লাল ও সাদা পেঁয়াজ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

বেশিরভাগ রান্নাতেই পেঁয়াজ ব্যবহারের প্রচলন আছে। এটি খাবারে সঙ্গে কাঁচাও খাওয়া যায়। কেউ কেউ রান্নায় লাল পেঁয়াজের ব্যবহার করেন, কেউ বা সাদা। 


যদিও লাল এবং সাদা পেঁয়াজ রঙ ছাড়া দেখতে একই রকম, তবুও, প্রত্যেকটিরই কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। লাল পেঁয়াজ এবং সাদা পেঁয়াজের উপকারিতা জানানো হয়েছে ‘হেলদি বিল্ডার্জেড’এর এক প্রতিবেদনে। 


লাল পেঁয়াজ


বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে


সকলেই জানেন যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কারণ এগুলো অতিরিক্ত ফ্রি র‍্যাডিকেলকে নিষ্ক্রিয় করে- এই ক্ষতিকর অণুগুলো শরীরের সুস্থ কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে এর মানে এই নয় যে, সাদা পেঁয়াজে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ কম। আসলে, সাদা পেঁয়াজের চেয়ে লাল পেঁয়াজে এর পরিমাণ বেশি থাকে।


কোয়ারসেটিন আছে


বিজ্ঞানীরা বলেন, কোয়ারসেটিন এক প্রকার ফ্ল্যাভোনয়েড যা হৃৎপিণ্ড ও রক্তসংবহনতন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী, কারণ এটি খারাপ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ উভয়ই কমাতে সাহায্য করে। আপেল, লাল ক্যাপসিকাম, টমেটো এবং অন্যান্য লাল রঙের খাবার থেকেও শরীরে কোয়ারসেটিন সরবরাহ হয়। সাদা পেঁয়াজেও কোয়ারসেটিন থাকে, তবে তা অল্প পরিমাণে।


ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আরও ভালো সুরক্ষা দেয়


লাল পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে কোয়ারসেটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত অন্যান্য যৌগ থাকার কারণে, এগুলি সাদা পেঁয়াজের চেয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক ভালোভাবে কমাতে পারে। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, লাল পেঁয়াজ যেসব ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে মুখ, স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, কোলোরেক্টাল এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার।


রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে


লাল পেঁয়াজে উপস্থিত খনিজগুলির মধ্যে একটি হলো আয়রন- যা শরীরের লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা ঠিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাদা পেঁয়াজেও আয়রন থাকে, তবে কিছুটা কম পরিমাণে।


সাদা পেঁয়াজ


স্বাদ হালকা হয়


কিছু সাদা জাতের পেঁয়াজে স্বাদে কিছুটা মিষ্টি থাকায় অনেকেই এটি খেতে পছন্দ করে। এই কারণে, নিয়মিতভাবে খাদ্যতালিকায় সাদা পেঁয়াজ অন্তর্ভুক্ত করা অনেক সহজ। লাল পেঁয়াজের চেয়ে এর স্বাদ হালকা হওয়ায়, কাঁচা সাদা পেঁয়াজ খেতে অসুবিধা বোধ হয় না।


শরীর সহজে আরও বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়


রান্না করলে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেহেতু কাঁচা সাদা পেঁয়াজ খেতে কোনো অসুবিধা হয় না, তাই আপনি ফ্রি র‍্যাডিকেল-এর বিরুদ্ধে লড়াই করা সেইসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও বেশি পরিমাণে পাবেন। 


মনে রাখবেন, সাদা পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর সময়,  শুধু এর চারপাশের খুব পাতলা খোসাটিই ছাড়াবেন। সাদা পেঁয়াজের খোসার পাশের প্রথম কয়েকটি স্তর ফেলে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে


সাদা পেঁয়াজে উপস্থিত অন্যতম প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো ভিটামিন সি। এটা সবাই জানে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মৌসুম ঘনিয়ে আসে, তখন খাদ্যতালিকায় আরও বেশি করে সাদা পেঁয়াজ অন্তর্ভুক্ত করুন। 

জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করে


সাদা পেঁয়াজে উপস্থিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো ফোলেট। এক ধরনের বি ভিটামিন হিসেবে ফোলেট গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধে সাহায্য করে,এর ফলে শিশুদের মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। একজন গর্ভবতী নারীর ঘ্রাণশক্তি প্রখর হয়। কিন্তু সাদা পেঁয়াজের হালকা স্বাদ ও গন্ধের কারণে তিনি সহজেই এটি তার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৫ পিএম

বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। কারণ এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাবার থেকে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন পৌঁছোচ্ছে কি না তা অনেক সময় বোঝা যায় না। দৈনন্দিন খাবার থেকে শরীরের চাহিদামতো প্রোটিন না মিললে, শিশু অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।


আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের গড় চাহিদা বদলায়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ১.০৫ গ্রাম, ৪ থেকে ১৩ বছরের ক্ষেত্রে ০.৯৫ গ্রাম, ১৪ থেকে ১৮ বছরেরর জন্য ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। 


আইসিএমআর-এনআইএন-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ৫ বছর বয়সী শিশুর ওজন ২০ কেজি হয়, তবে তার প্রতিদিন প্রায় ১৯ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।


যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে


ঘন ঘন ক্ষুধা: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বায়না করে, তবে বুঝতে হবে মূল খাবার খেয়ে তার পেট ভরছে না। মূল খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হলেও বার বার ক্ষুধা পেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মাংস, ছোলা থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।


দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: শিশুরা প্রাণচঞ্চল ও চনমনে হবে সেটাই স্বাভাবিক। খেলার সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুধ, ছোলা ভাজা, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখা দরকার। এগুলি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।


ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া বা সেরে উঠতে দেরি হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শিশু যদি বারবার অসুস্থ হয় বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নেয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।


পেশির দুর্বলতা: ছোটখাটো ক্ষত সহজে না শুকোনো, পেশি দুর্বল হওয়া পুষ্টির ঘাটতির সঙ্কেত। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

নভেম্বরের শুরুতেই দেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তেঁতুলিয়া, রাজারহাট ও দিনাজপুরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় শীতের আগমনী অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছে।


আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


তিনি জানান, বর্তমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কেটে গেলে আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।


এদিকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।


আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


তবে আপাতত লঘুচাপটির বাংলাদেশের আবহাওয়ার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই। ২৫ অক্টোবরের পর দেশের উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনাও পরিবর্তিত হতে পারে।


সব মিলিয়ে, অক্টোবরের শেষ ভাগে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ পিএম

চারপাশে কত মানুষ, তারপরও অনেক সময় নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়।  কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। আবার মনের কথা বলার মতো কাউকে খুঁজেও পাওয়া যায় না। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন কিংবা জীবনের নানা পরিবর্তনের কারণেই আজকাল অনেকেরই এমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। আবার সবসময় যে আপনার পাশে কেউ থাকবেই এমনটাও আশা করা ঠিক নয়। এর চেয়ে ভালো নিজের একাকীত্বকেই নিজের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তোলা। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের একাকীত্বকে  ‘মি টাইম’-এ পরিণত করুন। এজন্য যা করতে পারেন-


নিয়মিত নিজের সঙ্গে কথা বলুন


নিজের সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কথা বলার চেষ্টা করুন। সব সময় গভীর আলোচনা করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাধারণ কথাবার্তা বলুন। নিজেই নিজের বন্ধু হন। 


পছন্দের কাজকে সিরিয়াসলি নিন


বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, এক্সারসাইজ, যে কাজেই আনন্দ পান, তা বেশি বেশি করার চেষ্টা করুন। কাজের সময়টুকু বাদ দিয়ে এটাকে গুরুত্ব দিন। যেমন- কেউ যদি ছবি আঁকেন, চেষ্টা করুন নতুন ধরনের, আরও নতুন ধরনের ছবি আঁকার। এরকম যেই কাজ করতে ভালো লাগে সেদিকে মনোযোগ দিন। 


