নবম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তার জিম

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীর পশ্চিমপাড়ার সাইশ এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ১০ দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফলে পরিবারে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা। 


অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল রাত প্রায় ১টার দিকে মাসুম নামের এক যুবক জোরপূর্বক ঘরের দরজা ভেঙে নবম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তার জিমকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ দরজা ভাঙার শব্দ ও মেয়ের চিৎকারে জেগে উঠলেও ততক্ষণে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।


মেয়েটির বাবা আলমগীর জানান, সারা রাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাতের শেষভাগে স্থানীয় একটি এলাকায় (রাস্তার ২৭ নম্বর এলাকায়) অভিযুক্ত যুবকের বাবাকে দেখতে পান তিনি। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। 


কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পরদিন প্রভাবশালী মহলের তদবিরে অভিযুক্তের বাবাকে ছেড়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শর্ত দেওয়া হয়, পরদিন মেয়েটিকে হাজির করা হবে। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ঘটনার ১০ দিন পার হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে স্কুলছাত্রী মরিয়ম আক্তার জিম। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে মেয়েটির বাবা আলমগীর বলেন, আমি জানি না আমার মেয়েটা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। আমি পাগলের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। প্রথমে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা মামলা নেয়নি, জিডি করেছে। এরপর যার বাবাকে ধরেছিলাম তাকেও ছেড়ে দেওয়া হলো। এখনো আমার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়নি। আমরা খুব ভয়ের মধ্যে আছি। পরিবারের দাবি, শুরুতেই মামলা গ্রহণ না করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত বলে জানান। 


এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। আমরা ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং মেয়েটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা অবিলম্বে মেয়েটিকে উদ্ধার, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একদিকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে পরিবারের অসহায়ত্ব- সব মিলিয়ে টঙ্গীর জনমনে বিরাজ করছে গভীর উদ্বেগ।




  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ এএম

যশোরের ঝিকরগাছায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।


২০২১ সালে নিজ বাড়িতে পদ্মপুকুর গ্রামের রওজাতুল জান্নাত বালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ৬৫ জন ছাত্রী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ জন আবাসিক। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।


ভুক্তভোগী শিশুদের অভিযোগ, বিকালের দিকে বিভিন্ন সময়ে তাদের আলাদাভাবে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে শরীর ও হাত-পা টিপে দেওয়ার কথা বলে জামা ও পায়জামার ভেতরে হাত দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হতো। এসব ঘটনা কাউকে না বলার জন্য মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এক ছাত্রীকে জোর করে শোয়ানোর চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে আসে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। শিশুদের অভিভাবক জানান, মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পর মেয়েরা আর সেখানে যেতে চাইত না।


এর আগে কোচিং না করার অভিযোগে তাদের মারধর করা হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তখন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে ১৯ অক্টোবর এক শিশুর পায়ে পেরেক ফুটলে মেয়েরা বাড়িতে এসে সব ঘটনা জানায়। শিশুদের সৎ বাবা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাদের নিজের সন্তানের মতো বড় করেছেন। গত বছর মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর তিন-চার মাস পর থেকেই এ ধরনের নিপীড়ন চলে আসছে বলে মেয়েরা তাকে জানিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।


মাদ্রাসার পরিচালক ও শ্রীরামপুর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রীরা দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাদের মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, এ পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারকে দ্রুত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩১ এএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে কালো পোশাক ও হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসে থাকা জামাল উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।


গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন একই গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত সাখায়েত উল্যার ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল উদ্দিন একসময় প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকায় পোস্টারিং করেন। বর্তমানে তার একাধিক ছেলে প্রবাসে রয়েছেন। শনিবার রাতে তিনি বাড়ির পাশে বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় কালো পোশাক ও হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। তার বাম পা ও রানে বুলেটের আঘাত রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত।


সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই বৃদ্ধ একটি দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় দুজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩১ এএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে কালো পোশাক ও হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসে থাকা জামাল উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।


গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন একই গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত সাখায়েত উল্যার ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল উদ্দিন একসময় প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকায় পোস্টারিং করেন। বর্তমানে তার একাধিক ছেলে প্রবাসে রয়েছেন। শনিবার রাতে তিনি বাড়ির পাশে বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় কালো পোশাক ও হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। তার বাম পা ও রানে বুলেটের আঘাত রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত।


সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই বৃদ্ধ একটি দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় দুজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৪ এএম

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো গণনা হয়েছে। এবার নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৮ টাকা, এক ভরির বেশি স্বর্ণ, তিন ভরির বেশি রুপা ও প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। এছাড়াও মানত করা শতাধিক গরু-ছাগলের হিসাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দানবাক্সের টাকার স্তূপের মধ্য থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত হরেকরকম চিঠির পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা রাজনীতি সংস্কার বিষয়ক এক ব্যতিক্রমী বেনামী আবেদনপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যৌথ তদারকিতে এই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিকালে জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বিক অর্থমূল্যের তথ্য প্রকাশ করেন। উদ্ধারকৃত চিঠির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত চিঠিটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা।


যেখানে কোনো নাম পরিচয় না লিখে বিএনপিতে কর্মী হতে এইচএসসি (জিপিএ ৩.৫) এবং সদস্য হতে এসএসসি (জিপিএ ২.৫) পাশের বাধ্যবাধকতা আরোপসহ পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে কোনো কিশোরকে দলে যুক্ত না করার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয় ‘আই ওয়ান্ট দ্য চেঞ্জ টু কাম থ্রু ইউ’। 


উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে নতুন সিলগালাকৃত দানবাক্স স্থাপনের পর ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকাসহ চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল।


অর্জিত মোট দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের সার্বিক উন্নয়নকাজে সোনালী ব্যাংকের যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা এবং অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করার নতুন নীতিমালা করা হয়েছে।


কামরুল হাসান (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪১ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরুল হাসান (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ছিনতাই হওয়া জিক্সার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নেওয়াজপুর গ্রামের ওক্কাছ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।


গুলিবিদ্ধ কামরুল হাসান ওই বাড়ির মো. ইউছুফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দর্জি।


হাসানের খালাতো ভাই মো. শান্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান চট্টগ্রামে দর্জির কাজ করেন। দুই দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। শনিবার বিকেলে মোটরসাইকেলে খালাতো ভাই রাকিবকে (২০) নিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। পথে বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে বাংলাবাজার এলাকার হারুন ও আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে নুরু তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।


এতে হাসানের বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের বাগুতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলিবিদ্ধ হাসান হাসপাতালে ভর্তি হন। তার একটি হাতের বাহুতে বুলেটের আঘাত রয়েছে। পেটের ওপরের অংশেও বুলেটের মতো আরেকটি আঘাত আছে, তবে সেখানে কোনো বুলেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে নুরুর মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  


বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুল কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৮ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন। টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় শিশুটির পরিবারের আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন তিনি। এটিকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার একটি ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন তিনি। 


শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেছেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ১৫-১৬ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাটি সাজিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেউদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যান্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।


প্রিন্সিপাল আরও অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা মাদ্রাসার তহবিল থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

ওই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত মুসলেউদ্দিন মাদ্রাসাটির একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক যাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 


সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেন, মব সৃষ্টি করে সেদিন মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দুঢ়কণ্ঠে বলছি, আমি কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি এই মাদ্রাসায় কোরআন পড়াচ্ছি ২০০৭ সাল থেকে।  


তিনি বলেন, সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। এরপর একটা স্টাপলার নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এতে অনেক রক্ত ঝরেছে। যৌন হয়রানির বিষয়ে যে শিশুটিকে নিয়ে কথা হচ্ছে সেই শিশুটি ক্লাস ওয়ানে পড়ে। সে দুই-আড়াই বছর ধরে এখানে পড়ে। আমাদের এখানে তার বাবা কোনোদিন আসেনি। এই প্রতিষ্ঠানে শিশুটি ওই ওস্তাদের কাছে ছোট থেকে পড়ছে। ওর মতো এ রকম ২০-২৫ জন শিশুটি এখানে পড়ে। 


ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তিনি বলেন, শিশুটির ওই অভিভাবক ফোন দিয়েছিলেন ভাইস প্রিন্সিপালকে। তিনি অসুস্থ, ঢাকার বাইরে আছেন। 

সব বাচ্চা নাকি ভালো রেজাল্ট করেছে। এজন্য বাচ্চাটাকে ওই শিক্ষক বলেছেন, তোমাকে পাপ্পি দেব। সব বাচ্চাদের বলেছে, চকলেটও দিয়েছে। বলেছেন, ‘তোমাদের পাপ্পি দেব, তোমরা ভালো রেজাল্ট করবা। আমি তোমাদের অনেক বেশি আদর করবো।’ কথাটা ছিল এ রকম। 


পরে শিশুটির মা ভাইস প্রিন্সিপালকে ফোন দিয়ে বলেছেন, ‘স্যার পাপ্পি দেওয়ার দরকার নাই। এমনি আদর করুক, ঠিক আছে।’ 


ওই ফোনের পর ভাইস প্রিন্সিপাল অভিযুক্ত শিক্ষককে ফোন দিয়ে বলেছেন যে, ‘আপনি কি এ রকম কথা বলেছেন?’ তখন ওই শিক্ষক বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি তো সবাইকে বলেছি। আমি তো দিইনি কাউকে। বলেছি, তোমাদের আমি পাপ্পি দেব।’ 


তখন ভাইস প্রিন্সিপাল শিক্ষককে বলেছেন, ‘যেহেতু একজন অভিভাবক বলেছেন এটা নিয়ে। আপনি ২৫ জনকে বলেছেন। তার মধ্যে একজন যেহেতু এটাকে অন্যভাবে দেখেছেন, আপনি এটা করবেন না।’ 


আমাকে না জানিয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল বিষয়টি এভাবে সমাধান করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ওই অভিভাবক পরবর্তীতে কি করেছেন? এখন প্রশ্ন হলো- ‘শিশুটি যদি এখানে কোনোভাবে হেজিটেশনে পড়তো অথবা যদি কোনো কারণে সে এটাকে ব্যাড-টাচ মনে করতো তাহলে অভিভাবক তো বাচ্চাকে পরদিন মাদ্রাসায় পাঠাতেন না। পরের দিন ওনার মেয়েকে তো পাঠিয়েছেন মাদ্রাসায়। এখন আমার প্রশ্ন জাতির কাছে, আমার শিক্ষক যদি খারাপ হয় তাহলে অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে আর পাঠাতেন না, যে এই মাদ্রাসায় আমি দেব না আমার বাচ্চাকে ব্যাট-টাচ করেছে বা চুমু দিয়েছি। কিন্তু উনি পরের দিন পাঠিয়েছেন। এটা আমাদের সিসিটিভি ফুটেজে আছে।’


তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যেহেতু শিশুটি এসেছে তাহলে এখানে কোনো সমস্যা নেই। যেদিন ঘটনা ঘটেছে তার পরের দিন সেই শিশু আসছে। তার পরের দিনও এসেছে। সিসিটিভিতে শিশুটি খেলতেছে, ওস্তাদ পড়াচ্ছে, খুব আনন্দ করতেছে এখানে সিসিটিভিতে দেখাচ্ছে।’


প্রিন্সিপাল বলেন, ‘তিন-দিন, চার দিনের মাথায় ওই লোকটা (শিশুর বাবা) হঠাৎ করে গাড়ি নিয়ে কিছু লোকসহ যারা এই এলাকার না, আমরা চিনি না তাদের। আর উনাকেও আমরা চিনি না ঠিক। উনি কখনো আসেননি মাদ্রাসায়। ভর্তির সময় তার নানা আসতো, আর তার মেয়ে আসতো। উনি এসেই এখানে সবাইকে জিম্মি করে ফেলেছে। আমাদের কিছু টিচার এখানে ছিল, তাদেরকেও জিম্মি করে ফেললো।’ 


আলমাস হোসাইনের দাবি, ‘লোকজন হঠাৎ করে ঢুকে মানে একটা মব সৃষ্টি করে তারা আমার রুমে ঢুকে গেল। আমাকে খুব অকথ্য ভাষায় বলে, ওই শিক্ষককে নিয়ে আসো। আমি বলছি, ভাই আপনি কে? আমি তো আপনাকে চিনি না। বলে, আমাকে চিনবি তুই এখন। এইটা বলে এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেললো।’ 


তিনি বলেন, ‘একটা ম্যাডাম এখানে ছিল তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এখানে টাকা-পয়সা ছিল। আমাদের জমি কেনার টাকা ছিল। মাদ্রাসার নামে একটা জমি কেনার কথা হচ্ছিল। এজন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছি। সেটার আমাদের স্টেটমেন্ট আছে। সেই টাকা-পয়সা এখানে ছিল। এগুলো সবকিছু তছনছ করে ১৭ লাখ টাকা নিয়েছে।’ 


তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘পরবর্তীতে ওই শিক্ষক আসার পরে তাকে শুধু জিজ্ঞেস করেছে। শিক্ষক বলেছেন যে, হ্যাঁ, আমি চুমু দিতে চেয়েছিলাম। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে মারধর করেছে। এলাকার মানুষ যেই এসেছে তাদেরকে ধমক দিয়ে স্টপ করে দিয়েছে। কাউকে কথা বলতে দেয়নি। পরে আমরা কোনো রকমে ওই শিক্ষককে মেডিকেলে পাঠিয়েছি।’ 



তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা একটা খবর পেয়েছি, এখানে চার-পাঁচ জন ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তাদের ফেসবুক আইডিতে ঢুকে আমাকে অনেকে ছবি পাঠিয়েছে। 




বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব করতে নয়: শিশুটির বাবা

যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।


শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’


মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব।’


১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানান এই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’


ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।


শিশুটির বাবা বলেন, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বীনি শিক্ষার জন্যই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেখানে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’


এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ওই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’


নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’


টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে উল্লেখ করে এই অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’


এদিকে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দিয়েছে।


এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।