আসামি রবিউল হোসেন ওরফে কালু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ পিএম

নোয়াখালীর সুধারামে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রবিউল হোসেন ওরফে কালু (১৯) কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ (এসআরবি-১১, সিপিসি-৩)।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরমণ্ডলিয়া এলাকার রূপসী বাপের বাড়ির ছোটন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার কালু নোয়াখালীর সুধারাম থানার ১১ নম্বর নেয়াজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধন্যপুর এলাকার জসিমের উদ্দিনের ছেলে।  


এসআরবি-১১, সিপিসি-৩-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সুধারাম থানার নেয়াজপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর এলাকায় বাদীর রান্নাঘরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে রবিউল তাকে ধর্ষণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড চালুর ফলে পারিবারিক সম্পর্কে পরিবর্তন এসেছে এবং তালাকের প্রবণতা বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি। সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।


গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মায়েদের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন যাতে তাঁরা এর সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারেন।


তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের ফলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে এবং তালাকের প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো কাজ হলে তা গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা উচিত এবং মানুষকে বারবার এসব উদ্যোগের কথা মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।


অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া যাবে না।


তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পায় তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারি দপ্তরগুলোকে সততা আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।


উপকূলীয় বরগুনার উন্নয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ওই চুক্তির পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে দেশে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা সম্ভব হতো। এ ছাড়া বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান হলো, বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এই নীতিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি গত দুই বছরে দেশে প্রতিমা বা মূর্তি ভাঙার কোনো ঘটনা ঘটেনি।


সভায় সভাপতিত্ব করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমা আক্তার। এ সময় বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এর পরে বেলা একটার দিকে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেন চিফ হুইপ। এ সময় তিনি হাসপাতালের জনবলসংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে বরগুনা পৌর এলাকার কড়ইতলা খাল খননকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।


 কিশোর গ্যাংকে উল্টিয়ে ঝুলিয়ে দেবেন: চিফ হুইপ


সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০১ পিএম

পঞ্চগড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশে দুর্গাপূজার সপ্তমী উদযাপিত হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন পূজামণ্ডপও ঘুরে দেখেন।


মন্দির প্রাঙ্গণে ডিআইজি পঞ্চগড়বাসীসহ সব পূজার্থীকে সপ্তমীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পরিদর্শনের সময় মাগরিবের আজান হচ্ছিল। একদিকে মসজিদে আজান, অন্যদিকে মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতি। হিন্দু, মুসলিম, সনাতনী, সবাই সুন্দরভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। এই সম্প্রীতির পরিবেশই সবার কাম্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ডিআইজি জানান, এই পরিবেশ রক্ষা এবং পূজার আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পূজা কমিটির নেতাদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতায় নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


রংপুর বিভাগের পূজামণ্ডপ ব্যাপকভাবে ঘুরে দেখার পর ডিআইজি বলেন, কোথাও কোনো ঝুঁকি বা সমস্যা চোখে পড়েনি। মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস রয়েছে এবং সবার মেজাজ ভালো। নারী ভক্তরা নিরাপদে মণ্ডপে যাওয়া-আসা করছেন বলেও জানান তিনি।


<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/video.php?height=314&href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Freel%2F1340343184719277%2F&show_text=true&width=560&t=0" width="560" height="429" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share" allowFullScreen="true"></iframe>


মন্দিরে ছুরিকাঘাতের দায়ে পুলিশের হাতে আটক নতুন কুমার মন্ডল

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে গভীর রাতে মন্দিরে গিয়ে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করতে থাকায় স্থানীয়রা নতুন কুমার মন্ডল (২৮) নামে এক যুবককে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। পরে তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তার ছুরিকাঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টায় উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের হামিদপুর উত্তরপাড়া সার্বজনিন দূর্গামন্দিরে এঘটনা ঘটে।


আজ রোববার বিকেলে সরেজমিনে ওই মন্দিরে গেলে মন্দিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মদ্যপ অবস্থায় নতুন কুমার মন্ডল মন্দিরে এসে মাইক অপারেটরকে মাইকের সাউন্ড বাড়িয়ে দিতে বলে। মাইকের সাউন্ড সিস্টেমে সর্বোচ্চ ভলিউম দিলেও সে আরও জোরে মাইক বাজাতে নির্দেশ দেয়। এক পর্যায়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে পকেট থেকে চাকু বের করে এলোপাথারি আঘাত করতে থাকে। এতে হামিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের দীপু কুমার, পলাশ কুমার ও রতন কুমার নামে তিনজন আহত হন। এদের মধ্যে দীপু কুমারের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি ওইগ্রামের বিপ্লব কুমারের ছেলে।


এসময় স্থানীয়রা নতুন কুমার মন্ডলকে আটক করে মন্দির প্রাঙ্গনে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখে। তাকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।


খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন কুমারকে থানায় নিয়ে আসে। সে হামিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের অনুকুল চন্দ্র মন্ডলের ছেলে।আজ রোববার বিকেলে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান, এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের বাঁকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা ঘটে।


এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্ততি নেয়ার পরও কিভাবে মদ্যপ অবস্থায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতায়ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৯ পিএম

হরিপুর ও পীরগঞ্জে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার ৩০০ টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও পীরগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৭ বোতল ভারতীয় মদ ও ২১৬ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব পণ্যের মোট সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩০০ টাকা।


আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন চাপসার ও চান্দেরহাট বিওপির সদস্যরা ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।


সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য ও বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারী ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।


বাম পাশ দিয়ে চওড়া গলির রাস্তা থাকলেও সামনে দিয়ে নতুন রাস্তার দাবিতে ইটের প্রাচীর ভাংচুর করা হয়

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১১ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে বাড়ির পাশ দিয়ে বের হবার চওড়া গলির রাস্তা থাকলেও তা ব্যবহার না করে বাড়ির সামনে প্রতিবেসীর জমির উপর দিয়ে অবৈধভাবে রাস্তা নিতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের, মারপিট, হুমকি-ধামকি ও ইটের প্রাচীর ভাংচুর করা হয়েছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করার পরও প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


উপজেলা সদরের মডেল স্কুলপাড়ার মৃত আলেম উদ্দিনের ছেলে সুখেল হোসেন অভিযোগ করেন যে, প্রতিবেশী মোশাররফ মন্ডলের ছেলে নুর আলম তিন শতক জায়গা কিনে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তার জন্য কোন জায়গা ফাঁকা রাখেননি। তার বাড়ির উত্তরদিকের প্রতিবেশীরা চওড়া গলি রাস্তা রেখেছেন। সে গলি ব্যবহার করে তারা নদীর বাঁধের রাস্তা ও মডেল স্কুল বড় রাস্তা পর্যন্ত যান। কিন্তু নুর আলম সে গলির রাস্তা ব্যবহার না করে পশ্চিম দিকে সুখেলের জায়গা ব্যবহার করে নদীর বাঁধের রাস্তায় যাবার অপচেষ্টা চালাতে থাকেন। সুখেল বরাবর তার জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এতে নুর আলমের স্ত্রী সাহারা বেগম লোকজনদের নিয়ে নানান হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। এনিয়ে থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলে বারে বারে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও রাস্তার দাবিতে কোর্টে কয়েকটি মামলাও দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 


স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জমি মাপজোখ করে নুর আলমের স্ত্রীকে প্রতিবেসীদের ছেড়ে দেয়া গলির রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে সুখেল তার জমিতে মাটি ভরাট করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। নুর আলম গত ৯ অক্টোবর সকালে একদল বহিরাগত লাঠিয়াল নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কায়দায় ওই প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে। সুখেল বাঁধা দিতে গেলে তাকে, তার মা কল্পনা বেগম, স্ত্রী শাবনুর বেগম ও ভগ্নিপতি মাসুদ হোসেনকে বেদম মারপিট করে। সুখেলের শিশু সন্তানকেও মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়। এতে সুখেলের হাতে ভাঙ্গা জখম হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের উপর হামলার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 


ঘটনার সময় ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের পাতনা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, নওগাঁ সদর উপজেলার ফারাদপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও পানিসাইল গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেনসহ তিনজনকে আটক করে। পরে এব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নুর আলম, তার স্ত্রী সাহারা বেগম ও ভালাইন গ্রামের মফিজ মন্ডলের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেনকেও আসামী করা হয়। কিন্তু তাদেরকে থানা পুলিশ আটক করতে পারেনি।


মামলা দায়েরের পরও নুর হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা সুখেল ও তার পরিবারকে নানান হুমকি দিয়ে আসছে। তারা সুখেলের জমির উপর নির্মিত ভেঙ্গে দেয়া ইটের প্রাচীর মেরামত করতে দিচ্ছেনা।


মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মহাদেবপুর থানার এসআই সাফিউল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৪ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য, ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান।


গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ভালুকা উপজেলা কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরে উপস্থিত থেকে তিনি নারী-পুরুষের হাতে এসব উপহারসামগ্রী তুলে দেন।


‘ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার’ এই চেতনাকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভালুকা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে মোট ১ হাজার ৪০০টি শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৮৭০টি শাড়ি ও ৫৩০টি লুঙ্গি রয়েছে। পাশাপাশি বিতরণ করা হয় আরও ৩০০টি উপহারসামগ্রী।


অনুষ্ঠানে হাতেম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে রয়েছেন এবং আজীবন তাঁদের সেবা করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবৎ আপনাদের পাশে আছি এবং আজীবন পাশে থাকতে চাই। আপনারা যদি আমাকে পাশে রাখেন, ইনশা আল্লাহ আমি আমার স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে এই সেবাটি করে যাচ্ছি।’


আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাতেম খান বলেন, মানুষ যাঁকে পছন্দ করবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন। তবে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে খেদমত করার মতো একটা সুযোগ দিলে হয়তো আমি এমনিতেই আপনাদের সেবা করছি, কিন্তু কলম থাকলে এবং চেয়ার থাকলে সেবাটা একটু বাড়িয়ে করা যাবে।’


বক্তব্যে ভালুকার বিভিন্ন মন্দিরের সমস্যা সমাধানে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন হাতেম খান। তিনি জানান, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মন্দিরের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অন্য একটি মন্দিরের শৌচাগার, মঞ্চ ও গোসলের স্থান নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। উপহারসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন হাতেম খান। এ সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জহির রায়হান ও ছাইদুর রহমান, পৌর বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম পাপ্পু, পৌর মহিলা দলের সভাপতি নাসরিন সুলতানা চায়না ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা আক্তার, পৌর তাঁতী দলের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ, পৌর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পৌর শাখার সভাপতি প্রদীপ বণিক ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার মোদক এবং পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের পৌর শাখার সভাপতি মিঠু বণিকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


আয়োজকদের মতে, উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।