“তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে!”
চার দলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তখন কেন পদত্যাগ করেনি- সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তার ভাষ্যে, “আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে; বিএনপি তাদের বক্তব্য যে দুর্নীতিতে বলে চ্যাম্পিয়ন ছিল।
“তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি?”
আজ মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে।
“এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিজামী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, "সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল।"
“এবং যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে!”
সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সড়কপথে ময়মনসিংহ পৌঁছান বেলা সাড়ে ৩টায়। মঞ্চে তরেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। এ জনসভায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকুন’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, তারা আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন; মুরুব্বি যারা আছে, আমাদের বয়েসী যারা আছে, তারা দেখেছেন- জানেন সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ অগাস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণির পেশার মানুষ।
“সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, চব্বিশের আন্দোলনই হোক, কে পাহাকি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ—এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে।
“কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ- কেউ দেখে নাই। এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসাথে থাকতে হবে।”
একতার সুফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি এক সাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা যদি এক সাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বৈরাচার বিদায় করেছি, আমরা যদি ইনশাল্লাহ সামনের দিনে একসাথে থাকি; তাহলে অবশ্যই এই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব।
“সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাহলে স্লোগান হবে একটাই। সেটা হল- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। সবার মনে রাখতে হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
“আসুন, আমাদের আজকে শপথ হোক, আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব। আমরা বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব। শেষ কথার এক কথা—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”
তিনি বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
“আসুন, আমাদের আজকে শপথ হোক, আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব। আমরা বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব। শেষ কথার এক কথা—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “পারবেন তো পাহারা দিয়ে সর্তক থাকতে।”
সমস্বরে সবাই ‘হ্যাঁ’ বললে তারেক রহমান বলেন, “ইনশাল্লাহ”।
‘সবাইকে কোদাল নিয়ে আসতে হবে’
বিএনপি চেয়ার্যমান তারেক রহমান বলেন, “এই ময়মনসিংহ জেলা একটি অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা। অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা।
“আমাদের এখানে একসময় অনেক খাল-বিল ছিল; ছিল না আগে? এই খাল-বিলগুলো সব ভরাট হয়ে গিয়েছে। এই খালগুলোকে আমরা পুনর্খনন করতে চাই।”
তিনি বলেন, “এখন এই খাল পুনর্খনন করার জন্য কে কে কোদাল হাতে নেবেন? সারা জেলায় খাল পুনর্খনন করতে কে কে কোদাল হাতে নেবেন?”
সবাই সমস্বরে সম্মতি জানালে তারেক রহমান বলেন, “আমি কিন্তু থাকব সেদিন আপনাদের সাথে। ঠিক তো? ইনশাআল্লাহ। তাহলে আমরা খাল খনন করব।”
বক্তব্যের শেষে তিনি ফের বলেন, “আপনাদের সাথে ১২ তারিখের পরে আবার দেখা হবে। কোথায় দেখা হবে?
“খাল খনন কর্মসূচিতে দেখা হবে, খাল খনন কর্মসূচি। সবাইকে কোদাল নিয়ে আসতে হবে পারবেন?”
সবাই সম্মতি দিলে তারেক বলে ওঠেন, “ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ হাফেজ।”
‘কর্মসংস্থান হলে মাদক সমস্যা থাকবে না’
বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই— নেত্রকোণাসহ, শেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক সমস্যা রয়েছে। আমরা এই মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। কিন্তু মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে কীভাবে করবেন আপনি?
“মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদেরকে সেই তরুণদের, সেই যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, কর্ম থাকবে, চাকরিবাকরি থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্য কমবেশি থাকবে; তখন মানুষ এগুলোর মধ্যে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই।”
তিনি বলেন, “দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউশন বেশি করে আমরা তৈরি করব। যাতে করে আমরা আমাদের তরুণ সদস্যদেরকে, যুব সমাজের সদস্যদেরকে আমরা বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব— যেই ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে তারা বিদেশে যেমন যেতে পারবে, একইভাবে তারা দেশে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে।
“যারা আইটিতে কাজ করে, তাদের জন্য বিভিন্ন রকম আইটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি—যাতে যারা আইটিতে কাজ করে, তারা ঘরে বসে তাদের আয়-রুজি-কামাই রোজগার বাড়াতে পারে।”
হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময়
মঞ্চে ওঠার আগে আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের কাছে গিয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। তারা মঞ্চের নিচে ছিলেন।
চাইলেন ভোট
নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানসহ সরকার গঠন করলে কী কী করতে চান তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।
ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের ২৪ জন বিএনপি প্রার্থীকে ধানের শীষ হাতে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “আমি আপনাদের দায়িত্ব দিলাম, তাদেরকে বিজয়ী করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।”
তারা হলেন—ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ-২ আসনের মোতাহার হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৩ আসনের এম ইকবাল হোসেইন, ময়মনসিংহ-৪ আসনের আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের আখতারুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মাহাবুবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ময়মনসিংহ-৯ আসনের ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনের মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১১ আসনের ফখর উদ্দিন আহমেদ।
জামালপুরের প্রার্থীরা হলেন—জামালপুর-১ আসনের এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর-২ আসনের এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবীর তালুকদার এবং জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
নেত্রকোণার প্রার্থীরা হলেন—নেত্রকোণা-১ আসনের কায়সার কামাল, নেত্রকোণা-২ আসনের আনোয়ারুল হক, নেত্রকোণা-৩ আসনের রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোণা-৪ আসনের লুৎফুজ্জামান বাবর এবং নেত্রকোণা-৫ আসনের আবু তাহের তালুকদার।
শেরপুরের প্রার্থীরা হলেন—শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর-২ আসনের মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং শেরপুর-৩ আসনে মাহমুদুল হক রুবেল।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করছেন বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদ আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।
ময়মনসিংহের অনুষ্ঠান শেষে পরবর্তী নির্বাচনি সমাবেশের জন্য গাজীপুরের রাজবাড়ি কলেজ মাঠের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান।
সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরাণ (র.) মাজার জিয়ারতের পর গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়নগঞ্জে ৭টি সমাবেশ করেন তিনি।
এরপর গত রোববার চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয় পর্বের প্রচারাভিযান চালান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেদিন চট্টগ্রামসহ ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো গণনা হয়েছে। এবার নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৮ টাকা, এক ভরির বেশি স্বর্ণ, তিন ভরির বেশি রুপা ও প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। এছাড়াও মানত করা শতাধিক গরু-ছাগলের হিসাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দানবাক্সের টাকার স্তূপের মধ্য থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত হরেকরকম চিঠির পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা রাজনীতি সংস্কার বিষয়ক এক ব্যতিক্রমী বেনামী আবেদনপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যৌথ তদারকিতে এই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিকালে জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বিক অর্থমূল্যের তথ্য প্রকাশ করেন। উদ্ধারকৃত চিঠির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত চিঠিটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা।
