সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন
সংগঠনের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদস্যদের ভোটে এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন সভাপতি এবং এনটিভির প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই কমিটি এখনও বহাল রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অপর একটি কমিটি গঠনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় টাঙ্গাইলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ওই কমিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে, একই সঙ্গে টেন্ডারবাজির অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনায় টাঙ্গাইলের টেলিভিশন সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সংগঠনের সভা ডেকে কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে ১৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে রয়েছেন, সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন (এটিএন বাংলা), সহ-সভাপতি কাজী তাজউদ্দিন রিপন (একুশে টেলিভিশন) ও মির্জা মাসুদ রুবল (মাই টিভি)। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন, মহব্বত হোসেন (এনটিভি), যুগ্ম-সম্পাদক শফিকুজ্জামান মোস্তফা (এশিয়ান টিভি) ও আবু জোবায়ের উজ্জল (বিজয় টিভি), কোষাধ্যক্ষ আহমেদ রাসেল (এসএ টিভি), সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুমি আক্তার পলি (গ্লোবাল টিভি), ক্রীড়া সম্পাদক কেএ মিল্টন (এটিএন নিউজ) এবং দপ্তর সম্পাদক ইমরুল হাসান বাবু (ইসলামিক টিভি)।
কার্যকরী সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমেদ (চ্যানেল আই), হাবিবুল্লাহ কামাল (বাংলা টিভি) ও আব্দুর রাজ্জাক (৭১ টিভি)।
সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা হচ্ছেন- আতোয়ার রহমান আজাদ (বাংলা ভিশন), একরামুল হক খান তুহিন (মাছরাঙা টিভি), মহিউদ্দন সুমন (জিটিভি), কামাল হোসেন (আর টিভি), সোহেল শরীফ (চ্যানেল ওয়ান), আনিসুর রহমান খান (মাইটিভি, দেলদুয়ার-নাগরপুর), সিরাজ আল মাসুদ (গ্রীণ টিভি), নাঈম খান রাব্বি (স্টার নিউজ), জশিউর রহমান (বৈশাখী টিভি-নাগরপুর), মাসুদ কায়সার (গ্রীণ টিভি), ছানোয়ার হোসেন (বাংলা টিভি-মির্জাপুর)।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৯ সালে ‘টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরাম’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন চ্যানেল আইয়ের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন।
মো.নাঈম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র মো. নাঈমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মো.ইব্রাহীম খলিল ক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর জঙ্গালিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় নিহতের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে নিহতের বাবাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে।
নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, সোমবার রাতে নাঈম আমার বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে ফজরের নামাজের সময় আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি, ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর নাঈম নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর রাতের খাবার খেয়ে নানার বসত ঘরেই ঘুমিয়ে ছিল নাঈম। সকালে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশে পাওয়া যায় তার মরদেহ। গত ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল সাবেক স্ত্রী সুমির ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। ছেলের আয়-রোজগার খেয়ে কীভাবে মা খায়, তা দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পরপরই নাঈমের মা সুমি তার সাবেক স্বামী খলিলকে সন্দেহ করেন। সকালে নাঈমের মৃত্যুর খবর জানাতে খলিলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি। পরে তিনি নিজে ফোন করলে ছেলের মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়। সুমি দ্বিতীয় বিয়ে করায় খলিল তার ছেলেকে শ্বশুরের ঘর থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বাবাকে কৌশলে আটক করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ছেলের হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। পরবর্তীতে হত্যাকান্ডের কারণ জানানো হবে।
প্রতীকী ছবি
গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই নারী জানান। এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পানের আড়তে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন ওই নারী। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহে আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন।
অভিযুক্ত সোহরাবের বাড়ি নেত্রকোনায়। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি ছোট্ট একটি পানের দোকান চালান। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়কের নিচে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব নামের ওই পানের দোকানদার এসে তাঁর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’
ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু তাঁরা বিচার না করে হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় হতে বলেন। শেষে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু লোকজন দেখে ফেলায় তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়তে নিয়ে আসেন।
গতকাল দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা-পুলিশের তিন সদস্যকেও দেখা গেল। এ সময় ওই নারী বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা বলে বিচার চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে যাওয়া হয়।
মো. শফিকুল নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামের এক ব্যক্তির একটি পানের দোকান চালাতেন। বর্তমানে তাঁর দোকান বন্ধ আছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম শুক্রবার সকালে বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান।
আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
দুই শিশুর বিরোধের জেরে নাটোরে বায়েজিদ (৮) নামের এক শিশুর আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শহরতলির বড়হরিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোডে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বায়েজিদ ওই এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের ছেলে। সে নাটোর পুলিশ লাইনস স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। মাহমুদুল হাসান ঢাকায় কর্মরত। তাঁর বাসায় স্ত্রী-সন্তান থাকেন। সেখানে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল আহমেদ।
