ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:১৫ এএম

চাঁদপুরে ৫৬ বছরের প্রথা ভেঙে ভোট দিয়েছেন নারীরা। জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।


আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোতে এ অঞ্চলে নারীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬ জন নারী ভোট দিয়েছিলেন। এবছর তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রেই এবার নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এমনকি নারীদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।


নারী ভোটারদের উপস্থিতি দেখতে চাঁদপুর পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জানান, নারীদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার জন্য তারা যেখানে ভোট দিবে সেখানে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পুলিং অফিসার নারীদের নেওয়া হয়েছে।


জানা গেছে, ৭০ দশকের জৈনপুরের পীর সাহেবের অনুরোধ মেনে রূপসা দক্ষিণের নারীরা ওই এলাকার কোন ভোটের সময়েই ভোট দিতে যান না। মাঝে মধ্যে দু’একটি ভোটের সময় প্রার্থীদের নিকট স্বজনরা ভোট দিলেও তার পরিমাণ ছিলো নামমাত্র। যদিও ভোট ছাড়া আর বাকী সকল কাজেই ওই ইউনিয়নের নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিচরণ করেন হাট-বাজারসহ যাবতীয় সকল কাজে।


ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার নারীদের পর্দা নিশ্চিত করে যে কোন মূল্যে নারীদের ভোট প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রূপসা দক্ষিণের ইউনিয়নের মোট ৮টি কেন্দ্রের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ওই ইউনিয়নে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন।


সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে নারী ভোটের জন্য ২০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। ওই বুথ গুলোর জন্য সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পুলিশ, আনসার ভিডিপি এবং ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি ৮ প্রার্থীকে ওই বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার জন্য চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।


এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, নারীদের পর্দা মেনে ভোট প্রদানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ওই ইউনিয়নে ইতিমধ্যেই ব্যপক প্রচারণার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আশা করছি এবার নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোট কেন্দ্রে আসবেন।




মোহাম্মদ আলম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৯ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ মোহাম্মদ আলম (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ (এসআরবি-১১, সিপিসি-৩)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানিয়েছেন, কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ইয়াবা নিয়ে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ায় যাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা জামে মসজিদের পূর্ব পাশে শফিউল্লাহর চা-পান-সিগারেটের দোকানের সামনে সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।


গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলম কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মো. আলী হোসেনের ছেলে।  


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি ও এসআরবি-১১, সিপিসি-৩-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন মোহাম্মদ আলমকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। আসামির ভাষ্য অনুযায়ী, শরণার্থী শিবির থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে হাতিয়ায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হয়েছিলেন। তবে ইয়াবাগুলো কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হাতিয়ায় কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সংশ্লিষ্ট সারণির ১০(খ) ও ২৬ (১) ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।


আসামি রবিউল হোসেন ওরফে কালু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ পিএম

নোয়াখালীর সুধারামে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রবিউল হোসেন ওরফে কালু (১৯) কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ (এসআরবি-১১, সিপিসি-৩)।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরমণ্ডলিয়া এলাকার রূপসী বাপের বাড়ির ছোটন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার কালু নোয়াখালীর সুধারাম থানার ১১ নম্বর নেয়াজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধন্যপুর এলাকার জসিমের উদ্দিনের ছেলে।  


এসআরবি-১১, সিপিসি-৩-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সুধারাম থানার নেয়াজপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর এলাকায় বাদীর রান্নাঘরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে রবিউল তাকে ধর্ষণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটির আগেই সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। সমুদ্রসৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর নীল জলরাশির টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। 


শুক্রবার বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের পাশাপাশি স্থানীয় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে আসা হুজাইফা আমিনের সঙ্গে। 


তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে এসে বেশ ভালো লাগছে। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছি, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছি।’


সুগন্ধা পয়েন্টসহ সৈকতের নানা পয়েন্টে পর্যটকদের কাউকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কাউকে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেখা যায়। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার পাশাপাশি ছবি তুলে ছুটির মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন তারা। 


তাসফিয়া জান্নাত নামের এক পর্যটক বলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ– এই যে সৌন্দর্য কোথাও পাওয়া যাবে না। সমুদ্রের ঢেউ আর নির্মল বাতাস ক্লান্তি দূর করার জন্য স্বর্গীয় সুখের মতো। সাগরকে ঠিক এভাবেই উপভোগ করি।’


পর্যটক শামীম আহমেদ বলেন, ‘ছুটি কাটাতে সবারই ভালো লাগে, আর সেটা পরিবারের সঙ্গে হলে আনন্দটা হয় আরও বেশি। ব্যস্ত জীবনে সব সময় পরিবারকে নিয়ে এভাবে সময় কাটানোর সুযোগ হয় না। তাই ছুটি পেয়ে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আরও দুয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।’ এই সময়ের মধ্যে কক্সবাজারের দর্শনীয় জায়গাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। 


পরিবারের সদস্য ও সন্তান নিয়ে সমুদ্রসৈকতে আসা রাখী রহমান বলেন, ‘কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি পেয়ে পরিবার ও সন্তানকে নিয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে এসেছি। এখানে এসে অনুভূতিটা অসাধারণ, বিশেষ করে সন্তানকে খুব আনন্দ করতে দেখে ভালো লাগছে। সমুদ্রের প্রতি মানুষের একটা আলাদা টান রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর জন্য সমুদ্রসৈকতের মতো ভালো জায়গা আর হয় না। সাপ্তাহিক ছুটিসহ পূজার ছুটিতে দীর্ঘ সময় অবকাশ যাপনের সুযোগ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।’


