ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১০ মে, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত ঠেকাতে রাজশাহী, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গায় আম সংগ্রহের সময়সূচি (ক্যালেন্ডার) নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিপক্ব আমের বাজারজাত নিশ্চিত করতে রোববার সভা করে পৃথকভাবে এই ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।


ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৫ মে গুটি আম দিয়ে রাজশাহীর বাগানগুলোতে আম নামানো শুরু হবে। নওগাঁয় আম পাড়া শুরু হবে ২২ মে। ওই দিন থেকে গুটি ও স্থানীয় জাতের আম নামানো শুরু করবেন চাষিরা। অন্যদিকে ১৩ মে গুটি, গোপালভোগ ও বোম্বাই আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় আম পাড়া শুরু হবে। তবে অন্যান্য জাতের আমের জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।


এর আগে রোববার সাতক্ষীরায় সর্বপ্রথম ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করা হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ বিভিন্ন বৈশাখী জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই আম বাজারে এসেছে।


রাজশাহীর আম আসবে ১৫ মে


১৫ মে রাজশাহীতে গুটি জাতের আম পাড়া শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নত জাতের আম পাড়া শুরু হবে। রোববার বেলা সোয়া তিনটায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে রাজশাহীর ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তার আগে আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।


ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম নামানো যাবে। এরপর ২২ মে গোপালভোগ, ২৫ মে রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ, ৩০ মে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি, ১০ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া; ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি; ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই আশ্বিনা, ১৫ জুলাই গৌড়মতি নামানো যাবে। এ ছাড়া কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে। কিছু কিছু গুটি আম বৈশাখ মাসেও পাকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সেই আম নামানো যাবে।


জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে পরিপক্ব আমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হলো। তিনি এই সময়সূচি অনুযায়ী চাষিদের গাছ থেকে আম নামানোর আহ্বান জানান। অপরিপক্ব আম গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নওগাঁর আম কবে আসছে


নওগাঁয় ২২ মে গুটি আম দিয়ে আম পাড়া শুরু হবে। আর জিআই স্বীকৃতি পাওয়া নওগাঁর নাক ফজলি আম বাজারে আসবে ৫ জুন। বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নওগাঁ জেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতওয়ারি আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণী সভা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।


সময়সূচি অনুযায়ী ২২ মে থেকে গুটি, ৩০ মে গোপালভোগ, ২ জুন হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি, ৫ জুন নাক ফজলি, ১০ জুন ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ফজলি এবং ৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন আম সংগ্রহ করা যাবে।


চলতি বছর নওগাঁয় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১২ দশমিক ৭৮ টন হিসাবে জেলায় আম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম-বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি এবার নওগাঁ থেকে ২০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই অপরিপক্ব আম সংগ্রহ কিংবা বাজারে তোলা যাবে না। পরিপক্ব আম নামানোর জন্য এ সময়সূচি। তবে আবহাওয়ার কারণে সময়ের আগে আম পরিপক্ব হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সেই অনুযায়ী তারিখ পুনর্নির্ধারণ করবেন। আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতকরণে কোনো রাসায়নিক মেশানো যাবে না। আমে ভেজাল ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি রাখবে প্রশাসন।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে জেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। মূলত ভোক্তাদের পরিপক্ব ও ক্ষতিকারক রাসায়নিকমুক্ত আম খাওয়াতে আম সংগ্রহের এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত বছর নওগাঁ থেকে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। এ বছর রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ২০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গার আম নামবে ১৩ মে


চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে আঁটি, গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আম পাড়া শুরু হবে। রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।


ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই, ২২ মে হিমসাগর, ২৮ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন থেকে ফজলি, ২০ জুন হাঁড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ৩০ জুন আশ্বিনা (বারি-৪), ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম পাড়া যাবে।


জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা ফল ও আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস মহলদার বক্তব্য দেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, ১৩ মে বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি এলাকায় আবদুল কুদ্দুস মহলদারের বাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হবে। গত বছর ১৫ মে এসব আম সংগ্রহ শুরু হয়েছিল।


