বরগুনায় এ বছর আলু আবাদ করে ভালো ফলন হলেও সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছেন না বরগুনার স্থানীয় আলু চাষীরা। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে জেলার বাইরে থেকে তেমন কেনো পাইকার না আসায় কম দামেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে জেলায় কোনো হিমাগার স্থাপন না হওয়ায় আলু সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থাও নেই। ফলে বাধ্য হয়েই উভয় সংকটে আলু চাষীরা। এতে পাইকারী বাজারে লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের পরিশ্রমে ফলা ক্ষেতের আলু।
ভুক্তভোগী কৃষকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে যে কোনো সমস্যা সমাধান এবং আলু বিক্রির ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি বিপণন বিভাগ। অপরদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরগুনায় প্রত্যায়নের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী কৃষক, পাইকার এবং আড়তদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আলু আবাদের দিক থেকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনার অবস্থান তৃতীয়। তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ অঞ্চলে আলুর চাষ কিছুটা কম হলেও বরগুনায় উৎপাদিত আলুতে এখানকার অনেকটাই চাহিদা পূরণ হয়। তবে গত বছর বরগুনায় ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর তা কমিয়ে ৯৪৫ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা কমলেও জেলায় এবছর ভালো হয়েছে আলুর ফলন।
এ বছর বরগুনায় আলু আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪৫ হেক্টরের বিপরীতে মোট ৭৭৩.৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে আলু। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় নির্ধারিত ১২০ হেক্টরের বিপরীত ৩০, পাথরঘাটায় ৫৬২ হেক্টরের পরিবর্তে ৫০৫, বামনা নির্ধারিত ৪২ হেক্টর, বেতাগী ১৩২ হেক্টরের বিপরীতে ১৩৩, আমতলী ১৯ হেক্টরের বিপরীতে বেশি ৩০.৪৫, এবং তালতলীতে ৭০ হেক্টরের পরিবর্তে ৩৩ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব জমির আলু উত্তোলনে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তবে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পাইকারদের কাছ থেকে সঠিক দাম না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। অপরদিকে, জেলায় উৎপাদিত আলুর জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় আলু সংরক্ষণও করতে পারছেন না স্থানীয় এ সব কৃষকরা।
সরেজমিনে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন আলু চাষের খেত ঘুরে দেখা যায়, উৎপাদিত আলু খেত থেকে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ চাষীরা। তাদের মধ্যে কেউ খেত থেকে আলু তুলছেন, আবার কেউ তা নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে জমা করছেন। তবে তুলনামূলক এ বছর কৃষকদের আলুর ফলন ভালো হওয়ায় কাজের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও চোখে মুখে রয়েছে চিন্তার ছাপ। অতিরিক্ত দামে সার ওষুধ কিনতে হলেও ভালো দামে বিক্রি করে লাভের আশা করছিলেন তারা। কিন্তু জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পাইকার কমে যাওয়া এবং ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করছেন এখানকার কৃষকরা।
মো. হেলাল নামে ওই এলাকার এক আলু চাষি বলেন, “আমি প্রত্যেক বছরই আলু চাষ করি। এবছর পাইকার না পাওয়ায় আলু বিক্রি করতে পারছি না। আবার যাদেরকে পাই, তারা জ্বালানি তেলের সংকট বলে ঠিকভাবে দাম দিতে চায় না। আলু চাষে এ বছর যে টাকা খরচ হয়েছে, আমাদের সেই টাকাই উঠবে না।”
৪ লাখ টাকা খরচ করে তিন একর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন কৃষক জাকির হাওলাদার। খেতে উৎপাদিত আলু সঠিক দামে বিক্রি করতে না পেরে তিনি বলেন, “এবছর আমরা আলু বিক্রি করতে পারছি না। জমি থেকে আলু উঠিয়ে স্তূপ করে রেখেছি। ৪ লাখ টাকা খরচ করে আশা করছিলাম অন্তত ৬ লাখ টাকায় আলু বিক্রি করতে পারবো। কিন্তু এখন জ্বালানি সংকটের কথা বলে কোনো পাইকার আলু কিনতে চায় না। এ অবস্থায় আলু বিক্রি করতে না পেরে শ্রমিকদের টাকাও দিতে পারছি না।”
কালমেঘা এলাকার স্থানীয় এক বেপারী মো. খলিলুর রহমান বলেন, “তেলের কারণে আলু চাষিরা এবছর নাজেহাল অবস্থায় আছে। একটা গাড়িতে কমপক্ষে ১০০-২০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তেল না পাওয়ায় তারা আলু নিতে আসতে পারছে না। এমন একটা অবস্থা যে কোনো পাম্পেও এক দুই লিটারের বেশি তেল পাওয়া যায় না। মূলত তেলের কারণেই এখানকার সব কৃষকরা সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।”
ভুক্তভোগী বিভিন্ন এলাকার এসব কৃষকদেরকে সঠিক দামে আলু বিক্রি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বরগুনা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, “চাষিরা যদি আলু বিক্রি করতে না পারেন এবং এ বিষয়ে আমাদের জানালে চাষি এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসে কথা বলে আমরা সমাধান করতে পারি। কেনো চাষি আলু বিক্রি করতে পারছে না এবং ব্যবসায়ীরা কেনো ক্রয় করছে না, উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তা সমাধান করে দিতে পারি। ভুক্তভোগী কোনো চাষি আমাদের কাছে আসলে অথবা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সমস্যা দেখলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে বলেও জানান তিনি।”