যেখানে কোনো নাম পরিচয় না লিখে বিএনপিতে কর্মী হতে এইচএসসি (জিপিএ ৩.৫) এবং সদস্য হতে এসএসসি (জিপিএ ২.৫) পাশের বাধ্যবাধকতা আরোপসহ পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে কোনো কিশোরকে দলে যুক্ত না করার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয় ‘আই ওয়ান্ট দ্য চেঞ্জ টু কাম থ্রু ইউ’।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে নতুন সিলগালাকৃত দানবাক্স স্থাপনের পর ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকাসহ চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল।
অর্জিত মোট দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের সার্বিক উন্নয়নকাজে সোনালী ব্যাংকের যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা এবং অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করার নতুন নীতিমালা করা হয়েছে।
কামরুল হাসান (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরুল হাসান (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ছিনতাই হওয়া জিক্সার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নেওয়াজপুর গ্রামের ওক্কাছ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ কামরুল হাসান ওই বাড়ির মো. ইউছুফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দর্জি।
হাসানের খালাতো ভাই মো. শান্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান চট্টগ্রামে দর্জির কাজ করেন। দুই দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। শনিবার বিকেলে মোটরসাইকেলে খালাতো ভাই রাকিবকে (২০) নিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। পথে বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে বাংলাবাজার এলাকার হারুন ও আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে নুরু তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
এতে হাসানের বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের বাগুতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলিবিদ্ধ হাসান হাসপাতালে ভর্তি হন। তার একটি হাতের বাহুতে বুলেটের আঘাত রয়েছে। পেটের ওপরের অংশেও বুলেটের মতো আরেকটি আঘাত আছে, তবে সেখানে কোনো বুলেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নুরুর মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুল কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন
গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন। টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় শিশুটির পরিবারের আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন তিনি। এটিকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার একটি ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেছেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ১৫-১৬ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাটি সাজিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেউদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যান্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
প্রিন্সিপাল আরও অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা মাদ্রাসার তহবিল থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
ওই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত মুসলেউদ্দিন মাদ্রাসাটির একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক যাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেন, মব সৃষ্টি করে সেদিন মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দুঢ়কণ্ঠে বলছি, আমি কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি এই মাদ্রাসায় কোরআন পড়াচ্ছি ২০০৭ সাল থেকে।
তিনি বলেন, সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। এরপর একটা স্টাপলার নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এতে অনেক রক্ত ঝরেছে। যৌন হয়রানির বিষয়ে যে শিশুটিকে নিয়ে কথা হচ্ছে সেই শিশুটি ক্লাস ওয়ানে পড়ে। সে দুই-আড়াই বছর ধরে এখানে পড়ে। আমাদের এখানে তার বাবা কোনোদিন আসেনি। এই প্রতিষ্ঠানে শিশুটি ওই ওস্তাদের কাছে ছোট থেকে পড়ছে। ওর মতো এ রকম ২০-২৫ জন শিশুটি এখানে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তিনি বলেন, শিশুটির ওই অভিভাবক ফোন দিয়েছিলেন ভাইস প্রিন্সিপালকে। তিনি অসুস্থ, ঢাকার বাইরে আছেন।
সব বাচ্চা নাকি ভালো রেজাল্ট করেছে। এজন্য বাচ্চাটাকে ওই শিক্ষক বলেছেন, তোমাকে পাপ্পি দেব। সব বাচ্চাদের বলেছে, চকলেটও দিয়েছে। বলেছেন, ‘তোমাদের পাপ্পি দেব, তোমরা ভালো রেজাল্ট করবা। আমি তোমাদের অনেক বেশি আদর করবো।’ কথাটা ছিল এ রকম।
