বক্তব্য দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম
সৃজনশীল শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁয় প্রশিকা বিদ্যানিকেতনের বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, 'শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই নির্ভর জ্ঞান নয় বরং সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে, তবেই একটি উন্নত ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে তারা আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রশিকা বিদ্যানিকেতন যেভাবে আধুনিক, মানসম্মত ও ভিন্নধর্মী শিক্ষাপদ্ধতি চালু করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখানে পাঠদানের পাশাপাশি চরিত্র গঠন ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষণ।'
সাইফুল ইসলাম বলেন, 'সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে দেশের শিক্ষাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হবে। প্রশিকার এ উদ্যোগ সারাদেশে বিস্তৃত হলে তা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
দিনব্যাপী এ আয়োজন বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রশিকা বিদ্যানিকেতনের সভাপতি মো. জমিস উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রধান শিক্ষক কাজী কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসএম জাকির হোসেন, এনডিসি শাহ মো রাশেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক জি আজম, রিজুওয়ানুস শামীম রাজীব ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানসহ অনেকে।
স্বাগত বক্তব্য দেন প্রশিকা শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী শিলা সুলতানা।
এছাড়াও প্রশিকার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সৃজনশীল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করে। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বক্তারা জানান, প্রশিকা পাইলট কর্মসূচি হিসেবে দেশের মধ্যে প্রথম নওগাঁতেই বিদ্যানিকেতন চালু করেছে। ইতোমধ্যে মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভবিষ্যতে দেশজুড়ে এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বরগুনায় পরকীয়ার জের ধরে স্বামীকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী রাবেয়াকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে এ ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী রাবেয়া এবং তার মাকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা নামক এলাকায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন স্বজনরা।
নিহত ওই ব্যক্তি হলেন-আফাং শিকদার (৪৫)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা নামক এলাকার মৃত খবির শিকদারের ছেলে।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্বজন ও স্থানীরা অভিযোগ করে বলেন, নিহত আফাং জীবিকার তাগিদে স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে ছিলেন। সেখানে কাজ করে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর রাবেয়ার কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে স্বামীর অনুপস্থিতিতে অন্য আরেক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তার স্ত্রী রাবেয়া। পরবর্তীতে আফাং দেশে ফিরলে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।
পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে, গত শনিবার (১৯ জুলাই) স্ত্রী রাবেয়া স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইঁদুর মারার বিষ খাইয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। ঘটনার পরদিন রোববার (২০ জুলাই) আফাং শিকদারকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) মৃত্যু হয় আফাং শিকদারের। পরবর্তীতে সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে শনিবার বিকেলে মরদেহ বরগুনা উদ্দেশ্যে নিয়ে এলে ক্ষিপ্ত হয় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসময় অভিযুক্ত স্ত্রী রাবেয়াকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন তারা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। পরে সাংসদ নিজেই আফাং শিকদারের জানাযার নামাজ পড়ান।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। স্থানীয়দের দাবির সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃষকের ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রাওতা গ্রামের একটি ফসলের মাঠ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সুশীল নাচোল উপজেলার রাজবাড়ীহাট টাওয়ারপাড়া গ্রামের মৃত শুকান্তের ছেলে।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কৃষকের বেশে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সুশীলও কৃষকের ছদ্মবেশে মাঠে কাজ করছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাচোল থানার এএসআই ফরহাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তিনি লুঙ্গি পরে কৃষকের ছদ্মবেশে ফসলি মাঠে যান। আসামির কাছাকাছি পৌঁছালে সুশীল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, প্রায় তিন মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-(২) পলাতক আসামি সুশীলকে সাজা দেন। এর পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকরের লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলায় চলতি বছর আদালত সুশীলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
লাইজু আক্তার
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলন্ত ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া এক গৃহবধূকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শেষে ফরিদপুর জেলার কবিরপুর চরের তীর থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই রোমহর্ষক ঘটনার শিকার ওই নারীর নাম লাইজু আক্তার (৩৯)। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।
জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ফেরি ‘কুমিল্লা’। ফেরিটি যখন মাঝনদীর লাল বয়া এলাকায় পৌঁছায়, তখন আকস্মিকভাবে লাইজু আক্তার ফেরির পেছনের অংশ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ফেরি ‘কুমিল্লা’র ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, ফেরিটি যথারীতি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে হঠাৎ খবর আসে যে, এক নারী যাত্রী ফেরির পেছনের দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ফেরিটি থামিয়ে দেন এবং ঘুরিয়ে নিয়ে ওই এলাকায় সার্চলাইট জ্বালিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একই সাথে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশকে অবহিত করা হয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই নারী ফেরিতে একাই ভ্রমণ করছিলেন।
এদিকে নদীতে প্রবল স্রোত থাকা সত্ত্বেও লাইজু আক্তার কচুরিপানার স্তূপকে আঁকড়ে ধরে ভাসতে থাকেন। এভাবে ভাসতে ভাসতে তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরে এসে আটকে যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, কচুরিপানার সাথে ভেসে চরে আটকে পড়া ওই নারীকে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে খবর দেন। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকমান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিরাপদ হেফাজতে রাখেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ নদীতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুরের কবিরপুর চরের ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের মাধ্যমে লাইজুর জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত নারী বর্তমানে লোকমানের বাড়িতে পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তাকে উদ্ধার ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা এরই মধ্যেই রওনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে মোবাইল ফোনে স্বজনদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে তিনি চলন্ত ফেরি থেকে উত্তাল পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়ার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেন।
প্রতীকী ছবি
ময়মনসিংহে সিগারেটের মোড়কে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সোনালী এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সিগারেটের মোড়কে মূল্য ৩৭০ টাকা উল্লেখ থাকলেও পরিবেশক প্রতিষ্ঠানটি খুচরা দোকানিদের কাছে প্রতি প্যাকেট ৪২০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বিক্রেতা।
তাদের দাবি, বেশি দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় ভোক্তাদের কাছেও বাড়তি দামে বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সোনালী এন্টারপ্রাইজ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদা দাবি ও অপহরণকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার চৌধুরী প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী চৌধুরী প্লাজার ৫ তলায় প্রবেশ করে। পরে বাড়ির কেয়ারটেকার লিমাকে জিম্মি করে বাড়ির মালিকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। পরে ঘটনার একপর্যায়ে বাড়ির কেয়ারটেকার লিমার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কেয়ারটেকার লিমাকে জিম্মি করা অবস্থায় পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে।
পরে পুলিশও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়ে। ঘটনার একপর্যায়ে বাড়ির কেয়ারটেকার লিমাকে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
প্রতীকী ছবি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি কমানো, লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়ানো এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার অভিভাবককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পত্রে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্মারকপত্র, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা এবং গত ২৩ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাজীগঞ্জ উপজেলার সব মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনার অনুলিপি চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।