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “কৃষকরা মৌসুমের শুরুতে ভালোই দাম পেয়েছেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলেও আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে এর তেমন কোনো প্রভাব নেই। বিশেষ করে কৃষি পণ্য উৎপাদন এবং পরিবহনের জন্য বরগুনা জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কোনো কৃষক এবং পাইকার যদি কৃষি পণ্য পরিবহন করতে চায় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী একটি প্রত্যায়ন দিয়ে দেবে। বরগুনার যে কোনো পাম্পে গেলেই ওই প্রত্যয়ন অনুযায়ী তাদেরকে তেল দেওয়া হয়।
কৃষকদের প্রয়োজনীয় হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, “হিমাগার থাকলে কৃষকরা আলু সংরক্ষণ করতে পারেন এবং পরবর্তীতে যখন দাম বেশি পায়, তখন তারা বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো হিমাগার তৈরি করা হয় না, এর জন্য কৃষি উদ্যোক্তা দরকার। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি, যদি কোনো কৃষি উদ্যোক্তা এগিয়ে আসে তাহলে আমরা তাদেরকে হিমাগার তৈরিতে প্রশাসনিকভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো।”
রাস্তায় বসে পড়লেন এনসিপির নেতারা
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আবার বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁদের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে। অবরোধের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হয়। এনসিপির নেতারা বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। ‘বাহ্ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। আড়াআড়ি দাঁড় করানো বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ হবিগঞ্জসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন।
এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়।
ওই গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে হবিগঞ্জ পৌর শহরে বেলা ৩টায় সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে।
এরপরও হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন এনসিপির নেতারা।
কামাইছড়া এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিটে প্রেস ব্রিফিং করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গতকাল হবিগঞ্জে হামলায় এনসিপির ৩০ জনের মতো নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে প্রতিবাদ–মিছিল করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু বার বার পুলিশ বাধা দিচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বলা হয়, গতকালের ঘটনায় মামলা করার জন্য এবং আহতদের দেখার জন্য হবিগঞ্জে এনসিপির মাত্র পাঁচজন নেতা যাবেন। তাও যেতে দেওয়া হয়নি।
এলজিইডি'র রাস্তার কাজে অনিয়ম
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মান্দুরা গেদার বাজার থেকে মান্দুরা বিলের মাথা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার এলজিইডি' র রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলা এলজিইডি অফিসের নীরবতায় মানহীন কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের অনিয়ম নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বক্স কাটিং, বালু ফিলিংয়ে অনিয়ম করে এখন রাস্তার সাব বেইজে সাঘাটা এলজিইডি অফিসের লোকজনের সামনেই খোয়া কম দিয়ে বালুর পরিমাণ বেশি দিচ্ছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। যদিও এলজিইডি'র কর্মকর্তারা বলছেন ল্যাব টেস্ট হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ল্যাব টেস্টের নামে জনগণের সাথে তামাশা করছেন তারা। নিম্নমানের খোয়া দিয়ে তারা জনগণকে কি বোঝাতে চাচ্ছেন? আমরা কাজ ভালো চাই।
আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে বালু ও খোয়া স্তুপ আকারে রাখা হয়েছে। রাস্তার শেষ প্রান্তে সাব বেইজের বালু খোয়া মিক্সিং করে রাস্তায় ফেলছে শ্রমিকরা। তবে খোয়া কম দিয়ে বালুর পরিমাণ বেশিই দেয়া হয়। যা স্থানীয়রা সাধারণভাবে দেখিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী হেলাল জানান, আগামীকাল তিনি সাইটে যাবেন।
সচেতন মহল বলছেন, রাস্তায় প্রথম শ্রেণির খোয়া দেয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে নিম্নমানের কাজ করে তা অজানা। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাই।
থাই চেরি ফুলের চারাগাছ হস্তান্তর করছেন বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ঠ আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে রোপণের জন্য একগুচ্ছ থাই চেরি ফুলের চারাগাছ দিয়েছেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার পরিচলক দেশবরেন্য বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে হাসপাতাল চত্বরে চারাগুলো গ্রহণ করেন ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু জর গাফ্ফার।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী, সদস্য আব্দুল কাইউম, সজিব হোসেন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
ডা. আবু জার গাফফার বলেন, “হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ রোপণ রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। পরিবেশ রক্ষায় ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ মনোরম করতে এই সবুজ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।”
বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে সুশোভিত করতে এবং এখানে আগত সেবাপ্রার্থীদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দু'পাশের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অসংখ্য তাল বীজ রোপণ করে দেশজুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে তাঁর রোপণ করা সেই তালগাছগুলো এখন দৃশ্যমান ও পরিবেশের শোভা বাড়াচ্ছে। এই অসাধারণ কীর্তির জন্য তিনি এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের কাছে ‘তাল বেলাল’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণ করে আসছেন।
বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে দুই যুবকের মৃত্যু
নওগাঁর পোরশায় ডোবার পানি সেঁচে মাছ ধরার জন্য মোটর পাম্পে সংযোগ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন, উপজেলার মশিদপুর ইউনিয়নের কাতকইল বিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ (২৭) ও শফিউদ্দিনের ছেলে মাহবুর রহমান (২৮)। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চাকলা মাঠের একটি ডোবায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই দুই যুবক ছাতোয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে আবু রায়হানের বিদ্যুৎচালিত সেঁচ পাম্প থেকে বিদ্যুতের লাইন নেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা জানতে পেরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে।
পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়েই তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় বেদখলকৃত সরকারী খাস জায়গা উদ্ধারে মাঠে নেমেছে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার ১ নং বীরতারা ইউনিয়নে ৯৪ শতাংশ ও ২ নং বানিয়াজান ইউনিয়নের অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ৭৭ শতাংশ দুই ইউনিয়নে মোট ১৭১ শতাংশ জমি উদ্ধার করা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ বছর যাবৎ ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান বাসস্ট্যান্ড ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বানিয়াজান মৌজার বিআর এস ২৫৪৪ দাগের ১ নং খতিয়ানে ৭ অবৈধ দখলদারী ধনবাড়ী-বাজিতপুর সড়কের রাস্তার জমি দখল করে দোকান নির্মাণ ও কৃষকের ক্ষেতের ধান সহ অন্যান্য জিনিসপত্র আনা নেওয়ার রাস্তা বেদখল কৃত মোট ৭৭ শতাংশ জমি সরকারের স্বার্থ উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান করে দখল মুক্ত করা হয়। বানিয়াজানের সিদ্দিকুর রহমান (সিদ্দিক), শামীম, উজ্জল সহ মোট ৭ জন অবৈধ দখলদারী স্থানীয় সরকারী খাস জায়গা বেদখল করে নিজের দখলে নিয়েছিলো। সেই বেদখল কৃত ৭৭ শতাংশ জমি উদ্ধার দখলমুক্ত করে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি ধনবাড়ী উপজেলা প্রাশসন আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ধনবাড়ী উপজেলায় বেদখল কৃত জমি উদ্ধারের দাবী জানান ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী সহ সচেতন নাগরিকবৃন্দ। আলোচনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছেন ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি বানিয়াজান সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক এর দখলে থাকা ৭৭ শতাংশ জমি উদ্ধারে অভিযানে নামে ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি দিল আফরোজ। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোট ৭৭ শতাংশ জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। দীর্ঘ বছর ওই অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষেতের ধান ও খড় আনা নেয়ার কাজে ব্যবহৃত রাস্তাটি অবৈধ দখলকারী সিদ্দিকের হাত থেকে উদ্ধার করায় খুশি এলাকাবাসী।
বানিয়াজান এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান ও স্বপন মিয়া সহ এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ বছর পরে অবৈধ দখল কারীদের হাত থেকে প্রশাসন জমি গুলো উদ্ধার করায় খুশি সকলেই। তবে, যাতে এই উদ্ধারকৃত ভূমি আবারো বেদখল না হয়ে যায় সে বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার দাবী করেন তারা।
অন্যদিকে, সোমবার(২৭জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বীরতারা ইউনিয়নের রাজার হাট এলাকার বীরতারা মৌজার ১নং খতিয়ানের ৯৫৮ দাগের ৯৪ শতাংশ ভূমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়।
ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি দিল আফরোজ জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে সরকারী খাস জায়গা অবৈধ দখলদারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে সংরক্ষনে বীরতারা ও বানিয়াজানে খাস জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়মিত সরকারী খাস জায়গা উদ্ধারে অভিযান অব্যহত থাকবে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী জানান, ধনবাড়ী উপজেলায় সরকারী খাস জায়গা অবৈধ দখলদারীদের হাত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কমানোর পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ১৬ সপ্তাহব্যাপী গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)।
আজ বুধবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মাছখুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনের আগে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী দরিদ্র, শিক্ষিত ও বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিজিবির এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৬ সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কম্পিউটার পরিচিতি, কম্পিউটার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, অফিস অ্যাপ্লিকেশন (ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট), গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।