পরে শিশুটির মা ভাইস প্রিন্সিপালকে ফোন দিয়ে বলেছেন, ‘স্যার পাপ্পি দেওয়ার দরকার নাই। এমনি আদর করুক, ঠিক আছে।’
ওই ফোনের পর ভাইস প্রিন্সিপাল অভিযুক্ত শিক্ষককে ফোন দিয়ে বলেছেন যে, ‘আপনি কি এ রকম কথা বলেছেন?’ তখন ওই শিক্ষক বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি তো সবাইকে বলেছি। আমি তো দিইনি কাউকে। বলেছি, তোমাদের আমি পাপ্পি দেব।’
তখন ভাইস প্রিন্সিপাল শিক্ষককে বলেছেন, ‘যেহেতু একজন অভিভাবক বলেছেন এটা নিয়ে। আপনি ২৫ জনকে বলেছেন। তার মধ্যে একজন যেহেতু এটাকে অন্যভাবে দেখেছেন, আপনি এটা করবেন না।’
আমাকে না জানিয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল বিষয়টি এভাবে সমাধান করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ওই অভিভাবক পরবর্তীতে কি করেছেন? এখন প্রশ্ন হলো- ‘শিশুটি যদি এখানে কোনোভাবে হেজিটেশনে পড়তো অথবা যদি কোনো কারণে সে এটাকে ব্যাড-টাচ মনে করতো তাহলে অভিভাবক তো বাচ্চাকে পরদিন মাদ্রাসায় পাঠাতেন না। পরের দিন ওনার মেয়েকে তো পাঠিয়েছেন মাদ্রাসায়। এখন আমার প্রশ্ন জাতির কাছে, আমার শিক্ষক যদি খারাপ হয় তাহলে অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে আর পাঠাতেন না, যে এই মাদ্রাসায় আমি দেব না আমার বাচ্চাকে ব্যাট-টাচ করেছে বা চুমু দিয়েছি। কিন্তু উনি পরের দিন পাঠিয়েছেন। এটা আমাদের সিসিটিভি ফুটেজে আছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যেহেতু শিশুটি এসেছে তাহলে এখানে কোনো সমস্যা নেই। যেদিন ঘটনা ঘটেছে তার পরের দিন সেই শিশু আসছে। তার পরের দিনও এসেছে। সিসিটিভিতে শিশুটি খেলতেছে, ওস্তাদ পড়াচ্ছে, খুব আনন্দ করতেছে এখানে সিসিটিভিতে দেখাচ্ছে।’
প্রিন্সিপাল বলেন, ‘তিন-দিন, চার দিনের মাথায় ওই লোকটা (শিশুর বাবা) হঠাৎ করে গাড়ি নিয়ে কিছু লোকসহ যারা এই এলাকার না, আমরা চিনি না তাদের। আর উনাকেও আমরা চিনি না ঠিক। উনি কখনো আসেননি মাদ্রাসায়। ভর্তির সময় তার নানা আসতো, আর তার মেয়ে আসতো। উনি এসেই এখানে সবাইকে জিম্মি করে ফেলেছে। আমাদের কিছু টিচার এখানে ছিল, তাদেরকেও জিম্মি করে ফেললো।’
আলমাস হোসাইনের দাবি, ‘লোকজন হঠাৎ করে ঢুকে মানে একটা মব সৃষ্টি করে তারা আমার রুমে ঢুকে গেল। আমাকে খুব অকথ্য ভাষায় বলে, ওই শিক্ষককে নিয়ে আসো। আমি বলছি, ভাই আপনি কে? আমি তো আপনাকে চিনি না। বলে, আমাকে চিনবি তুই এখন। এইটা বলে এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেললো।’
তিনি বলেন, ‘একটা ম্যাডাম এখানে ছিল তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এখানে টাকা-পয়সা ছিল। আমাদের জমি কেনার টাকা ছিল। মাদ্রাসার নামে একটা জমি কেনার কথা হচ্ছিল। এজন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছি। সেটার আমাদের স্টেটমেন্ট আছে। সেই টাকা-পয়সা এখানে ছিল। এগুলো সবকিছু তছনছ করে ১৭ লাখ টাকা নিয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘পরবর্তীতে ওই শিক্ষক আসার পরে তাকে শুধু জিজ্ঞেস করেছে। শিক্ষক বলেছেন যে, হ্যাঁ, আমি চুমু দিতে চেয়েছিলাম। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে মারধর করেছে। এলাকার মানুষ যেই এসেছে তাদেরকে ধমক দিয়ে স্টপ করে দিয়েছে। কাউকে কথা বলতে দেয়নি। পরে আমরা কোনো রকমে ওই শিক্ষককে মেডিকেলে পাঠিয়েছি।’
তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা একটা খবর পেয়েছি, এখানে চার-পাঁচ জন ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তাদের ফেসবুক আইডিতে ঢুকে আমাকে অনেকে ছবি পাঠিয়েছে।
বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব করতে নয়: শিশুটির বাবা
যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।
শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’
মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব।’
১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানান এই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।
শিশুটির বাবা বলেন, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বীনি শিক্ষার জন্যই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেখানে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ওই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে উল্লেখ করে এই অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’
এদিকে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সি শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিবাদ চলছে। ঘটনার দিন মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা বাড়ি ফিরে মাকে জানিয়েছিল শিশুটি। এবার সেই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন শিশুটির মা মালিহা।
একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ওই সময় দর্শকের অনুরোধে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে স্ত্রীকে ফোন করেন তিনি। ফোনে মালিহা মেয়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মালিহা জানান, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ৮টায় মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠান তিনি। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাধারণ ক্লাসের পর সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশেষ আরবি ক্লাস হয়। ওই ক্লাস নিতেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ছুটির পর মেয়ে বাড়িতে ফিরলে তার মন খারাপ ও ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে বিষয়টি জানতে চান তিনি।
ফোনে মালিহা বলেন, ‘১৯ তারিখ সোমবার আমার মেয়েকে সকাল ৮টায় মাদ্রাসায় পাঠাই। ওদের ক্লাস সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হয়। সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত স্পেশাল আরবি ক্লাস হয়, যেটা ওই স্যার নেন। ছুটি হওয়ার পর মেয়ে যখন বাসায় আসে, আমি খেয়াল করি তার মনটা খারাপ। একটু কান্না কান্না ভাব আর একটু ভয় নিয়ে আছে।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, মা, তুমি এরকম ভয় পেয়ে আছো কেন? কী হয়েছে, আমাকে খুলে বলো। আমাকে বলতে চাচ্ছিল না। শুধু ভয় পেয়ে বলছিল, আম্মু, আমি বললে স্যার আমাকে মারবে। স্যার আমাকে মেরে ফেলবে।’
মালিহা জানান, পরে মেয়েকে বুঝিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ জানায়।
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আবার বলি, আমাকে একটু খুলে বলো। পরে বলছে, স্যার আমাকে আদর করছে। কী আদর করছে, মানে কেমন আদর—সে আমাকে বলছে, ব্যাড টাচ।
আম্মু, আমাকে স্যার ব্যাড টাচ করেছে। ব্যাড টাচ মানে কোথায় কোথায় তোমাকে ব্যাড টাচ করেছে? তো সে আমাকে বলল, আম্মু, আমাকে এই যে গালে, কপালে, ঠোঁটে—মানে বিভিন্ন জায়গায় পুরোটাই ব্যাড টাচ।’
ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা জানতে চাইলে মেয়ে মাদ্রাসার সিঁড়ির কথা জানায় বলে দাবি করেন মালিহা। তিনি বলেন, ‘আমি বললাম, এটা কোথায় হয়েছে? ওই মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, রুমের ভেতরে। এটা তো করা সম্ভব ছিল না।’
শিশুটি তাকে জানিয়েছিল, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। মালিহার ভাষ্য, ‘আম্মু, স্যার আমাকে বলছে, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নাই। আমার যখন ক্লাস শেষে সবাই বের হয়ে যাচ্ছিলাম, ছুটির পর যখন তারা ওপর থেকে নেমে আসে, তখন স্যার ওর হাতটা টেনে ধরে সিঁড়ির মধ্যে এগুলো করে।’
শিশুটি আরও জানিয়েছিল, বিষয়টি কাউকে না বলতে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে মালিহা বলেন, ‘স্যার তাকে নিজেই বলে, দেখো, তুমি যদি এই কথাটা বাসায় গিয়ে বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ সিঁড়িতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নাই। তোমার গার্ডিয়ানদের জানালে আমি কিন্তু তোমাকে মেরে ফেলব। তুমি এই কথা কাউকে বলতে পারবা না।’
মালিহা জানান, মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর মাদ্রাসার লুনা নামের এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানান তিনি। তার অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা ঘটনাটি প্রথমবার ঘটেছে উল্লেখ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তবে মা হিসেবে তিনি এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
এ বিষয়ে মালিহা বলেন, ‘মেয়ে থেকে এই ঘটনা জানার পর আমি মাদ্রাসারই একজন ম্যাডামকে জানাই এই বিষয়টা। উনার নাম হচ্ছে লুনা ম্যাডাম। ওনাকে জানানোর পর উনি আমাকে বললেন, দেখেন, এটা তো প্রথমবার ছিল, আমরা স্যারকে আরেকটা সুযোগ দিই। আমি মা হিসেবে ওনার এই কথায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি।’
এরপর মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকে ফোন করে অভিযোগের কথা জানান বলে দাবি করেন মালিহা। তিনি বলেন, ‘পরে আমি সাথে সাথে ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকে ফোন দিই। তখন কিন্তু তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না। তিনি নাকি ছুটিতে ছিলেন। তো ওনাকে আমি জানাই যে আমার মেয়ের সঙ্গে এরকম এরকম হয়েছে। স্যার এরকম ব্যাড টাচ করেছে। তো উনি বললেন, আমরা তাৎক্ষণিক পরের দিনই, ২০ তারিখেই, সিঁড়িতেও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে দেব এবং সর্বক্ষণই একজন মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবে। যখন একজন পুরুষ শিক্ষক ক্লাস নেবে, তখন পাশাপাশি একজন মহিলা শিক্ষকও থাকবে। ওনার কথায় আমি আশ্বস্ত হয়ে ২০ তারিখে আমার মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠাই।’
তবে পরদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাস নেন এবং মেয়ের কাছ থেকে বাসার নম্বর জানতে চান বলে অভিযোগ করেন মালিহা।
