• প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:২২ এএম

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় খোঁজেন নিজের সন্তান-স্বজনের কাছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক শতবর্ষী বৃদ্ধের ভাগ্যে জুটেছে তার উল্টো চিত্র। যে মানুষটি সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে, চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকেই ফেলে রাখা হলো রাস্তার পাশে। অসহায় সেই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।


বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বৈল্লা বাজার এলাকায় একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন।  একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন।


স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন এই বৃদ্ধ গত কয়েক বছর ধরেই একা চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভার ও শারীরিক দুর্বলতায় দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।


এলাকাবাসী জানান, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে কান্না করছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।

 

ততক্ষণে খবরটি পৌঁছে যায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যে নাতনিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 


শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়া নেওয়া এবং সেই খরচও নিয়মিত বহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।


প্রথমদিকে বাবার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ছোট মেয়ে রিনা বেগম বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। 


রিনা বেগম বলেন, পাশের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন থেকে বাবার দায়িত্ব আমিই পালন করব।


টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।


এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, 'একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।'



সর্বশেষ সব খবর

বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।


ডিএনসি, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং কামারখন্দ উপজেলার বিশেষ প্রতিনিধির সমন্বয়ে 'ক' সার্কেলের একটি দল এই অভিযানটি পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার (০৯/০৯/২০২৬) কামারখন্দের ভদ্রঘাট পশ্চিম খান পাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।


অভিযানের সময় মোঃ শাকিল শেখ (৩২), পিতা: মোঃ মকবুল হোসেন শেখ নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৮০০ (দুই হাজার আটশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১১,৩০০ (এগারো হাজার তিনশত) টাকা।


কামারখন্দ উপজেলায় এটি ছিল ডিএনসির চতুর্থ অভিযান। এই ঘটনায় সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামারখন্দ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

মিয়ানমারে যাচ্ছে সার আসছে মাদক

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ পিএম

বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের জল ও স্থলপথে মাদকদ্রব্যের বিনিময়ে এবার শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে সার পাচার। সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের অধিকাংশ সার ডিলার এবং চোরাচালানী সিন্ডিকেট।


ইতিমধ্যে টেকনাফ,উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির  বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি ইয়াবা, খ্রীস্ট্রাল মেথ  আসছে মিয়ানমার থেকে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন বাহিনীর কাছে গত একমাসে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পাচারকারী। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ৯৩ জন ও এপিবিএন সদস্য ১ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী আছেন ২১ জন, আর অন্যরা হচ্ছে সাধারণ পরিবহন শ্রমিক, মহিলা আছেন ১৮ জন। মামলা হয়েছে ৭২ টি।


তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পাচারের পাশাপাশি আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে সার পাচার।


মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বেশ কয়েক দফায় সার আটক করেছেন। নতুন করে সার পাচার হওয়ার খবরে সীমান্তের কৃষকসহ সচেতন মহলের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে মিয়ানমারে সার পাচার অনেকটা বন্ধ ছিল। এমনকি ওই সময়ে সার পাচার ও আটকের ঘটনা ছিল বিরল। তবে সাম্প্রতিককালে নতুন করে সার পাচারের ঘটনায় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় সার পাচারে জড়িত চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের দাবী জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সরকার ও বিদ্রোহীদের মাঝে চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যে এক ধরণের সংকট চলছে। আরাকান আর্মি শাসিত ওই রাজ্যের কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে পাচারে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারে ইউরিয়া সারের বেশ কদর রয়েছে। সেখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার দ্বি-গুণ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩হাজার টাকা ধরে প্রতি বস্তা সার মিয়ানমারের চোরাকারবারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন এখানকার চোরাকারবারীরা। 


কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সে দেশে (মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে) সারের বস্তা দ্বি-গুণ বেশী দামে বিক্রির সুযোগে এ দেশীয় চোরকারবারীরা সার পাচারে তৎপর রয়েছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহর, পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী কেন্দ্রীক বড় বড় চোরাকারবারীরা বিভিন্ন সার ডিলারদের সাথে আতাঁত করে সাগরপথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মিয়ানমারে সার পাচার করছেন। আবার স্থল পথের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে সারসহ অন্যান্য পণ্য।


