তিনি জানান, ইদিলপুরে আমাদের ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তায় প্রতিটা লেয়ারে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভালোভাবে করা হয়েছে। আমাদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট সকলে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
রাস্তা উন্নয়ন মানেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে কাজের মান ভালো হলেই স্থায়িত্ব ভালো হবে। ভালো কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এমনটা প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার( ৩ নভেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি- ২ আসনের সাংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ,নলছিটি পাবলিক লাইব্রেরি এন্ড সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাহার,নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল খান,ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলার সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হায়দার বাদল। এসময় উপজেলার ১০৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সড়কের পাশে অবস্থান নিতে এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম খান রাজু, ভালুকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তারা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে থাকা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।