শরীরচর্চা করুন


নিয়ম করে হাঁটতে বেরোন বা হালকা ব্যায়াম করুন। নিয়মিত শরীরচর্চা মন ভাল রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজে উৎসাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।


নতুন কিছু শিখুন


রান্না করতে ভালো লাগলে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। নতুন কোনও ভাষা বা কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করতে পারেন। 


ঘরের বাইরে বের হন


সুযোগ পেলেই ঘর থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি কোথাও হেঁটে আসুন। বাইক বা গাড়ি থাকলে কিছু সময়ে জন্য একটু রাইডে বেরিয়ে যেতে পারেন। 


সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমান


অন্যের সাজানো জীবনের ছবি দেখে নিজের জীবনকে ছোট ভাববেন না। সবার জীবনেই ভালো-মন্দ আছে। অনলাইনে মানুষ শুধু নিজের সেরাটাই দেখায়। ছবি-ভিডিওতে কারও জীবন সুন্দর লাগলেও বাস্তবে তা সবসময় হয় না। 


ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখুন


প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ঘুমের অনিয়ম হলে মনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নিন।


ছোট ছোট লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন


নিজের পেশা হোক বা শখ, সেখানে নিজের জন্য লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন। নিজের দক্ষতা বাড়ান। সবসময় তার থেকে যে টাকা আয় করতে হবে, বিষয়টা তা নয়। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে। সেই চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করলে মস্তিষ্ক ঠিক থাকে। 


অন্যের পাশে দাঁড়ান


কাউকে সাহায্য করলে বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যোগ দিলে দেখবেন মন ভালো লাগবে। অসহায়, দুর্বল প্রাণীদের সাহায্য করুন। 


প্রয়োজন হলে সাহায্য চান


দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব বোধ হলে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, অথচ দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সুখবর আসছে না? এর পেছনে নারীর পাশাপাশি পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যাও দায়ী হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের প্রজননগত কোনো না কোনো কারণ জড়িত থাকে। কিন্তু পুরুষের বন্ধ্যত্বের সমস্যা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।


সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে তবেই বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।




আসুন লক্ষণগুলো জেনে নিন-


যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

যৌন ইচ্ছা বা আগ্রহ হঠাৎ কমে গেলে তা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পেতে পারে। তবে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।


এছাড়া যৌন উত্তেজনার সময় লিঙ্গ উত্থিত হতে অসুবিধা হওয়া বা উত্থান ধরে রাখতে না পারা আরেকটি সতর্কসংকেত। এটি সরাসরি বন্ধ্যত্বের প্রমাণ নয়। তবে হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস কিংবা রক্তনালির সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।


বীর্যপাতের সমস্যা

বীর্যপাত হতে দেরি হওয়া, একেবারেই বীর্যপাত না হওয়া কিংবা বীর্য মূত্রথলির দিকে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা সন্তান ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বীর্যপাতের সময় বীর্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কম মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।


অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব

অণ্ডকোষে ব্যথা, ফোলাভাব, ভারী লাগা কিংবা আকারে পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভেরিকোসিল বা অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।


শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন-পেশির শক্তি কমে যাওয়া, ক্লান্তি, যৌন ইচ্ছা হ্রাস এবং স্তনের টিস্যু বেড়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।


মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া

মুখে দাড়ি-গোঁফ বা শরীরের লোমের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সঙ্গে কখনো কখনো হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক থাকে। তবে বংশগত বৈশিষ্ট্যসহ অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু লোম কমে যাওয়াকে বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।



পুরুষের বন্ধ্যত্বের সম্ভাব্য কারণগুলো-


১. হরমোনজনিত ব্যাধি


বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বন্ধ্যত্বের একটি বড় কারণ হলো হরমোনজনিত সমস্যা। হাইপোগোনাডিজম, অর্থাৎ টেস্টোস্টেরন এবং টেস্টিস দ্বারা প্রজনন সম্পর্কিত অন্যান্য হরমোনের অপর্যাপ্ত উৎপাদন বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। সেইসঙ্গে মস্তিষ্কের গোড়ায় অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থির ব্যাধিও হরমোন উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে, শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে।