গরমের মধ্যে এদিন অসংখ্য পর্যটককে নোনাজলে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে উঠতে দেখা যায়। কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে বালুচরে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়। ঢেউয়ের গর্জন, মানুষের হাসি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে এই পর্যটনকেন্দ্র। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ায় সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ক্ষুদ্র বিভিন্ন পণ্যের দোকান থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন বিনোদনসেবায় বাড়ছে ব্যস্ততা।


কক্সবাজারের বাসিন্দা ওসমান গনি বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিকেল থেকে সৈকতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক মানুষও সৈকতে ঘুরতে আসছেন। আবহাওয়া ভালো হতে শুরু করায় সৈকতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।


পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক লাইফগার্ড সদস্যরা জানান, সমুদ্রের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। তবু সতর্কতার অংশ হিসেবে ভাটার সময় লাল পতাকা টাঙানো হয়। সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, ‘পর্যটকেরা পানিতে নামার পর যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’


শহরসংলগ্ন পয়েন্ট ছাড়াও মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গতকাল উপচেপড়া ভিড় ছিলো। পুজার দীর্ঘ ৫ দিনের ছুটির আগেই কক্সবাজারে এভাবে পর্যটকের সমাগম কল্পনার বাইরে ছিলো বলে জানান কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার। তিনি এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘আশা করছি আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ৫ দিনের দীর্ঘ পূজার ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে এক লাখের চেয়ে বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সেই হিসাবে পাঁচ দিনে ছয় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হতে পারে।’


তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ আগাম বুকিং হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক হোটেলে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।


জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্পের ভালো ব্যবস্থাপনা সব সময় তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পর্যটকের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়া ঠেকানো ও তাদের যেন হয়রানির শিকার না হতে হয় এ জন্য নিয়মিত নজরদারি করছেন।


পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের উল্টিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং পূজামণ্ডপের কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। 


তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো জায়গা পাথরঘাটায় নাই। থানার ওসির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ প্রশ্নে যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে হয় চাঁদাবাজ থাকবে নয় আপনি থাকবেন।’ 


এ সময় তিনি ওসিকে বলেন, ‘কে থাকবে, আপনি না চাঁদাবাজ।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘আমি থাকবো।’ 


চিফ হুইপ বলেন, পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজ, দখলদারিত্ব,পুলিশ ও কোস্টগার্ডের দালাল এবং অনলাইন জুয়াড়ি থাকবে না। দুই মাসের মধ্যে এগুলো নির্মূল না করতে পারলে ওসিকে পাথরঘাটা থানা ছেড়ে চলে যেতে হবে। 


সাত দিনের সফরে নির্বাচনী এলাকা বরগুনা-২ আসনে এসে বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি, সাংবাদিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন। এছাড়া তিন উপজেলার ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর অর্থ সাহায্য করেন। পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ব্যবসায়ীকে টিন সহায়তা দেন।


নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধিতে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে সড়ক-সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


চিফ হুইপ বলেন, বরগুনার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে পায়রা, বিষখালী ও বেতাগী সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

আগামী ২৩ ও ২৪ শে অক্টোবর বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে সুর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট গুলোর ৭০-৮০ ভাগ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন কতৃপক্ষ। বীচ কার্নিভাল উৎসবে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোটেল মালিক সমিতি রুম ভাড়ার উপর ৫০ ভাগ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন।বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ পৃথকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন


বীচ কার্নিভাল উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বীচ ম্যারাথন, বীচ ফুটবল সহ নানা আয়োজন থাকবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন তথা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে এ বীচ কার্নিভাল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই জানাগেছে বীচ ম্যানেজমেন্ট  সুত্রে।


ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।


আবাসিক হোটেল মোডেল  মালিক সমিতি থেকে জানানো হয়েছে   বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।


কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাস এর সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার ৭০ ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। দু'য়েক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং হবার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন এরই মধ্যে পূজার ছুটি বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। 


কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানিয়েছেন, বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর ৬০-৭০ ভাগ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেল গুলোর এখনো অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরো জানান,  কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিকের উপরে পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন।


কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বীচ কার্নিভাল উৎসবে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগতরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন এজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, এসআরবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন,৫ দিনের সরকারি ছুটি ও বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা নতুনরূপে সাজতেছে। থানা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। 


নতুন কমিটির তালিকা হস্তান্তর করেন শহীদ জিয়া সামাজিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে শহীদ জিয়া সামাজিক সংগঠনের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাইগাঁ ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে, আগের দিন বুধবার বিকেলে ভীমপুর ইউনিয়নের সরস্বতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ও ৮ অক্টোবর বিকেলে এনায়েতপুর ইউনিয়নের কালুশহর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহাদেবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার বাবু।


সমাবেশগুলোতে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের নওগাঁ জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক মোস্তাকিম ইসলাম, মহাদেবপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মিঠু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান লোটন, ভীমপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ, এমদাদুল হক, উজ্জল হোসেন, সিরাজুল ইসলামসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে জাকির হোসেন জাহিদকে সভাপতি, জয়নুল আবেদীনকে সাধারণ সম্পাদক ও আল আমিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে শহীদ জিয়া সামাজিক সংগঠনের ভীমপুর ইউনিয়ন শাখার ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি, বায়েজিদ হোসেনকে সভাপতি, সাইদ হাসান রকিকে সাধারণ সম্পাদক ও আরিফ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে রাইগাঁ ইউনিয়ন শাখার ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং ফরহাদ হোসেনকে সভাপতি, শিহাব রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক ও রফিকুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে এনায়েতপুর ইউনিয়ন শাখার ৪৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। প্রধান অতিথি নতুন কমিটি অনুমোদনের কপি প্রতিটি ইউনিয়ন শাখার নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দেন।


প্রধান অতিথি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য এখনকার যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে উদ্দীপ্ত তরুণ সমাজ কোন গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাঁসিয়ে, দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।