নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের (কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিঃ) হাইভোল্টেজ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। স্বল্প উচ্চতায় থাকা অরক্ষিত ৩৩ কেভি লাইনের ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
সবশেষ গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন বিদ্যুতের আগুনে ঝলসে যান আরিফ নামে এক স্থানীয় দোকানদার। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পূর্বাচলে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিঃ-এর ৫৫ মেগাওয়াট প্রকল্পটির জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত লাইনটি নির্ধারিত রুট ব্যবহার না করে কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জনগণের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের ইচ্ছায় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
বিদ্যুৎ লাইনটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় শতাধিক দুর্ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়া, বসতবাড়িতে আগুন লাগা, হাইভোল্টেজ কারেন্টের শর্ট সার্কিটে খামারের গরু মারা যাওয়া এবং পুকুরের মাছ মারা যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।
অতি সম্প্রতি গ্রামের এক দোকানদার আরিফের ওপর হাইভোল্টেজ কারেন্টের ফ্ল্যাশিংয়ের ফলে তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দগ্ধ হন। তাঁর শরীরের বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে যায়। এলাকাবাসীর মতে, ঘটনাটি উক্ত লাইনের ভয়াবহতারই প্রতিচ্ছবি।
সরেজমিনে কেশরাব গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের সংযোগ পোলের নিচেই পল্লী বিদ্যুতের আরেকটি সরবরাহ লাইন ও ট্রান্সফরমার রয়েছে। এছাড়া ওই লাইনের নিচ দিয়ে পাকা সড়ক ধরে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ লাইনটি নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানা হয়নি। পুরো লাইনের কোথাও কোনো পোলেই গ্রাউন্ডিং করা হয়নি। হাইভোল্টেজ শর্ট সার্কিট কারেন্ট গ্রাউন্ডিং হওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। লাইনে কোনো নিউট্রাল তার বা স্কাই ওয়্যারও নেই। ফলে হাইভোল্টেজ শর্ট সার্কিটের আগুন বা ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে মানুষ, পশুপাখি এবং বাড়িঘরের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও তারা স্থানীয় প্রশাসনসহ কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে লাইনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখতে পান বলে দাবি করেন তারা। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে লাইনটি ঝুঁকিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোম্পানি তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে পরবর্তীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাইলেও তারা কর্ণপাত করে না; বরং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব দেখিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
গত ২৭ মে বিদ্যুতের আগুনে দগ্ধ হওয়া স্থানীয় দোকানদার আরিফ বলেন, “এখানে প্রায়ই স্পার্কিং হয়, আগুন লাগে। টিভি, ফ্রিজ, মিটারসহ অনেক কিছু পুড়ে যায়। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও তারা কোনো সমাধান করেনি। ঈদের আগের দিন সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটির তার থেকে আগুন ছিটকে আমার শরীরের ওপর পড়ে। পাঞ্জাবি খুলে দৌড়ে গেলেও শরীরের অনেক অংশ পুড়ে যায়। কোম্পানির লোকজনকে জানালে তারা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “আমার বাড়ির আইপিএস, সাবমার্সিবল মোটর, ফ্রিজ, মিটার—চারটি ঘরের প্রায় সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। নতুন করে টাকা খরচ করে ঠিক করলেও কিছুদিন পরপর আবার নষ্ট হয়ে যায়।”
কেশরাব এলাকার নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমি কিস্তিতে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছিলাম। বিদ্যুতের ফায়ারিংয়ের কারণে গরুটি মারা যায়। কোম্পানির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি প্রিন্সকে জানালে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা বললেও আর দেয়নি।”
কেশরাব ও দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম বলেন, “একটু বাতাস হলেই তারে তারে ঘষা লেগে আগুন জ্বলে ওঠে। সকালে মক্তব ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে। একবার দুজন শিক্ষার্থী ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। মসজিদের ডিজিটাল ঘড়ি, আইপিএস, ফ্যান ও মাইক নষ্ট হয়ে গেছে।”
রিকশাচালক ও মৎস্যচাষি আলামিন বলেন, “আমি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ভাড়ায় পুকুর নিয়ে মাছ চাষ করি। বিদ্যুতের ফায়ারিংয়ের কারণে বিক্রির উপযোগী মাছ মারা গেছে। একবার নয়, কয়েকবার এমন হয়েছে। এখন আমি ঋণের বোঝায় জর্জরিত।”
এলাকার ৭৫ বছর বয়সী এক নারী বলেন, “জিনিসপত্র ক্ষতি হলে দুই-চার হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আসে। কিন্তু মানুষ মারা গেলে তার দায় কে নেবে? কয়জনকে সাহায্য করবে? মানুষ বাঁচাতে হলে এখান থেকে খুঁটি সরাতে হবে।”
গ্রামের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ও চলাচল থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আব্দুল মালেক নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গতিয়ার বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল মালেক ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল মালেক। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ির পাশে একটি তালগাছের নিচে পড়ে থাকা তাল কুড়াতে যাওয়ার কথা ছিল আব্দুল মালেকের। আজ বুধবার সকালে তার ছেলে সুজন বাড়ির আশপাশে বাবাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ঝোপঝাড়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কাছে গিয়ে পানিতে তার বাবার মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের ভাতিজা মো. আকরাম বলেন, ‘আমার চাচা দুই দিন আগে তাল কুড়াতে গিয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজছিলেন। সকালে তার ছেলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতা রাসেলসহ তিনজনের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাসেল (৪৪) রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি তাঁর ভাগিনা জসিম (৩৯) ও বন্ধু শামীম ভূঁইয়াকে (৪৯) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গোলাকান্দাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে পৌঁছালে সাব্বির (২৩), কামরুল (৪৫), সোহান (২৩), ইয়ামিন (২৪), জিহাদ (২৪) ও রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন।
অভিযোগে রাসেল দাবি করেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর ভাগিনা জসিমকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শামীম ভূঁইয়াও আহত হন।
রাসেলের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জসিমের কাছে থাকা ড্রেজার ব্যবসার ১ লাখ টাকা এবং শামীমের ব্যবহৃত প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রাসেল রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাতের পর গ্যাসের রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আল মাহমুদ এভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাত হয়। এতে গেটের পাশে থাকা ডাবল চেইন গ্যাসলাইনের রাইজারে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।
আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় পাঁচ মিনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের আঘাতে গ্যাসের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বাসভবন ও আশপাশের প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রতীকী ছবি
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীর শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয় সাইফুল ও তার বোনেরা। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তারা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।