২. শারীরিক এবং কাঠামোগত ব্যাধি


ভ্যারিকোসেল এমন একটি অবস্থা যেখানে অণ্ডকোষের মধ্যে শিরার বৃদ্ধি এবং বেলুনিং অণ্ডকোষের তাপমাত্রাকে পরিবর্তন করতে পারে। এটি শুক্রাণু উৎপাদনকে ব্যাহত করে। যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনে বীর্য লিঙ্গ দিয়ে বের হওয়ার পরিবর্তে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে, যা পুরুষদের বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। এছাড়াও যথাক্রমে এপিডিডাইমাইটিস, অরকাইটিস এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের মতো সংক্রমণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। শুক্রাণু পরিবহন ব্যবস্থায় ত্রুটি যেমন শুক্রাণু পরিবহনের বিভিন্ন অংশে বাধাও বন্ধ্যত্বের আরেকটি কারণ হতে পারে।


৩. লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর


অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসের কারণে পুরুষের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান বা তামাক সেবন শুক্রাণুর গতিশীলতা, গুণমান এবং পরিমাণকে কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। স্থূল বা অতিরিক্ত ওজন সরাসরি শুক্রাণুর পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে এবং হরমোনের মাত্রাও পরিবর্তন করতে পারে যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়মিত খাবার খাওয়া এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা স্থূলতা এবং বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।


৪. পরিবেশগত কারণ


কীটনাশক, ভেষজনাশক, ভারী ধাতু, জৈব দ্রাবক, রঙ এবং দূষণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে বেশি থাকলে তাও সাময়িকভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস করতে পারে।


৫. জেনেটিক ফ্যাক্টর


জেনেটিক্স বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম একটি জেনেটিক অবস্থা যেখানে একটি পুরুষ শিশু অতিরিক্ত এক্স ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, এটি পুরুষের প্রজনন অঙ্গে ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে টেস্টিকুলার ফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন প্রভাবিত হয়। অন্যান্য জেনেটিক ব্যাধি যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস, কলম্যান সিন্ড্রোম শুক্রাণু নালীতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।



যেভাবে নির্ণয় করা হয় পুরুষের বন্ধ্যত্ব


সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চিকিৎসকেরা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে কয়েকটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।


বীর্য পরীক্ষা


শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা, আকৃতি এবং বীর্যের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। এটি পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


রক্ত পরীক্ষা


টেস্টোস্টেরনসহ প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়।


আলট্রাসনোগ্রাফি


অণ্ডকোষের গঠন, ভেরিকোসিল বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা করা হতে পারে।


জিনগত পরীক্ষা


শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম বা একেবারেই না থাকলে কিংবা নির্দিষ্ট জিনগত সমস্যা সন্দেহ হলে চিকিৎসক এই পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।


কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?


নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও এক বছর সন্তান না এলে দম্পতির দুজনেরই প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পরই মূল্যায়ন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।


এছাড়া অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা, যৌনক্ষমতায় সমস্যা কিংবা আগে অণ্ডকোষে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে থাকলেও প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।


এসব লক্ষণ থাকলেই যে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব হয়েছে, তা নয়। আবার কোনো লক্ষণ না থাকলেও প্রজননগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া

সর্বশেষ সব খবর

শিশুদের কি বড়দের মতো চা-কফি পান করা উচিত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ পিএম

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা বা কফি-অনেক পরিবারের কাছে এটাই দিনের শুরু। বড়রা যখন চায়ের কাপে চুমুক দেন, তখন শিশুদেরও কৌতূহল জাগে। কেউ স্বাদ নিতে চায়, কেউ আবার বড়দের মতো কাপ হাতে নিয়ে বসতে পছন্দ করে। কিন্তু এই পরিচিত অভ্যাস শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ভাবেন কি?


