ময়মনসিংহের ভালুকায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ভালুকা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমান গনি মাখন, শাখাওয়াত হোসেন পাঠান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, এম এ খালেক, শামছুদ্দিন আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান রাসেলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদান এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম প্রধান রূপকার। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।”
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে টাকা ও দোকানের খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নয় বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিনদিন পর থানায় মামলা হলেও মামলার তিনদিন পরও অভিযুক্ত আব্দুল খালেককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভূমিহীন সমিতি ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে শিশুটির বাবা রুবেল বক্তব্য দেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ধনবাড়ী পৌর এলাকার বান্দ্রা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। পাশের বর্ণিচন্দ্রবাড়ী গ্রামের ওই শিশুকে টাকা ও দোকানের খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় একটি পুকুরপাড়ে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি নিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা রুবেল ও তার স্বজন দেলোয়ার হোসেনের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে কথা না বলেই সালিশের আয়োজন করা হয়। এতে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দেরি হয়।
পরে উপজেলা বিএনপির প্রথম সারির এক নেতাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার তিনদিন পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। রোববার ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, “মীমাংসার নামে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে মামলা করতে দেরি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মামলা করার পর শিশুটির বাবাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো পরিবার উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
মঙ্গলবারের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিজেরা করি'র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়ক ফজলুল হক, ধনবাড়ী কলেজের সাবেক জিএস মামুনুর রশীদ টিয়া, ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কছিম উদ্দিন, সিপিবি ধনবাড়ী কমিটির সভাপতি আইয়ুব আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুপিটার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর শরাফত আলী, ভূমিহীন নেত্রী জমিলা বেগম, ভূমিহীন নেতা আব্দুল বাছেদ এবং ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা রুবেল।
বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি শিশুটির পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রেপ্তার পাঁচজনকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশি ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় দায়ের করা নিয়মিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. হেদায়েতুল্লাহ ওরফে হেতু (৫০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার কোনাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কালিঞ্জা গ্রামের মৃত ফরহাদ তালুকদারের ছেলে।
অন্যদিকে, রায়গঞ্জ থানা এলাকায় পৃথক ওয়ারেন্ট অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—শ্রী শাওন চন্দ্র তেলি (২৫), পিতা শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ চন্দ্র তেলি, সাং ক্ষীরতলা দোহার; মো. শাহ জামাল, পিতা মৃত আবু সাইদ শেখ, সাং ধানগড়া; মো. আফাল, পিতা ফজল, সাং ক্ষুদ্র বাশুরিয়া এবং মো. রফিকুল শেখ (৪৩), পিতা মৃত ইদ্রিস আলী, সাং পশ্চিম লক্ষীকোলা।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, রায়গঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে চালান মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন এবং সেবাপ্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি অ্যাকশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাসপাতালের ডাক্তারসহ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, অপরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকেরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঝালকাঠি শহরের পুরাতন কলেজ এলাকার হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগী সংগঠন অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) এ সভার আয়োজন করে।
সভায় সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকেরা সরাসরি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে ডাক্তারসহ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব, সেবাপ্রদানকারীদের জনবান্ধব আচরণের ঘাটতি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, তথ্যপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা, রোগ নিরীক্ষার সমস্যা, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি, দায়িত্ব পালনে ঘাটতি, অপরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা সমস্যার কথা উঠে আসে।
সেবাগ্রহীতাদের এসব প্রশ্ন, অভিযোগ ও মতামতের জবাব দেন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. টি.এম.মেহেদী হাসান (সানী)।
তিনি সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে হাসপাতালের ইতিবাচক দিক ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। হাসপাতালের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আরএমও।
সভার শুরুতে এসিজির সদস্যরা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে কমিউনিটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত উন্নয়নযোগ্য বিষয়গুলোর তালিকা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করতে কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন এবং কী কী সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়েও সেবাগ্রহীতা ও অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়।
অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপের (এসিজি) সদস্য মো. আরিফুর রহমান (রায়হান) সভাটি সঞ্চালনা করেন। এতে ব্যবসায়ী, গৃহিণী, শ্রমিক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং টিআইবির কর্মীবৃন্দ অংশ নেন।
সভা আয়োজনে সহযোগিতা করেন টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগী সংগঠন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ।
জেলা তথ্য অফিস, গাইবান্ধা'র আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই-সেপ্টেম্বর/২০২৬ কোয়াটারে "শিশু, কিশোর- কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম" শীর্ষক প্রকল্পের জিওবি খাতের আওতায় ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতরামারী গ্রামে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্য অফিসের সাইন অপারেটর মাসুদের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসার ইশতিয়াক আহমাদ আবীর,গজারিয়ার মহিলা সদস্যা মিনারা বেগমসহ আরও অনেকেই।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দান, শিশু ও নারী অধিকার, শিশুর যথাযথ বিকাশ, অটিজম ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য, জন্ম নিবন্ধন, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসমূহ, পরিবেশ সুরক্ষা ও দুর্যোগকালীন নারী, জেন্ডার সমতা, নিরাপদ মাতৃত্ব, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, পরিস্কার পরিচ্চন্নতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
দিবালোকে ছিনতাই, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ২
ছিনতাইকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবী, অপর এক আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। দিনাজপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক ছিনতাইকারী ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ছয়টি নাকফুল, দুটি কানের দুল ও দুটি কানের রিং উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১টা ৫১ মিনিটে দিনাজপুর কোতয়ালী থানাধীন মির্জাপুর এলাকায় বিআরটিসি বাস ডিপোর সংলগ্ন অর্পণা ছাত্রীনিবাসের প্রধান ফটকের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরসাইকেলযোগে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বেলী রানী (২২) বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, তাদের অবস্থান যাচাই এবং ছিনতাইকৃত স্বর্ণের চেইন উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানায়, এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি দিনাজপুরের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে চিরিরবন্দর থানাধীন কাঁউগা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজমীর আহমেদ সোহেল ওরফে পিচ্চি সোহেল (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজমীর আহমেদ সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে বিরামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছিনতাইকৃত স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ৬টি নাকফুল, ২টি কানের দুল ও ২টি কানের রিং উদ্ধার করা হয়।
একই অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব (৩৩) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামী মোঃ মুন্না (৪০) কে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অব্যাহত
চাঞ্চল্যকর এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রংপুরে আইনজীবী সমিতিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে দৈনিক নওরোজ প্রতিনিধি ও দৈনিক দাবানলের মহানগর প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন অপু হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এসময় আইনজীবীরা তাঁর ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে এবং বুম মাটিতে ফেলে দেন।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই হেনস্থার শিকার। এ ঘটনার পরপরই সাংবাদিকরা সেখানে ছুটে যান এবং আইনজীবী সমিতির সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন।
হেনস্থার শিকার আলমগীর হোসেন অপু জানান, নবীন আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় একজন আইনজীবী ধাক্কাধাক্কি করেন এবং ভিডিও করার সময় ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে বুম মাটিতে ফেলে দেন। আমি এ ঘটনায় মর্মাহত হয়েছি।
নবীন আইনজীবী সুত্রে জানা যায়, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৮ জনের মধ্যে ৪৫ জনকে সাধারণ এবং বাকি ৬৩ জনকে ভোটাধিকারহীন ‘সহযোগী সদস্য’ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সাথে সমিতিতে ভর্তির ফি পূর্বে ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বয়সভেদে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সি আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা কখনও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন।
এই বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে মুচলেকা নেওয়ার প্রতিবাদে নবীন আইনজীবীরা আন্দোলন করছেন।
নবীন আইনজীবী আসমিন ফারহা আঁখি জানান, আগে ভর্তি ফি ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে বয়সভেদে তা ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কখনো ভোটাধিকার দাবি না করেন। এটা নবীন আইনজীবীদের প্রতি বৈষম্যমুলক আচরণ করা হচ্ছে। আমরা এটা মানি না। আমাদের দাবী মানা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো।
রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন জানান, নবীন আইনজীবীদের বিষয়গুলো নিয়ে সমিতিতে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি প্রেসক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক বলেন, আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্বপালনের সময় দৈনিক নওরোজ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক দাবানলের মহানগর প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন অপুকে হেনস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আইনজীবী সমিতিকে জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে।