মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান। এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাথাব্যথা হওয়ায় সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়। আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করেন।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে ভালো হয়ে যাবে বলে আলমগীর শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে শিশুটি শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত আলমগীর জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
তবে অভিযুক্ত আলমগীরের দাবি তুলে ধরে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাড়ফুঁকের কাজ করতে গিয়ে রতনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। একটি চক্র টাকা দাবি করে না পাওয়ায় ভিকটিমকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলানো হয়েছে। পরে পরিবারকে উসকানি দিয়ে মামলা করানো হয়েছে বলে আলমগীর দাবি করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসাধীন চাষি লোকমান
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা লোকমান আলী (৫৫) নামে এক চাষিকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তিনি উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের বামনসাতা গ্রামের মৃত সুজন হোসেনের ছেলে। আহত হয়েছেন তার ছেলে নাইম (২৫)। আজ রোববার (২০) সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গ্রামের মাঠের একটি খেতে কাজ করার সময় প্রতিপক্ষরা এ হামলা চালায়।
আহত নাইম জানান, ১৯৯৮ সালে তার বাবা আদালতে একটি বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করেন। ২০১৫ সালে আদালতযোগে তাদের ২৫ শতক জমির দখল বুঝে দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষরা এরমধ্যে ১৫ শতক জমি দখলে নিতে একের পর এক ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে। গত ১০ আগস্ট আগাছানাশক প্রয়োগ করে ওইজমিতে রোপণ করা ধানগাছ বিনষ্ট করা হয়। লোকমান আলী সেসময় সেখানে কয়েকটি আমগাছের চারা রোপণ করেন।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিপক্ষরা আমগাছের চারাগুলো উপড়ে ফেলে। জানতে পেরে লোকমান আলী এর প্রতিবাদ জানালে প্রতিপক্ষরা তাকে নানান হুমকি দেয়। এরই জের ধরে আজ রোববার ভোরে লোকমান আলী ও তার ছেলে পাশের অন্য একটি খেতে কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা হাসুয়া, লোহার রড, লাঠি প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে দুজনেই আহত হন। লোকমান আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। তার মাথায় ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং ডান হাত ভেঙ্গে গেছে।
এব্যাপারে লোকমান আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে বামনসাতা গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের দুই ছেলে ফেরদৌস ও সিদ্দিক, মৃত হোসেন আলীর দুই ছেলে নাজিম উদ্দিন ও আব্দুর রহমান, নাজিম উদ্দিনের ছেলে রানা, আয়েজ উদ্দিনের দুই ছেলে চয়েন ও আয়নালের বিরুদ্ধে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ আয়নাল বলেন, তারা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেছেন। কোর্ট থেকে যে দখল দেয়া হয়েছে তা ভূয়া। জমি দখল করতে দিবেন না জন্যই আমগাছগুলো কেটেছেন। আজ রোববারের ঘটনায় তাদেরও দুজন আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মহাদেবপুর থানার এসআই আব্দুল মতিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে নীলফামারীতে জাতীয় দৈনিক ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে নীলফামারী জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক মো. ইলিয়াস খান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পত্রিকাটির নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ আহম্মেদ তান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নীলফামারী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নির্বাহী সম্পাদক মো. নাহিদ হোসেন, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তহমিন হক ববী, সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন মোহাম্মদ শিথুনসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সুধীজন।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের নানা অসঙ্গতি, অনিয়ম ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আলোচনা শেষে ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
মো. আবদুর রহিম সরকার
নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ ছাড়া উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসির অংশ নেওয়ার উভিযোগ উঠে।
ওসির দায়িত্বে থাকা সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ওসি প্রত্যাহারের পর চলে গেছে। তবে কি কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে তা জানিনা। বটতলা এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম
বুকফাটা আর্তনাদে একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা-বাবা। একইসঙ্গে স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সারাদেশের মানুষের চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে নির্মম শিকার ১৩ বছরের এই কিশোরকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবরে আকুতি ছিল, যেন সে জীবিত ফিরে আসুক। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশ নেন। ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও।
জানাজার আগে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
এরই মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এমনকি আটক তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তুহিনের কাছে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তার মা। এ সময় তিনি জানান, অপ্রতিমের পরিবারের মতো তারাও সন্তানের বিষয়টি নিয়ে কষ্টে আছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায়, তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় অবিলম্বে সব হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মহাসড়কে অবস্থান করে নানামুখী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে তার প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে।
শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের লাশ কোটবাড়ী গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।
এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় শনিবারও আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই সন্তানই আজ ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। আর কয়েক ঘণ্টা পর প্রিয় ক্যাম্পাস ও গন্ধমতির মাটিতে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় অপ্রতিমকে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে চাঁদাবাজির মামলায় বাঙালিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম রেজা খানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন ফরহাদ খান, ফরিদুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন খান, জাকির খান ও জাহিরুল ইসলাম।
মামলার বাদী শিল্পপতি ও সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম। তিনি বাঙালিপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে ‘আমিনুল সুপার মার্কেট’ এবং বিসিআইসি সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রেজাউল করিম রেজা খান ও তার সহযোগীরা আমিনুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া এবং তার বিসিআইসি সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রের ঘরসহ মার্কেটের দুই শতক জায়গা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা এবং সংবাদ সম্মেলন করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আমিনুল ইসলাম আইনের আশ্রয় নেন। তিনি সৈয়দপুর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ করে পরে নীলফামারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলা নম্বর ১০৮৩/২৫। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তদন্তের পর মামলাটি গ্রহণ করা হয় এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত স্মারক নম্বর ২৫২৪।
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, পরোয়ানা জারির পরও আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার একটি সূত্র জানায়, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি এখনও থানায় পৌঁছেনি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আসামিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।