কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের নিলাম ডাকের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের নিলাম ডাকের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।
শুক্রবার (০৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের আখড়া বাজার চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ। এতে অংশ নেয় কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব, কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান সাংবাদিক নেতারা। সেই সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
আহতরা হলেন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল (৩৭) এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু (৪২)। তারা দুজনই কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের বিভিন্ন সামগ্রী নিলামে তোলা হয়। এই নিলামকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম দামে এসব দানের সামগ্রী ক্রয় করে আসছিল। ওই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান দুই সাংবাদিকসহ চারজন সংবাদকর্মী। এ সময় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের লোকজন হঠাৎ করে মব সৃষ্টি করে তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে খায়রুল আলম ফয়সাল ও ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু গুরুতর আহত হন। পরে মসজিদের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সহায়তায় আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাদী হয়ে জনের নাম উল্লেখ করে আরও থেকে জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।
মানববন্ধনে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসকে রাসেল বলেন, সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যেইভাবে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা এটা ন্যাক্কারজনক। এমন ঘটনা মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য হুমকি ও গোটা জাতির জন্য অশনিসংকেত। আমরা চাই দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপরে যে হামলাটি হয়েছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিকদের ওপর এভাবে আক্রমণ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আমরা চাই না। আমাদের আহ্বান থাকবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী ও রাষ্ট্রের কাছে, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তার জায়গাটি তারা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা বলেন, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ হামলার ঘটনায় জড়িত জীবন এবং মনা নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।বাকি অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ইতোমধ্যে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হবে।
প্রতীকী ছবি
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীর শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয় সাইফুল ও তার বোনেরা। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তারা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামে একজনকে যাব্বজ্জীবন দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় প্রদান করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ জানিয়েছেন, '২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পারভেজরা। এসময় সবকিছু লুটে নেয়ার পর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পারভেজকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদন্ড দেন।
সট:- ইফতেখার মাহমুদ এপিপি, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১।
এদিকে, আদালতের রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বাদীর প্রত্যাশা অন্যকোন পরিবারে যেন এমন জুলুম না হয়।
বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং কামারখন্দ উপজেলার বিশেষ প্রতিনিধির সমন্বয়ে 'ক' সার্কেলের একটি দল এই অভিযানটি পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার (০৯/০৯/২০২৬) কামারখন্দের ভদ্রঘাট পশ্চিম খান পাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় মোঃ শাকিল শেখ (৩২), পিতা: মোঃ মকবুল হোসেন শেখ নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৮০০ (দুই হাজার আটশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১১,৩০০ (এগারো হাজার তিনশত) টাকা।
কামারখন্দ উপজেলায় এটি ছিল ডিএনসির চতুর্থ অভিযান। এই ঘটনায় সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামারখন্দ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মিয়ানমারে যাচ্ছে সার আসছে মাদক
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের জল ও স্থলপথে মাদকদ্রব্যের বিনিময়ে এবার শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে সার পাচার। সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের অধিকাংশ সার ডিলার এবং চোরাচালানী সিন্ডিকেট।
ইতিমধ্যে টেকনাফ,উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি ইয়াবা, খ্রীস্ট্রাল মেথ আসছে মিয়ানমার থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন বাহিনীর কাছে গত একমাসে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পাচারকারী। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ৯৩ জন ও এপিবিএন সদস্য ১ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী আছেন ২১ জন, আর অন্যরা হচ্ছে সাধারণ পরিবহন শ্রমিক, মহিলা আছেন ১৮ জন। মামলা হয়েছে ৭২ টি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পাচারের পাশাপাশি আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে সার পাচার।
মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বেশ কয়েক দফায় সার আটক করেছেন। নতুন করে সার পাচার হওয়ার খবরে সীমান্তের কৃষকসহ সচেতন মহলের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে মিয়ানমারে সার পাচার অনেকটা বন্ধ ছিল। এমনকি ওই সময়ে সার পাচার ও আটকের ঘটনা ছিল বিরল। তবে সাম্প্রতিককালে নতুন করে সার পাচারের ঘটনায় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় সার পাচারে জড়িত চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের দাবী জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সরকার ও বিদ্রোহীদের মাঝে চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যে এক ধরণের সংকট চলছে। আরাকান আর্মি শাসিত ওই রাজ্যের কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে পাচারে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারে ইউরিয়া সারের বেশ কদর রয়েছে। সেখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার দ্বি-গুণ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩হাজার টাকা ধরে প্রতি বস্তা সার মিয়ানমারের চোরাকারবারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন এখানকার চোরাকারবারীরা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সে দেশে (মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে) সারের বস্তা দ্বি-গুণ বেশী দামে বিক্রির সুযোগে এ দেশীয় চোরকারবারীরা সার পাচারে তৎপর রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহর, পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী কেন্দ্রীক বড় বড় চোরাকারবারীরা বিভিন্ন সার ডিলারদের সাথে আতাঁত করে সাগরপথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মিয়ানমারে সার পাচার করছেন। আবার স্থল পথের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে সারসহ অন্যান্য পণ্য।
সমুদ্রপথে সার পাচার করতে গিয়ে কোষ্টগার্ডের হাতে একাধিক চালান আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাগরপথে জাহাজে করে সার পাচারের ঘটনার পরপরই টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি সারসহ ইতিমেধ্য বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮সেপ্টেম্বর ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৫বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছেন বিজিবি। এর আগে ২সেপ্টেম্বর একই সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ বস্তা সারসহ একটি হস্তচালিত নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। গত ২০ আগষ্ট সাবরাং বিওপির জওয়ানেরা নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ বস্তা সারসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটক করেন। এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে পরিবহনের সময় ৩০০ বস্তা সারের একটি বড় চালান জব্দ করেন মরিচ্যা বিজিবি। ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩৪ বিজিবির জওয়ানেরা ৮৮ বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করেন। ১৫ জুলাই রাতে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পচারকালে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৪ রোহিঙ্গাকে হাতে নাতে আটক করেন পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা। ১৩ জুলাই পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ১৩০ বস্তা সার আটক করেন। ৮ জুলাই পালংখালীর বিওপির জওয়ানেরা আনজুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজিবাইকসহ ২২ বস্তা ইউরিয়া সার আটক করেন। ১ জুলাই পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ফারিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের হালিশহর, ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সীমান্ত দিয়ে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাচারের সময় সারের বেশ কয়েকটি চালান আটক করেন কোস্টগার্ড।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, গত মাসে (আগষ্টে) উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্টিত হয়েছে। ওই সভায় সার পাচাররোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি, ডিলার পর্যায়ে মনিটরিং বাড়ানো, সারের বস্তার মুখ খোলা দেওয়া, ৫টার পরে সার বিক্রি না করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিনি আরো জানান,সার পাচার শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে আমাদের প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠা ও মনিটিরিংয়ের মাধ্যমে সার পাচার ঠেকানো সম্ভব জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে: কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, সার পাচারসহ যাবতীয় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই মিডিয়া কর্মকর্তা।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ডিডি) ডক্টর বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সার পাচার ঠেকাতে বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। কোন ডিলার সার পাচারে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ৬৪বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল জহিরুল ইসলাম জানান, সার এমন একটা জিনিষ যা পকেটে করে নেওয়া যায়না। কার কার সার প্রয়োজন সেটাও স্থানীয় লোকজন ভাল করেই জানেন। এছাড়া কৃষকসহ স্থানীয়রা সার পাচাররোধে বিজিবিসহ আইন শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে পারেন জানিয়ে তিনি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনার উপর গুরুত্বারোপন করেন।
প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির
টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।
প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।
পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) কে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
গতকাল সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা জানাজানি হয়। আটক এমরান উপজেলার অম্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়লে তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে বকাঝকা করেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে শিশুটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন এমরানের বিরুদ্ধে গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোবারক হোসেন এমরানকে আটক করেন। পরে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক নিজের বাসায় ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ শিক্ষক তাকে সেখানে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।