• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬, সময় : ২:৩৭ এএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৭০০ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ মাদক কারবারি মো.আব্দুল হামিদ (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।


বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহব্বতপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


গ্রেপ্তার হামিদ একই ওয়ার্ডের হামিদ মিয়ার বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।  


পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় মহব্বতপুর এলাকায় আব্দুল হামিদের মেকানিক দোকানে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় দোকান তল্লাশি করে ৭০০ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় হামিদকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেকানিক দোকানের আড়ালে মাদক কারবার  করে আসছিলেন।


জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র সেন সিলেটে জুলাই সংঘর্ষে পুলিশে দাওয়ায় পানিতে ডুবে মারা যাওযার  হত্যা মামলায় তদন্তে ২ বছরেও তেমন অগ্রগতি নেই, বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে অনেকে। 


২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশের হামলার সময় সুরমা আবাসিক এলাকার লেকে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যান দিনাজপুর সদর উপজেলার সুবীর সেন ও শিখা বণিক দম্পতির পুত্র রুদ্র সেন। সে ই ১৮ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের প্রথম নিহত শাবি শিক্ষার্থী। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ডুবে যায় একটি পরিবারের সকল স্বপ্ন। 


সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের শাহাদাতকে কেন্দ্র করে উত্তাল ছিল দেশ। এমন সময়ে শাবি ক্যাম্পাস ও এর পাশ্ববর্তী এলাকার সকল কর্মসুচীতে রুদ্র সেন ছিলেন সক্রিয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হওয়ায় সে প্রশাসনের টার্গেটে পরিনত হয়েছিল। ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ অস্ত্র, অবৈধ বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্র-জনতার উপর নির্বিচারে গুলীবর্ষণ ও হামলা চালায়। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ ও শারীরিক ভাবে গুরুতর আহত হন। হামলার একপর্যায়ে পুলিশের  ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খাল ভেলায় চড়ে পাড় হওয়ার চেষ্টার করেন। সে সময় ভেলাটি উল্টে গিয়ে তিনি পানিতে পড়ে যান। সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মারা যান। 


পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সামসুল ইসলাম পানিতে ডুবে রুদ্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন তার মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে পাঠানো হয়। 


তদন্তের বৃত্তে বন্দী বিচার প্রক্রিয়াঃ ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের ফলে বদলে যায় প্রেক্ষাপট। এমন পরিস্থিতিতে রুদ্র সেন নিহতের ঘটনায় ঐ বছরের ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তৎকালিন সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীরসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়। 


এছাড়া মামলায় পুলিশের ৫ জন কনস্টেবল ও দুজন উপপরিদর্শককে (এসআই) আসামি করা হয়েছে। মামলার এজহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন- মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, একই থানার ওসি (তদন্ত) আবু খালেদ মো. মামুন, সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, শাবিপ্রবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, মৌলভীবাজারের সাবেক সাংসদ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ রনজিৎ সরকার, সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমান প্রমুখ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- রুদ্র সেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 


২০২৪ এর ১৮ জুলাই কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ সন্ত্রাসীরা সরকারি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শান্তিপ্রিয় ছাত্র-জনতাকে আক্রমণ করে। এতে অনেকে শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হন। অস্ত্রধারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিও ছোড়ে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার একপর্যায়ে আসামিদের ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খালে পড়ে যান। তাঁর সাঁতার না জানার বিষয়টি জেনেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে রুদ্র সেনকে খালে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। 


মামলাটি আদালতের নির্দেশে প্রথমে তদন্তে নামে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরপর মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। গেল বছরের মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত পলাতক আসামিদের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা না পাওয়া এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য সময় বেশি লাগছে।


এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোখলেছুর রহমান  জানান, প্রিয় শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা হতাশ। ২ বছরেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই। মূল আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলার শুরুর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখলেও গত ১ বছর থেকে কেউ কোন যোগাযোগ করছেন না। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে আমরা রীতিমত হতাশ। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী হাফিজুল ইসলাম জানান, মামলার অগ্রগতি হতাশা ব্যাঞ্জক। 