সভায় কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, গত বছর আমের জন্য ‘অফ ইয়ার’ হলেও এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। জেলায় এ বছর ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ১৩ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন হিসাবে এ বছর ৩ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে।


জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, স্বাদে-গন্ধে দেশজুড়ে চুয়াডাঙ্গার আমের সুনাম আছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো। উল্লিখিত সময়কাল অনুসরণ করে আম সংগ্রহ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপরিপক্ব আম পাড়া যাবে না।


বাজারে এসেছে সাতক্ষীরার আম


সাতক্ষীরায় ৫ মে থেকে আম পাড়া শুরু হয়েছে। ওই দিন গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ বিভিন্ন বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হয়। গত রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নিরাপদ আম বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।


ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে জনপ্রিয় সুগন্ধি জাতের হিমসাগর আম বাজারে আসবে। ল্যাংড়া আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও এক মাস। ২৭ মে থেকে এ জাতের আম পাড়া যাবে। আর জুনের শুরুতে ৫ জুন থেকে আম্রপালি সংগ্রহ করা হবে।


সভায় জানানো হয়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে ১০০ টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানিযোগ্য মান নিশ্চিত করতে আমের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সময়ের আগে আম সংগ্রহ বন্ধ রাখা হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, চেকপোস্ট ও বিশেষ তদারকি দল কাজ করবে। পাশাপাশি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।



সর্বশেষ সব খবর

সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

পর্যটক আকর্ষণে চা বাগানের ভেতর দিয়ে হবে সড়ক


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

সিলেট নগরের যানজট কমাতে সাহেবের বাজার থেকে খাদিমপাড়া হয়ে কালাগুল বাজার পর্যন্ত বিকল্প সড়ক উন্নয়ন, বিমানবন্দর-আম্বরখানা চার লেন সড়ক নির্মাণ এবং লাক্কাতুরা থেকে টেলিভিশন গেট পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয়ে মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।


মন্ত্রী বলেন, খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার থেকে একটি ভাঙাচোরা সড়ক ২৪ ফুট প্রশস্ত করে কংক্রিটের সড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ট্রাকগুলোকে নগরের আম্বরখানা এলাকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। বিকল্প পথে খাদিমপাড়া হয়ে কালাগুল বাজারের সড়ক ব্যবহার করে যানবাহন বাইপাসে পৌঁছাতে পারবে। এতে নগরের যানজট কমাতে সহায়তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এ ছাড়া সিলেট বিমানবন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। লাক্কাতুরা থেকে টেলিভিশন গেট পর্যন্ত চা-বাগানের ভেতর দিয়ে আরেকটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।


খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, নতুন সড়কটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সার্কিট হাউসের পাশে পুরোনো জালালাবাদ শিশু পার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কাজ চলছে। 


বাদাঘাট বাইপাসের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজও অগ্রসর হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের যানজট কমানো এবং মানুষের যাতায়াত সহজ করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। 


তিনি বলেন, শুধু সড়ক ও সেতু নির্মাণের মধ্যেই উন্নয়ন সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে স্বস্তি, সন্তুষ্টি ও ভোগক্ষমতা বাড়ানোই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।


মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের বড় একটি অংশ এখনো পাকা করা সম্ভব হয়নি। সড়ক উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে। 


সরকারের বর্তমান মেয়াদ শেষে সিলেটের প্রতিটি সড়ক পাকা করার অগ্রগতি নিয়ে জনগণের সামনে জবাবদিহি করতে চান জানিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, নগরের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে তাঁদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট।

সর্বশেষ সব খবর

শাহজালাল রুমি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদের পর ক্রমাগত হুমকিতে সেই পরিবারটি এখন আত্মগোপনে। এরই মধ্যে সোমবার রাতে শিশুটির বাবা জানান, তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।


সাত বছরের শিশুটি টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সন্তানের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে ২১ অক্টোবর মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান তার বাবা। 