তিনি বলেন, ‘পাঠানোর পরে সেই দিনও ওই স্যার ক্লাস করে এবং আমার মেয়েকে বলে যে, তোমাকে আমার পছন্দ। তোমাদের বাসার নম্বর কত? মানে আমার মেয়ের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে বাসার নম্বর জেনে নিয়েছে।’
মালিহার অভিযোগ, সেদিন মেয়ে বাড়িতে ফেরার পরপরই ওই শিক্ষক তাদের বাসায় যান। তখন তিনি সন্তানদের নিয়ে একা ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘মেয়ে বাসায় আসার পরপরই উনি আমাদের বাসায় চলে এসেছেন। আর তখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বাসায় একা ছিলাম। কোনো পুরুষ মানুষ বাসায় নাই। উনি আমার বাসার সামনে এসে বারবার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। বলছেন—আপনার বাসার দরজা খুলেন, আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে।’
ওই সময় শিক্ষককে শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন বলে জানান মালিহা। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলেছি, আপনার সঙ্গে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। বাচ্চার বাবা কথা বলবে এই বিষয়ে আপনার সঙ্গে। তারপরেই আমি বাচ্চার বাবাকে জানাই ঘটনাটা।’
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মালিহা বলেন, ‘উনারা সবাই আমার বাচ্চার সঙ্গে অন্যায় করেছে, এখন উনারা অস্বীকার করেছে। আমি আমার ছোট বাচ্চা মেয়েটার প্রতি হওয়া অন্যায়ের জন্য বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই।’
গত ২১ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি তাকে চড় মারেন। পরে উপস্থিত জনতাও ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালতে শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে নিপীড়নের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।
ঘটনায় গ্রেফতার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ ঘিরে শিশুটির পরিবার এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পালটাপালটি অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলতে চায়নি। পরে মা-বাবাকে ঘটনার কথা জানায়।
শিশুটির বাবার করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠায় পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালতের পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, বিচারক শিশুটির বক্তব্য শুনে তা জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
শিশুটির মা মালিহা আক্তারের দাবি, মাদ্রাসা থেকে ফেরার পর মেয়েকে ভীত ও মনমরা দেখাচ্ছিল। কী হয়েছে জানতে চাইলে সে প্রথমে বলতে ভয় পায়। শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে মারধর করা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও শিশুটি মাকে বলেছিল বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সরাসরি সম্প্রচারের সময় স্ত্রীকে ফোন করেন। তখন মালিহা মেয়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিবরণ দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি শিক্ষকের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ জানায় এবং ঘটনাস্থল হিসেবে মাদ্রাসার সিঁড়ির কথা বলে।
মালিহার অভিযোগ, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই জানিয়ে শিক্ষক শিশুটিকে বিষয়টি কাউকে না বলতে ভয় দেখিয়েছিলেন। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর তিনি মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা লুনাকে বিষয়টি জানান। ওই শিক্ষিকা ‘অভিযুক্ত’ শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকেও বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন মালিহা।
তার ভাষ্য, পরদিন সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুরুষ শিক্ষকের ক্লাশের সময় একজন নারী শিক্ষককে উপস্থিত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে মেয়েকে আবার মাদ্রাসায় পাঠান তিনি। কিন্তু সেদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাশ নেন এবং শিশুটির কাছে বাসার ঠিকানা জানতে চান বলে অভিযোগ করেন মালিহা। তার দাবি, সেদিন বাড়ি ফেরার পর ওই শিক্ষক তাদের বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন এবং কথা বলতে চান। পরে তিনি বিষয়টি স্বামীকে জানান।
গত বুধবার শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জন মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্য শিক্ষক, শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন অধ্যক্ষ। এসব ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।
তবে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তাও দাবি করেছেন তিনি।
মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন শিশুটির মা