চা-কফি বড়দের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এসব পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন ঘুম, মনোযোগ ও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ছোটদের হাতে চায়ের কাপ তুলে দেওয়ার আগে বয়স, পরিমাণ এবং পান করার সময়-সবকিছু বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।


চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন কী করে?

ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক উপাদান, যা চা ও কফির পাশাপাশি কোলা, চকলেট এবং কিছু এনার্জি ড্রিংকেও পাওয়া যায়। এটি সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমিয়ে সতর্ক থাকতে সাহায্য করতে পারে। তবে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ক্যাফেইন অপরিহার্য কোনো পুষ্টি উপাদান নয়।


কিন্তু এটা কোনো খাবারের উপাদান নয়। ক্যালসিয়াম বা আয়রনের মতো শরীররে প্রয়োজন নেই। শিশুদের শরীরের ওজন কম হওয়ায় একই পরিমাণ ক্যাফেইন তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে অস্থিরতা, হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


বয়স অনুযায়ী কতটা ক্যাফেইন?

শিশু-কিশোরদের জন্য ক্যাফেইন গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চার থেকে ছয় বছর বয়সীদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিগ্রাম, সাত থেকে নয় বছর বয়সীদের জন্য ৬২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম এবং ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ৮৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে এই সংখ্যাগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদে পান করার লক্ষ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস শিশুদের ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। তাই বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি দেওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো।


এক কাপেই কতটা ক্যাফেইন থাকে?

চা বা কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্ভর করে পানীয়ের ধরন, পরিমাণ এবং তৈরির পদ্ধতির ওপর। এক কাপ চায়ে কয়েক দশ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। অন্যদিকে এক কাপ কফিতে এর পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। বড় মগের কফি বা ঘন করে তৈরি পানীয়তে ক্যাফেইনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।


এনার্জি ড্রিংকের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো কোনো ক্যানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। কোলা, চকলেট এবং ক্যাফেইনযুক্ত কিছু ওষুধ থেকেও শরীরে এই উপাদান প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু চা বা কফির হিসাব রাখলেই সব সময় চলে না।


ঘুমের ওপর পড়ে বড় প্রভাব

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে, এর প্রভাব অনেকের ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। বিকেল বা সন্ধ্যায় চা-কফি পান করলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে কিংবা ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।


ঘুম কম হলে পরদিন পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা, খেলাধুলা করা এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরীক্ষার আগে জেগে থাকার জন্য কফি পান করাও ভালো কৌশল নয়। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতি ও শেখার প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


চা-কফি সরাসরি উচ্চতা কমিয়ে দেয়-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। তবে ক্যাফেইনের কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত হলে তা শিশুর সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।


বিকল্প হিসেবে কী দেওয়া যায়?

ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি না দিয়ে পানি ও বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত দুধ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। কিশোরদের ক্ষেত্রেও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না করাই শ্রেয়। বিশেষ করে এনার্জি ড্রিংক শিশু-কিশোরদের দেওয়া উচিত নয়।


ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না, তবে সব পণ্যের উপাদান এক নয়। তাই লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ভেষজ পানীয় নিয়মিত দেওয়ার আগে বয়স ও উপযোগিতা বিবেচনা করা উচিত।


শিশুদের সামনে বড়দের চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস দেখে তারা যেন সেটিকে বড় হওয়ার অপরিহার্য অংশ মনে না করে। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, নিয়মিত খেলাধুলা এবং পর্যাপ্ত পানি-সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য এগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি। সকালের চায়ের সুবাস থাকুক ঘরে, তবে ছোটদের কাপে তা তুলে দেওয়ার আগে ভাবুন তাদের বয়স ও স্বাস্থ্যের কথা।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইম ম্যাগাজিন

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-


অ্যালার্জির সমস্যা


কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 


সাইনাসের সমস্যা 


যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 


ল্যাকটোজের প্রভাব 


দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। 


হাঁপানি বা অ্যাজমা 


যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট


সর্বশেষ সব খবর