একপর্যায়ে শিক্ষককে থাপ্পড় ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং শিশুটির বাবার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পাশাপাশি শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর মধ্যে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেই অভিভাবকের বিরুদ্ধে করা হয় পাল্টা মামলা। তাতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ আনা হয়।  দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে হঠাৎ করেই আত্মগোপনে চলে যান শিশুকন্যার বাবা। তাঁর অবস্থান নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। 


সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো অডিও বার্তায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বাংলাদেশের কুখ্যাত ব্যক্তি। বাসা ছেড়ে পালিয়েছি। দেশ থেকে চলে যাচ্ছি। এ দেশে থাকেন আপনারা। আমি থাকব না কুসংস্কার মার্কা দেশে।’ 


একই অডিওতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার আইডি হ্যাক হয়ে গেছে। আমি একদম চুপ হয়ে গেছি। কোন রাষ্ট্রে আমি বাস করছি? আমি কোনো মানুষের রাষ্ট্রে বাস করছি না। আল্লাহর কসম দিয়ে বলেন তো, আপনার মেয়ের সঙ্গে এমন হলে আপনি কী করতেন? হাজার হাজার হুমকি আসছে। আমার কোনো নিরাপত্তা নেই; কে নিরাপত্তা দেবে?’ 


তাঁর ঘনিষ্ঠ এক স্বজনের দাবি, ওই অভিভাবক দেশেই আছেন। তবে পুরো ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে টঙ্গী সরকারি কলেজ এলাকার শিশুটির বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা-বাবা এবং ভাইবোন সবাই পলাতক। ভেতর থেকে কথা বলেন শিশুটির নানা। জামাতা দেশের বাইরে চলে গেছেন কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান জানান, গত দুদিন শিশুটির বাবাকে ওই বাড়িতে আসতে দেখেননি তিনি। 


২১ অক্টোবর টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরে মা-বাবার কাছে ঘটনা খুলে বলে। মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসায় যান সেই অভিভাবক। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁকে কয়েকজন মিলে মারধর করেন।


ঘটনাটি মীমাংসার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির বাড়িতেও গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মা শিক্ষককে ঘরে ঢুকতে দেননি। ওই দিন মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোসলেমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি এখন কারাগারে।


অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে যাওয়ার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাল্টা মামলা করা হয়। মামলায় মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে। 


অন্য এক অডিও বার্তায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেই অভিভাবক। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। তবে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন বলেন, মোসলেম উদ্দিন দিনে মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য খণ্ডকালীন ক্লাস নিতেন। বহিরাগতদের এনে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। জমি কেনার গচ্ছিত ১৭ লাখ টাকা লুটের প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি বলেন, মামলা দুটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে ওই অভিভাবককেও গ্রেপ্তার করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ এএম

সিলেটের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও জনসংখ্যার চাপে অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়াতে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। 


তিনি বলেছেন, এ প্রকল্পের সঙ্গে একটি বিস্তৃত জনপদের নিরাপত্তা জড়িত। তাই নির্মাণকাজে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার পাশাপাশি সেবার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।


মন্ত্রী আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সময়ের দাবি। সিলেটের সঙ্গে দেশের বাইরের বহু মানুষের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তবতায় এ অঞ্চলে অগ্নিনিরাপত্তাসহ জরুরি নাগরিক সেবাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অবকাঠামো ও সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সহজ হবে।


ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বাহিনীর সদস্যরা শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ বিপদের সময় নিরাপত্তা ও স্বস্তি পায়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। জননিরাপত্তায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


তিনি আরও বলেন, জরুরি সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের জন্য সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা প্রয়োজন। সেবাগ্রহীতারা যাতে সহজে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা গেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেবার মান এবং জনআস্থা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।

এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ এএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) নামের এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট চত্বরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।