গত বুধবার রাতে ভাড়াটিয়ারা পিকনিক করেছিলেন জানিয়ে মাহমুদুল বলেন, সেখানে খেলার সময় শাকিলের মেয়ের সঙ্গে বায়েজিদের মনোমালিন্য হয়। এর জেরে সকালে বায়েজিদকে ডেকে নিয়ে ধারালো কিছু দিয়ে তার ডান তর্জনির ওপরাংশ কেটে দেন শাকিল। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বক্তব্যের জন্য পুলিশ সদস্য শাকিলকে ভাড়া বাসায় গিয়েও পাওয়া যায়নি। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কনস্টেবল শাকিল তাঁর শিশুকন্যাকে শারীরিক নির্যাতনের মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তবে কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি, পেলে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেবেন।
ফুলেল শুভেচ্ছা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে। নতুন শিক্ষাজীবনে পা রাখা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজের হলরুমে আয়োজন করা হয় ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অতিথি ও শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাজীবনের সাফল্য, সমৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। ভালুকা সরকারি কলেজের অধ্যাপক আ ন ম শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন, গফরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অব.) আমির হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ এবং ভালুকা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, ভালুকা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, ভালুকা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোহাদ মিয়াসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একাদশ শ্রেণিতে পদার্পণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হলো। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও শৃঙ্খলাবোধের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের চর্চার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তারা।
তারা বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থীকে সমাজ ও দেশের জন্য যোগ্য করে তোলা। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। শিক্ষাজীবন শেষে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখার মধ্য দিয়েই সেই সাফল্যের পূর্ণতা আসে। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, ফুলেল শুভেচ্ছা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতায় পুরো কলেজজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শুভেচ্ছা, প্রত্যাশা ও নতুন স্বপ্নকে সঙ্গী করে এদিন ভালুকা সরকারি কলেজে শুরু হয় নবীন শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাজীবনের পথচলা।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ২৮ মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার আপন চাচা নীরব হোসেনকে (১৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বলধরা ইউনিয়নের তেলিখোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নীরব ওই এলাকার ফরশেদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে শিশুটির বাবা কাজে চলে যান। এ সময় শিশুটির মা ও ছোট মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে নীরব শিশুটিকে তার দাদার বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা সেখানে গেলে নীরবকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। শিশুটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান তিনি।
পরে শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠান। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় মামলা করেছেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদর উপজেলা শাখা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খন্ড খন্ড মিছিল জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। পরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে এক বিশাল মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে সমাবেশে মিলিত হয়।
উক্ত সমাবেশে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডঃ তারিকুল ইসলাম খাঁন রুমার সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি। অন্যন্যার মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাবেক পিপি এডঃ সফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি এবিএম মমিনুল হক, সহ সভাপতি এডঃ গোলাম সারোয়ার খোকন, এডঃ আনিছুর রহমান মঞ্জু, আসাদুজ্জামান শাহীন, যুবদল সভাপতি শামীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন। মিছিল ও সমাবেশে জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন,যখনই দেশের মানুষ শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে, ঠিক তখনই একটি মহল পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। আপনাদের সামনে সেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সন্ত্রাসীদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করার আহবান জানান।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো দেশের উন্নয়নকে স্তব্ধ করতে হলে তার অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থায়িত্বের ওপর আঘাত হানাই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রথম কৌশল। সন্ত্রাস এবং অস্থিতিশলতার একমাত্র লক্ষ্য হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গুত্ব করা এবং বিশ্ব দরবারে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতান্ত্রিক অধিকারে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ১৭টি বছর দেশের সাধারণ মানুষের গলায় টিপে ধরে রেখেছে। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও কিছু কুলাঙ্গার এখন দেশের ভেতরে বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৈরাজ্য ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা তাদেরকে ধরে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে সোর্পদ করবো। যারা আজ নিরীহ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদে আগুন দিচ্ছে, কিংবা উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে বিভেদ তৈরি করছে তারা কোনো দলের বা দেশের বন্ধু হতে পারে না। তারা এ দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু। ক্ষমতার লোভ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য যারা গোটা দেশকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আজ আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে এবং প্রতিহত করতে হবে।
সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আপসহীন। আমরা এই বাংলার মাটিতে আর কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করব না। কোনো বুলেটের ভয়, কোনো বোমার আতঙ্ক কিংবা কোনো অপপ্রচার এ দেশের মানুষকে তার অগ্রযাত্রার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। সমাবেশ ও মিছিলে সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্যে রাখেন।