সমুদ্রপথে সার পাচার করতে গিয়ে কোষ্টগার্ডের হাতে একাধিক চালান আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাগরপথে জাহাজে করে সার পাচারের ঘটনার পরপরই টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি সারসহ ইতিমেধ্য বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮সেপ্টেম্বর ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৫বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছেন বিজিবি। এর আগে ২সেপ্টেম্বর একই সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ বস্তা সারসহ একটি হস্তচালিত নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। গত ২০ আগষ্ট সাবরাং বিওপির জওয়ানেরা নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ বস্তা সারসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটক করেন। এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে পরিবহনের সময় ৩০০ বস্তা সারের একটি বড় চালান জব্দ করেন মরিচ্যা বিজিবি। ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩৪ বিজিবির জওয়ানেরা ৮৮ বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করেন। ১৫ জুলাই রাতে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পচারকালে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৪ রোহিঙ্গাকে হাতে নাতে আটক করেন পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা। ১৩ জুলাই পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ১৩০ বস্তা সার আটক করেন। ৮ জুলাই পালংখালীর বিওপির জওয়ানেরা আনজুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজিবাইকসহ ২২ বস্তা ইউরিয়া সার আটক করেন। ১ জুলাই পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ফারিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের হালিশহর, ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সীমান্ত দিয়ে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাচারের সময় সারের বেশ কয়েকটি চালান আটক করেন কোস্টগার্ড।


টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, গত মাসে (আগষ্টে) উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্টিত হয়েছে। ওই সভায় সার পাচাররোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি, ডিলার পর্যায়ে মনিটরিং বাড়ানো, সারের বস্তার মুখ খোলা দেওয়া, ৫টার পরে সার বিক্রি না করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 


তিনি আরো জানান,সার পাচার শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে আমাদের প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠা ও মনিটিরিংয়ের মাধ্যমে সার পাচার ঠেকানো সম্ভব জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের সমন্বয়ে আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে: কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, সার পাচারসহ যাবতীয় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই মিডিয়া কর্মকর্তা। 


কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ডিডি) ডক্টর বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সার পাচার ঠেকাতে বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। কোন ডিলার সার পাচারে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ৬৪বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল জহিরুল ইসলাম জানান, সার এমন একটা জিনিষ যা পকেটে করে নেওয়া যায়না। কার কার সার প্রয়োজন সেটাও স্থানীয় লোকজন ভাল করেই জানেন। এছাড়া কৃষকসহ স্থানীয়রা সার পাচাররোধে বিজিবিসহ আইন শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে পারেন জানিয়ে তিনি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনার উপর গুরুত্বারোপন করেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। 


প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।

 



অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। 


অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।


প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।


তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে। 


পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) কে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।


গতকাল সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা জানাজানি হয়। আটক এমরান উপজেলার অম্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।


পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়লে তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে বকাঝকা করেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে শিশুটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন এমরানের বিরুদ্ধে গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোবারক হোসেন এমরানকে আটক করেন। পরে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক নিজের বাসায় ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ শিক্ষক তাকে সেখানে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে এক যুবক তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল দিয়ে টেনে নেওয়া হয়। তবে ভিডিওতে ওই যুবকের চেহারা দেখা যায়নি।


গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সিলেটের উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে ওই কিশোরীকে শেকল বেঁধে টেনে নেওয়ার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন। মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয়। তবে কারা তাকে মারধর করেছেন বা শেকল বেঁধে সড়কে টেনে নিয়েছেন, তা জানা যায়নি।


এ বিষয়ে সিলেট শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সে একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। এমনকি কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসার পরও স্থানীয়রা পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।


কিশোরীকে শেকল বেঁধে সড়কে ঘুরানো প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।


এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।


তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ নাগরিকের নেই। কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা তার ওপর শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ আইনপরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন।


সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, “রোগীর চাপ অনেক বেশি। তবে ডাক্তার ও নার্সরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছি। হাসপাতালের সেবায় আমরা সন্তুষ্ট।”


টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. নিশাত আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজরদারি করছে। নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও যাতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সচেতন মহলের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর