• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম
  • আপডেট : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৪৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন অনুষদে অধ্যয়নরত মোট ২৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাগাও ন্যাচারাল এনভাইরনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ), জাপান কর্তৃক প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। 


আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার রুমে আয়োজিত আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে উক্ত বৃত্তির চেক তুলে বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ। বৃত্তির আওতাধীন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাৎসরিক ৩৮ হাজার টাকা হারে তিন বছর পর্যন্ত এ আর্থিক সুবিধা পাবেন। 


উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল বাশার, বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. আশাবুল হক, এগ্রিবিজনেস ও ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহিল বাকি, কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রহিম। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। 


সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম জানান, শেকৃবিতে ২০১৬ সাল থেকে এনইএফ বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট ৯২ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি অর্জন করেছেন।


শেকৃবি ছাড়াও দেশের গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে এই বৃত্তি নির্বাচন করা হয়।


বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ বলেন, "যেকোনো বৃত্তি সম্মানের বিষয়। পুরস্কার মানুষকে সম্মানিত করে। এনইএফ স্কলারশিপ একটি অত্যন্ত প্রেস্টিজিয়াস ও আন্তর্জাতিক মানের বৃত্তি।" 


বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনে আরও বেশি মনোনিবেশ করবে এবং নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন এমনটিই প্রত্যাশা বলে জানান উপাচার্য ড. লতিফ। 




নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২২ এএম

বিরোধ মেটাতে থানায় এসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাঁচজনকে আটক করেছে।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।


আটককৃতরা হলেন, মো.আলা উদ্দিন ওরফে সহেল, ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো.আজগর আলী, জাহিদুল ইসলাম সাব্বির ও মাইন উদ্দিন।  


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছোটধলী গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আলাউদ্দিন ওরফে সোহেল প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লামছি প্রসাদ গ্রামের মাশরুপা আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন। প্রায় তিন মাস আগে সহেল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থানায় আসেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দাস গুপ্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ থানার বাইরে যাওয়ার সময় থানার গেটসংলগ্ন সড়কে দুই পক্ষের লোকজন বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, একটি পারিবারিক বৈঠক শেষে চলে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাথে সাথে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সাতক্ষীরার এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণ দাবি

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা জা.আ.ফো'র


সাতক্ষীরার এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণ দাবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ এএম

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবিতে আগামী (২৮ অক্টোবর) মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আকবর আলীর সভাপতিত্বে আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাড. নুরুল আমিন।


সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. এবিএম সেলিম, অ্যাড. শহীদ হাসান, অ্যাড. আবু সাঈদ রাজা, অ্যাড. শাহরিয়ার হাসিব, অ্যাড. জি এম ফিরোজ আহমেদ, অ্যাড. মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাড. ওলিউল্লাহ, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম (৫), অ্যাড. সোহরাব হোসেন বাবলু ও অ্যাড. সরদার সাইফসহ সংগঠনের নেতারা। আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত (১৯ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার আদেশকে কেন্দ্র করে সিনি: আইনজীবী অ্যাড. আকরাম আলী এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাড. আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আমিনের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনায় আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


এ সময় তারা আরো বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে যেকারো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।


এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন সহ এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


তবে, এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস জানান, তার সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ভিপি “ল” ইয়ার অ্যাড. নুরুল আমিন কর্তৃক সরকারের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করায় আইনমন্ত্রালয়ে তার বিষয়ে পত্র প্রেরন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তার সাথে যা আলাপ আলোচনা হয়েছে তার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় কথিত ভুয়া কাবিননামা তৈরি, জালিয়াতি ও তা ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


মামলাটি তদন্ত শেষে সংস্থাটির প্রতিবেদনে এমন মতামত দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে কাবিননামার সত্যতা, এক নারী ও তাঁর কন্যাসন্তানের সঙ্গে বাদীর সম্পর্ক, হাসপাতালের নথিপত্র এবং শিশুটির জন্মের পর তোলা একটি ছবিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।


পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৯৩৭/২০২৫-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী মো. মুসলিমের অভিযোগ ছিল, শেলীনা বেগম ওরফে শেলী আক্তারের সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় বা বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। তাঁর নাম ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কাজির সিল ও স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে তদন্ত শেষে শেলীনা বেগম, নিপু মনি ও মো. নাঈম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৩৮৫, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আনা অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মতামত দেয় পিবিআই।


কাবিননামার সত্যতা যাচাইয়ে যা উঠে এসেছে


তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিতর্কিত কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১, বালাম নম্বর ০৫ এবং পৃষ্ঠা নম্বর ৫৭ উল্লেখ রয়েছে। এতে বরের নাম মো. মুসলিম এবং কনের নাম শেলীনা বেগম লেখা ছিল। নথিটিতে কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়।


কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চান। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজির কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বালাম নম্বর ০৫-এর ৫৭ নম্বর পৃষ্ঠায় মো. মুসলিম ও শেলীনা আক্তারের নামে কোনো নিকাহনামা লিপিবদ্ধ ছিল না।


তদন্তে আরও উঠে আসে, শেলীনা বেগম কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই না করেই বাদী মো. মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া নকল হিসেবে সেটি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তবে তিনি নিজে কাবিননামাটি তৈরি বা জাল করেছেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার মতামত, শেলীনা বেগম সরল বিশ্বাসে নিকাহনামাটির অনুলিপি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরির অভিযোগ প্রমাণের মতো প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের তথ্য তদন্তে


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মো. মুসলিম ও শেলীনা বেগমের পূর্বপরিচয় এবং তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের দিকে মুসলিম শেলীনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শেলীনা বেগম একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


শিশুটির জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পিপলস হসপিটাল লিমিটেডের আইপিডি অ্যাডমিশন রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নথিতে শেলীনার স্বামীর নামের ঘরে ‘লিটন’ লেখা ছিল। হাসপাতালের জন্মসনদেও ‘Selina Akter wife of Mr. Liton’ উল্লেখ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।


অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে বাদী মো. মুসলিমের নাম ‘মো. মুসলিম ওরফে লিটন’ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


হাসপাতালের কেবিনে শিশুকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবি


তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির জন্মের পর হাসপাতালের কেবিনে তোলা একটি ছবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে সংগৃহীত রঙিন ছবি পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখতে পান, শিশুটির জন্মের পর পিপলস হসপিটালের একটি কেবিনে মো. মুসলিম শিশুটিকে কোলে নিয়ে ছিলেন। ওই সময় শেলীনার বোন নিপু মনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছবিতে তাঁদের হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ছবিটি এবং হাসপাতালের নথিপত্র তদন্তে উঠে আসা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির জৈবিক পিতৃত্ব সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।


ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধের পর পৃথক মামলা


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে শেলীনা বেগম ও তাঁর কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন মো. মুসলিম বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেলীনা পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৮৬০/২০২৪ দায়ের করেন।


ওই মামলায় শেলীনা নিজেকে মুসলিমের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন এবং মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া কাবিননামার অনুলিপি আদালতে দাখিল করেন বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


এ ছাড়া ওই মামলা নিয়ে মুসলিম ও শেলীনার মধ্যে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এসব বৈঠকে সাক্ষীদের উপস্থিতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন


তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা হাসপাতালের নথি, ‘লিটন’ নামের ব্যবহার, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং শেলীনার দায়ের করা পৃথক মামলার তথ্য—সব মিলিয়ে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।


তবে হাসপাতালের নথিতে কোনো নাম থাকা, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে শিশুর ছবি থাকা কিংবা কোনো মামলায় কাউকে স্বামী হিসেবে দাবি করা—এসব তথ্যের কোনোটিই এককভাবে জৈবিক পিতৃত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে বিরোধ থাকলে আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।


অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বাদী


পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদীকে অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত চলাকালে তিনি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।


তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর মনোনীত দুই সাক্ষীসহ মোট ছয়জনের বক্তব্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার।


সংগৃহীত সাক্ষ্য, নথিপত্র ও পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন, মামলার তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লিখিত ধারাগুলোর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে একদিকে কথিত জাল কাবিননামা তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, একই প্রতিবেদনে কাবিননামার সত্যতা যাচাই, মুসলিম ও শেলীনার পূর্বপরিচয়, কন্যাসন্তানের জন্ম, হাসপাতালের নথিপত্র, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলার তথ্য উঠে এসেছে।


এ পরিস্থিতিতে কাবিননামা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত ঘটনা এবং শিশুটির পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত প্রশ্নের আইনগত নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট নারীর দাবি, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রত্যাশা, বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রামাণ্য নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।


তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত ও তথ্যের আইনগত মূল্যায়ন এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কয়রায় কপোতাক্ষ নদীর দখলকৃত চরে চাতাল তৈরির অভিযোগ

নেপথ্যে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা গোলাম রব্বানী


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ এএম

খুলনা কয়রায় কপোতাক্ষ নদের চর দখল করে বালু ব্যবসার চাতাল তৈরি করতে গিয়ে বাঁধের ঢাল কেটে গর্ত করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বহিষ্কৃত নেতা গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার কারণে সদ্য নির্মিত বাঁধের ঢাল ধসে পড়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে গর্তটি ভরাট করার চেষ্টা করছেন।


সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার  মেঘারাইট গ্রামের পাশের রাতে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী বাঁধের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।


বালু ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, সেখানে বালুর ব্যবসার জন্য প্রায় ১০০ ফুট আয়তনের একটি গর্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটির ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বাঁধের ঢাল ধসে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে গর্তটি মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন। এ খবরে অভিযোগ ওঠা গোলাম রব্বানী লোকজন নিয়ে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। খবরটি শুনে পাউবো'র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


চর দখলের অভিযোগের কথা  (মুঠোফোনে) বললে, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মো. গোলাম রব্বানী। পরে মূল ঘটনা অন্যদিকে প্রভাবিত করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 
এ ব্যাপারে পাউবোর সেকশন কর্মকর্তা (এসও) মো. সোলায়মান বলেন, খবর পেয়ে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গিয়েছি। যারা সেখানে গর্ত করেছেন, তাঁদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

 
উল্লেখ্য, দলীয় (এনসিপি) ব্যানারে ইফতার মাহফিলের মতো পবিত্র কাজে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ায় গত (২৮ এপ্রিল ২০২৫) গোলাম রব্বানীকে এনসিপি থেকে বহিষ্কার করে দলটি। তবে বহিষ্কারের পরেও এনসিপির পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তার বিরুদ্ধে থাকা সকল অপকর্ম খতিয়ে দেখে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটা প্রত্যাশা করেন স্থানীয়রা।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। মামলার আসামীরা হলেন, মোক্তারপুর এলাকার কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ, মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল।


পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ গত প্রায় ৫ মাস আগে প্রতিবেশী কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ নামের এক যুবক শিশুটিকে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটির পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্য অভিযুক্ত স্থাণীয় মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রধান অভিযুক্ত আহাদ গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ওষুধ সেবন করান। 


গত ২১ অক্টোবর ভোরে শিশুটির গর্ভপাত ঘটে এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।


কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর ২২(১০)২৬ দায়ের করা হয়েছে। আসামী আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদের গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

চার মাস ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান পদে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।


​প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় বিসিএস ১৫ ব্যাচের আয়কর ক্যাডারের এই কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে তাঁকে প্রেষণে এনবিআরের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। 


প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে আহসান হাবিবকে তাঁর নিজ ক্যাডারে ফিরে যেতে হবে।


​উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন সরকার আহসান হাবিবকে আইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। এর পূর্বে তিনি এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।