নিহত রবেন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।


নিহতের স্ত্রী সূচিত্রার অভিযোগ, সাদ্দাম নেশার আসক্তিতে প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতেন। তাছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে নিয়মিত টাকা দিতেন না। সম্প্রতি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং সেলুনে চুল কাটা নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। ওই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হঠাৎ সেলুনে প্রবেশ করে রবেন্দ্র ঋষিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে সাদ্দামের নিজের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন রবেন্দ্র। কিন্তু সেখানেও তাঁকে পুনরায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে পাশের একটি বাড়ির উঠানে পালানোর চেষ্টা করলে সেখানেও তাঁকে আবারও আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে হবিরবাড়ী ন্যাশনাল পলিমার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

নীলফামারীতে পতিতাবৃত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ এএম

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পতিতাবৃত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, সোমবার রাতে উপজেলার নীলাহাটি শ্মশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


নিহত শ্যামল শর্মা উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শুসেন শীলের ছেলে। গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০) এবং ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা শেওটগাড়ী এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশীদ (৪৫)। স্থানীয়দের দাবি, পতিতাবৃত্তি পরিচালনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন নারীকে ওই এলাকায় নিয়ে আসা হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।


নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মা জানান, মঙ্গলবার রাতে শ্যামল ও হাফিজ নামে দুই ব্যক্তি তার বড় ভাই শ্যামল শর্মাকে ফোন করে নীলাহাটি শ্মশানঘাটে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর কয়েকজনের সঙ্গে তার ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রশীদ, শ্যামল, হাফিজসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কৃষ্ণ শর্মা আরও জানান, মারধরের পর তার ভাই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে শাহজাহান নামে এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ভাইয়ের নাভির নিচে রক্তক্ষরণ দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করছেন। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহতরা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ পিএম

খুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি এলাকায় তিনজনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁদের মধ্যে দুজন বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতা। অন্যজন জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী। 


আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রখালী বাজারে যুবদলের সাবেক নেতা অহিদুল ইসলাম বাদলকে গুলি করা হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে একই উপজেলার বড় কড়িয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহেল শেখকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় জাপান টোব্যাকোর কর্মী সালমান হাওলাদারকে গুলি করে তাঁর ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।


পৃথক তিনটি ঘটনায় দুর্বৃত্তরা গুলি চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একের পর এক গুলির ঘটনায় খুলনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও যুবদল নেতাকর্মীরা জানান, আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে গ্রামে ফিরছিলেন অহিদুল ইসলাম বাদল। জলমা ইউনিয়নের চক্রখালী বাজারে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।


গুলিবিদ্ধ অহিদুল ইসলাম বাদল জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা গ্রামের আলতাফ হাওলাদারের ছেলে।


এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল শেখ। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তাঁর ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুরুতর জখম হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। সোহেল শেখ বড় কড়িয়া গ্রামের গনি শেখের ছেলে।


খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।


এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে গুলিবিদ্ধ হন সালমান হাওলাদার। তাঁর সহকর্মীরা জানান, কোম্পানির কার্যালয় থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠছিলেন সালমান। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাঁর কাছে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।


সহকর্মীরা জানান, প্রতিদিন ওই সময়ে কর্মচারীরা টাকার ব্যাগ নিয়ে ব্যাংকে যেতেন। তবে মঙ্গলবার ওই ব্যাগের পরিবর্তে ল্যাপটপ নিয়ে বের হয়েছিলেন সালমান। ছিনতাইকারীরা তাঁকে গুলি করে ব্যাগটি নিয়ে গেছে।


গুলিবিদ্ধ সালমান হাওলাদারের বয়স ২৩ বছর। তিনি জাপান টোব্যাকো কোম্পানিতে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাসা নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কের সবুজবাগ এলাকায়। তাঁর বাবার নাম জাহাঙ্গীর হাওলাদার। খুলনা থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।


পাঁচ দিনে গুলিতে নিহত ২, আহত ৬


প্রসঙ্গত, গত পাঁচ দিনে খুলনায় দুজনকে গুলি করে হত্যা এবং ছয়জনকে গুলি করে আহত করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনায় গুলি, কুপিয়ে বা অন্য উপায়ে ৭১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি।


পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ কাজ করেছে।

সর্বশেষ সব খবর