সিআইডির সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন-সিআইডিতে মামলা নাকি পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উপাত্ত যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তাই চার্জশীট দিতে দেরি করা হচ্ছে। সিআইডি বলছে তারা নাকি ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। অথচ তাদেরকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলার কোন আসামীকে সরাসরি গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিহতের পরিবার ও আমরা সহপাঠিদের মাঝে শঙ্কা বাড়ছে। 


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মো. এমরান হোসেন জানান, রুদ্র সেন হত্যা মামলাটির অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলাটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে তাই একটু সময় লাগছে। এজাহারে বেশির ভাগ রাজনৈতিক আসামি দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে। দেশের ভেতর যারা রয়েছে তার যাতে পালাতে না পারে সে জন্য ইমিগ্রেশনেও নির্দেশনা দেয়া আছে। এখন পর্যন্ত এজাহার নামীয় ৪ জনসহ মোট ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৪ জনই শাবি শিক্ষার্থী। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। চার্জশীট কবে দেয়া হতে পারে সে ব্যাপারে কিছু বলা যাবেনা বলেও মন্তব্য করেন এই সিআইডি কর্মকর্তা।


আজো চোখের জলে পুত্রকে স্মরণ করে বুকফাটা আর্তনাদ করেন বাবা সুবীর সেন ও মা শিখা বণিক। তারা বলেন,আবার ফিরেছে জুলাই। কিন্তু ফিরেনি রুদ্র সেন। আর ফিরবেনা কোনদিন। একমাত্র বোন সুস্মিতা সেন আজ পর্যন্ত এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারেননি প্রিয় ছোট ভাইকে।তারাও তাদের স্বজন হারানোর ব্যাথায় ব্যথিত। তারাও সুবিচার দাবি করেন।


শাবির মেধাবী শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার কোন অগ্রগ্রতি নেই। তদন্তের বৃত্তে বন্দী হয়ে আছে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া। মামলার তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়ার ধীর গতিতে হতাশ তার পরিবার, শিক্ষক ও সহযোদ্ধারা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ এএম

মোঘল আমলে নির্মিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঐতিহাসিক চাঁদ খোসাল মসজিদের দানবাক্স ও অন্যান্য সামগ্রী মিলে ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৯ টাকা পাওয়া গেছে। 


বুধবার (২৯ জুলাই) বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়।


 এসময় দান বাক্সে নগদ ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৯ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া গত ৬ মাসে হাঁস, মুরগি, কবুতর, ছাগল, গরু, সোনাসহ বিভিন্ন দানসামগ্রী বিক্রি করে আরও ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৯ টাকা জমা করা হয়।


এ বিষয়ে চাঁদ খোসাল মসজিদের ক্যাশিয়ার মজনুর রহমান  বলেন, সভাপতির উপস্থিতিতে মুসল্লিদের সহযোগিতায় দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চাঁদ খোসাল মসজিদের সভাপতি আরিফুর রহমান  বলেন, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মসজিদের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় কাজে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

রাস্তায় বসে পড়লেন এনসিপির নেতারা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৬ পিএম

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আবার বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। 


বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁদের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।


সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে। অবরোধের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হয়। এনসিপির নেতারা বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। ‘বাহ্‌ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। আড়াআড়ি দাঁড় করানো বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য।




গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ হবিগঞ্জসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন।


এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। 


ওই গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে হবিগঞ্জ পৌর শহরে বেলা ৩টায় সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। 


এরপরও হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন এনসিপির নেতারা।


কামাইছড়া এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিটে প্রেস ব্রিফিং করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গতকাল হবিগঞ্জে হামলায় এনসিপির ৩০ জনের মতো নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে প্রতিবাদ–মিছিল করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু বার বার পুলিশ বাধা দিচ্ছে। 


শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বলা হয়, গতকালের ঘটনায় মামলা করার জন্য এবং আহতদের দেখার জন্য হবিগঞ্জে এনসিপির মাত্র পাঁচজন নেতা যাবেন। তাও যেতে দেওয়া হয়নি।


সর্বশেষ সব খবর

এলজিইডি'র রাস্তার কাজে অনিয়ম

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মান্দুরা গেদার বাজার থেকে মান্দুরা বিলের মাথা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার এলজিইডি' র রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলা এলজিইডি অফিসের নীরবতায় মানহীন কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের অনিয়ম নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বক্স কাটিং, বালু ফিলিংয়ে অনিয়ম করে এখন রাস্তার সাব বেইজে সাঘাটা এলজিইডি অফিসের লোকজনের সামনেই খোয়া কম দিয়ে বালুর পরিমাণ বেশি দিচ্ছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। যদিও এলজিইডি'র কর্মকর্তারা বলছেন ল্যাব টেস্ট হবে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ল্যাব টেস্টের নামে জনগণের সাথে তামাশা করছেন তারা। নিম্নমানের খোয়া দিয়ে তারা জনগণকে কি বোঝাতে চাচ্ছেন? আমরা কাজ ভালো চাই।


আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে বালু ও খোয়া স্তুপ আকারে রাখা হয়েছে। রাস্তার শেষ প্রান্তে সাব বেইজের বালু খোয়া মিক্সিং করে রাস্তায় ফেলছে শ্রমিকরা। তবে খোয়া কম দিয়ে বালুর পরিমাণ বেশিই দেয়া হয়। যা স্থানীয়রা সাধারণভাবে দেখিয়ে দেয়।


এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী হেলাল জানান, আগামীকাল তিনি সাইটে যাবেন।


সচেতন মহল বলছেন, রাস্তায় প্রথম শ্রেণির খোয়া দেয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে নিম্নমানের কাজ করে তা অজানা। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাই।

সর্বশেষ সব খবর

থাই চেরি ফুলের চারাগাছ হস্তান্তর করছেন বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ঠ আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে রোপণের জন্য একগুচ্ছ থাই চেরি ফুলের চারাগাছ দিয়েছেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার পরিচলক দেশবরেন্য বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল। 


আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে হাসপাতাল চত্বরে চারাগুলো গ্রহণ করেন ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু জর গাফ্ফার।


এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী, সদস্য আব্দুল কাইউম, সজিব হোসেন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। 


ডা. আবু জার গাফফার বলেন, “হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ রোপণ রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। পরিবেশ রক্ষায় ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ মনোরম করতে এই সবুজ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।” 


বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে সুশোভিত করতে এবং এখানে আগত সেবাপ্রার্থীদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”


উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দু'পাশের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অসংখ্য তাল বীজ রোপণ করে দেশজুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে তাঁর রোপণ করা সেই তালগাছগুলো এখন দৃশ্যমান ও পরিবেশের শোভা বাড়াচ্ছে। এই অসাধারণ কীর্তির জন্য তিনি এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের কাছে ‘তাল বেলাল’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণ করে আসছেন।

সর্বশেষ সব খবর

বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে দুই যুবকের মৃত্যু

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

নওগাঁর পোরশায় ডোবার পানি সেঁচে মাছ ধরার জন্য মোটর পাম্পে সংযোগ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন, উপজেলার মশিদপুর ইউনিয়নের কাতকইল বিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ (২৭) ও শফিউদ্দিনের ছেলে মাহবুর রহমান (২৮)। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চাকলা মাঠের একটি ডোবায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানান, ওই দুই যুবক ছাতোয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে আবু রায়হানের বিদ্যুৎচালিত সেঁচ পাম্প থেকে বিদ্যুতের লাইন নেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা জানতে পেরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। 


পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়েই তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

সর্বশেষ সব খবর